এক-এগারোর কালো অধ্যায় শেষের আলোকবর্তিকা ৩৬ জুলাই বিপ্লব
২ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৪৩
॥ জামশেদ মেহদী ॥
এক-এগারো। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি। কুখ্যাত এক-এগারো। ভারতের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ঘটানো হয়েছিলো এক-এগারো। আর এই কালো এক-এগারো ঘটাতে পারার কারণেই পরবর্তীকালে বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘটেছে অনেক কলঙ্কময় অধ্যায়। ঘটেছে অনেক ভয়াবহ নির্যাতন। ঘটেছে বিপুল রক্তপাত। এক-এগারো সংঘটিত হয়েছিলো বলেই ঘটেছিলো বিডিআর ম্যাসাকার। ঘটেছিলো শাপলায় আলেম-ওলামার ম্যাসাকার। এক-এগারো ঘটেছিলো বলেই বিলোপ করা হয়েছিলো কেয়ারটেকার সরকার। অথচ এই আওয়ামী লীগই দেশে অনেক বিশৃঙ্খলা, হরতাল এবং রক্তপাত ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বাধ্য করেছিলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে। আবার সেই আওয়ামী লীগই এক-এগারোর সিঁড়ি বেয়ে ক্ষমতায় এসে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করেছিলো। এক-এগারো ঘটেছিলো ১৯ বছর আগে। আজ যারা তরুণ বা যুবক, তারা জানেন না, এক-এগারো কী ছিলো। বইপত্রে পড়লেও পড়েছেন আওয়ামী লীগের বিকৃত ভার্সন। আজ তাই এক-এগারো সম্পর্কে সংক্ষেপে সঠিক ভার্সন দেওয়া প্রয়োজন। বিগত ১৯ বছরের মধ্যে শেখ হাসিনাই ক্ষমতায় ছিলেন সাড়ে ১৫ বছর। আর ২ বছর ক্ষমতায় ছিলো এক-এগারোর সরকার। ফলে সাড়ে ১৭ বছর তারাই ক্ষমতায় ছিলো। তাই এক এগারোর কাহিনী বিগত ১৯ বছরে সংবাদপত্রের পাতায় উঠে আসেনি। কিন্তু গত সপ্তাহে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত দুজন লে. জেনারেলের গ্রেফতারের পর এক-এগারো আবার সংবাদপত্রের পাতায় এবং শিক্ষিত সচেতন মানুষের মুখে স্থান পেয়েছে। মানুষ আরো জানতে পারছেন যে, এক-এগারোর অন্যতম প্রধাম কুশীলব ছিলেন লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। আরেক জন ছিলেন সদ্য আটক লে. জেনারেল শেখ মামুন খালেদ। মামুন খালেদ যত না এক-এগারোর কুশীলব ছিলেন, তার চেয়ে বেশি ব্যস্ত ছিলেন এক-এগারোর সিঁড়ি বেয়ে ক্ষমতায় ওঠা আওয়ামী লীগের টর্চার সেল আয়নাঘরের প্রতিষ্ঠার কাজে। সকলের অবগতির জন্য আসুন, ১৯ বছর আগে ফিরে যাই এবং খুব সংক্ষেপে ঝালাই করি এক-এগারোর পটভূমি।
আমি লেখার শুরুতেই বলেছি যে, ভারতের প্রত্যক্ষ মদদে সংঘটিত হয়েছিলো এক-এগারো। এটি এখন আর শুধুমাত্র অন্যদের কথা নয়, এক-এগারোর অন্যতম প্রধান কুশীলব খোদ মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীই স্বীকার করেছেন। রিমান্ডে তিনি যে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তা নিম্নরূপ-
“রিমান্ডে ১/১১ সরকারের পেছনের কিছু তথ্য ধীরে ধীরে তুলে ধরছেন জেনারেল মাসুদ। তিনি তদন্তকারীদের জানান, বিএনপি সরকারের শেষদিকে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টন মোড়ে জামায়াত-শিবিরের চারজন নেতাকর্মীকে লগি-বৈঠা দিয়ে হত্যা করে লাশের ওপর নৃত্য করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গ সংগঠন ও ১৪ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। এর পেছনে ছিল সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের বিপরীতে ভিন্ন ধরনের সরকার গঠনের ভারতীয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। পাশাপাশি জাতিসংঘের তৎকালীন আবাসিক প্রতিনিধিকে ম্যানেজ করে ভুয়া চিঠি তৈরি করা হয়। এ সময় দেশে এক ভয়াবহ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। পূর্বপরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের সরকার হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেন বিএনপির নিয়োগ দেওয়া সে সময়ের সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ এবং সাভারের ৯ম ডিভিশনের জিওসি মাসুদ উদ্দিন”। (দৈনিক আমার দেশ প্রথম পৃষ্ঠা, ২৮ মার্চ; ২০২৬)।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে যে, বায়তুল মোকাররমে জামায়াতে ইসলামীর জনসভায় ৪ জনকে হত্যা করা হয় এবং হত্যার পর লাশের ওপর নৃত্য করা হয়। আসল ঘটনা হলোÑ ৪ জন নয়, প্রকাশ্য দিবালোকে উন্মুক্ত জনসভায় আওয়ামী ঘরানার লোকেরা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জামায়াত ও শিবিরের ৭ জন নিরীহ কর্মীকে হত্যা করে এবং হত্যার পর লাশের ওপর নৃত্য করে। জামায়াতের সভায় এই সশস্ত্র হামলার নেতৃত্ব দেয় বাপ্পাদিত্য। কেউ কেউ বলেন, বাপ্পাদিত্য মস্কোপন্থী ছাত্র ইউনিয়নের নেতা। আবার কেউ কেউ বলেন, সে ছাত্রলীগের নেতা। জামায়াতের ঐ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শেখ হাসিনার জামানায় সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভুয়া মামলায় ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলানো জামায়াতের তৎকালীন আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী। তিনি তখন সবেমাত্র শিল্পমন্ত্রীর পদ থেকে মেয়াদ শেষ হওয়ায় ইস্তফা দিয়েছেন। মওলানা নিজামী ঐ সময় সভামঞ্চ থেকে তৎকালীন পুলিশের আইজি আনোয়ারুল ইকবালকে বারবার ফোন করেন এবং আওয়ামী ঘাতকদের হাত থেকে নিরীহ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের রক্ষার আহ্বান জানান। কিন্তু একজন সদ্য সাবেক মন্ত্রীর বারবার টেলিফোনিক অনুরোধেও সেদিন বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করেননি সেদিনের আওয়ামী পুলিশের আইজি আনোয়ারুল ইকবাল।
১৯৯৪ সালে মাগুরা জেলায় একটি উপনির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ এনে তৎকালীন বিরোধীদল আওয়ামী লীগ নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। নানা কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে আওয়ামী লীগ। আন্দোলন শুরুর ৯ মাসের মধ্যেই জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা। তাদের মতো জাতীয় পার্টির এমপিরাও পদত্যাগ করেন। ১৯৯৫ সালের বছরজুড়ে হরতাল এবং অবরোধসহ নানা রাজনৈতিক কর্মসূচি দেয় আওয়ামী লীগ।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একতরফা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসতে থাকে, বিরোধীদলগুলোর আন্দোলনের তীব্রতাও বাড়তে থাকে। ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দেশের বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশ করতে থাকেন। খালেদা জিয়া যেখানে সমাবেশ করতে যান, সেখানেই হরতালের ডাক দেয় আওয়ামী লীগ।
খালেদা জিয়া তার নির্বাচনী এলাকা ফেনীতে সমাবেশ করতে গেলে সেখানেও তিনি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়েন। সেখানে বিরোধীদলগুলো হরতালের ডাক দেয় এবং কালো পতাকা প্রদর্শন করে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ফেনীতে দুটি সমাবেশ বাতিল করতে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। বিভিন্ন জেলায় বিএনপি নেতাদের বাড়ি কিংবা অফিসে হামলা হয়। রাজশাহীর তৎকালীন মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর বাড়িতে বোমা হামলা হয়।
খালেদা জিয়া রাজশাহীতে সমাবেশ করতে গেলে সেখানে তার সমাবেশের কাছেই বোমা হামলায় এক পুলিশ সদস্য নিহত হন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর লক্ষ করে বোমা নিক্ষেপ করা হয় বলে বিভিন্ন সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। আওয়ামী লীগ টানা ১০৮ ঘণ্টার অসহযোগ আন্দোলন করে। এর মধ্যে সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন দেন। ঐ নির্বাচনে তার দল দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। ঐ দিকে সরকারের সচিব পর্যায়ের অফিসাররাও মহীউদ্দীন খান আলমগীরের (মখা আলমগীর নামেই সমধিক পরিচিত) নেতৃত্বে সচিবালয়ের সামনে জনতার মঞ্চ নামে একটি মঞ্চ করে আওয়ামী লীগের আন্দোলন সমর্থন করে। অবশেষে ১৯৯৬ সালের মার্চ মাসে বেগম জিয়া নবগঠিত জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন এবং সারা রাত অধিবেশন চলার পর ২৬ মার্চ ভোররাতে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়।
প্রথম কেয়ারটেকার সরকারপ্রধান সাবেক প্রধান বিচারপতি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচন হয় এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসে। ২০০১ সালে সাবেক প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বে দ্বিতীয় কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় এবং বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসে।
২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে বেগম জিয়ার সরকার মেয়াদ শেষ হওয়ায় পদত্যাগ করেন। কিন্তু তারপর কেয়ারটেকার সরকার গঠন নিয়ে শুরু হয় এক নতুন অচলাবস্থা। সংবিধান মোতাবেক সদ্য প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার কথা। কিন্তু তার বিরুদ্ধে আবার আন্দোলন শুরু করে আওয়ামী লীগ। এ আন্দোলনই সূচনা করে কুখ্যাত কালো দিবস এক-এগারোর। আন্দোলনের তীব্রতায় কে এম হাসান প্রধান উপদেষ্টা হতে অস্বীকার করেন।
