বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে

‘ডে লাইট সেভিং সিস্টেম’ প্রয়োজন


৯ এপ্রিল ২০২৬ ১১:০১

সূর্যের আলো ব্যবহার করে দাপ্তরিক কাজ করা যাবে
দিনের আলো ব্যবহারে সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের এনার্জি সেভিং হবে
বিশ্বের ৪০ শতাংশ দেশে চালু আছে এই পদ্ধতি

॥ সৈয়দ খালিদ হোসেন ॥
দিনের আলো বা সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে সরকারি-বেসরকারি দফতর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনায় সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করলে এবং তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট থাকবে না, নতুন করে এ সংকট তৈরির আশঙ্কাও থাকবে না। বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ দেশ এমন উদ্যোগের সুফল ভোগ করছে। বৈশ্বিক এই উদ্যোগকে বলা হয়, ‘ডে লাইট সেভিং সিস্টেম’। বাংলাদেশে ২০০৯ সালে এমন উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটি বেশিদিন কার্যকর ছিল না। দেশে বিদ্যমান জ¦ালানি সংকটের মধ্যে ফের আলোচনায় এসেছে ‘ডে লাইট সেভিং সিস্টেম’ অ্যাপ্লাই করা যায় কি না। সরকারের উচ্চপর্যায়েও এ নিয়ে আলোচনা চলছে। জ¦ালানি সাশ্রয়ে সরকার ইতোমধ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু এতে সংকটকালে কিছুটা সুবিধা তৈরি করলেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমাধান নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি সাশ্রয়ের জন্য ব্যবহার কমাতে ‘ডে লাইট সেভিং সিস্টেম’ চালু করতে পারে। এতে বিদ্যুতের ব্যবহার কমবে এবং গ্যাসসহ অন্যান্য জ¦ালানির ওপরও চাপ কমবে। পাশাপাশি সরকারকে কমাতে হবে আমদানিনির্ভরতা।
সূর্যের আলো ব্যবহার করে দাপ্তরিক কাজ করা যাবে : বাংলাদেশে ‘ডে লাইট সেভিং সিস্টেম’ চালুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। বিশ্বে অনেক দেশই তাদের জ্বালানি সাশ্রয়, কর্মঘণ্টার দক্ষ ব্যবহার এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এ পদ্ধতি অনুসরণ করে। বাংলাদেশেও এ ব্যবস্থা চালু করা নিয়ে নানা বিচার-বিশ্লেষণ চলছে। ডে লাইট সেভিং সিস্টেম মূলত এমন একটি সময় ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, যেখানে গ্রীষ্মকালে ঘড়ির সময় সাধারণ সময়ের চেয়ে এক ঘণ্টা এগিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে দিনের আলোকে বেশি কাজে লাগানো সম্ভব হয়। শীতকালে আবার সময় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়। এ পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো সূর্যের আলোকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ খরচ কমানো এবং মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করা। বাংলাদেশ একটি বিদ্যুৎ-ঘাটতিপূর্ণ দেশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। এখনো চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক সময় কম পড়ে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাপ বৃদ্ধি পায়। কারণ এ সময় দিন দীর্ঘ হলেও সন্ধ্যার পর থেকে বিদ্যুতের ব্যবহার হঠাৎ বেড়ে যায়। ডে লাইট সেভিং চালু করলে সন্ধ্যার বিদ্যুতের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে। এছাড়া ডে লাইট সেভিং সিস্টেম চালুর ফলে কর্মঘণ্টার ব্যবহার আরও কার্যকর হতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশে অধিকাংশ অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে। অবশ্য বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে জন্য ‘ডে লাইট সেভিং সিস্টেম’ চালু না করে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময় এক ঘণ্ট কমিয়ে ৯ থেকে ৪টা নির্ধারণ করেছে। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হলেও কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, ক্ষতগ্রিস্ত হচ্ছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকরা, ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদনও। ‘ডে লাইট সেভিং সিস্টেম’ চালু করলে কর্মঘণ্টা কমানোর কোনো দরকার হবে না। কেননা গ্রীষ্মকালে সূর্য অনেক আগে উঠে যায়, ফলে দিনের প্রথম ভাগের আলো অনেকটাই অপচয় হয়। যদি সময় এক ঘণ্টা বা দুই ঘণ্টা এগিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে মানুষ দিনের আলোতেই অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন করতে পারবে। এতে উৎপাদনশীলতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দিনের আলো ব্যবহারে সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের এনার্জি সেভ হবে : অর্থনৈতিক দিক থেকেও ডে লাইট সেভিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সময়ের পার্থক্য একটি বড় বিষয়। ইউরোপ বা আমেরিকার সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে সময়ের সামঞ্জস্য রাখা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। ডে লাইট সেভিং চালু করলে কিছু সময়ের জন্য হলেও এ ব্যবধান কমানো সম্ভব, যা ব্যবসায়িক যোগাযোগকে সহজ করবে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ খরচ কমবে। এ পদ্ধতি চালু হলে মানুষের অভ্যাস না হওয়া পর্যন্ত কিছুটা সমস্যা তৈরি হলেও মানুষ ধীরে ধীরে এতে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। যেমন ঘুমের অভ্যাস, স্কুলের সময়সূচি, পরিবহন ব্যবস্থা, সবকিছুর সঙ্গে নতুন সময়ের সমন্বয় করতে হয়তো একটু সময় লাগতে পারে।
দেশে অতীতে এমন উদ্যোগ কি নেওয়া হয়েছিল?
বাংলাদেশে ২০০৯ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ডে লাইট সেভিং চালু করা হয়েছিল, কিন্তু পরে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, প্রত্যাশিত সুবিধা পুরোপুরি পাওয়া যায়নি এবং জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছিল। এ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। যথাযথ গবেষণা, সচেতনতা এবং প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি থাকলে এ ব্যবস্থা কার্যকর করা খুবই সহজ। ডে লাইট সেভিং চালুর ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, বিমান চলাচল এবং আইটি সেক্টরে সময়ের সঠিক সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। সময় পরিবর্তনের ফলে যদি কোনো ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে তা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই আগে থেকেই এসব খাতে প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ করে সময় পরিবর্তন করলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারে। তাই গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি প্রচারণার মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে হবে। মানুষকে বোঝাতে হবে কেন এ পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং এর সুফল কী।
সবকিছু বিবেচনা করে বলা যায়, বাংলাদেশে ডে লাইট সেভিং সিস্টেম চালু করা একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হতে পারে, তবে তা হতে হবে সুপরিকল্পিত ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত। প্রথমে সীমিত আকারে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা যেতে পারে এবং এর ফলাফল বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
বিশ্বের কোন কোন দেশে এ সিস্টেম চালু আছে
ডে লাইট সেভিং সিস্টেম বা দিনের কাজে লাগানোর লক্ষ্যে গ্রীষ্মকালে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে দেওয়ার পদ্ধতি মূলত উত্তর আমেরিকা (যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা) শুরু করেছিল। ইউরোপের অধিকাংশ দেশ, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার কিছু অংশে চালু আছে এ পদ্ধতি। এই নিয়ম মার্চের দ্বিতীয় রোববার শুরু হয়ে নভেম্বর মাসের প্রথম রোববার শেষ হয়। উত্তর আমেরিকা: যুক্তরাষ্ট্র (অ্যারিজোনা ও হাওয়াই বাদে), কানাডার অধিকাংশ প্রদেশ এবং মেক্সিকোর কিছু সীমান্ত এলাকায় এ পদ্ধতি চালু আছে। ইউরোপ : ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ঊট) সব দেশ এবং যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশে এ পদ্ধতি চালু আছে। কোনো কোনো দেশে এ পদ্ধতি ‘সামার টাইম’ নামে পরিচিত। ওশেনিয়া: নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ ও পূর্ব অংশ (নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, তাসমানিয়া) অন্যান্য দেশের মধ্যে চিলি, প্যারাগুয়ে, কিউবা, হাইতি এবং মিশরের মতো দেশগুলোয় এ পদ্ধিতি অনুসরণ করা হয়। তথ্যমতে, বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশ এ পদ্ধতি অনুসরণ করে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ সিস্টেম কতটা কার্যকর হতে পারে
