যানজটে অতিষ্ঠ নগরবাসী, নিরসনে দরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
৯ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৩৮
স্টাফ রিপোর্টার : সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন ও যানজট নিরসনে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বেশকিছু সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। মার্চের শেষ সপ্তাহে হওয়া ওই সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন। সভায় তিনি ৭ এপ্রিলের মধ্যে রাজধানীর যানজট নিরসনের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজানোর নির্দেশনা দেন তিনি। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকার ১২০টি পয়েন্টে ট্রাফিক সিগন্যাল দেশীয় পদ্ধতিতে অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। যানজট কমাতে ঢাকা মহানগরের ভেতরে থাকা পাঁচটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল দ্রুত শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হবে এবং এসব টার্মিনাল শুধু ‘সিটি সার্ভিসের’ জন্য ব্যবহার করা হবে। এছাড়া শহরের ভেতর থেকে যত্রতত্র বাস কাউন্টার অপসারণ, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করা এবং রাস্তার মাঝখানের বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুাযায়ী গত ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, চিত্র আগের মতোই রয়েছে। বরং কোনো কোনো সময় যানজট আরও বাড়ছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, রাজধানীর সব সড়কেই যানজট লেগে থাকছে। সকাল ১০টা থেকে শুরু করে রাত ৯টা পর্যন্ত অনেকটা অপরিবর্তিত থাকছে যানজট। গত ৬ এপ্রিল সোমবার রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কগুলোয় দেখা গেছে, যানবাহনের জট লেগে আছে। বাস, প্রাইভেট কার, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের জট লেগে আছে। বাইকাররা সময় বাঁচাতে এক রাস্তা থেকে অন্য রাস্তায় গন্তব্যে পৌঁছানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। কিন্তু প্রায় সব রাস্তার অবস্থা একই। ফলে হেঁটে চলার চাইতে যানবাহনের গতি কম মনে হয়েছে। গণপরিবহনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা যাত্রীরা অনেকটা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। তারা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান।
যারা ঢাকায় বাস করেন, তারা সবাই জানেন রাজধানীর যানজট কতটা ভয়ানক। প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন সড়কে সৃষ্ট যানজটে পড়ে নাকাল হতে হয় লাখকোটি মানুষকে। আর কখনো যানজট যদি পুরো নগরীতে ছড়িয়ে পড়ে, জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতির শিকার হয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। নির্ধারিত সময়ে কোথাও পৌঁছাতে না পারা বা পরীক্ষাকেন্দ্রে দেরিতে পৌঁছানোর কথা কমবেশি সবারই জানা। নিত্য-নৈমিত্তিক এ সমস্যা নিয়ে গবেষণা, কর্মপরিকল্পনা ও অর্থ ব্যয় কম হয়নি। লেন মেনে গাড়ি চালানোর উদ্যোগ, গাড়ির গতিসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া, সড়কে ট্রাফিক আইন মানা হচ্ছে কি না, তা নিরূপণে সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপন, অযান্ত্রিক বাহন মূল সড়কে চলতে না দেওয়া, লক্কড়ঝক্কড় বাস বন্ধের তোড়জোড়সহ বহু পরিকল্পনা ও প্রকল্প দেখা গেছে। কিন্তু কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসেনি যানজট। আর এ পরিস্থিতিতে পড়ে কর্মঘণ্টা নষ্ট, শারীরিক ও মানসিক ক্ষতিসহ নানা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু যানজটের কারণে বছরে ৪০ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে জিডিপি তথা মোট দেশজ উৎপাদনেও।
সরকারপ্রধান মার্চের শেষ সপ্তাহে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে করা বৈঠকে যানজট নিরসনে গত ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন, কিন্তু সেই সময়ে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ওই বৈঠক থেকে বের হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, ‘স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন হলে রাজধানীর যানজট সমস্যার অনেকটা নিরসন হবে।’ রাজধানীবাসী সেই শুভক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছেন।