আলোকে তিমিরে

নির্বাচনের পর নবতর ভাবনা


১৭ মার্চ ২০২৬ ১১:০২

মাহবুবুল হক

॥ মাহবুবুল হক ॥
নির্বাচনের পূর্বেই প্রায় সর্বমহল থেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল যে, যত অসুবিধাই হোক বা যত বাধা-বিপত্তি আসুক না কেন, নির্বাচন হয়ে যাবে। রাজনীতি বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এবার একটা ঐকমত্য আমরা দেখতে পেয়েছি। বড় ধরনের আশঙ্কার কথা কেউ কেউ বলেছিলেন। বিএনপির কাঁধে চড়ে আওয়ামী লীগাররা বড় বড় কিছু ঘটনা ঘটাবে- এমন আশঙ্কার কথাও কেউ কেউ বলেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল নারীকর্মীদের ওপর বিশেষ এক দলের অযাচিত হামলা পরিবেশকে কিছুটা ঘোলাটে করলেও বড় কোনো হতাহতের খবর খুব একটা পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণ মানুষ বা ভোটারগণ কখনো চিন্তা করেনি যে, এদেশে পুরুষ রাজনীতি কর্মীদের মতো নারী রাজনীতি কর্মীরাও সমপর্যায়ে নির্বাচনের কাজ করবেন। এবার মানুষের এই ব্যাকডেটেড চিন্তা বিরাজমান থাকেনি। সব ক্ষেত্রে না হলেও বা সব জায়গায় সমানভাবে দৃশ্যমান না হলেও নারীরা যে রাজনীতির ক্ষেত্রে বিপুলভাবে এগিয়ে এসেছেন- এটা এখন দিবালোকের মতো সত্য। জীবনের অন্যান্য অঙ্গনে নারীরা পুরুষের সমান পর্যায়ে চলে এলেও নির্বাচনে তারা বিপুলভাবে এগিয়ে আসবেন, তা পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়নি। এর ভালো দিক অবশ্যই আছে। কিন্তু মন্দ দিক হলো মেয়েদের গায়ে পুরুষরা হাত দিয়েছে বা কাপড় টানাটানি করেছে- এমন প্রকাশ্য দৃশ্য রাজনীতির ক্ষেত্রে কখনো কেউ চিন্তা করেনি। পরিবারে-পরিবারে বা পাড়ায়-পাড়ায়, গ্রামে-গ্রামে জমিজমা নিয়ে কোনো সংঘর্ষ হলে নারীরা কখনো কখনো লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়েছেন- এমন দৃশ্য দেখা যায়নি, এমন কথা বলা সত্যের অপলাপতুল্য হবে বলে আমরা মনে করি। কিন্তু নির্বাচনের ক্ষেত্রে নারীরা যেখানে বাস্তবে অংশগ্রহণ করতে চাইতো না, সেখানে তারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে নবতর একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। এসব নিয়ে কিছু মামলা-মোকদ্দমাও হয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরুষগণ এসব নিয়ে খুব বেশি সক্রিয় বলে দেখা যাচ্ছে না।
নারীদের বিষয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা আমাদের সমাজ পছন্দ করে না। সালিশ-দরবারের মাধ্যমে বা টাকা-পয়সা লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়গুলো নিষ্পত্তি হয়ে যায়। এবারও তেমন কিছু ঘটছে বলে আন্দাজ করা যাচ্ছে। তবে আমাদের পরামর্শ হলো, আমাদের মা-চাচি-খালা-ফুপু-মেয়ে-ভাগনি-ভাতিজি বা বৌমাদের ওপর পুরুষ রাজনীতিকরা অসম্মানসূচক ব্যবহার করবে- এটাকে সহজভাবে মেনে নেয়া ঠিক হবে না। অন্তত সরকারকে এ বিষয়ে কথা বলতে হবে। কথা বলার এখন নানারকম মাধ্যম রয়েছে। বিশেষ করে জুমাবারে খতিবগণ এ বিষয়ে মুখ খুলতেই পারেন। তবে সেক্ষেত্রে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মসজিদ কমিটি বা খতিবদের কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ পাঠাতে হবে।
