ঈদের খুশি শিশুর হাসি : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ
১৭ মার্চ ২০২৬ ১১:৪০
॥ প্রফেসর ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ ॥
ঈদ আনন্দের দিন। একজন শিশুর জন্য সবচেয়ে স্বপ্নময় আনন্দের দিন এটি। প্রত্যেক পিতা-মাতা শিশুর স্বপ্নিল ঈদ সাজাতে কতই না চেষ্টা করেন। শিশুর জন্য নতুন পোশাক। নতুন জুতা। নতুন টুপি। নতুনত্বের বাহারে শিশুকে সাজাতে গিয়ে প্রায় সকল বাবাই নিজের কথা ভুলে যান। নিজের কথা ভুলে যান অনেক মা। কোনো কোনো বাবা নিজের ছেঁড়া জুতায় সেলাই লাগান। রং করেন। পুরনো জামা ধুয়ে ইস্ত্রি করে নতুন বানানোর চেষ্টা করেন। আধাছেঁড়া টুপিটা ধুয়ে রোদে শুকিয়ে ভাঁজ করে রাখেন ইস্ত্রি করা কাপড়ের মতো করে। এভাবেই তো খুশিতে ভরে ওঠে গ্রাম বাংলার ঈদের উৎসব। ইসলাম মানব প্রকৃতির সাথে সংগতিপূর্ণ জীবনবিধান। মানুষের আনন্দ ও বিনোদনের মৌলিক অধিকারের প্রকাশ ঘটে এই ঈদে। ঈদে খুশি প্রকাশ করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, কোলাকুলি করা সুন্নত। অপরদিকে মন বেজার করে গোমড়া মুখে বসে থাকা মাকরূহ। তাই তো ঈদের খুশি সাজিয়ে নেবো শিশুর হাসি দিয়ে।
ঈদ সুবাসে ভরিয়ে দেবো মন
শিশুরা নিষ্পাপ ও পবিত্র। তারা ফুলের মতো ফুটে থাকে। তাদের মনেও পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা ফুটে ওঠে ঈদ এলে। ঘুচে যায় সব ধরনের ভেদাভেদ। কাঁধে কাঁধ মিলেয়ে তারা উপভোগ করে ঈদুল ফিতর। মহিমাময় এই উৎসব মুসলিম সমাজে দারুণ সৌহার্দ্যরে সৃষ্টি করে। এতিমখানার শিশুরাও এদিন আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারে। পথশিশু, অভাবী বা অনাহারি শিশুও এদিন পেটপুরে খেতে পায়। ধনী-গরিবের মাঝে থাকে না কোনো দেয়াল।
যে পরিবারে শিশু আছে সে পরিবার যেন বেহেশতের বাগান। তাই তো শিশুদের কোলাহলে ঈদের সকালে বেহেশতি আবেশ তৈরি হয়। আগের দিন সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে চিকন বাঁকা চাঁদ দেখার মধ্য দিয়ে খুশির ফোয়ারা ছড়িয়ে পড়ে। তাদের রাত কাটে যেন নির্ঘুম। কখন ভোর হবে, কখন নতুন জামা পরবে। আঁধার কেটে ভোর হতেই গোসল করে নতুন পোশাক পরে তারা বেরিয়ে পড়ে আনন্দ মিছিলে। ঈদগাহ ময়দানে তাদের উপস্থিতি দেখে মনে হয়, যেন একেকটা বেহেশতি ফুল। শিশুর এই অনাবিল আনন্দ বাবা-মায়ের মনেও খুশির জোয়ার আনে। সন্তানের খুশি দেখে তারাও তৃপ্ত হোন। তাদের মুখে হাসি ফোটে। পরিবারের বড়দের চেয়ে শিশুদের আনন্দই চোখে পড়ার মতো। তাদের প্রকাশভঙ্গি নিষ্কলুষ ও সৌরভময়। তাই প্রত্যেক বাবা-মা তার শিশুসন্তানকে আনন্দ উপভোগ করার ব্যবস্থা করে দিতে পেরে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলেন। সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটাতে প্রাণন্তকর চেষ্টা করেন। এটাই তো ঈদের সৌন্দর্য।
ঈদের আনন্দ শুরু হয়ে যায় চাঁদ দেখার সাথে সাথেই। শিশুরা রোজার শেষ দশকেই ঈদের প্রহর গুনতে থাকে। চাঁদ দেখার সাথে সাথে তাদের সে কী আনন্দ! দলবেঁধে তারা বাড়ির উঠানে, ছাদে অথবা রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। ছোট্ট শিশুরা তাদের নতুন জামা-কাপড় খুলে বারবার দেখে এবং ভাঁজ করে লুকিয়ে রাখে। তাদের অনেকের ধারণা, নতুন জামা কেউ দেখে ফেললে জামা নতুন থাকবে না, ঈদ পুরনো হয়ে যাবে। দুষ্টু কেউ যদি একবার বলে তোমার জামা দেখেছি। অমনি তারা কান্নায় ভেঙে পড়ে। বড়রা বুঝিয়ে শান্ত করেন। এই হাসি-কান্না আর আবেগ উচ্ছ্বাসের মধ্যে শিশুরা সূর্যোদয়ের প্রত্যাশায় ঘুমিয়ে পড়ে। ঈদের সকালে তাদের ঘুম থেকে উঠাতে মোটেই কষ্ট হয় না। এক ডাকেই তারা উঠে বসে এবং ঈদের প্রস্তুতিতে নেমে পড়ে।
