ছড়া কবিতা
১ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫৪
চৈত্র মাসে শীত
মুহাম্মদ ইব্রাহিম বাহারী
চৈত্র মাসে শীত পড়ছে
বাড়ছে শীতের মাত্রা,
হাচি কাশি সর্দি জ্বর
অশুভ অযাত্রা।
কুয়াশা ঠিক মাঘের মতো
ফাটল ধরছে ঠোঁটে,
যদিও ভাঁট, পলাশ শিমুল
আগুন হয়ে ফোটে।
ডাকছে কোকিল কুহু কুহু
কোকিলাদের তাড়া
একটা রাতও কাটছে না তো
লেপ কম্বল ছাড়া।
ষড়ঋতুর ষড়যন্ত্র
তিনটা ঋতু আছে
ভলোলাগে না এমন কিছু
ফুল পাখিদের কাছে।
ভরে হৃদয়
আবুল খায়ের বুলবুল
এই দু’চোখের জল যদি না শুকোয়
ভেবো না কখনো তা শুধু দুঃখময়
ফসলের মাঠ যদি খাঁ-খাঁ হয়ে যায়
তিনি তো ভিজিয়ে দেন তা বৃষ্টি ধারায়
শুকরিয়া আদায় করে ভরে হৃদয়।
আকাশ আছে বলে জানি তারারা জ্বলে
সকালে সূর্য ওঠে বলে শিশির গলে
চাঁদে আলো না দিলে যে জোছনা হতো না
নদীরা আছে বলে তাই দেখি মোহনা
রাত দিন তুমি আছো বলে সারাক্ষণ
এই জীবন হয়ে ওঠে শুধু মধুময়।
এ পৃথিবী আছে বলে গাছে গাছে ফুল
সুবাস ছড়ায়ে মন করে যে ব্যাকুল
পাখি আছে বলে শুনি কত কলরব
ভোর বিহানে নকীব ডাকে তাই রব
ঠোঁট মুখ দিলে বলে মোর রহমান
এই জীবন হয়ে ওঠে শুধু সুখময়।
বিদ্যুৎ অফিসে ভূত
শেখ সালমান শাহী
বিদ্যুৎ অফিসে ভূত
ঢুকে হাউমাউ
থাকতে আলো চাই
কবে দিবা কও?
ভয়ে নত অফিসার
ততলিয়ে সেও
অবশ্য দিয়ে দিবো
এখন তুমি যাও।
বৈশাখ
জনি সিদ্দিক
বৈশাখ এলো ওই
ঝড় ঝড় ঝড়,
আকাশেতে মেঘ ডাকে
কড় কড় কড়।
বৈশাখে ধুলাবালি
উড়ু উড়ু উড়ু,
বুক কাঁপে ভয়ে আজ
দুরু দুরু দুরু।
বৈশাখ এলো ওই
ভয় ভয় ভয়,
ঘরবাড়ি ঝড়ে হানি
হয় হয় হয়।
বৈশাখ এলে আম
খাই খাই খাই,
মামা বাড়ি আম খেতে
যাই যাই যাই।
মধুমাসে ফল খেয়ে
হাসি হাসি হাসি,
বৈশাখ মাস এলে
মামা বাড়ি আসি।
পথশিশু
রাহেলা আক্তার
পথশিশু বলে আমাকে সবাই করে হেলা
ফুটপাতের ঐ খাবার খেয়ে কাটাই সারা বেলা।
‘মা’ হারালাম, বাপ হারালাম চলি আপন রথে
ঘরবাড়ি আর ঠিকানা নেই, ঘুরি পথে পথে।
রাতটা কাটাই বস্তি পাড়ায়, গায়ে ছেঁড়া কাঁথা
পথশিশুরা ও যে মানুষ, কেই-বা বুঝে ব্যথা!
ছেঁড়া কাপড় পরে সদা, কাটাই যেথা-সেথা
বস্ত্র প্রদানের টাকা এলে সাবাড় করে নেতা।
বস্তা কাঁধে প্লাস্টিক কুড়াই রাস্তার অলিগলি
পেট চলে না, তাতে কত? সংগ্রাম করেই চলি।
খাবার চাইলে ‘চোর চোর’ বলে সবাই করে তাড়া
পথশিশু ও মানুষ ভেবে, যদি জাগত সাড়া!