আমাদের দেশে জুমাবারে খতিবগণ খুতবার পূর্বে মাতৃভাষায় বয়ান করেন। সেই সময়টা এ বিষয়ে ব্যবহার করার জন্য আমরাও বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাদের যেসব নেগেটিভ ধারণা ছিল, তা সেভাবে হুবহু উপস্থিত হয়নি। অর্থাৎ আহতের সংখ্যা খুব বেশি হয়নি এবং সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণভাবে নিহতের বেশি সংখ্যা আশঙ্কা করা হয়েছিল, তা সেভাবে হয়নি। তার অর্থ এই নয় যে, বিষয়টিকে আমরা ক্ষুদ্র বা ছোট করে বিবেচনা করছি। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় ২ মার্চ পর্যন্ত ৫ জন নিহতের কথা জানা গেছে। এর বেশি নয়। এ বিষয়ে আমরা মহান আল্লাহর কাছে শোকর গুজার করছি এবং প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
এবারের নির্বাচনে নতুন একটি লিগাসি তৈরি হলো। তবে এখনই বিষয়টিকে লিগাসি বলা যাবে না। কেবল নতুন একটি ভিন্নতর আইটেম বলা যাবে। সামনের দিকে বিষয়টি যদি ধরে রাখা হয় এবং এর পরম্পরা চলতে থাকে, তাহলে হয়তো একসময় আইটেমটি লিগাসি বনে যাবে। তবে পরিবর্তনের যে হাওয়া আমরা আল্লাহর রহমতে দেখতে পাচ্ছি, তাতে সামনের দিকে কোনো মন্দ বিষয় বা ক্ষতিকর বিষয় স্থায়ী হবে বলে মনে হয় না।
নির্বাচনের শুরুটা হয়েছিল সুন্দরভাবে। শৃঙ্খলার সাথে যার যার মতো নির্বাচনের কার্যক্রম চলছিল। মহিলাদের কথাবার্তা গোপন থাকে না। অকুস্থলেই তারা কাকে ভোট দিয়েছে, সেসব নিয়ে কথাবার্তা বলেছে। সেসব থেকেই আন্দাজ করা গেছে ভোটের উজান কোনদিকে যাচ্ছে। দুপুরের আগেই সারা দেশে চাউর হয়ে গেছে যে, ১১ দলীয় জোট বেশি ভোট পাচ্ছে। আর যাই কোথায়। এই জোটের এজেন্ট ও সাহায্যকারীরা নামাজের নামে সেই যে কেন্দ্রগুলো থেকে বের হলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুনরায় ভোটকেন্দ্রে ফিরে আসার প্রয়োজনবোধ করলেন না। তারা শতকরা ৮০ ভাগ ক্ষেত্রে ধরে নিয়েছেন যে, তারা বিজয় লাভ করেছেন। জোহরের নামাজের সাথে উৎসাহী কর্মীরা শোকরানা নামাজও পড়েছেন। লাঞ্চ না করে দলবদ্ধ মিঠাই-মণ্ডা খেয়েছেন।
এই সুযোগে বিএনপি জোট যা কিছু করেছে, যার নাম দেয়া হয়েছে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং। এবার জাল ভোট হয়েছে কম। এক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনাটি শতকরা ৭০ ভাগ উন্নত পর্যায়ে ছিল বলে ধরে নেয়া যায়। কিন্তু গণনার ক্ষেত্রে যেহেতু জামায়াত জোটের কর্মীরা ভোটকেন্দ্রে অনেকটা অনুপস্থিত ছিলেন, সেক্ষেত্রে বিরাট ধরনের কারচুপি হয়েছে। নির্বাচনের পূর্বে কারো মাথায় এ ধরনের কারচুপির বিষয়টি স্থান পায়নি। সামান্য সামান্য ব্যবধানে জামায়াত জোটের বহু যোগ্য প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একটা শয়তানি কাজ সুচারুরূপে সম্পন্ন হয়েছে।