ঈদে শিশুরা রং-বেরঙের নতুন পোশাক পরে সেজেগুজে ঈদগাহে যায়। পাড়া-মহল্লায় সুরে। আত্মীয়-স্বজনকে সালাম করে। সেলামি পায়। সে কী আনন্দ! শিশুদের চোখগুলো চিকচিক করে ওঠে। শিশুদের এ আনন্দ দেখাও এক ধরনের ঈদ। মনে হবে যেন বেহেশতের মেহমানরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আবার কখনো মনে হবে একঝাঁক রাজকুমার ও রাজকন্যা দলবেঁধে ছুটছে। ঈদে ধনী-গরিব সব সমান। নেই কোনো বিভেদ। এভাবে আনন্দ সবার মধ্যে ভাগ করে নেয়াই ঈদের লক্ষ্য।
আমাদের সমাজের সকল শিশু এ আনন্দে সমানভাবে অংশ নিতে পারছে না। সমাজে বহু অনাথ, এতিম শিশু রয়েছে, কোথায় তাদের নতুন জামা-জুতা! তাদের ঘরে খাবার নেই। আনন্দের এই শুভক্ষণে সকল শিশুর অধিকার রক্ষা হলো কিনা ভাবতে হবে আমাদের সবাইকে। ইসলামের চমৎকার সমাধান দিয়েছে। ইসলাম সচ্ছল ব্যক্তিদের ওপর পরিবারের সব সদস্যের ‘ফিতরা’ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছে। আর তা ঈদের নামাজের পূর্বেই গরিবদের দিতে বলেছে যাতে তারা এবং তাদের সন্তানরা ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে। দারিদ্র্যবিমোচনের জন্য, গরিবদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ইসলাম ধনীদের ওপর জাকাত ফরজ করেছে। জাকাত যথার্থভাবে আদায় হলে আয়ের বৈষম্য হ্রাস পাবে এবং সে অর্থ দিয়ে গরিবরা তাদের সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে পারে।
ঈদ আনন্দ ভাগাভাগির দিন। আনন্দ বিলানোর দিন। ঈদ সিয়াম সাধনায় অর্জিত লক্ষ্যের শুকরিয়া প্রকাশের দিন। দান হাদিয়া দিয়ে অন্যকে চমকে দেয়ার দিন। নামাজ শেষে আমরা সন্তানকে যখন খেলার সামগ্রী কিনে দেই। তখন সেখানে কয়েকটি অনাথ শিশু হয়তো খেলার সামগ্রী নাড়াচড়া করছে; কিন্তু কিনতে পারছে না। ইচ্ছে করলে আমি অতি অল্প পয়সায় তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পারি। এভাবে আমরা যদি পাড়া প্রতিবেশীর প্রতি যত্নবান হই তবে সবার ঘরে আনন্দ ছড়িয়ে পড়বে।
গরিব-অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরও মেহেদির রঙে রঙিন হতে মন চায়। ঈদে বাড়ি ফেরার সময় কিংবা ঈদের কেনাকাটার ফাঁকে অল্প কিছু বিনিয়োগ করে এই সব শিশুদের জন্য কিছু মেহেদি কিনে নিয়ে আসতে পারি। দেখবেন ওরা মেহেদী উৎসবে মেতে উঠবে। এই মজাদার আনন্দের আয়োজনে ওরা হাতে নানান ধরণের ডিজাইন আর স্বপ্ন আঁকবে। এই স্বপ্ন হবে মানুষ হবার। এই স্বপ্ন হবে নিজেকে উন্নত করে গড়ে তোলার। তাদের মেহেদির রং আপনার মনকেও রাঙিয়ে তুলবে।
ঈদের আনন্দ অনেকটাই মলিন হয়ে আছে হাসপাতালগুলোয়। ঘরের ছোট্ট শিশুটি যখন অসুস্থ তখন কারোরই ঈদ পালন করা হয় না। সম্পদশালীদের মনে তবুও কোনো না কোনো ফর্মে ঈদের আনন্দ ভেসে ওঠে। কিন্তু গরিবের ঘরে কালো রাত্রি নেমে থাকে সর্বক্ষণ। স্ব-স্ব এলাকার হাসপাতালে অসুস্থ শিশুর জন্য ঈদের নতুন জামা উপহার হিসেবে পৌঁছে দিতে পারাটা অনেক বেশি সৌভাগ্যের। অনেক বেশি আনন্দের।
