ভারসাম্য ফিরছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:৩৮
॥ উসমান ফারুক ॥
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ভারতের বন্ধুখ্যাত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা হারালে বাংলাদেশের সঙ্গে নাটকীয়ভাবে আচরণ বদলাতে শুরু করে প্রতিবেশী দেশটি। বদলা হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করতে নেয় নানামুখী তৎপরতা। স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি বন্ধ, ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল ও চিকিৎসা নিতে ভিসা বন্ধ করে দেয়। সুযোগ পেলেই ভবিষ্যতেও এরকম আচরণ করবে ভারত, তা বুঝতে পেরে বিকল্প আমদানির দুয়ার খুলতে শুরু করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দীর্ঘদিন বন্ধ করে রাখা কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য শুরু করে। এতে ভারত থেকে পণ্য আমদানি দিন দিন কমছে বাংলাদেশের। আরো সহজলভ্য উপায়ে ভিন্ন দেশ থেকে পণ্য পেয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সুতা ও তুলা আমদানিতে ভারতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। শুধু এ দুটি পণ্যই না, সকল পণ্য ভারত থেকে আনতে রুপি-টাকা বিনিময় শুরু করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। উদ্দেশ্য ছিল গোলামির জিঞ্জির দিয়ে অষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলা। জুলাই অভ্যুত্থানের পর সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে। তুলা, সুতাসহ সকল পণ্য আমদানিতে বিকল্প দেশে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারসাম্য ফিরে আসতে শুরু করেছে।
ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা শূন্যে নামিয়ে আনতে আমদানি-নীতিতে সংস্কার দরকার। খরচ কমিয়ে আনতে ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে। সমুদ্রপথে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি সাগর পাড়ে ফ্রি ট্রেড জোন নির্মাণের প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা। এতে করে জরুরি সময়ে পণ্য আনতে বাইরের কোনো দেশে যাওয়া লাগবে না। সড়ক পথেই ফ্রি ট্রেড জোন থেকে পণ্য আমদানি করা যাবে।
ফ্রি ট্রেড জোন কী
ফ্রি ট্রেড জোন বা মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল হচ্ছে এমন একটি এলাকা, যেখানে বিশ্বে যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি শুল্কমুক্তভাবে পণ্য এনে রাখতে পারে। পণ্য উৎপাদন করতে পারে। মজুদ করতে পারে। পরবর্তীতে রফতানি করার সময়ে সামান্য একটি শুল্ক পায় ওই রাষ্ট্র। পুনরায় রফতানি না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকার শুল্কারোপ করা হয় না। চট্টগ্রামে একটি ফ্রি ট্রেড জোন নির্মাণের প্রকল্প নিয়েছে সরকার। এটি বাস্তবায়ন হলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান আগে-ভাগেই তুলা এনে সেখানে রাখতে পারবে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা প্রয়োজন মাফিক সেখান থেকে তুলা নিতে পারবে। এটি তখন আমদানি হিসেবে দেখা হবে। এতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের খরচ ও সময় বেঁচে যাবে।
বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য কেমন
বাাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য সাড়ে ১৩ বিলিয়ন ডলারের উপরে অর্থাৎ প্রতি বছরে দুটি দেশের মধ্যে ১ হাজার ৩৫১ কোটি ডলার বা ১ হাজার ৬৬১ কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। এর মধ্যে ভারত থেকে আমদানি করা হয় সাড়ে ১১ বিলিয়ন ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় যা ১ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা।
বিপরীত দিকে বাংলাদেশ থেকে ভারত মাত্র ২ বিলিয়ন ডলার বা ২২৬ কোটি টাকার পণ্য নেয়। এ হিসাবে বাণিজ্য ঘাটতি সাড়ে ৯ বিলিয়ন ডলার। এই বিশাল পরিমাণ ডলার প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে যায়। এতে ভারতের অর্থনীতি সচল রাখার পাশাপাশি দেশটির কৃষক ও ব্যবসায়ীরা টিকে থাকে।
প্রতি বছর সাড়ে ১১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে ভারত থেকে বাংলাদেশ মূলত ইলেকট্রনিক্স, সুতা, কাপড়, মেশিনারি, গাড়ি ও যন্ত্রাংশ, মোটরসাইকেল, সাইকেল, তেল ও খণিজ পদার্থ যেমন কয়লা আমদানি করা হয়। খাদ্য পণ্যর মধ্যে চাল, পেঁয়াজ, চিনি, মরিচ, ডাল আমদানি করে।
আওয়ামী লীগ ছাড়া বাংলাদেশ দেখে না ভারত
সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক সম্পর্ক, আমদানি, রফতানি এবং যাবতীয় যোগাযোগ ও কূটনৈতিক সম্পর্ক পরিচালিত হয় এক রাষ্ট্রের সঙ্গে আরেক রাষ্ট্রের মধ্যে। সরকার বদলে যায়, নেতৃত্বে আসে নতুন দল ও ব্যক্তি। কিন্তু রাষ্ট্রের নীতি বদলায় না। নিজ দেশের স্বার্থ রক্ষা করে নতুন সরকার দায়িত্ব পালন করে।
কিন্তু বাংলাদেশের বেলায় ভারতের এই আচরণ কখনোই দেখা যায়নি। বলা যায়, ভারত কখনোই বাংলাদেশের সঙ্গে সেই আচরণটি করেনি। বাংলাদেশ নয়, দেশটি সবসময় সম্পর্ক রেখেছে একটি তথাকথিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে। সেই দল হচ্ছে আওয়ামী লীগ। এই দলটির প্রধানসহ ৪-৫ লাখ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এখন ভারতের আশ্রয়ে, কয়েক বছর আগেও যাদের ভারতের দালাল বলা হতো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে সরব রয়েছেন লাখো বাংলাদেশি।
দেশটির মদদেই গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপি হয়। ভোটাররা ভোট দিতে যেতে পারেননি। ছাত্রদের সাধারণ কয়েকটি দাবি না মেনে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী থাকা শেখ হাসিনা নিরীহ সেই ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়। সেই মামলায় এখন ফাঁসির দণ্ড পাওয়া শেখ হাসিনাকে নিরাপত্তা দিয়ে চলেছে ভারত।
সাধারণ ছাত্রদের গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে সব পর্যায়ের মানুষ। একপর্যায়ে গত ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মুখে গোপনে ভারতে পালিয়ে যায় শেখ হাসিনা ও তার বোন রেহানা। বাংলাদেশে আসে জনগণের সরকার, যেটা ভারত কখনোই চায় না।
আওয়ামী লীগের উচ্ছেদ সহ্য করতে না পারা ভারত আসল রূপে ফিরে আবির্ভূত হয়। বাংলাদেশিদের ওপর ভিসা ইস্যুতে কড়াকড়ি আরোপ করে ভারত। এর কয়েক মাস পরই ভারত তার স্থল ও বিমানবন্দর ব্যবহার করে যে ট্রান্সশিপমেন্ট ব্যবহার করে আসছিল বাংলাদেশ তাও বাতিল করে দেয়। এরপর থেকে কিছু পণ্য আমদানি-রফতানিতে স্থলবন্দর ব্যবহারে পাল্টাপাল্টি নিষেধজ্ঞা আরোপ চলছে।
যার সর্বশেষ পদক্ষেপ হচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে ভারতে নিষেধাজ্ঞায় থাকা পাট ও পাটজাত পণ্যের আওতা বাড়ায়। এর আগে স্থলবন্দর ব্যবহার করে পোশাক, ভোগ্যপণ্য, কিছু প্লাস্টিক পণ্য ও আসবাব পণ্য রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভারত। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ভারত থেকে স্থলপথে সুতা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় বাংলাদেশ।
সর্বশেষ পেঁয়াজের রফতানি বন্ধ করে দিলে দেশটিতে পণ্যটির দাম পড়ে যায়। কৃষকরা ৪-৫ রুপিতে পেয়াঁজ বিক্রি করতে থাকে উপায় না পেয়ে। এর মূলে রয়েছে ভারতের আওয়ামী লীগপ্রেম। সেই প্রেমের খেসারত দিতে হয়েছে ভারতের কৃষকদের। বাংলাদেশে রফতানি বন্ধ করায় পেয়াঁজের দর নেমে যায় ৩-৪ রুপিতে।
একক নির্ভরতা কমাচ্ছে বাংলাদেশ
এমন পদক্ষেপ নেয়ার পর গত ডিসেম্বরে ভারত থেকে আমদানি কমেছে ২৭ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশের আমদানির তালিকায় ভারতের অবস্থান দ্বিতীয় ও ভারতের দিক থেকে রফতানির তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ৮৪ কোটি ১৬ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ এই পরিমাণ অর্থের আমদানি করেছে ভারত থেকে।
এটি এক বছর আগের অর্থাৎ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ২৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ কম। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ভারতের রফতানি ছিল ১১৫ কোটি ৮৫ লাখ ডলার। ভারত থেকে মূলত ২০২৫ সালের শুরুর দিক থেকে আমদানি কমিয়ে অন্য রাষ্ট্র থেকে আনা শুরু করে বাংলাদেশ।
করোনা মহামারির সময়ে বাংলাদেশে হঠাৎ করেই তৈরি পোশাক খাতের আবশ্যকীয় উপাদান তুলা ও সুতা রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত। এর বিরূপ প্রভাব পড়ে দেশের সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থান খাতে। দ্রুত বিকল্প দেশ থেকে কাচামাল আমদানি শুরু করে ভারত।
সেই কথা স্মরণ করে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলসের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ভারত কখনোই আমাদের বন্ধুও না, বাণিজ্য করার ভালো একটি দেশও না। তারা সব সময়ে আমাদের শিল্পকে ধ্বংস করতে পরিকল্পনা নেয়। এখন কম দামে সুতা ও তুলা দিচ্ছে দেশের স্পিনিং মিলকে ধ্বংস করতে। এক বছর এভাবে চালিয়ে স্পিনিং মিলকে ধ্বংস করে দেবে। এরপর তারা সুতা ও তুলার দাম বাড়িয়ে দেবে।
এজন্য বাংলাদেশের পোশাক খাতের উচিত হবে ভারত থেকে সুতা আমদানি বন্ধ করে দেওয়া। দেশীয় স্পিনিং মিলের উৎপাদিত সুতা দিয়েই চলতে পারবে পোশাক খাত মন্তব্য করেন তিনি। বিটিএমএ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশে উৎপাদিত সুতা দিয়ে পোশাক খাতের ৬০ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয়। অবশিষ্ট সুতা এখনো ভারত ও চীন থেকে আসছে।
ভারতের সুতা রফতানির ৪০ শতাংশই আসে বাংলাদেশে। বিকল্প হিসেবে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, চীন থেকে আমদানি বাড়ানোর পরামর্শ তার। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানির পরিমাণ বাড়িয়ে দেশি স্পিনিং মিলের সংখ্যা আরো বাড়ানো যায় বলে মনে করে বিটিএমএ। এতে করে সুতা আমদানিতে ভারতনির্ভরতা শূন্য হবে।
