প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের যাত্রা


১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০৮

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদের হলরুমে প্রথমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যরা শপথ নেন। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। এরপর মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন আর প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় ১০ জনকে উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনআকাক্সক্ষা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক যাত্রার উত্তরণ করে দেশ। তবে ফ্যাসিবাদ পতনের পরের নির্বাচনে সরকারদলীয় এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেয়ায় জুলাই আকাক্সক্ষা বস্তবায়ন নিয়ে সংশয় ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। জামায়াত ও এনসিপির এমপিরা দুটি শপথই নিয়েছেন। গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হওয়ার পরও বিএনপির এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান বর্জন করেন জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলের এমপিরা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি ও বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন তারেক রহমান। এরপর নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যার পর তিনি তার পিতা ও মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে যান। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে যান, পরে সচিবালয়ে অফিস করেন। প্রথমেই তারেক তার সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর তিনি সচিব ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমানকে ভারতে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চীনসহ বিভিন্ন দেশ তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা ১৩ মিনিটে শপথ নিয়েছেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী।
ঐতিহ্যগতভাবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথের আনুষ্ঠানিকতা হতো বঙ্গভবনের দরবার হলে। এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যা দেশের ইতিহাসে ব্যতিক্রম। সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। সাধারণত জাতীয় সংসদের স্পিকার এ দায়িত্ব পালন করেন, কিন্তু গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সংবিধান অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন দেশি ও বিদেশি অতিথি অংশগ্রহণ করেন। ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিনিধি শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
মন্ত্রিসভার সদস্য ও সচিবদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক
প্রথম কার্যদিবসে সচিবালয়ে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিজ দপ্তর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দুপুরের পর দপ্তরিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই বৈঠক করেন তিনি। প্রথমে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক। পরে সব মন্ত্রণালয়-বিভাগের সচিবদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী দুপুরে সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বুধবার সকাল ১০টায় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি সরাসরি সচিবালয়ে পৌঁছান। সেখানে ১ নম্বর ভবনে (মন্ত্রিপরিষদ ভবন) প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত দপ্তরে তার প্রথম দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন। পরে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেন।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে শপথ নিলেন বিএনপির এমপিরা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যরা শপথগ্রহণ করেছেন। গত মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪৪ মিনিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। এর আগে সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে কুরআন তেলাওয়াত শুরু হয়। এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কিছু আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শপথগ্রহণের উদ্দেশ্যে সংসদ ভবনে প্রবেশ করেন। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে দেওয়া ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ পাঠ ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ গ্রহণ কক্ষে পরিচালনা করবেন। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়ী হয়েছেন।
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা কে কোন দপ্তর পেলেন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মন্ত্রী হিসিবে শপথ নিয়েছেন ২৫ জন এমপি এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ২৪ জন এমপি। গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথ পড়ান। অনুষ্ঠানের শুরুর দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেন। এরপর মন্ত্রীদের শপথ পড়ানো হয়, তারপর শপথ পাঠ করেন প্রতিমন্ত্রীরা।
মন্ত্রী হিসেবে কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন: ১. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, ২. আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী: অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ৩. সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৪. ইকবাল হাসান মাহমুদ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, ৫. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ৬. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, ৭. ড. খলিলুর রহমান: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (টেকনোক্র্যাট), ৮. আব্দুল আউয়াল মিন্টু পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ৯. কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ১০. মিজানুর রহমান মিনু ভূমি মন্ত্রণালয়, ১১. নিতাই রায় চৌধুরী সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ১২. খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ১৩. আরিফুল হক চৌধুরী: শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ১৪. জহির উদ্দিন স্বপন: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, ১৫. মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়, ১৬. আফরোজা খানম বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, ১৭. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, ১৮. আসাদুল হাবিব দুলু, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ১৯. মো. আসাদুজ্জামান আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ২০. জাকারিয়া তাহের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, ২১. দীপেন দেওয়ান: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ২২. আ ন ম এহসানুল হক মিলন : শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ২৩. সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ২৪. ফকির মাহবুব আনাম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ২৫. শেখ রবিউল আলম: সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যারা শপথ নিলেন- ১. এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, ২. অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, ৩. মো. শরিফুল আলম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়; শিল্প মন্ত্রণালয়; বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, ৪. শামা ওবায়েদ ইসলাম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ৫. সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কৃষি মন্ত্রণালয়; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়; খাদ্য মন্ত্রণালয়, ৬. ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ভূমি মন্ত্রণালয়, ৭. ফরহাদ হোসেন আজাদ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, ৮. মো. আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট), যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ৯. মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১০. হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ১১. মো. রাজিব আহসান, রেলপথ মন্ত্রণালয়; নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, ১২. মো. আব্দুল বারী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ১৩. মীর শাহে আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, ১৪. মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, অর্থ মন্ত্রণালয়; পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ১৫. ইশরাক হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ১৬. ফারজানা শারমীন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়; সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, ১৭. শেখ ফরিদুল ইসলাম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়; আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ১৮. মো. নুরুল হক নুর, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ১৯. ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, ২০. এম ইকবাল হোসেইন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ২১. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ২২. আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, ২৩. ববি হাজ্জজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ২৪. আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় ১০ উপদেষ্টা নিয়োগ
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ উপদেষ্টা নিয়োগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। মন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হয়েছেন- মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হয়েছেন- হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদুর রহমান, ড. মাহাদি আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর পিএস, এপিএস, প্রটোকল অফিসার নিয়োগ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একান্ত সচিব-১, সহকারী একান্ত সচিব-১ এবং প্রটোকল অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদীকে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ হিসেবে নিয়োগ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী যতদিন প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করবেন অথবা মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদীকে তার একান্ত সচিব-১ পদে বহাল রাখার অভিপ্রায় পোষণ করবেন ততদিন এ নিয়োগ আদেশ কার্যকর থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মামুন শিবলীকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ হিসেবে নিয়োগ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী যতদিন প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করবেন অথবা মোহাম্মদ মামুন শিবলীকে তার সহকারী একান্ত সচিব পদে বহাল রাখার অভিপ্রায় পোষণ করবেন ততদিন এ নিয়োগ আদেশ কার্যকর থাকবে। অপর আদেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. উজ্জল হোসেনকে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ড. ইউনূসের শুভেচ্ছা বিনিময়
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর তারেক রহমানের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ শেষে তারা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট ড. ইউনূসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়।
বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে চন্দ্রিমা উদ্যানে বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন। গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তিনি চন্দ্রিমা উদ্যানে পৌঁছান। এরপর তিনি বাবা ও মায়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে সুরা পাঠ করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। মোনাজাত শেষে প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় তার সঙ্গে স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভারত সফরের আমন্ত্রণ পেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে সেদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীকে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়। ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ এক্স-হ্যান্ডলে জানান, নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন বার্তা হস্তান্তর করেন তিনি। একই সঙ্গে তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। সাক্ষাতে উভয় নেতাই বাংলাদেশ এবং ভারতের জনগণের কল্যাণে একসাথে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তারেক রহমানকে চীনসহ বিভিন্ন দেশের অভিনন্দন
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এই অভিনন্দন বার্তা পাঠান তিনি। বার্তায় লি কিয়াং লিখেছেন, চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ এবং ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদার প্রতিবেশী। দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অনেক পুরনো। কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ৫১ বছরে চীন ও বাংলাদেশ সর্বদা একে অপরকে সমানভাবে সম্মান করেছে। পাশাপাশি পারস্পরিকভাবে লাভজনক সহযোগিতায় দেশগুলো আদান-প্রদানের একটি চমৎকার উদাহরণ স্থাপন করেছে। চীন সরকার বাংলাদেশের নতুন সরকারকে মসৃণ শাসনব্যবস্থা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সমর্থন করে। লি কিয়াং বলেন, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে এগিয়ে নিতে উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা এবং সব ক্ষেত্রে বিনিময় বৃদ্ধি করতে এবং চীন-বাংলাদেশ ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বকে একটি নতুন স্তরে উন্নীত করতে হবে। যাতে দুই দেশের জনগণের জন্য আরও সুবিধা বয়ে আনা যায়। বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। এছাড়া বিভিন্ন দেশ নয়া প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।