গত ২৮ মার্চ শনবার একটি ইউটিউব আলোচনায় জামায়াত নেতা আইনজীবী শিশির মনির এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন যে, একজন প্রভাবশালী রাষ্ট্রদূত অনেকটা হুমকির সুরে কে এম হাসানকে প্রধান উপদেষ্টা হওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেন। তখন কে এম হাসান প্রধান উপদেষ্টা হতে অস্বীকার করেন।
সংবিধানে কেয়ারটেকার সরকারপ্রধান হওয়ার ৬টি অপশন ছিলো। প্রথম অপশন সদ্য অবসরপ্রাপ্ত চিফ জাস্টিস। ষষ্ঠ অপশন ছিলো প্রেসিডেন্টের যুগপৎ কেয়ারটেকার সরকারপ্রধান হওয়া। পদে পদে বিরোধিতা করায় ষষ্ঠ অপশন মোতাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিনকেই কেয়ারটেকার সরকারপ্রধান হতে হয়।
আওয়ামী লীগ এ ইস্যুতে চরম নৈরাজ্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সৃষ্টি করে। তাদের সাথে যোগ দেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া বিউটেনিস, ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত আনোয়ার চৌধুরী এবং জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি রেনাটা লক ডেসালিয়ান। বলাইবাহুল, পেছন থেকে পুতুলনাচ খেলাচ্ছিলো ভারত। এই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক শক্তির সাথে মোটামুটি প্রকাশ্যেই হাত মেলান তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ এবং নবম ডিভিশনের জিওসি লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।
এখানে একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়- অনেক দেনদরবারের পর ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিএনপি ও আওয়ামী লীগসহ সব দল রাজি হয়। কিন্তু ৩ জানুয়ারি পর্দার অন্তরালে ভারত এবং জেনারেল মইন উ আহমেদের সুতার টানে আওয়ামী লীগ এবং জেনারেল এরশাদের জাতীয় পার্টির সমস্ত প্রার্থী তাদের নমিনেশন পেপার প্রত্যাহার করেন। সেই মুহূর্তেই দেশপ্রেমিক এবং আধিপত্যবাদবিরোধী জনগণ পরিষ্কার বুঝতে পারেন যে, একটি বিরাট ঘটনা ঘটতে চলেছে।
অবশেষে সেই ঘটনাটিই ঘটলো। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি বন্দুকের মুখে প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয় এবং ১১ জানুয়ারি রাতে সান্ধ্য আইন জারি করা হয়। নতুন প্রধান উপদেষ্টা করা হয় বিশ্বব্যাংকের সাবেক অফিসার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফখরুদ্দিন আহমেদকে। এটিই ইতিহাসে কুখ্যাত এক-এগারো নামে কলঙ্কিত হয়ে আছে। সংবিধান মোতাবেক ৩ মাসের মধ্যে নির্বাচন করার কথা থাকলেও সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২ বছর পর, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর।
তখন চলছিলো বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে ধ্বংসের মার্কিনযজ্ঞ। এই যজ্ঞে আমেরিকার সাথে হাত মেলায় ভারত। পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টনের একটি টেলিফোনিক সংলাপ থেকে জানা যায় যে, আমেরিকা, ভারত এবং মইন উ আহমেদ ট্রয়কার (ত্রয়ী) যৌথ উদ্যোগে গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি দিয়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনা হয়।
ইন্দো-মার্কিন সক্রিয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটিতে বলীয়ান হয়ে শেখ হাসিনা বিদেশি প্রভুদের ইশারায় একের পর এক রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটাতে থাকেন। এক-এগারোর সিঁড়ি বেয়েই ঘটে বিডিআর ম্যাসাকার। ঘটে শাপলা ম্যাসাকার। ঘটে মুজিব হত্যার বিচারের নামে কর্নেল ফারুক, মেজর হুদাসহ অনেক অবসরপ্রাপ্ত সামরিক অফিসারের ফাঁসিতে মৃত্যু। ঘটে মানবতাবিরোধী অপরাধের নামে এক প্রহসনের বিচার। যে বিচারে মাওলানা নিজামীসহ জামায়াতের শীর্ষ ৫ নেতা এবং বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদেরের ফাঁসিতে মৃত্যু।
সেই এক-এগারোর কৃষ্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে। আবার দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি নিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতায় আসার দেড় মাসের মাথায় পাওয়া যাচ্ছে জুলাই বিপ্লবকে সাইড ট্র্যাক করার আলামত। ভারতের চোখে চোখ রেখে কথা বলার যে ইতিহাস জুলাই বিপ্লবের ছাত্র-জনতা এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস সৃষ্টি করেছিলেন, সেই ইতিহাস অতীত হতে চলেছে বলে রয়েছে জল্পনা। বাংলাদেশের অর্ধশতাধিক স্থানে মাথাচাড়া দিচ্ছে পতিত আওয়ামী লীগ। জুলাই বিপ্লবে পুলিশ হত্যার বিচারের কথা শোনা যাচ্ছে। যে ড. খলিলুর রহমান ছিলেন বিএনপির চোখে বিষ, তিনি ভেল্কিবাজির মতো পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন।
মানুষ জানে না, এর শেষ কোথায়।
Email:jamshedmehdi15@gmail.com