ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ রোধ ও কল্যাণরাষ্ট্র ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব


১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৪

॥ ওয়াহিদ মুন্না ॥
ইতিহাসে খুব কম সমাজই রাজনৈতিক ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণ রোধ করতে পেরেছে। অর্থাৎ সরকারি পদকে আর্থিকভাবে লাভজনক নয় এবং শাসনক্ষমতাকে বস্তুগত আকর্ষণহীন করে তুলতে সক্ষম হয়েছে। আর অবধারিত ফলাফল হলো নির্বাচনে টাকার প্রভাব, লোভী ব্যবসায়ীদের রাজনীতিতে পুঁজি বিনিয়োগ, সৎ পেশাজীবীদের করপোরেট পুঁজির নিকট পরাস্ত হওয়া, করপোরেট মিডিয়ার কালো প্রভাব ইত্যাদি। মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা যে রাষ্ট্র করতে পারে বা অন্য কথায় কল্যাণরাষ্ট্রই কিছুটা হলেও নির্বাচনে অশুভ অর্থনীতির রাহুগ্রাস রোধ করতে পারে, যেহেতু সেসব রাষ্ট্রগুলো ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ বা ডিকমোডিফিকেশন অব পাওয়ার রোধ করতে পারে। কল্যাণ যখন প্রাতিষ্ঠানিকৃত হয় তখন রাষ্ট্রযন্ত্রের গুরুত্ব কম হয় এবং নির্বাচনও স্বচ্ছ হয়।
প্রায়ই উল্লেখ করা হয়, এমন দুটি উদাহরণ, যদিও দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটের একদিকে বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে যুক্তরাজ্যের কল্যাণরাষ্ট্রের বিকাশধারা; অন্যদিকে সপ্তম শতাব্দীর কল্যাণভিত্তিক খোলাফায়ে রাশেদা। এই দুই অভিজ্ঞতা ইঙ্গিত দেয় যে, শক্তিশালী বা আধা-কল্যাণরাষ্ট্র যেখানে বিস্তৃত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি রয়েছে সেখানে রাজনীতি ও নির্বাচনে অতিরিক্ত বিনিয়োগ, রাজনীতির করপোরেটকরণ কিংবা ক্ষমতার করিডোরে সুবিধাভোগীদের দৌরাত্ম্য তুলনামূলকভাবে কম হয়। এসব উদাহরণ আরও দেখায় যে, শুধু নির্বাচন-পদ্ধতি নয়, বরং রাজনৈতিক ক্ষমতার নিজস্ব চরিত্রই শাসকগোষ্ঠীর সততা নির্ধারণ করে।
বর্তমান বিশ্বে নির্বাচন আর কেবল জনগণের প্রতিনিধি বাছাইয়ের একটি গণতান্ত্রিক উপকরণ নয়। এটি গভীরভাবে অর্থনৈতিক স্তরবিন্যাস, ক্ষমতার সম্পর্ক এবং বস্তুগত প্রণোদনার সঙ্গে যুক্ত। গণতান্ত্রিক, শংকর কিংবা কর্তৃত্ববাদী সব ধরনের ব্যবস্থায়ই নির্বাচনের ফল নির্ধারিত হয় আদর্শ বা ভোটারের পছন্দের মতোই অর্থ, বাজার ও গণমাধ্যমের প্রভাবে। নির্বাচন রাজনীতির রাজনৈতিক অর্থনীতি এই অর্থনৈতিক ক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সংযোগস্থলটি বিশ্লেষণ করে এবং ব্যাখ্যা করে কেন আনুষ্ঠানিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন প্রায়ই রাজনৈতিক সমতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়।
এ প্রবন্ধে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, নির্বাচনী বিকৃতি মূলত রাজনৈতিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের ফল। দক্ষিণ এশিয়া ও পশ্চিমা গণতন্ত্রে নির্বাচন অর্থায়নের চর্চা বিশ্লেষণ করে এবং তা খোলাফায়ে রাশেদার শাসননীতির সঙ্গে তুলনা করে প্রবন্ধটি অনুসন্ধান করেছে রাজনৈতিক ক্ষমতাকে বাস্তব অর্থে পণ্যহীন করা সম্ভব কি না এবং তা করতে হলে কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন।
উচ্চঝুঁকির বিনিয়োগ হিসেবে নির্বাচন
আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নির্বাচিত পদে প্রবেশ মানে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ, নিয়ন্ত্রক ক্ষমতা এবং অনেক সময় আর্থিক তদারকি থেকে অনানুষ্ঠানিক সুরক্ষা লাভ। ফলে রাজনৈতিক পদ নিজেই অর্থ উপার্জনের একটি বিনিয়োগে পরিণত হয়। নির্বাচন ক্রমেই এমন একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগের মতো হয়ে উঠছে, যেখানে প্রার্থী ও দলগুলো বিপুল অগ্রিম ব্যয় করে এই প্রত্যাশায় যে পরে সেই ব্যয় সুদসহ তুলে আনা যাবে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দুর্বল দেশে এই ‘মুনাফা’ কালো টাকা, নগদ লেনদেন, ভোট কেনা ও পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। আর প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী দেশে এটি দেখা যায় বৈধ আর্থিক প্রভাব, লবিং, পশ্চিমা ‘রিভলভিং ডোর’ চাকরি ব্যবস্থা এবং আইনের আওতায় থাকা নির্বাচন অর্থায়ন কাঠামোর মাধ্যমে। উভয় ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক ক্ষমতার অর্থনৈতিক মূল্য নির্বাচনী প্রতিযোগিতার ব্যয় বাড়িয়ে তোলে।
স্বচ্ছ নির্বাচনের তিন শত্রু- দলীয়, তৃতীয় পক্ষ ও অনানুষ্ঠানিক অর্থায়ন
বিশ্বব্যাপী কিছু প্রবণতা নির্বাচন ব্যয় ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে উন্নয়নশীল দেশ হোক বা পশ্চিমা বিশ্ব। গণমাধ্যমকেন্দ্রিক প্রচারণা, পেশাদার রাজনৈতিক পরামর্শক, তথ্য বিশ্লেষণ, স্থায়ী প্রচারণা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন নির্বাচনকে পুঁজি নির্ভর করেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোয় আইনগত ব্যয় সীমা থাকলেও দলীয় ব্যয়, তৃতীয় পক্ষের প্রচারণা এবং অনানুষ্ঠানিক অর্থায়ন প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে শাস্তিমুক্তভাবে পরিচালিত হয়।
পশ্চিমে অবৈধ প্রভাবের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ
পশ্চিমা গণতন্ত্রগুলো বিপজ্জনকভাবে অবৈধ প্রভাবকে বৈধ ও প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক ক্ষমতায় রূপান্তর করেছে। করপোরেট অনুদান, সীমাহীন স্বাধীন ব্যয়, লবিং শিল্প এবং পদত্যাগ পরবর্তী চাকরির সুযোগ রাজনীতিতে সম্পদের প্রভাবকে স্বাভাবিক করে তুলেছে। এসব ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ হলেও কাঠামোগতভাবে অসম। এখানে নির্বাচন গোপনে কেনা হয় না; বরং প্রকাশ্যেই প্রভাবিত করা হয়।
বৈষম্য, পৃষ্ঠপোষকতা ও নির্বাচনী দখল
অর্থনৈতিক বৈষম্য সরাসরি রাজনৈতিক বৈষম্যে রূপ নেয়। ধনী ব্যক্তি, করপোরেশন ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী প্রার্থী নির্বাচন প্রভাবিত করে, গণমাধ্যমের বয়ান নিয়ন্ত্রণ করে, মামলা-মোকদ্দমার অর্থ জোগায় এবং নির্বাচনের পর নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নেয়।
এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বড় অংশে নির্বাচনী রাজনীতি পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ব্যবস্থায় পরিচালিত হয়। চাকরি, নগদ অর্থ, কল্যাণ-সুবিধা বা সুরক্ষার বিনিময়ে রাজনৈতিক সমর্থন আদায় করা হয়, যা অনেক সময় দলীয় কর্মসূচির বদলে স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। যেখানে রাষ্ট্রই জীবিকার প্রধান উৎস এবং সামাজিক নিরাপত্তা দুর্বল বা অনুপস্থিত, সেখানে এ ধরনের ব্যবস্থা সহজেই বিস্তার লাভ করে। যুক্তিগত ও দার্শনিক উভয় দিক থেকেই সত্য যে, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও মূল্যবোধের অবক্ষই দুর্নীতির প্রধান চালিকা শক্তি, যা সাধারণত শক্তিশালী কল্যাণরাষ্ট্রে কম দেখা যায়। যদিও কল্যাণরাষ্ট্রে আলস্য সমস্যা থাকে।