এক্ষেত্রে বলাইবাহুল্য জামায়াত জোট সঠিক ভূমিকা পালন করতে পারেনি। তাদের কাছে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিহত করার মতো লব্ধ প্রতিষ্ঠিত ইঞ্জিনিয়ার ছিল না। নির্বাচনের পূর্ব থেকেই জামায়াত জোট ধারণা করেছিল যে, এবার তারাই ক্ষমতার মসনদে আরোহণ করবে। তারা বেশ তুষ্টি তুষ্টিভাবে ছিল। একটা প্রি কনসিভড আইডিয়া তাদের কিছুটা বিনাশ ডেকে এনেছে। জামায়াত জোট এই বিশাল চৌর্যবৃত্তি অবলোকন করেও অনেকটা চুপচাপ ছিল। বড় ধরনের কোনো প্রতিরোধ বা প্রতিবাদের দিকে অগ্রসর হয়নি। হয়তো তারা বিবেচনা করেছে ঠিক আছে, এবার না হয় আমরা ক্ষমতায় গেলাম না, বিরোধীদলেই থাকলাম। দীনি প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতেও তো ৫টি যুগ পার হয়ে গেছে। শুধু রাজনীতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললে তো হবে না, সাথে সাথে আরো অনেক কিছু না করলেও শয়তানি যাতে ঠেকানো যায়, সেদিকে এখন আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। এসব নানা চিন্তা-ভাবনা থেকে জামায়াত জোট উদার মনোভাব নিয়ে ঝামেলা এড়াতে চেয়েছে। তবে যতটুকু জানা গেছে, জামায়াত জোট নির্বাচনের ক্ষেত্রে যেসব জায়গায় বড় বড় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেসব জায়গায় মামলা-মোকদ্দমা করার বিষয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এতে কিছুটা পরিত্রাণ হয়তো পাওয়া যাবে বলে জামায়াত সূত্র মনে করছে।
জামায়াত জোট অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলেও এই জোটের বড় কোনো ক্ষতি হয়েছে বলে মনে হয় না। জামায়াত জোট ধৈর্যধারণ, বাদ-প্রতিবাদ থেকে দূরে থাকা এবং রাজনৈতিক হাঙ্গামা থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিতে পেরেছে বলে দেশবাসীর শুভদৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। জামায়াত জোট যে শুধু ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে- এটা এখন আর দেশবাসী মনে করে না। দেশ ও দশের কল্যাণের জন্যই তারা যে রাজনীতি করে- এই বিশ্বাস তাদের বদ্ধমূল হয়েছে।
এখন দেখা যাক, সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং বিচার বিভাগ প্রতিকারমূলক কোন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তিনটি স্তম্ভে কিছুটা সুনাম তো এখন রয়েছে। পূর্বের মতো সবকিছু দুর্নামে ভরে গেছে এমন তো নয়। আমরা বিশ্বাস করি, সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সুনাম অর্জন করতে চায়। তাদের সুনাম হলে দেশ ও দশের সুনাম হবে। দেশ-বিদেশে আমাদের দুর্নাম কমে যাবে। দুর্নাম কমানোই এখন আমাদের বড় কাজ।
সরকার গঠনের পর বিএনপি গত ৩০ দিনে সামাজিক ক্ষেত্রে যে উদ্যোগগুলো গ্রহণ করেছে, তার সবই প্রণিধানযোগ্য। তবে কতটা গ্রহণযোগ্য সেই বিচারের ভার জনগণের। ইংরেজিতে বলা হয়, ‘মর্নিং সোজ দ্য ডে’। বিএনপির কার্যক্রমকে ‘গুড মর্নিং’ বলা যায়। তবে রাজনীতিতে বড় কথা আছে, সব ভালো তার শেষ ভালো যার। আমরা এখনই শেষের কথা ভাবছি না। বলার জন্য বলা। বিএনপির সামাজিক কাজকর্ম দেখে বুদ্ধিজীবীদের একাংশ ঠাট্টা করে বলছেন, জামায়াতের তো আর কোনো কাজ করার দরকার নেই। জামায়াতের সব কাজ তো বিএনপি ধারণ করে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উৎসাহের সাথে সরকারের উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোয় কালেমার বাণী