বাংলাদেশের সব ঋতুতেই সকাল ৭টায় পরিপূর্ণভাবে সূর্যের আলো প্রদর্শিত হয়। সেই হিসেবে এই দেশে ৭টার পর যেকোনো সময় সরকারি-বেসরকারি সব অফিস ও অন্যান্য কার্যক্রম ৭টার পর থেকেই শুরু করা যাবে। বৈশিক সংকটে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার জন্য ডে লাইট সেভিং একটি কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে। তবে এর সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং জনসচেতনতা। যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে বাংলাদেশেও এ ব্যবস্থা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।
এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বিশ্বের অনেক দেশে গ্রীষ্ম ও শীতকালে ডে লাইট সেভিংয়ের অংশ হিসেবে সময় এক ঘণ্টা এগিয়ে নেওয়া হয়, যা তাদের জন্য স্বাভাবিক বিষয়। বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতিতে সে পদ্ধতি চালু না করলেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কিছু সাময়িক পদক্ষেপ নিয়েছে। এটি কেবল বাংলাদেশের সমস্যা নয়, বরং বৈশ্বিক বাস্তবতা। তিনি বলেন, সন্ধ্যা ৬টা থেকে বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ থাকে। এ সময় দোকানপাট বন্ধ রাখলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব হবে এবং তা দীর্ঘসময় ব্যবহার করা যাবে। সরকার শুরুতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন, পরে ব্যবসায়ীদের অনুরোধে তার এক ঘণ্টা বাড়িয়ে ৭টা করা হয়। অর্থাৎ সন্ধ্যা ৭টায় সব দোকান বন্ধ রাখতে হবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতার আলোকে ডে লাইট সেভিং পদ্ধতি নিয়ে চিন্তা করা হতে পারে।
জাতীয় সংসদেও সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের সঙ্গে ৬ এপ্রিল কথা হয় এ প্রতিবেদকের। একান্ত আলাপচারিতায় উঠে এসেছে দেশের বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি সংকটের কথা। তিনি বলেন, এখন যে প্রেক্ষপট চলছে, তাতে সরকারের উচিত হবে দিনের আলোয় সব কাজ শেষ করা। শুধু সরকারি কাজই নয়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সব ধরনের কাজই দিনের আলোয় শেষ করতে পারলে কোনো সংকট থাকবে না। সরকারের এখানে ভর্তুকিও কমবে।
জ্বালানিবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম মনে করেন, বিদ্যুৎ সেভ করতে সরকারকে আরও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। ডে লাইট সেভিং সিস্টেমেও যাওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, ভুর্তুকি ও আমদানিনির্ভরতা কমাতেই হবে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর পেট্রোবাংলা করা হয়েছিল জ্বালানি খাতকে স্বনির্ভর করতে। কিন্তু সেটিকে এখন পরনির্ভরশীল। জ্বালানি বা বিদ্যুৎ খাত কীভাবে চলবে, সেই সিদ্ধান্ত আমলারা নিলে চলবে না। বিইআরসিকে (বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন) অংশীজনের সঙ্গে কথা বলতে হবে। দেশের সম্পদ কীভাবে রক্ষা করা যাবে, কীভাবে মানুষের কাছে বিদ্যুৎ সহজলভ্য হবে, সেটা ভাবতে হবে। আমরা আগেও বলেছি, বাইরের কারও পরামর্শে জ্বালানি খাত চললে দেশের সর্বনাশ হবে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে সরকারকে ব্যবসার চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
এ বিষয়ে সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা-১ অধিশাখা) ইশরাত রেজার সঙ্গে কথা বললে তিনি কোনো তথ্য দিতে বা মন্তব্য করতে চাননি, তিনি বলেন এ বিষয়ে কথা বলতে মুখপাত্রের দায়িত্বে রয়েছেন জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী। তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। কিন্তু একাধিকবার ফোন করলেও মনির হোসেন চৌধুরী ফোন ধরেননি। ফলে তার মন্তব্য বা সরকারের পরিকল্পনা জানা যায়নি।