ইসলামী জোট গণতন্ত্রকে উচ্চকিত করেছে
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪১
॥ মাহবুবুল হক ॥
এ লেখাটি শুরু করেছি গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে। আর মাত্র ৩ দিন পর ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বেশ কিছুদিন আগে বলেছিলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি হবে আমাদের জাতীয় উৎসব। তারও আগে বেশ কয়েকবার তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০২৬-এর নির্বাচন হবে ঐতিহাসিক মডেল নির্বাচন। আমরা এমন একটা নির্বাচনের আশা করছি যা অতীতের সকল নির্বাচনের কলঙ্ক ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে দেবে। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জাতীয় জাগরণের যাত্রা শুরু হবে। বিশ্ব আমাদের কৃতিত্ব চিরকাল মনে রাখবে। আমরা তার আশাবাদী ও প্রণোদনামূলক বাক্যাবলি হুবহু মনে রাখতে না পারলেও এ ধরনেরই আশার বাণী তিনি কয়েকবার উচ্চারণ করেছিলেন। আমাদের এ পত্রিকাটি বাজারে আসবে ১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার ভোরে।
মানুষ ভবিষ্যৎ বলতে পারে না। দুনিয়ার শ্রেষ্ঠতম মানুষ রাসূল ও নবীগণও ভবিষ্যৎ বলতে পারেননি। মহান আল্লাহ তাদেরও এই শক্তি ও ক্ষমতা প্রদান করেননি। কিয়ামত পর্যন্ত মানবজাতির রোলমডেল শেষ নবী ও রাসূল মুহাম্মদ (সা.) কখনো নির্দিষ্ট করে নিজের তরফ থেকে আগাম কথা বা ভবিষ্যতের কথা বলেননি। কখনো কখনো কোনো বিশেষ বিষয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর তরফ থেকে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। রাসূল (সা.) মহান আল্লাহর বাণীবাহক হিসেবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। সময় বা অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের একমাত্র মালিক মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর নিকট রেখে দিয়েছেন। সুতরাং সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা এখন বলতে পারবো না, ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে কি-না। হয়ে থাকলে সাথে সাথে হাজারো প্রশ্ন এসে দাঁড়ায়। সেসবের প্রকৃষ্ট জবাব আমরা দিতে পারবো না। আর দুর্ভাগ্যক্রমে নির্বাচন সম্পন্ন বা অনুষ্ঠিত না হয়ে থাকলে তারও হাজার প্রশ্ন বা কারণ আমরা এখন বলতে পারবো না। দুনিয়া আন্দাজ, অনুমান, অনুভব ও উপলব্ধি দিয়ে চলতে থাকলেও আমাদের বিশ্বাস, জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল বর্ণিতরূপে নির্ণয় করা যাবে না। কারণ বর্তমান যুগে কোনো দেশের কোনো জাতীয় নির্বাচন সে দেশের ওপর অর্থাৎ দেশ বা জাতির ভোটারের ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে না। সর্বযুগের মতো মহান আল্লাহর ওপর সবকিছু নির্ভর করে। ভোটাররা যা চাচ্ছে বা যা আশা করছে, তা যদি মহান আল্লাহর ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহলে তা উদ্ভাসিত হতে পারে।
ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পেরেছি, মহান আল্লাহ মোটামুটিভাবে কোনো দেশকে বা সে দেশের জনগণকে তিনটি কারণে তাদের শাসক বাছাই করেন- ১. সে দেশের মানুষকে পুরস্কৃত করার জন্য। ২. সংশ্লিষ্ট দেশের জনগণকে শাস্তি দেয়ার জন্য। ৩. বক্ষ্যমান জাতিকে পরীক্ষা করার জন্য।
এখন আসুন, আমরা একটু সাধারণভাবে আলোচনা করি। এবার মহান আল্লাহ আমাদের কী ধরনের শাসক প্রদান করতে পারেন, সেই জায়গাটা বিশ্লেষণ করি। গত ৫৪ বছর ধরে এ দেশের মানুষ মজলুম হয়ে অত্যাচার ভোগ করেছে। অবিচার ভোগ করেছে। নিজেদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, ঐশ্বর্য, কৃষ্টি, কালচার, নিজস্ব ধর্মবোধ, জীবনব্যবস্থা, জীবনাচরণ, নিজেদের স্বপ্ন, পরিকল্পনা সাথে নিয়ে যাপিত জীবন অতিবাহিত করতে পারেনি। এই সাধারণ বিবেচনায় আমরা সরলভাবে বিবেচনা করতে পারি। জাতিকে এবার সুশাসক প্রদান করাই মহান আল্লাহর অভিপ্রায়ের মধ্যে পড়ার কথা। কিন্তু এখানে একটা বিষয় অবশ্যই বিবেচনা করতে হবেÑ এই ৫৪ বছরে জাতিগতভাবে আমরা শিরক, বিদ’আত ও মুনাফেকীতে কতটুকু নিমজ্জিত ছিলাম। সরকারসমূহের পরিসংখ্যানে এ বিষয়টি যথাযথভাবে অবশ্যই নেই। আলোচিত নেগেটিভ বিষয়গুলো যদি তওবার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে এবার নিশ্চয়ই আমরা পুরস্কৃত হবার জন্য সুশাসক পাব।
ইতোমধ্যে আমাদের দেশ ও জাতির ওপর দিয়ে করোনা, ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া, মহামারি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে জাতিগতভাবে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, নিশ্চয়ই পরম করুণাময় মহান আল্লাহ তায়ালা সুবিবেচনায় রাখবেন। উন্নত দেশের মানুষের মতো এ দেশের দুর্ভাগা মানুষ সেভাবে চিকিৎসা ও সেবা পায়নি। হতদরিদ্র মানুষ এ সময়গুলোয় নানাভাবে দুঃসহ ও দুর্বহ জীবনযাপন করেছে। কিছু না কিছু দুর্ভোগ তো জনগণ ভোগ করেছে। সেই সুবাদেও আমরা ধরে নিতে পারি মহান আল্লাহ আমাদের জাতির ওপর কিছুটা হলেও গুনাহ মাপ করে দেবেন এবং আশ্রয়দান করবেন।
উপর্যুক্ত আলোচনায় আমরা পুরস্কারের বিষয়টি দাবি করতে না পারলেও ইতিহাসের দিকে তাকালে এবার আমাদের ওপর শাস্তি আসবে না বলেই আমরা পুরস্কারের আশা করছি। এ সময়গুলোয় আমরা প্রচুর দুর্নীতি করেছি। সাথে সাথে সুনীতিও প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। কিন্তু সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, সরকারসমূহের পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নের কারণে বেশিরভাগ অনিয়ম, দুর্নীতি, অবিচার সংঘটিত হয়েছে। বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, ব্যক্তির চেয়ে সমাজ, সরকার ও রাষ্ট্রের দোষই বেশি। ব্যক্তির দোষ কম। ব্যক্তি যদি অসহায় হয়ে দুর্নীতি করতে বাধ্য হয়ে থাকে, তাহলে ব্যক্তির দোষ বা দোষাবলি সহানুভূতিসুলভভাবে বিবেচনায় আসবে। যাই হোক, মোটাদাগে আমরা উপলব্ধি করছি, এবার মহান আল্লাহ আমাদের কিছুটা হলেও পুরস্কার প্রদান করবেন।
এর কিছু দৃশ্যপটও আমরা লক্ষ্য করেছি। যেমন ভোটাররা এবার প্রথম থেকেই বলে আসছে, অন্যসব বড় রাজনৈতিক দলগুলোকে আমরা পরীক্ষা করেছি। পরীক্ষায় তারা বরাবর ফেল করেছে। যে বড় দল বা জোটকে আমরা পরীক্ষা করার সুযোগ পাইনি, তাদের এবার আমরা পরীক্ষা করার আশা রাখি। অর্থাৎ জনগণের কাছ থেকে পুরস্কারের কথা আসেনি। যেমন হে আল্লাহ! আমরা ভালো কাজ করেছি, তুমি আমাদের পুরস্কৃত কর। বরং বলছি, হে আল্লাহ! আমরা আমাদের দেশের সব বড় রাজনৈতিক দলকে পরীক্ষা করেছি, তারা পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। তাদের কারণে আমরা দুঃখ পেয়েছি, কষ্ট পেয়েছি। অত্যাচার, অবিচার, জুলুম সহ্য করেছি। এবার আমরা আর তাদের চাই না। এবার আমরা অপরীক্ষিত একটি ইসলামী দলকে বা জোটকে সুশাসক হিসেবে চাই।