উচ্চকিত করেছেন। যেটা এর আগের বিএনপি করেনি। যারা ভাবছেন বিএনপি জামায়াতের কার্যক্রম হাতে তুলে নিয়েছে। সুতরাং জনকল্যাণে জামায়াতের আর কিছু করার থাকবে না। তারা আসলে বাস্তবতার বাইরে অবস্থান করে এসব কথা বলছেন। প্রধানমন্ত্রী আলেমদের ইফতার পার্টিতে বলেছেন, জাকাতকে নিয়ে কীভাবে অগ্রসর হওয়া যায়- এ বিষয়ে সরকারকে উপদেশ ও পরামর্শ প্রদান করতে। আলেমগণ এ বিষয়ে উৎসাহবোধ করছেন, পরামর্শও দিচ্ছেন। প্রধান আলেমগণ যাতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দ্রুততার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারেন, তার সুব্যবস্থা করা হয়েছে।
জামায়াত জোট ছাড়া বিএনপির বিরোধীরা এটাকে এক ধরনের রাজনীতি বলে প্রচারণা চালালেও জামায়াত জোট এ বিষয়য়ে কোনো ব্যক্তি বা দলকে উৎসাহ দিচ্ছে না। রাজনীতির বাইরেও দেশ ও দশের জন্য হাজারো কাজ আছে। বিএনপি ১০টা করলে আরও ৯০টা কাজ করার মতো অবস্থা ও ব্যবস্থা এ দেশে রয়েছে। হোক না একটা ভালো কাজের প্রতিযোগিতা। অসুবিধা কোথায়। সুবিধাই তো বেশি। এ দেশের হতদরিদ্র মজলুম জনগণ চিরকালই না পাওয়ার দলে। ভালো কাজের প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে তাদের জন্য যদি কিছু কল্যাণকর ও মঙ্গলজনক কাজ হয়, তাহলে তাদের দোয়া তো সবাই পাবে। গত ৫৫ বছর তারা তো লিপ সার্ভিস পেয়েছে। তাদের জন্য স্থায়ী কাজ তেমন কিছু হয়নি।
ইতোমধ্যে সবচেয়ে বড় কাজ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এনজিও প্রধান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি প্রকাশ্যে খুব খোলামেলাভাবে বলেছেন, আমরাই উগ্রপন্থিদের মেইনস্ট্রিমে আসতে দিইনি। আমরা এটাও চাইনি যে, তারা প্রধান বিরোধীদল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করুক। তবু তারা বিরোধীদলে এসে গেছে। এখনো তাদের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। তিনি এসব বলায় অনেকে তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। অনেকে বলেছেন, কোনো সরকারের সাবেক উপদেষ্টা কখনো এমন কথা বলতে পারেন না। সরকারের গোপনীয়তার শপথ গ্রহণ করেই তারা ক্ষমতার মসনদে বসেছিলেন। সেই গোপনীয়তা ফাঁস করে দিয়ে সৈয়দা রিজওয়ানা অনেক বড় অপরাধ করেছেন। কিন্তু আমরা মনে করি, এই কাজটি করে তিনি একটি বড় সত্যকে উদ্ভাসিত করেছেন। এটা করে তিনি দেশ ও দশের অনেক কল্যাণ সাধন করেছেন। নির্বাচন নিয়ে খুঁটিনাটি হাজারো কথা বলা হচ্ছে। সংবাদপত্রে জায়গাগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। লোকেরা নানামুখী হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় সামগ্রিক বিষয়কে একমুখী করার জন্য তিনি সাহসের সাথে এগিয়ে এসেছেন। তিনি নির্বাচন কমিশনকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। বিএনপি জোটকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। ‘র’, মোসাদ, সিআইএসহ সকল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। কেউ কোনো অপরাধ করেনি। সকল অপরাধ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এখন তো আর কারো বিরুদ্ধে কিছু করার প্রয়োজন নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে দেশে ও আন্তর্জাতিক আদালতে যথাযথ মামলা চালু করলেই তো হয়ে যায়।