মাহে রমজানের শেষ দিকে শপিংমল ও বিপণি-বিতানগুলোয় বেড়ে যায় বেচাকেনা। ঈদের আনন্দকে পরিপূর্ণ মাত্রায় নিয়ে যেতে নতুন পোশাকে নিজেকে আচ্ছাদিত করতে লাখো মানুষ ভিড় করে এসব শপিংমলে। কিন্তু সমাজের চারপাশে এমন অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশু রয়েছে যাদের দু’বেলা দু’মুঠো ভাত জুটলেও ঈদের নতুন কাপড় কেনার ইচ্ছাটি কেবল স্বপ্নই থেকে যায়। তাদের বাবা মা ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও সন্তানদের হাতে তুলে দিতে পারে না ঈদের নতুন জামাটি। কারো বাবা মা থেকেও নেই। তাই আমাদের ঈদের আনন্দের সবচেয়ে বেশি ভাগীদার তো হওয়া উচিত এসকল শিশুই। ঈদ আয়োজনে অভাবগ্রস্থ অসহায় পরিবারের অন্তত একটি শিশুর ঈদের আনন্দ পালনের ব্যবস্থা করতে পারি। নিজের মধ্যে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই। অন্তত একজন অসহায় শিশুর দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারি। সামাজিক দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অন্যকেও উৎসাহিত করতে পারি।
এসব চিন্তার মধ্যদিয়ে ধনী ও গরিবের পার্থক্য কমিয়ে সামাজিক ভেদাভেদ হ্রাস করতে পারি। সমাজ থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূরীকরণ করে সাম্যের পথে নিয়ে আসার চেষ্টা হবে। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ তৈরি হবে। প্রতিটি শিশুর ঈদ আনন্দ নিশ্চিত করা যাবে। সামাজিক এ ধরনের কার্যক্রমে তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে উৎসাহ জোগানোও একটি অন্যতম ভালো কাজ।
ঈদ খুশিতে ঘুরে বেড়াই
রাসূলুল্লাহ (সা.) আমল-ইবাদত ও আনন্দের মধ্য দিয়ে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন। তখন নতুন কাপড় কেনার ধুম ছিল না তখন। তবে আনন্দ-আহ্লাদ ছিল। নবীজি (সা.) সবার আনন্দের প্রতি খেয়াল রাখতেন। ছোটদের আনন্দ আয়োজনে উৎসাহিত করতেন। শরীয়ত সমর্থিত সব আয়োজন সমর্থন করতেন।
সহিহ বুখারি শরিফের ৯৫০ নম্বর হাদিসে একটি ঘটনা বর্ণিত আছে। ঈদের দিন আবিসিনিয়ার কিছু লোক লাঠি নিয়ে খেলা করছিল। নবীজি (সা.) আয়েশা (রা.)-কে নিয়ে গেলেন সেখানে। সেদিনের স্মৃতির কথা আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন এভাবে, ‘একবার এক ঈদের দিনে আবিসিনিয়ার কিছু লোক লাঠি নিয়ে খেলা করছে। নবীজি (সা.) আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আয়েশা, তুমি কি লাঠিখেলা দেখতে যেতে চাও? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি তখন আমাকে তার পেছনে দাঁড় করান। আমি আমার গাল তার গালের ওপর রেখে লাঠিখেলা দেখতে লাগলাম। তিনি তাদের উৎসাহ দিয়ে বললেন, হে বনি আরফেদা, লাঠি শক্ত করে ধরো। আমি দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়লাম। তিনি তখন বলেন, তোমার দেখা হয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলেন, তাহলে এবার যাও।’
সহিহ বুখারি শরিফের ৩৯৩১ নম্বর হাদিসে একটি সুন্দর ঘটনার বিবরণ আছে। এক ঈদে আয়েশা (রা.)-এর ঘরে দুজন বালিকা দফ বাজিয়ে বুয়াস যুদ্ধের গৌরবগাথা গাইছিল। মহানবি (সা.) এসেই বিছানায় গা এলিয়ে দিলেন এবং তার মুখ ফিরিয়ে রাখলেন। এমন সময় আবু বকর (রা.) আয়েশা (রা.)-কে ধমক দিয়ে বলেন, আল্লাহর রাসূলের কাছে শয়তানের বাজনা? তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তার দিকে ফিরে বলেন, ওদের ছেড়ে দাও। অন্য বর্ণনায় এসেছে, নবী (সা.) বললেন, হে আবু বকর, ওদেরকে ছাড়। প্রত্যেক সম্প্রদায়েরই ঈদ আছে আর আজ হলো আমাদের ঈদের দিন।
খুশির আলোয় ঈদ সেলামি
ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষকে খুশি করা মর্যাদাপূর্ণ কাজ। তাছাড়া ইসলামে উপহার দেওয়া-নেওয়ার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। তিরমিযী শরিফের ২৫২১ নম্বর হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাউকে কিছু দেয়, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই দেওয়া থেকে বিরত থাকে; আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই যে ভালোবাসে আর আল্লাহর জন্যই যে ঘৃণা করে, সে তার ঈমান পরিপূর্ণ করল।’ আল আদাবুল মুফরাদে বর্ণিত ৫৯৪ নম্বর হাদিসে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি (স.) বলেছেন, ‘পরস্পর হাদিয়া দাও, মহব্বত বৃদ্ধি পাবে।’ এই হাদিসের আলোকে ঈদের দিনে শিশুসহ একে অপরকে সেলামি বা উপহার দেয়া উত্তম। তবে ঈদ সেলামি দেওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় লক্ষ রাখা দরকার।
প্রথমত, ঈদ সেলামি পাওয়ার জন্য ছোটদের অনেকে বড়দের পা ছুঁয়ে সালাম করে। এটি অনৈসলামিক কালচার। এর সম্প্রসারণ রোধ করা জরুরি। কেউ এমনটি করলে তাকে নিষেধ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, সেলামি সবাইকে দেয়া উচিত। ছোট ভাই-বোন ও সন্তানদের কাউকে দেওয়া হবে আর কাউকে বঞ্চিত করা হবে-এমনটি যেন না হয়। এতে কারো মনে আঘাত লাগতে পারে। তবে সবাইকে সমানভাবে উপহার দেয়া জরুরি নয় বরং বয়স ও অবস্থা অনুযায়ী কম-বেশি করা যাবে। বড়কে বেশি আর ছোটকে কম, বিবাহিতকে এক রকম অবিবাহিতকে অন্য রকম- এতে কোনো আপত্তি নেই।
তৃতীয়ত, শিশুরা হাতে টাকা পেয়ে আজেবাজে ও গুনাহের কাজে ব্যয় করছে কি না- সে দিকে অভিভাবকদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, রমজান শেষে আসে ঈদ। রমজান শব্দের মূল ধাতুগত অর্থ হল জ্বালিয়ে ভস্মীভূত করা। রমজান মানুষের কুপ্রবৃত্তিকে ধ্বংস করে দেয়। মানুষের বিবেককে জাগিয়ে তোলে। তাকে পূর্ণ মানুষে পরিণত করে। ফলে সে মানুষটি অন্যের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে। অন্যের সুখের আশায় নিজের ভোগকে সংকুচিত করে অসহায় নিঃস্ব শ্রেণির মধ্যে নিজের উপার্জিত অর্থ বিলিয়ে দেয়। আনন্দের এই ক্ষণে আমাদের আত্মপর্যালোচনা করতে হবে রমজানের সেই মহান লক্ষ্যে আমরা কতটা এগোতে পেরেছি। রমজানের এ লক্ষ্যটি যদি অর্জিত হয়, তবেই রোজা হবে সফল আর রোজা শেষে ঈদ হবে আনন্দঘন। ঈদ তো একা একা নয়। ঈদের সত্যিকার আনন্দ পেতে হলে তা সবাইকে নিয়েই পেতে হবে। এক্ষেত্রে শিশুদের অধিকারকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। তাদের চাহিদা যথাসম্ভব পূরণ করতে হবে এবং তাদের রুচি ও পছন্দে ‘হ্যাঁ’ বলার অভাস করতে হবে। ঈদের খুশি ছড়িয়ে পড়ুক সবখানে।
লেখক: কবি ও গবেষক; প্রফেসর, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।