কুড়িগ্রামে আলুর বাম্পার ফলনে লোকসান পুষিয়ে নেয়ার আশা
১২ মার্চ ২০২৬ ১০:৫৪
আমানুর রহমান খোকন, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে আলুর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। ভালো দাম পেলে ২০২৫ সালের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবে তারা এই আশায় বুক বেঁধেছেন উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের কৃষকেরা। তাই কৃষকরা তাদের উৎপাদিত আলু উত্তোলন ও হিমাগারে সংরক্ষণের জন্য রোজা রেখেই মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জানা যায়, গত বছরের উৎপাদিত আলুর চাহিদা না থাকায় সংরক্ষিত আলুতে কেজি প্রতি লোকসান গুনতে হয়েছিলো ১৬ টাকা। জেলার চারটি হিমাগারে সংরক্ষিত ৫৩ হাজার টন আলুতে কৃষকদের লোকসান গুনতে হয়েছিলো প্রায় নব্বই কোটি টাকা, যা এই জেলার কৃষকদের জন্য ছিলো ব্যাপক লোকসান। তারপরও কৃষকেরা হাল ছেড়ে না দিয়ে এবারো আলু চাষ করেছেন। চলতি বছরে কৃষকের উৎপাদিত আলুর বাম্পার ফলনে তাদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। তারা তাদের উৎপাদিত আলুর ভালো দাম পাবেন এই আশায় বুক বেঁধেছেন।
জেলা খামার বাড়ি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে কুড়িগ্রাম জেলায় ৭ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং অর্জিত হয় ৭ হাজার ৯৯৫ হেক্টর জমিতে। এতে মোট উৎপাদন হয় ১০ লাখ ৫ হাজার ২৮৬ টন। এর মধ্যে কার্ডিনাল ১ হাজার ৪১০ হেক্টর, ডায়মন্ড ৭৮০ হেক্টর, এস্টোরিক্স ৩ হাজর ১০ হেক্টর, গ্রানুলা ৪৫০ হেক্টর, কারেজ ৭১৫ হেক্টর, রোসাগোল্ড ৬০ হেক্টর, রোমনা ২৮০ হেক্টর, সাকিরা ৭ হাজর ৫১০ হেক্টর এবং বগুরার লাল আলু ২৬৫ হেক্টরসহ বিভিন্ন জাতের মোট ৭ হাজর ৯৯৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে।
তথ্যানুযায়ী এখন পর্যন্ত আলু উত্তোলন করা হয়েছে ৪ হাজার ৪৫৪ হেক্টর জমির ফসল। জেলার হিমাগারগুলোয় আলু সংরক্ষণ শুরু করা হয়েছে। জেলা হিমাগার মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, বিগত বছরে জেলার মোস্তফা হিমাগার, বাবর হিমাগার, এ হক হিমাগার ও সেকেন্দার হিমাগারে সর্বমোট ৫৩ হাজার টন আলু সংরক্ষণ করা যেতো। এতে কৃষকদের উৎপাদিত অনেক আলু সংরক্ষণের ভালো কোনো জায়গা থাকতো না। এবারে জেলায় জহুরুল হক দুলাল ও রাবেয়া হিমাগার নামের আরো দুটি নতুন হিমাগার আনুষ্ঠানিকভাবে আলু সংরক্ষণ শুরু করেছে। এ নতুন দুটি হিমাগারে আরো ১৮ হাজার টন আলু সংরক্ষণ করা যাবে। এতে করে জেলার ৬টি হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করা যাবে ৭১ হাজার টন। জেলায় উৎপাদিত আলুর চলমান খাদ্যের চাহিদা মিঠিয়ে বাকি আলু সংরক্ষণ করতে পারলে এবং বাজারে আলুর চাহিদা থাকলে কৃষকেরা ভালো দাম পাবেন।
কাঁঠালবাড়ির কৃষক আব্দুস সালাম, মাহাবুবুর রহমান, আইয়ুব আলী বলেন, আমরা প্রতি বছর আলু চাষ করি লাভের আশায়। এবারো আলু চাষ করেছি। গতবারের মতো আলুর বাজার খারাপ গেলে আমরা হয়তো আগামীতে আলু চাষের আগ্রহ হারিয়ে ফেলবো।
আলু ক্ষেতের শ্রমিক সোমেনা বেগম, ফুলমালা, লুৎফর রহমান, আব্দুল খালেক, মিঠু মিয়া বলেন, আমরা আলু খেতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। এখন রমজান মাস রোজা রেখেই খেতের আলু তুলছি। এবারে আলুর ফলন অনেক ভালো হয়েছে।
মোস্তফা হিমাগারের মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এবারে আলুর ফলন ভালো হয়েছে। জেলায় আলু সংরক্ষণের জায়গাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে চাহিদা ভালো হলে কৃষক লাভবান হতে পারবেন। এতে গতবারের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন এই জেলার কৃষকরা।
এ হক হিমাগারের আলহাজ তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, কুড়িগ্রামের মাটি আলু চাষের জন্য উপযোগী। তাই প্রতিবছর এই জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যায়। আর্ন্তজাতিকভাবে আলুর বাজার তৈরি করতে পারলে এই জেলার কৃষকেরা লাভবান হতে পারবেন। এবারে কৃষকরা আলুর দাম ভালো পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম খামার বাড়ির অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. মেহেদী হাসান বলেন, এবার আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। দাম ভালো পেলে আলু চাষের আগ্রহ আরো বাড়বে। এতে করে দেশে আলুর চাহিদা পুরণ করে আমরা বিদেশে রপ্তানি করে অনেক বৈদাশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবো।