ওসমান হাদির খুনিদের ফেরাতে চলছে কূটনৈতিক তৎপরতা
১২ মার্চ ২০২৬ ১০:০৭
স্টাফ রিপোর্টার : ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার মূল হত্যাকারীসহ দুই আসামিকে আটক করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। গত ৭ মার্চ শনিবার তাদের আটক করা হয়। আটকের পর ৮ মার্চ দেশটির আদালতে তোলা হলে দুই আসামি ১৪ দিনের রিমান্ডও মঞ্জুর করে আদালত। এদিকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, পুলিশপ্রধানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গ্রেফতার হওয়া আসামিদের দেশে ফেরাতে তৎপরতা চলছে বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে ওসমান হাদির সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা বলছেন, হত্যাকারীর নেপথ্যে কারা ছিলেন, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার এ হত্যার বিচার চেয়ে জাতিসংঘের কাছে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার দাবিও জানায় সংগঠনটি।
যেভাবে গ্রেফতার : ওসমান হাদিকে খুনের ঘটনায় জড়িত প্রধান দুই আসামিকে কলকাতা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন। বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গেছে। খবর পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম এই সময়-এর। ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইও এতথ্য নিশ্চিত করেছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্সের (এসটিএফ) সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে গত ৮ মার্চ রোববার সন্ধ্যায় বার্তা সংস্থা এএনআই’র প্রতিবেদন বলছে, ৭ মার্চ ২০২৬ শনিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এসটিএফ বলছে, দুই বাংলাদেশি তাদের দেশে চাঁদাবাজি, হত্যাসহ গুরুতর অপরাধ করে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে বলে ‘গোপন ও বিশ্বাসযোগ্য’ তথ্য ছিল। তারা সুযোগ পেলে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার গভীররাতে বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স বলছে, ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীর হোসেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মী ওসমান হাদিকে হত্যা করে ভারতে পালিয়ে যায়। মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে এবং ভারতের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরার পর বাংলাদেশে ‘ফেরার উদ্দেশ্যে’ শেষ পর্যন্ত বনগাঁ যায়। এ বিষয়ে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসটিএফ।
দুই আসামি ভারতে ১৪ দিনের রিমান্ডে
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার মূল হত্যাকারীসহ আটক দুই আসামিকে গত রোববার (৮ মার্চ) বিধাননগর আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাদের ১৪ দিনের জন্য পুলিশ রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে গত ৭ মার্চ শনিবার ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেনকে আটক করেছে কলকাতা পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কী বলছে
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে পশ্চিমবঙ্গ থেকে যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশ সেদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা করেছে। গ্রেফতার হওয়ার সময়ে তাদের কাছে কোনো ভারতীয় নথিপত্র ছিল না বলেও রাজ্য পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে। আদালতে তোলার পরে ওই দুজনকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই দুজনকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া এখতিয়ার রাজ্য পুলিশের নেই। কলকাতায় বাংলাদেশের উপদূতাবাস জানিয়েছে, এই দুজনের সঙ্গে দেখা করার জন্য তারা ভারত সরকারের কাছে কনস্যুলার এক্সেস চেয়েছে। কনস্যুলার এক্সেসের মাধ্যমে বিদেশের কোনো কূটনীতিক ভারতে ধৃত বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
এই মামলাটির ‘সংবেদনশীলতা এবং গুরুতর প্রকৃতি’র কথা মাথায় রেখে দুই দেশের প্রশাসনিক সহযোগিতায় এই প্রক্রিয়াটি ‘দ্রুত সম্পন্ন হতে পারে’ বলে জানিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ কর্মকর্তারা জানতে পারেন, হাদিকে হত্যার পর ফয়সাল মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে বৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে। যদিও এর কিছুদিন আগেই এই দুজনকে গ্রেফতারের তথ্য প্রকাশ হয়েছিল বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যমে, তখন ভারতের পুলিশ ও বিএসএফ কর্মকর্তারা তা নাকচ করে দিয়েছিলেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা এরপর ভারতের বিভিন্ন জায়গা দিয়ে চলাফেরা করেন এবং অবশেষে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় এসে লুকিয়ে থাকেন। আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার তাদের পরিকল্পনা ছিল বলে পুলিশের দাবি।
আসামিদের ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, জানালেন আইজিপি
ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার আসামিদের দেশে আনার ক্ষেত্রে কূটনৈতিকভাবে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের নতুন মহাপরির্দশক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। গত সোমবার (৯ মার্চ) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স মিডিয়া সেন্টারে সমসাময়িক নানা ইস্যুতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। আইজিপি বলেন, হাদি হত্যার আসামি ফয়সাল ও আলমগীরকে দেশে আনার ক্ষেত্রে কূটনৈতিকভাবে কাজ চলছে। তাদের অচিরেই ফিরিয়ে আনা হবে।
আসামিদের ‘অবশ্যই’ ফেরানোর ব্যবস্থা করব, বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ভারত থেকে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। গত ৯ মার্চ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘ইতোমধ্যে ভারত সরকারের কাছে গ্রেফতারদের কনস্যুলার অ্যাকসেস চেয়েছে কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশন। সেটা পেলে সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে সরকার।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা ভারতের কাছ থেকে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছি। কারণ আমরা আমাদের কাছে যা তথ্য আছে, সে তথ্যটা এখন পর্যন্ত যথেষ্ট নয়। ‘তো এই সম্পূর্ণ তথ্য পাওয়া পর্যন্ত আমাদের কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। আমরা ভারতের কাছে কনস্যুলর অ্যাক্সেস চেয়েছি। তা পাওয়া মাত্রই আমরা সামনের দিকে এগোতে পারব।’
হাদি হত্যার আসামিদের দেশে আনার চেষ্টা চলছে, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ওসমান হাদি হত্যা মামলায় ভারতে গ্রেফতার হওয়া দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দুই দেশের মধ্যে থাকা প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। গত ৯ মার্চ সোমবার বিকেলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
বিচার প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা নেই ইনকিলাব মঞ্চের
শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার হলেও হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও সহায়তাকারীরা গ্রেফতার হয়নি, এ অভিযোগ তুলে চলমান বিচার প্রক্রিয়ার ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জাতিসংঘের মাধ্যমে পৃথক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শরীফ ওসমান হাদির প্রতিষ্ঠা করা সংগঠনটির বর্তমান নেতারা। গত ৯ মার্চ সোমবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কটূক্তি এবং পুলিশের আচরণ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির কারণে বিচার প্রক্রিয়ার ওপর আমাদের আস্থা নেই। অন্তর্বর্তী সরকার এ হত্যার বিচার চেয়ে জাতিসংঘের কাছে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার দাবি রইল।’ আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘গতকাল (৮ মার্চ) থেকে বাংলাদেশের বড় একটি রাজনৈতিক দল ও কালচারাল ফ্যাসিস্টরা ওসমান হাদি হত্যার দায়ভার তার সহযোদ্ধাদের ওপর চাপিয়ে তাদের হত্যাযোগ্য করে তুলছে। আমরা সরকারের উদ্দেশে বলতে চাই, যারা এসব প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে, তারা আপনাদের দলের কর্মী। আপনারা যদি তাদের না থামান, তাহলে আমরা ধরে নেব, এতে আপনাদেরও মদদ রয়েছে।’ ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব বলেন, ‘যিনি গুলি করেছেন, তিনিই কেবল ওসমান হাদিকে হত্যা করেননি। এর পেছনে বড় একটি চক্র জড়িত রয়েছে। তাদের আটকের বিষয়ে প্রশাসনের কোনো তৎপরতা দেখতে পাচ্ছি না। আমাদের দাবি খুব স্পষ্ট, অতি দ্রুত হাদির খুনিকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডে কোন চক্র জড়িত, সেটা উদাঘাটন করে তাদেরও বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা মনে করেছেন, ওসমান হাদি বা জুমা-জাবেরকে থামিয়ে দিলে ইনকিলাব মঞ্চকে থামিয়ে দেওয়া যাবে। আমরা আপনাদের চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, পারলে আপনারা ইনকিলাব মঞ্চকে থামিয়ে দেখান। আমাদের দেহে যতদিন প্রাণ রয়েছে, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা আপস করব না।’
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল ওসমান হাদির। সে লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছিলেন তিনি। এরই মধ্যে গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরিহিত দুর্বৃত্তরা ইনকিলাব মঞ্চ-এর মুখপাত্র হাদিকে গুলি করে এবং এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে বিদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তদন্তকারীদের মতে, হামলাকারীদের মধ্যে একজনকে ফয়সাল করিম মাসুদ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার তাকে গ্রেফতারে সহায়তার জন্য ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এর আগে ফয়সাল করিম মাসুদ, তার কোম্পানি অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেড এবং তার পরিবারের সদস্যদের সকল ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।’ এর আগে সিআইসি কর্মকর্তা বলেছিলেন, ঘটনাটি ঘটাতে কোনো অর্থায়ন ছিল কি না, তা নির্ধারণের জন্য তদন্ত চলাকালীন সম্ভাব্য কোনো অর্থ স্থানান্তর বা গোপন করা ঠেকাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাদিকে গুলি করার ঘটনার তদন্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো চালিয়ে যাচ্ছে, আর আর্থিক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ এই মামলার সাথে সম্পর্কিত সম্ভাব্য আর্থিক যোগসূত্র এবং লেনদেন পরীক্ষা করছে। এর আগে হাদি হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। মামলাটি তদন্ত করে ৬ জানুয়ারি ১৭ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছিল ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। মামলার বাদী ১৫ জানুয়ারি ডিবির অভিযোগপত্রের বিষয়ে আদালতে নারাজি আবেদন দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন এবং প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন। তবে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ষষ্ঠবার পিছিয়েছে।