এখানে এসেই আমরা মহান আল্লাহর তিন নম্বর বিবেচনাকে সহজেই পেয়ে গেলাম। আমরা পূর্বেই বলার চেষ্টা করেছি, জনগণের ইচ্ছা ও আল্লাহর অভিপ্রায়ের মধ্যে মিশে গেলে সেটাই জনগণের মধ্যে সমুপস্থিত হয়। মহান আল্লাহর অভিপ্রায়ের সাথে জনগণের ইচ্ছা মিলে গেলে অথবা ঠিক উল্টোটাও যদি সাজুয্যপূর্ণ হয়, তখন প্লাস+প্লাসে=প্লাস হয়। মাইনাস হয় না। এ জায়গায় এসে আমরা ধরে নিতে পারি যে, পুরস্কার হিসেবে সুশাসক না পেলেও পরীক্ষার জন্য আমরা এবার সুশাসক পেয়ে যাব। তবে সবকিছু নির্ভর করছে মহান আল্লাহর সুন্নতের ওপর। সুন্নতাল্লাহের ওপর নির্ভর করে বা তাঁর চিরকালীন সূত্র ধরে এ জায়গায় এসে আমরা উপনীত হয়েছি।
এবার আমরা বাস্তব কিছু কথায় আসি, সব কথা নয়। নির্বাচনের সময়জুড়ে বারবার বলা হয়েছে, বিদেশে আমাদের প্রবাসী রয়েছে প্রায় দেড় কোটি। এর মধ্যে অবৈধ প্রবাসীদের যদি আমরা বাদও দিই, তাহলে এক কোটি প্রবাসীর সঙ্গে যুক্ত আছে দেশের প্রায় ৬ কোটি মানুষ (প্রতিজন প্রবাসীর সঙ্গে ৫ জন করে আপনজন ধরা হলো) এই ৫ কোটি মানুষের মধ্যে ভোটার আছে অন্তত ৩ কোটি। এই ৩ কোটি মানুষের আবার সমাজে অবশ্যই প্রভাব-প্রতিপত্তি রয়েছে। সেদিক থেকে সাধারণভাবে হিসাব করলে দেশের প্রায় ৬ কোটি ভোটারের ওপর এদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব-প্রতিপত্তি রয়েছে। বড় দুই দলের নির্বাচনী ইশতেহারে তাদের সম্পর্কে খুব বেশি আলোচনা নেই। অথচ যারা বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠায়, তারাই কিন্তু আমাদের দেশের রিয়েল স্টেকহোল্ডার। যে দল প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে তাদের ইশতেহারে বেশি আলোকপাত করতো, তারা নিশ্চয়ই অনেক বেশি ভোট পেত।
ওপরের প্যারায় নৈতিকতার কারণে অবৈধ প্রবাসীদের বিষয়ে কোনো কথা বলিনি। কিন্তু তারাও তো রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সের অর্থ আমাদের অর্থনীতিতে যোগ হচ্ছে। একদিকে অবৈধরা সবসময় বৈধ হওয়ার চেষ্টা করছে; অপরদিকে তাদের রেমিট্যান্সও বাড়ছে। সমাজে তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বাড়ছে বৈ কমছে না। এদের বিষয়টিও এখানে প্রণিধানযোগ্য।
প্রথমবারের মতো যেহেতু প্রবাসীদের ভোট পোস্টাল ব্যালটে গ্রহণ করা হচ্ছে, সেই বিষয়টিকে আমরা অভিনন্দন জানাচ্ছি। বহুল আলোচিত এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন যতটুকু এবার অগ্রসর করে নিতে পেরেছে সে কারণে তাদের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তবে এটাও ঠিক নির্বাচন কমিশনের সাথে সরকার, আমাদের দূতাবাসসমূহ এবং রাজনৈতিক দলগুলো যদি নিজেদের স্বার্থের কারণেও বিপুলভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতো, তাহলে বিশাল একটা বড় কাজ হয়ে যেত।
পুরো সরকার নয়। প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের বিষয়ে যতটা উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে নির্বাচনকে গ্রহণ করেছেন, সামান্য ব্যতিক্রমসহ অন্য কোনো শ্রেণির কাছে আমরা তা দেখতে পাইনি। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ব্যবসায়ীসহ নির্বাচনের বিষয়ে পরিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করেনি খুব স্পষ্টত বোঝা গেছে যে, আসন্ন পরিবর্তনকে এই মহলগুলো আন্তরিকভাবে গ্রহণ করতে পারেনি। সোজাসাপ্টা কথা হলো, নির্বাচনে ইসলামী জোট ছাড়া অন্য কোনো জোট, শ্রেণি বা গোষ্ঠী এ বিষয়ে তেমন কোনো ভূমিকা রাখেনি বা রাখতে পারেনি।
পতিত সরকারের বা দলের সমস্ত অবস্থানে বিএনপি শুরু থেকেই অবস্থান নিলেও প্রজন্মের স্বপ্ন, ইচ্ছা, বাসনা, পরিকল্পনা তারা মোটেও গ্রহণ করেনি। গত ১৮ মাস ধরে বিএনপি যে ভূমিকা পালন করেছে, তা জাতির জন্য সুখকর ছিল না। আশাবাদী ছিল না তাদের বোধ ও বিশ্বাসে, ফিলোসফিতে এবং কর্মযজ্ঞে। যা দেশবাসীর দৃষ্টিগোচর হয়েছে, তা হলো তারা পুরোপুরিভাবে পার্শ্ববর্তী দেশ ও আওয়ামী লীগের কর্মপরিধিকে হুবহু মেনে নিয়েছে। তারা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে, তারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করবে। আওয়ামী লীগ যে ধরনের কর্মপন্থা অবলম্বন করে দেশবাসীকে সম্পূর্ণভাবে ঘৃণার পাত্রে পরিণত করেছিল, একই ধরনের পরিকল্পনা ও কর্মপদ্ধতি বিএনপি গ্রহণ করে একটা খারাপ ইতিহাস শুধু সৃষ্টি করবে না, বরং দলকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগও গ্রহণ করে ফেলেছে; যা নির্বাচনের সময় একদম তারা উপলব্ধি করতে পারছে না।
নির্বাচনের সময় তারা দেশব্যাপী প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইসলামী জোটের ওপর; বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও নারী সমর্থকদের ওপর যে হামলা, আক্রমণ, লাঠালাঠি, মারামারি ও হতাহতের ভূমিকা পালন করেছে, তা দেশবাসী কখনো মন থেকে মুছে ফেলতে পারবে না। যে অন্যায়, অবিচার ও অরাজক অবস্থা নির্বাচনের সময় বিএনপি সৃষ্টি করলো, তা দেশ, দশ, রাষ্ট্র, সরকার, রাজনীতি ও গণতন্ত্রের যে ক্ষতি করলো, তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি করেছে নিজেদের। এসব না করলে তারা আরও বেশি ভোট পেত।
সরকার, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেসব ওয়াদা করেছিল, যেসব কমিটমেন্ট উচ্চারণ করেছিল, তার ৫০ ভাগও তারা করে দেখাতে পারেনি। এত অঘটন, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার মধ্যেও যে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, সেজন্য আমরা মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই এবং ধন্যবাদ জানাই সরকার, প্রশাসনের একটি অংশ, নির্বাচন কমিশন, সামরিক বাহিনী, ইসলামী জোট, সাধারণ মানুষ যে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে, তাকে আমরা সাধুবাদ জানাই।
বিপ্লব করে যারা বিপ্লবকে সফল করতে পারেনি, তারা নির্বাচন সামনে রেখে যথাযথ ভূমিকা পালন করেছে। তাদের মধ্যে যারা বিচ্ছিন্ন হয়েছে তাদের আমরা অনুতপ্ত হতে দেখছি। কাউকে কাউকে অনুশোচনায় দগ্ধ হতে দেখছি। তারা যে দল গঠন করেছে, সে দলে তারা ফিরে আসতে পারে। নচেৎ তাদের ব্যক্তিগত আদর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন দলে প্রবেশ করে নিজেদের এবং সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে চাঙ্গা করতে পারে।
নির্বাচনে যে ফলাফলই হোক না কেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দল যদি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতিসত্তা, জাতির আত্মপরিচয়, ২৪-এর গণবিপ্লব, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আশা-ভরসা- এসব নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করে, তাহলে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হতে কোনো অসুবিধা নেই বলে আমরা মনে করি। নির্বাচনকালে ঐক্যবদ্ধ এক শক্তিশালী জাতি গড়ার যে প্রণোদনা দেশবাসীর সামনে উদ্ভাসিত হয়েছে, তাকে খাটো করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। আমাদের দেশ ছোট, কিন্তু জাতি অনেক বড়। ব্যক্তিস্বার্থ ও দলগত স্বার্থকে বড় করে না দেখে, রাষ্ট্রের স্বার্থকে বড় করে দেখতে হবে। তবেই আমরা আবার জেগে উঠতে পারবো। অন্তত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য আমাদের তো অবশ্যই একতাবদ্ধ হতে হবে। বিভেদ, বিসম্বাদ, অনৈক্য কোনো ব্যক্তি বা দলের কাম্য হতে
পারে না।