এখন কথা হলো রিজওয়ানা কি সাবেক সরকারের অনুমতি নিয়ে এই সত্য উদ্ভাসিত করেছেন? অথবা তাদের পক্ষ থেকে এসব বলেছেন, নাকি স্বউদ্যোগে এসব ফাঁস করেছেন। বিষয়টা দেশবাসীর সামনে পরিষ্কার নয়। সত্য তো নানারকম হতে পারে না। হয় নিজ উদ্যোগে তিনি এসব বলেছেন, না হয় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বলেছেন, আর না হয় ডিপস্টেট থেকে বলেছেন। আমাদের মনে হয়, তিনি ডিপস্টেটের পক্ষ থেকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা বলেছেন। এতে দেশ থেকে সম্মানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে বাকি জীবন বসবাস করার একটা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হয়ে যাবে। অপরদিকে ডিপস্টেট যে সারা দুনিয়ার সকল জাতীয় নির্বাচনে নাক গলায়, তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। দুই দিকে রিজওয়ানা সুবিধা পেয়ে যাবেন। যারা ডিপস্টেটের পক্ষে এবং ডিপস্টেটের বিপক্ষে সবার কাছেই তিনি আদরণীয় হয়ে উঠলেন। এখন আর তাকে ঠেকায় কে? বিশ্বের কোনো না কোনো জায়গায় তার একটা বড় ঠাঁই হয়ে যাবে। তিনি কার্যত ‘ইসলাম’কে ঠেকাতে চেয়েছেন। পেরেছেন কিনা মহান আল্লাহ ভালো জানেন। আমরা জানি না। ইসলামের পক্ষে বর্তমানের মুসলিম রাষ্ট্রনায়ক বা সরকারগুলো তেমনভাবে নেই। সবাই রিজওয়ানার মতো নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য ত্রস্ত-ব্যস্ত। দেশ গোল্লায় যাক। ইসলাম, মুসলিম গোল্লায় যাক। তাদের এবং বংশধরদের বাঁচানোর জন্য শত শত গোপন চুক্তি হয়েছে। এসব রিজওয়ানা ভালো করেই জানেন। কেউ রিজওয়ানার বিপক্ষে কথা বলবে না। পক্ষে হয়তো তেমন কেউ বলবে না। তবে রিজওয়ানাকে ডিপস্টেটের মুখপাত্র হিসেবে চিহ্নিত করে রাখবে।
পাঠকদের নিশ্চয়ই মনে আছে, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস যখনই এনজিও সরকার গঠন করেন, তখন আমরা প্রত্যক্ষভাবে উল্লেখ করেছিলাম এই এনজিও ব্যবসায়ীরা সেক্যুলার বিশ্বকেই সাহায্য করবে। তাদের সাথেই এই বেনিয়া গোষ্ঠীর নানাভাবে গাঁটছড়া। এদের মূল কাজ হলো সেক্যুলার মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও জীবনাচরণ এদেশে প্রতিষ্ঠিত করা। সাথে সাথে প্রকারান্তরে এদেশের মূল্যবোধ, চিন্তা ও চেতনা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ইতিহাস সবকিছু নস্যাৎ করা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ পর্যন্ত এসব কাজই তারা করে আসছে।
অন্যদিকে আমাদের দেশে গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য এ পর্যন্ত যত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, তার সবই সেক্যুলার এজেন্টদের জন্য ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। এই ধূলিসাৎ করার সবসময় এরা ক্যাটালিস্ট ছিল। সামনেও থাকবে। বলতে কি কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে। এরা নানা বেশ ধরে এদেশের গণতন্ত্রকে সবসময় চূর্ণবিচূর্ণ করবে।