দায়ী সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি

থামছে না বিএসএফের বাংলাদেশি হত্যা


১২ মার্চ ২০২৬ ১০:১৬

॥ সাইদুর রহমান রুমী ॥
বাংলাদেশ-ভারত প্রতিবেশী দেশ। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার আমদানি-রফতানি বাণিজ্য হয়ে থাকে। বাণিজ্য, আত্মীয়তার সম্পর্ক থেকে শুরু করে হেলথ ট্যুরিজমের কারণে লাখ লাখ মানুষ দুই দেশের মধ্যে সফর করে থাকে। তন্মধ্যে দুই দেশেরই একটি ক্ষুদ্র অংশ বেআইনিভাবে বাণিজ্য ও যাতায়াত করে থাকে। আর এ বেআইনিভাবে বাণিজ্য ও যাতায়াত সারা বিশ্বের সীমান্ত দিয়েই হয়ে থাকে। এ বেআইনি কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সীমান্ত রক্ষীরা ননলেথাল অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু একমাত্র ব্যতিক্রম বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত। এ সীমান্তে ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) মারণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে বাংলাদেশিদের হত্যা করে থাকে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে বিভিন্ন সম্মেলন ও বৈঠকে বিএসএফের মারণাস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ড বন্ধের বিষয়ে সমঝোতা হলেও তা থামছে না। বরং কোনো কোনো বছর এ হত্যাকাণ্ড অর্ধশতাধিকও হয়েছে। ২০২০ সালে বিএসএফ সীমান্তে ৫১ বাংলাদেশিকে হত্যা করে।
সীমান্তজুড়ে বিএসএফের বাংলাদেশিদের হত্যা অন্তর্বর্তী ড. ইউনূস সরকারের সময়ও থামেনি। বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে পরিচয় দিলেও ভারত বাংলাদেশ সীমান্তজুড়ে সারা বছরই চালায় বিশ্বের নৃশংসতম হত্যা। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ বছর শুধু ২০২৫ সালেই ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে ৩৯ বাংলাদেশিকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ২০২০ সালের পর এটি ছিল সবচেয়ে বর্বরতম সীমান্ত হত্যার বছর। আগের বছরগুলোয় ২০২৩ ও ২০২৪ সালে এই সংখ্যা যথাক্রমে ৩১ ও ৩০ জন।
ভারতের সাথে বাংলাদেশ ছাড়াও অন্য আরো ৬টি দেশের স্থল সীমান্ত রয়েছে। দেশগুলো হলো চীন, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার এবং আফগানিস্তান। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে আন্তর্জাতিক স্থল সীমান্ত রয়েছে। প্রতিবেশী এই দুই দেশের মাঝে কাঁটাতারের বেড়াসহ মারণঘাতী নেথাল উইপেন ব্যবহার সবচেয়ে বেশি, যা বিগত নতজানু আওয়ামী লীগ সরকারেরর সময় মারাত্মক বেড়ে যায়। কোন ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সরাসরি গুলি করা পৃথিবীর কোনো দেশের সীমান্তে নেই, যা ভারত বাংলাদেশের সাথে করে।
শেখ হাসিনার সময় বিভিন্ন সীমান্ত বৈঠকে ভারত বারবার বাংলাদেশিদের হত্যা বন্ধে পদক্ষেপ নেয়া হবে মর্মে আশ্বাস দিলেও কোনো কথাই তারা রাখেনি। এমনকি শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর অন্তর্বর্তী ইউনূস সরকারের সময়ও ভারত তার নৃশংস সীমান্ত হত্যা বন্ধ করেনি। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের এসব হত্যাকাণ্ডের জোর প্রতিবাদ করে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এক প্রতিবেদন অনুসারে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম ১১ মাসে অন্তত ৩৪ বাংলাদেশিকে গুলি বা নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
আওয়ামী লীগের সময়েই সবচেয়ে বেশি নির্বিচারে বাংলাদেশি হত্যা করে ভারত
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাবে দেখা যায়, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই সবচেয়ে বেশি নির্বিচারে বাংলাদেশি হত্যা করেছে ভারত। এর মাঝে সমাপ্ত ২০২০ সালটি ছিল সবচেয়ে রক্তাক্ত এবং ভয়ংকর। এ বছর ভারতীয় বিএসএফ সীমান্তে মোট অর্ধশতাধিক (৫১ জন) বাংলাদেশিকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এর মধ্যে ৪২ জনকেই গুলি করে এবং বাকিদের হত্যা করা হয় নির্যাতন চালিয়ে। এ সময় অপহরণ করা হয় ২২ বাংলাদেশিকে আর ২৬ জন বিএসএফের গুলি ও নির্যাতনে গুরুতর আহত হয়ে এখনো দুর্বিষহ জীবন অতিক্রম করছে। অপহৃতদের মধ্যে মাত্র পাঁচ জনকে ফেরত দেয়া হয়, তাও ব্যাপক নির্যাতন করে। বাকিদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা আজও জানা যায়নি। ভারতের প্রতি আওয়ামী লীগের ব্যাপক নতজানু নীতির কারণে বাংলাদেশকে তারা সসম্মানের প্রতিবেশী হিসেবে কোনোভাবেই গণনায় ধরেনি। ফলে দিন দিন বাড়ে সীমান্ত হত্যা।
শেখ হাসিনার পলায়নের কয়েক মাস আগে ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি যশোরের শার্শা উপজেলার ধান্যখোলা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন খোদ বাংলাদেশের বিজিবি সদস্য মোহাম্মদ রইশুদ্দীন।
সীমান্তে মারণাস্ত্র ব্যবহার বন্ধে সমঝোতা মানেনি ভারত
আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ২০১৪ সালে সীমান্তে মারণাস্ত্র ব্যবহার বন্ধে ২ দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়। কিন্তু এ সমঝোতাও নিয়মিত লংঘন করেছে ভারত। মূলত সীমান্ত হত্যা বন্ধে শেখ হাসিনার নতজানু নীতির কারণে ভারত এটি করতে সাহস পায় বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। তারা বলেন, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে ৭ দেশের। এর মধ্যে বিএসএফের গুলিতে সর্বোচ্চ হত্যার ঘটনা ঘটে বাংলাদেশ সীমান্তে।
এ প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত পৃথিবীর একমাত্র সীমান্ত, যেখানে মানুষকে গুলি করে মারা হয়। এটাকে ভারত বারবার জাস্টিফাই করার চেষ্টা করেছে দিল্লি। অপরাধ হয়েছে বলে ইত্যাদি ইত্যাদি অপরাধ হলে কোর্টে সোপর্দ হবে। কোর্ট তাকে শাস্তি দেবে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত ১৫ বছরে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি নাগরিককে সীমান্তে গুলি করে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। হাসিনা সরকার বাংলাদেশ কখনোই এসব হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করেনি। বরাবরই শেখ হাসিনার সরকার নতজানু নীতি অনুসরণ করে চলেছে। ফেলানীকে গুলি করে হত্যার পর তার লাশ কাঁটাতারের বেড়ার ওপর ঝুলিয়ে রাখে।
আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অনুসারে কোনো দেশ অন্য দেশের নাগরিককে সীমান্তে হত্যা করতে পারে না। কেউ যদি অন্যায় করে, তাহলে তাকে গ্রেফতার করে সে দেশের আইন অনুসারে ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু এসবের কোনোটিই ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ মানছে না। বরং বিএসএফ প্রতি মাসেই গুলি করে বাংলাদেশিদের হত্যা করছে। কখনো বাংলাদেশের সীমান্তে প্রবেশ করে তাদের অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে। যারা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থার উল্লেখ থাকলেও কোনো পদক্ষেপই নেয় না ভারত। শুধু তাই নয়, ভারত স্থাপনা নির্মাণের আইনটিও মানছে না। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে, সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। কিন্তু ভারতের চাপে নতজানু হয়ে ৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধাবস্থা ছাড়া বন্ধুভাবাপন্ন দুই দেশের সীমান্তে এরকম প্রাণহানি অস্বাভাবিক, অমানবিক। বিভিন্ন সময় ভারতীয় শীর্ষ পর্যায় থেকে বলা হয়েছে, সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার নীতিতে কাজ করা হবে। সীমান্ত হত্যা রোধে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফের হাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র দেয়া হবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ভারত এসবের কোনোটিরও কেয়ার করে না। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধাবস্থা বিরাজমান সৌদি-ইয়েমেন বা এ জাতীয় কোনো দেশের সীমান্তেই এত মানুষকে মেরে ফেলার ঘটনা নেই। আর সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো- এসকল নিরীহ সীমান্তবাসী বাংলাদেশিদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারতের ন্যূনতম দুঃখবোধও নেই। আর সবচেয়ে হতাশাজনক হচ্ছে এসব হত্যাকাণ্ডের কড়া প্রতিবাদও করে না বাংলাদেশের বর্তমান সরকার।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পরিস্থিতি যে খুবই উদ্বেগজনক তা ভারতীয় মানবাধিকার সংগঠনের বক্তব্য থেকেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক ভারতীয় মানবাধিকার সংগঠন ‘মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ’-এর প্রধান কীরিটি রায়ের বক্তব্য হলো, ‘আগে বিএসএফ বলত আমাদের ওপর আক্রমণ করতে এলে আমরা আত্মরক্ষার্থে গুলি করেছি। লাশ ফেরত দিত। এখন আর তাও বলে না। গুলি করে হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দেয়।
ভারতের চোখে চোখ রেখে কথা বলে ড. ইউনূস সরকার
সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের মারণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অন্তর্বর্তী ড. ইউনূস সরকারই ভারতের চোখে চোখ রেখে কথা বলা শুরু করে। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ভারতে পলায়নের পর অনেক বছর পর সীমান্ত হত্যা ব্যাপকভাবে কমে আসে। যদিও ভারত সময় সময় বাংলাদেশকে বিভিন্নভাবে অস্থিতিশীল করতে সীমান্ত হত্যাকে ভিন্ন খাতে ব্যবহারের চেষ্টা করে। মানবাধিকার সংস্থা অধিকার এর প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, শেখ হাসিনার সর্বশেষ বছর ২০২৪ সালে মোট ৩০ বাংলাদেশিকে সীমান্তে হত্যা করে ভারত। ২০২৪-এর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়। ঠিক এরপরই ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মৌলভীবাজার সীমান্তে ১৩ বছরের কিশোরী স্বর্ণা দাস এবং তার পরপরই ঠাকুরগাঁও সীমান্তে ১৫ বছরের কিশোর জয়ন্ত কুমার সিংহ বিএসএফ গুলি হত্যা করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করে। এসব ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের নতুন অন্তর্বর্তী সরকার, এর তীব্র নিন্দা জানায়। অথচ ঠিক আগের বছরও ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ৩১ জনকে সীমান্তে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে ২৮ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। সে বছর দেশের সিলেট সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়াদের হাতে অন্তত ১২ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারায়। নৃশংস এ ঘটনায় অনেকটা চুপ থাকে আওয়ামী লীগ সরকার।
নিষ্ঠুর সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে ভারতের প্রতি ইউনূস সরকারের আহ্বান
ক্ষমতা গ্রহণ করেই অন্তর্বর্তী ইউনূস সরকার বড় বড় পদক্ষেপগুলোর মাঝে অন্যতম হলো সীমান্তবর্তী নৃশংস হত্যা করতে ভারতের প্রতি চাপ প্রয়োগ করে। ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে (পিটিআই) দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ভারতকে অবশ্যই সীমান্তের নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। পিটিআইকে তিনি বলেন, সীমান্তে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সেটির সমাধানের জন্য আইনগত পথ-পদ্ধতি রয়েছে। কাউকে হত্যা করা কখনো কোনো সমাধান নয়। তিনি বলেন, ভারতের সীমান্তে হত্যার ব্যাপারটি একতরফা। যারা সীমান্ত অতিক্রম করে, তারা নিতান্তই সাধারণ লোকজন। আপনাদের রাষ্ট্র দখল করার কোনো ইচ্ছে, পরিকল্পনা বা ক্ষমতা তাদের নেই। তাই তাদের হত্যা করা আসলে একপ্রকার নিষ্ঠুরতা এবং এ নিষ্ঠুরতা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
একইভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ২০২৪-এর ডিসেম্বরে সাতকানিয়ায় বিজিবির ১০২তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বলেন, ভারতীয় সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যাতে কোনো অবস্থাতেই পিঠ নয়, বুক দেখায়, সে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সীমান্তে হত্যা বন্ধে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
সীমান্ত হত্যা বন্ধে ভারতকে বাধ্য করতে হবে
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ফারুখ ফয়সল বলেন, ভারতের সদিচ্ছার অভাবেই সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বা নির্যাতন কমছে না। বাংলাদেশের সীমান্ত বাহিনীর হাতে কিন্তু কখনো ভারতীয় সীমান্ত বাহিনী কিংবা সাধারণ ভারতীয়রা নির্যাতিত হয় না, হত্যার শিকার হয় না। বরং ভারতীয় বিএসএফ এর দ্বারাই বাঙালিরা হত্যার শিকার হয়, নির্যাতিত হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি দুর্বল তাই আমরা ভারতকে এই হত্যা বা নির্যাতন বন্ধে কঠোর বার্তা দিতে পারছি না। এছাড়া আমাদের দেশ ভারতের বেশি তাঁবেদারি করে তাই তারা কখনোই আমাদের তেমন গুরুত্ব দেয় না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. আমেনা মহসীন বলেন, ‘ভারত বারবারই আমাদের আশ্বাস দেয়, সীমান্তে কোনো নির্যাতন বা হত্যার ঘটনা ঘটবে না। কিন্তু কোনো সমাধান আসছে না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সীমান্তে হত্যার ঘটনায় তদন্ত হয় কি না সেটাও দেখা উচিত।’ তিনি বলেন, এক্ষেত্রে দুই দেশের সরকার এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, আইনি সমঝোতা এবং দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তে নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবাধিকারের প্রতি সম্মান জানানো দুই দেশের সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মুনিরুজ্জামান বলেন, ভারত সহযোগিতা করছে না এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির দুর্বলতার কারণেই কার্যকর চাপ তৈরি হচ্ছে না।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের এমন পরিস্থিতির নেপথ্য কারণ হিসেবে বিগত ক্ষমতাসীনদের নতজানু অবস্থানকে দায়ী করছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আব্দুল হামিদ। বাংলাদেশ হাইকমিশন দিল্লিতে ২০১৪ থেকে ১০১৭ সাল পর্যন্ত ডিফেন্স অ্যাডভাইজার (সামরিক উপদেষ্টা) হিসেবে নিযুক্ত এই সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা আসলে বিগত সরকারের সময় দুই দেশের যে সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের আওতায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ ধরনের বর্ডার কিলিং বা ফেলানী হত্যা এসব বিষয়ে কোনো ধরনের জোরালো প্রতিবাদ করা হয়নি। তবে সাধারণ মানুষের ভেতরে সেই রক্তক্ষরণ ছিল, আছে। সাধারণ মানুষ এ ধরনের ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবাদ করতে চেয়েও প্রতিবাদ করতে পারেনি। প্রতিবাদ করতে গিয়ে তারা বিভিন্ন ধরনের দমন-পীড়নে পড়েছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেনও মনে করেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্ব না দেওয়ায় সীমান্তে হত্যা কমানো যাচ্ছে না। তাই এ বিষয়ে ভারতকে বাধ্য করতে হবে।