দক্ষিণ এশিয়া : প্রয়োগহীন নিয়ন্ত্রণ
দক্ষিণ এশিয়া দেখায় যে কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া কেবল নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কতটা গভীর। ভারতে উন্নয়নশীল বিশ্বের অন্যতম বিস্তৃত নির্বাচন অর্থায়ন কাঠামো রয়েছে ব্যয়সীমা, তথ্য প্রকাশ এবং নজরদারি ব্যবস্থা সহ। তবুও বৃহৎ নির্বাচনী এলাকা, দলীয় ব্যয়, তৃতীয় পক্ষের প্রচারণা এবং নগদনির্ভর সংগঠনের কারণে কালো টাকার প্রভাব ব্যাপকভাবে রয়ে গেছে।
পাকিস্তানে পরিস্থিতি আরও দুর্বল। পৃষ্ঠপোষক নেটওয়ার্ক, অভিজাত শ্রেণির দখল এবং অনানুষ্ঠানিক অর্থায়ন রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ করে, আর প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো স্বাধীনতা ও সক্ষমতার অভাবে ভোগে। শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপেও একই চিত্রের ভিন্ন রূপ দেখা যায় আনুষ্ঠানিক নিয়ম উন্নত হলেও দলীয় ব্যয়, ব্যবসায়িক প্রভাব ও ডিজিটাল প্রচারণার ওপর নিয়ন্ত্রণ দুর্বল। গোটা অঞ্চলে কোনো রাষ্ট্রই অর্থক্ষমতার প্রভাবকে চূড়ান্তভাবে দমন করতে পারেনি। সমস্যা প্রশাসনিক নয়; এটি কাঠামোগত।
পশ্চিমা গণতন্ত্র : তুলনামূলক পরিষ্কার, কিন্তু নির্মল নয়
পশ্চিমা গণতন্ত্রগুলো সরকারি অর্থায়ন, ব্যয়সীমা এবং স্বাধীন নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে প্রকাশ্য লেনদেনভিত্তিক দুর্নীতি কমিয়েছে। তবুও তারা ধনকেন্দ্রিক প্রভাবের ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়। যুক্তরাষ্ট্রে সুপার প্যাক, সীমাহীন স্বাধীন ব্যয় ও লবিং আইনগতভাবেই ধনীদের রাজনৈতিক ফল নির্ধারণে সক্ষম করে। পশ্চিম ইউরোপে শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও করপোরেট প্রভাব, গণমাধ্যমের কেন্দ্রীকরণ এবং নির্বাচন-পরবর্তী লবিং বিদ্যমান। এসব ব্যবস্থা অর্থক্ষমতার দৃশ্যমানতা নিয়ন্ত্রণ করে, নির্মূল করে না।
আধুনিক ও ধ্রুপদি পণ্যহীনতার দুটি দৃষ্টান্ত
সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুযায়ী যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বার্ষিক বেতন ১৬৬,৭৮৬ পাউন্ড। অন্যদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রতিবেদনে দেখা যায় বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভির মোট বেতন ধরা হয়েছে প্রায় ৫৪৭,০০০ পাউন্ড। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন কখনো কখনো আক্ষেপ করেছেন যে প্রধানমন্ত্রীর এত কম বেতনে সংসার চলে না কারণ বক্তৃতা দিয়ে তিনি আরও বেশি আয় করতেন। এর কারণ হলো ব্রিটিশ ক্ষমতা কাঠামো তুলনামূলকভাবে কম বিকেন্দ্রীকৃত এবং এটি একটি কল্যাণরাষ্ট্র। এ ধরনের শক্তিশালী হিসাব-নিরীক্ষা প্রভাবিত কল্যাণরাষ্ট্র কাঠামো ফ্যাসিস্ট তৈরি করতে কম পারে। ইতিহাসের আরেকটি কল্যাণরাষ্টের উদাহরণ পাওয়া যায় খোলাফায়ে রাশেদার সময়কার রাষ্ট্রকাঠামোয়। দ্বিতীয় খলিফা ওমর (রা.) নিজ হাতে গভর্নরদের হিসাব নিরীক্ষা করতেন এবং তাদের বিলাসী জীবনযাপনে কড়াকড়ি আরোপ করতেন। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদ পণ্যহীন করার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর শাসনামলে হিমসের জনগণ তাদের গভর্নর সাঈদ ইবনু আমিরের বিরুদ্ধে চারটি অভিযোগ উত্থাপন করেন। ওমর (রা.) তাঁকে মদিনায় ডেকে ব্যাখ্যা দিতে বলেন।