নতুন পোশাক পরে সবাই কাটাবে ঈদের দিন
পথের শিশু বলে আমি, হারালাম খুশির বীণ।
প্রভাবশালী ভাই বন্ধুরা পাশে যদি থাকতো
পথশিশু ছেলেমেয়েরা প্রাণটা ভরে হাসতো।
ঝড় এসেছে
সাইদুল ইসলাম সাইদ
কে কে যাবে আয় রে তোরা
আম কুড়াতে যাই
ঝড়ের দিনে আম কুড়াতে,
অনেক মজা ভাই।
আমগুলো সব স্তূপ করে,
ভাগ করব সব মিলে।
সবাই মিলে খেলব ভেলায়
পুকুর কিংবা বিলে।
আম দেখে মন ভরে যাবে
জিভে আসবে জল
আয় রে সবাই আম কুড়াব
ঝড় এসেছে চল।
বাড়ি এসে লবণ দিয়ে
ভর্তা করে খাব
এমন করে প্রতিটি দিন
এক সাথে ভাই যাব।
সাধ
শেখ সোহেল রেজা
ঐ আকাশে দেখো মাগো
উঠছে ঈদের চাঁদ,
অনেক মজা করবো আমি
আমার বড় সাধ।
দাও না কিনে একটি জামা
চাই না কিছু আর,
হাতের চুড়ি, চুলের ফিতা
চাই না গলার হার।
পাশের বাড়ি দেখে এলাম
নানান রকম রান্না,
নতুন সাজে সাঁজবে ওরা
মিনা, রাজু, পান্না।
ফিন্নি সেমাই খাবো আমি
মনে বড় সাধ,
কালকে মাগো ঈদের দিন
আজকে চাঁদ রাত।
নতুন জামা পরে আমি
ঘুরবো সারা দিন,
রাত পোহালে আসবে মাগো
খুশির ঈদের দিন।
বড়ই ভাগ্যবান
মাহমুদা সিদ্দিকা
ভাবছি আমি ওসমান হাদি
বড়ই ভাগ্যবান
সকল চাওয়া কবুল করলেন
আল্লাহ মেহেরবান।
কোন আমলে খুশি হয়ে
এমন মরণ দিলেন
খুব সহজে আল্লাহ তাকে
শহীদ করে নিলেন।
খুব দরকার একটু জানার
তার পরিবার কাছে
মুখটা খুলে বলুক এবার
বেঁচে যারা আছে।
বিপ্লবীরা শহীদ হবে
বউ পরিবার ফেলে
এমন মরণ পাওয়া যাবে
বলেন কোথায় গেলে?
আমরা যারা বেঁচে আছি
খাওয়া পরার জন্য
শহীদ হওয়ার লাল কাফনে
কেমনে করবেন গণ্য?
হেদায়াত দাও প্রভু
কুলসুম বিবি
বেহুঁশ হয়ে ঘুমাও কেন ফজর করে কাজা,
নূরানী রূপ হারিয়ে যায় এইটা প্রথম সাজা।
কাজে কর্মে ব্যস্ত থাকো জোহর নামাজ ভুলে,
জানো নাকি জোহর পড়লে রিজিকের দ্বার খোলে।
হেলায় হেলায় আসর কাজা ইবলিসে ভর করে,
দেহের শক্তি কমতে থাকে রোগ-ব্যাধিতে ধরে।
মাগরিব কাটে গল্পে গল্পে বেনামাজির সাজে,
প্রিয় সন্তান আসবে না তো তোমার কোনো কাজে।
বেঁচে আছো রবের কৃপায় শুকরিয়া নাই মুখে,
এশার ছেড়ে ঘুমাও যদি ঘুম হবে না সুখে।
ও দয়াময় হেদায়াত দাও এই মিনতি করি,
আমরা সকল পাপী বান্দা যেন নামাজ পড়ি।
মক্কা বিজয়
শেখ মিজানূর রহমান মিনু
মক্কা বিজয় করলো আজি
কোন সে সোনার ছেলে,
বিশ্ববাসী দেখলো এবার
স্বচ্ছ দু’চোখ মেলে।
ছোট্ট কিশোর মেষ চরাতো
প্রখর রৌদ্র তাপে,
মেঘমালা তার পিছু নিলো
রইনি কোন চাপে।
মা হালিমার মাতৃ দুগ্ধে
করলো তাকে বরণ,
রুগ্ণ উষ্ট্রি সবল হলো
ছুটলো যে তার চরণ।
হায়দারি হুঙ্কার
আসাদুজ্জামান খান মুকুল
ইরানের ওই ত্রিসীমানায় রণহুঙ্কার জারি,
সন্ত্রাসীদের কলিজা তাই কাঁপছে ত্রাসে ভারি।
জায়নবাদী দস্যু দলের রক্তমাখা খেলায়,
রুদ্র-আঘাত হানছে ইরান শত্রু সেনার মেলায়।
ড্রোন-মিসাইল গর্জে ওঠে কাঁপে দস্যু ঘাঁটি,
নয়কো ভীত বীর মুজাহিদ দেশপ্রেম আছে খাঁটি।
আকাশ চিরে বজ্র হানে প্রতিশোধের অগ্নি,
জালিম সেনার দম্ভ পুড়ে ভস্মে জমদগ্নি।
বিশ্বজুড়ে মুক্তি পিয়াস মজলুমেরই আর্ত,
ছিনিয়ে নেবে লড়াই করে অত্যাচারীর স্বার্থ।
হায়দারির তেজ ধারক দেশে উঠছে জয়ের আলো,
ঘুচবে এবার কুচক্রীদের অধর্ম ঘোর কালো।
শপথ নিয়ে আনবে বিজয় ঐ বদরের মতো,
মুছবে রে আজ শোষণ-হাতের দেওয়া সকল ক্ষত।
কাল বসন্ত
আমিনুল ইসলাম কাইয়ূম
রৌদ্রেরই প্রচণ্ড তেজে,
কালের পাল্টাচ্ছে পেজ,
নতুন-নতুন ফল এবং ফসল
দাবদাহে মাঠঘাট,
কৃষকের বল্টু-নাট,
শুকিয়ে গেছে করছে শুধুই গোসল ॥
ঐ পাদপের পত্র ঝরা,
নাড়া না লাগওে ত্বরা,
আজ ‘কাল-বসন্ত’ ॥
আজ ফুলের সমারোহ,
সর্বত্র সুবাসে অহরহ,
যেনই নাহি অন্ত॥
কোকিলের কুহু কুহু ডাক,
শুনে সবে হয় হতবাক
হবে না কখনো ক্ষয়॥
বসন্ত এ বাংলাদেশে
রব দিয়েছে নয় রেশে
কাইয়ূম কবি কয়॥