দখল বাণিজ্যে শাহজাদপুরের নদনদীতে নাব্য হ্রাস, ক্ষতিগ্রস্ত জেলে ও ব্যবসায়ীরা
২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৩৪
এম এ জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : শাহজাদপুরের প্রধান প্রধান নদী যমুনা, হুরাসাগর, করতোয়া, বড়াল, ধলাই নদীর নাব্য হ্রাস পাওয়ায় নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নদীগর্ভে জেগে উঠছে বিস্তীর্ণ বালুচর। এ কারণে নৌযান ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে উপজেলার প্রধান নদীগুলোয় নাব্য না থাকায় অর্থনৈতিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এ জনপদের মানুষ। উপজেলা সদরের সাথে স্থলপথের পাশাপাশি জলপথের যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। যেসব এলাকায় যোগাযোগের জন্য যানবহন চলাচলের উপযোগী রাস্তা-ঘাট নেই, সেসব এলাকায় যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম জলপথ। বিভিন্ন মালামাল আনা নেওয়ার পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচল প্রত্যন্ত এলাকাগুলোয় বর্ষা মৌসুমে ভালো হয়। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে এসব এলাকার মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে চরমে। করতোয়া, হুরাসাগর, বড়াল নদীর সাথে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের জন্য শাখা প্রশাখা রয়েছে। আর এসব শাখা প্রশাখা দিয়ে নৌকাযোগে মানুষের চলাচলের পাশাপাশি মালামাল আনা নেওয়া করা সহজ হয়। এছাড়া গ্রামীণ হাট-বাজারগুলোয় চাল, ডাল, পাট ও কাঁচামালসহ নিত্যব্যবহার্য পণ্যসামগ্রী নৌপথে আনা নেওয়া করা হয়। এছাড়া করতোয়া নদীপথে পাবনা, নাটোর, বগুড়া, টাঙ্গাইল জেলা থেকে বর্ষা মৌসুমে পণ্যবাহী বড় বড় নৌকা শাহজাদপুরে আসে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলো নাব্য হারিয়ে মরা নদীতে পরিণত হয়। নদীগর্ভে জেগে ওঠা চরে বিশাল বিশাল বালুচর আর তলদেশে চাষাবাদ করা হয় ধানসহ নানা কৃষি পণ্য। তাই এ উপজেলায় নদীর অববাহিকায় অনেক কৃষিজাত পণ্যের চাষাবাদ করে কৃষকরা জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।
একসময় প্রধান প্রধান নদীগুলোর বিভিন্ন শাখা প্রশাখা দিয়ে ডিঙি, ইঞ্জিনচালিত নৌকা, গুণটানা নৌকা চালিয়ে যাতায়াতসহ মালামাল আনা নেওয়া করা হতো। সাম্প্রতিক সময়ে নদীগুলো তার নাব্য হারিয়ে ফেলার কারণে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে নদীগর্ভে শুরু হয় চাষাবাদ। নদীর বালু ও পলি মাটিতে ধান সরিষা, বাদাম, ছাড়াও নানান শাক সবজি উৎপন্ন হয়ে থাকে। এর ফলে কৃষকদের সাময়িক লাভ হলেও যোগাযোগের ক্ষেত্রে চরম বিঘ্ন ঘটে। একসময়ের খরস্রোতা এই নদগুলো কালের গর্ভে বিলীন হবার পথে অনেকটাই অগ্রগামী। নদীর সিংহভাগে অধিক বালু পড়ে উঁচু নিচু অসংখ্য দ্বীপের সৃষ্টি হয়। কোথাও কোথাও অস্তিত্ব বাঁচিয়ে সামান্য অংশজুড়েই কেবল পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সামান্য এসব পানি দিয়ে নৌ চলাচল সম্ভব হয় না। ফলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে চরম অসুবিধায় পড়ছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ।
অন্যদিকে নদীর নাব্য সংকটের কারণে নদীগর্ভে জেগে ওঠা বালুর আস্তরণ থেকে প্রতিদিন ট্রাকভর্তি করে বালু উত্তোলন করে রমরমা ব্যবসা চালাচ্ছে একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল। নদীর গতি-প্রকৃতির পরিবর্তনের কারণে নদীর উভয় তীরে নদী দখল করে বসতবাড়ির পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে ভূমিদস্যুরা। তাই নদীর অনেকাংশ ছোট হয়ে আসছে। নদীগুলোর নাব্য সংকটের কারণে নৌযান চলাচলে বিঘ্নতাসহ কৃষি ও ব্যবসা বাণিজ্যে চরম প্রভাব ফেলছে। এমতাবস্থায় নদী রক্ষার দাবিতে নদী বাঁচাও আন্দোলনকারীরা ড্রেজিং করে পানির স্বাভাবিক চলাচল চালু রাখার জোর দাবি জানিয়ে আসছেন।
জামিরতা গ্রামের মাছ শিকারি শ্রী বলরাম হালদার জানান, শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি নেই তাই মাছ শিকার করতে না পেরে বেকার হয়ে পড়েছে নদীপাড়ের শত শত জেলে ও পরিবার। নদীতে নাব্য ফিরলে জেলে পরিবারে স্বস্তি ফিরবে।
পোরজনা ইউপি ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আবুল হাসেম বলেন, হুরাসাগর নদীর পোরজনা বাজার ও পোরজনা স্কুল পয়েন্টের দুই পাড়ে দখল করে গড়ে উঠছে বাড়ি ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এগুলো দেখার মতো কেউ নেই। এতে নদী হারাচ্ছে অস্তিত্ব।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, যেসব নদীতে নাব্য সংকট রয়েছে, তা খনন করে নাব্য ফিরিয়ে আনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট খনন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। খুব শিগগির দখলকৃত এলাকা দখলমুক্ত করে খননের কার্যক্রম শুরু হবে।