সাঈদ ইবনু আমিরের জবাব
প্রথম অভিযোগ সকালে দেরি করে বের হন
তিনি বলেন, ‘আমার কোনো খাদেম নেই। আমি নিজেই প্রতিদিন সকালে আটা মাখি, রুটি বানাই, পরিবারের জন্য প্রস্তুত করি, অজু করি তারপর মানুষের কাজে বের হই।’
ওমর (রা.) কেঁদে বললেন, ‘আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা।’
দ্বিতীয় অভিযোগ সূর্যাস্তের পর পাওয়া যায় না
তিনি বলেন, ‘দিনটা আমি মানুষের জন্য রেখেছি, আর রাতটা আল্লাহর জন্য।’
তৃতীয় অভিযোগ মাসে একদিন অনুপস্থিত থাকেন
তিনি বলেন, ‘আমার একটি মাত্র পোশাক। মাসে একদিন সেটি ধুয়ে শুকানোর জন্য অপেক্ষা করতে হয়। সেদিন আমি বের হতে পারি না।’
ওমর (রা.) আবার কেঁদে বললেন, ‘আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিন।’
চতুর্থ অভিযোগ হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যান
তিনি বলেন, ‘আমি একসময় কুরাইশদের হাতে খুবাইব ইবনু আদির শহিদ হওয়ার দৃশ্য দেখেছি, তখনো আমি মুসলমান ছিলাম না। নির্দোষভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল। সেই দৃশ্য মনে পড়লেই ভয় পাই যে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করবেন কি না এবং আমি অজ্ঞান হয়ে যাই।’
এ কথা শুনে ওমর (রা.) উচ্চস্বরে কেঁদে বললেন, ‘আল্লাহর প্রশংসা, যিনি আমার বিচারকে ভুল হতে দেননি।’
ওমর (রা.) সাঈদের ভাতা বাড়িয়ে দেন, কিন্তু তিনি সবটাই গরিবদের মধ্যে বিতরণ করে দেন।
এই ঘটনা ইবনু কাসির তাঁর আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং আধুনিক পণ্ডিত উইলফ্রেড মাডেলুং তাঁর দি সাকসেশান টু মুহাম্মদ গ্রন্থে আলোচনায় এনেছেন।
উপসংহার
দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলো কিংবা পশ্চিমা গণতন্ত্র কোনোটিই নির্বাচনকে অর্থক্ষমতার প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত করতে পারেনি; তারা কেবল ভিন্ন ভিন্ন রূপে সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিক করেছে। খোলাফায়ে রাশেদা দেখায় যে রাজনৈতিক ক্ষমতাকে পণ্যহীন করতে হলে শুধু আইনি নিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট নয়, এর জন্য প্রয়োজন নৈতিক নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার এবং ক্ষমতাকে অধিকার নয়, বরং আমানত হিসেবে দেখার মানসিকতা। আর এ ধরনের মানসিকতা শুধু সৎ পেশাজীবীদের পক্ষেই সম্ভব। প্রথম খলিফা আবু বকর বরাবরই কাপড়ের ব্যবসা করতেন এবং খলিফা হওয়ার পরও করেছেন পরে সতীর্থদের চাপে বন্ধ করে যৎসামান্যই ভাতা নিয়েছেন যা তিনি মৃত্যুর আগে নিজ সম্পদ থেকে শোধ করেছেন যাতে ইসলামী দল পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত না হয়।
শেষ পর্যন্ত নির্বাচন দুর্নীতিগ্রস্ত হয় শুধু টাকার কারণে নয়, বরং রাজনৈতিক ক্ষমতা ও দলগুলো যেসব অসম্ভব প্রতিশ্রুতি দেয় তার কারণেও। যতদিন ক্ষমতা নিজেই পণ্যহীন না হবে, ততদিন টাকাই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করে যাবে।