রিপাবলিকান প্রতিনিধি ন্যান্সি বলেন

ইরানে মার্কিন সেনা পাঠাতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন দরকার

সোনার বাংলা অনলাইন
৩০ মার্চ ২০২৬ ১১:১১

অবসর নিচ্ছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের প্রথম নারী স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে স্থল সেনা মোতায়েনের যেকোনো সিদ্ধান্তে কংগ্রেসের মতামত নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান প্রতিনিধি ন্যান্সি মেস। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দলের ভেতরের বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রোববার সিএনএন’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ন্যান্সি মেস এসব কথা বলেন। তার আগে তিনি প্রতিনিধি পরিষদের একটি গোপন ব্রিফিংয়ে অংশ নেন। সেখানে যুদ্ধ সংক্রান্ত আলোচনায় প্রশাসনের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। একই দিনে ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগন ইরানে সীমিত স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যার মধ্যে খার্গ দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় হামলার পরিকল্পনাও রয়েছে। ন্যান্সি মেস বলেন, যদি আমরা মেরিন ও ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন নিয়ে প্রচলিত স্থল অভিযান চালাতে যাই, তাহলে সেটি একটি পূর্ণাঙ্গ স্থল যুদ্ধ হবে। আমি মনে করি এতে কংগ্রেসের মতামত থাকা উচিত এবং আমাদের ব্রিফ করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, আমরা মাটিতে সেনা চাই না। অনেকের জন্য এটিই সীমারেখা। যদি আমরা সেটা করতে যাই, তাহলে কংগ্রেসে এসে যথাযথ অনুমোদন নিতে হবে।
ডনাল্ড ট্রাম্প এখনো প্রকাশ্যে ইরানে সেনা পাঠানোর পক্ষে অবস্থান নেননি। তবে তিনি বলেছেন সব বিকল্প খোলা আছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যুদ্ধ শুরু করার পর এক মাসে তিনি সামগ্রিকভাবে সফলতার দাবি করেছেন, তবে যুদ্ধের শেষ লক্ষ্য ও সময়সীমা এখনো অস্পষ্ট। সামরিক বিশ্লেষক এবং ট্রাম্পের নিজস্ব জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান বলেছেন, যুদ্ধের ফলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কিছুটা কমেছে। কিন্তু দেশটি এখনো অঞ্চলকে ক্ষতিগ্রস্ত করার ক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং ভবিষ্যতে পুনর্গঠনের সক্ষমতাও রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞই বলছেন, শুধু আকাশ হামলার মাধ্যমে ইরানের সামরিক শক্তি পুরোপুরি ধ্বংস করা, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
রোববার এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন সরাসরি অস্বীকার না করে বলেন, পেন্টাগন নিয়মিতভাবে প্রেসিডেন্টের জন্য বিভিন্ন বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করে।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টকে সর্বোচ্চ বিকল্প দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়া পেন্টাগনের কাজ। এর মানে এই নয় যে প্রেসিডেন্ট কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন।
ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানো ট্রাম্পের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক সীমারেখা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে দ্রুত ও সীমিত সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে, যাকে তিনি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ কৌশল বলেন। এই সিদ্ধান্ত রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের জন্যও একটি বড় পরীক্ষা হতে পারে। যদিও তারা সাধারণত ট্রাম্পকে সমর্থন করে এসেছে, তার ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) আন্দোলনের প্রভাবশালী অনেকেই এই যুদ্ধের সমালোচনা করেছেন। টেক্সাসের ডালাসে অনুষ্ঠিত কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্স (সিপ্যাক)-এ এই বিভক্তি স্পষ্ট দেখা গেছে। অনেক বক্তা যুদ্ধকে সমর্থন করেছেন বা বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। তবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য ম্যাট গেটজ সম্ভাব্য স্থল আগ্রাসনের সরাসরি বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, ইরানে স্থল অভিযান আমাদের দেশকে আরও দরিদ্র ও কম নিরাপদ করে তুলবে। এতে গ্যাসের দাম বাড়বে, খাদ্যের দাম বাড়বে এবং আমরা যত সন্ত্রাসী হত্যা করব, তার চেয়ে বেশি তৈরি হতে পারে।

 

আন্তর্জাতিক

সম্পর্কিত খবর