এর আগে পেয়াঁজ ও চাল আমদানিতে বাধা সৃষ্টি হলে বাংলাদেশ বিকল্প সমাধান খুঁজে নিয়েছে। দেশেই উৎপাদন বেড়েছে পেঁয়াজের। পাশাপাশি মিশর, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়া থেকে পেয়াঁজ আমদানি করে চাহিদা মিটিয়েছে বাংলাদেশ। এক সময়ে গরু নিয়ে ভারতের ওপর নির্ভরশীল ছিল বাংলাদেশ। এখন ডেইরি ফার্মের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় গরুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে গেছে বাংলাদেশ।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের বিকল্প বাজার খুঁজে নিয়েছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে দীর্ঘদিন বন্ধ করে রাখা পাকিস্তানের বাজার খুলে গিয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল থেকে পণ্য আমদানি বাড়িয়ে চলছে বাংলাদেশ।
যেসব পণ্য বেশি আসে ভারত থেকে
ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, তুলা, মেশিনারিজ, চিনি, শিল্পের কাচামাল, সাবান, বিভিন্ন ধরনের ফল, স্টিল, লোহা, নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টার, চা, কফিসহ বিভিন্ন উপাদান। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসে তুলা ও সুতা। শুধু তুলাই আসে মোট আমদানির সাড়ে ৩ শতাংশ। গত বছরের প্রথম তিন মাসে তুলা এসেছিল ৭৩ কোটি ডলারের। পরের তিন মাসে তা কমে ৬০ কোটি ডলারের নিচে নেমেছে।
দূরত্ব কম হওয়া ও স্থল সীমান্ত থাকায় ভারত থেকে বেশি পণ্য এনে থাকেন ব্যবসায়ীরা। বিকল্প দেশ থেকে পণ্য আনতে খরচ বেড়ে যাবে এমন শঙ্কা রয়েছে। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ব্যবসার মূল নীতিই হচ্ছে যেখানে কম দামে পণ্য পাওয়া যাবে, সেখানেই সবাই যাবে। এটিও ঠিক যে, একটি দেশের ওপর নির্ভরশীলতা ঝুঁকিপূর্ণ। এখান থেকে বের হওয়া দরকার। এ কারণে সহনশীল দর হতে হবে। সরকার চাইলে ব্যবসায়ীদের অন্যান্য খরচ কমিয়ে সহযোগিতা করলে অন্য দেশ থেকে পণ্য আনা যাবে। এজন্য বন্দর ও শুল্ক খরচ কমিয়ে দিতে পারে।
সুতা আমদানির বিকল্প হিসেবে পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা বা স্বল্প সুদের ঋণ দেয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, তখন মোট উৎপাদন খরচ কমে যাবে। তাতে একটি দেশ থেকে সুতা ও তুলা আমদানির আগ্রহ থাকবে না। পোশাক খাত সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থান তৈরি করে। এজন্য জনগণের দিকে চেয়ে সরকার এখাতের সুবিধা বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন বলেন, আমদানির উৎস সব সময় খোলা রাখতে হবে। কোনো একটি দেশ থেকে আমদানি বেড়ে গেলে তা শিল্পের জন্য ঝুঁকি, দেশের জন্যও ঝুঁিক। এটি রোধ করার একটি উপায় হলো, আমদানি পণ্যর উৎস দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করা। একাধিক দেশের সঙ্গে এটি থাকলে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দেশ থেকেই পণ্য আনবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শিল্পের কাঁচামাল হোক বা নিত্যপণ্য হোক, কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ। এতে অর্থনীতির সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ে যায়। আমদানিনির্ভর হওয়ায় বাংলাদেশকে প্রতি বছরে ৬১ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য আমদানি করে। আমদানি দেশের তালিকায় দ্বিতীয় দেশ হচ্ছে ভারত। প্রতি বছর দেশটি থেকে ১৫ শতাংশ বা সোয়া ৯ বিলিয়ন ডলারের বা এক লাখ ১১ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ।
এর বিপরীতে ভারত মাত্র এক বিলিয়ন ডলার আমদানি করে বাংলাদেশ থেকে। ভারতনির্ভরতা কমাতে অন্য দেশ থেকে পণ্য আনতে ব্যবসায়ীদের উৎসাহ দেয়ার পাশাপাশি প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে। সব দেশ থেকে পণ্য আনার খরচ প্রায় কাছাকাছি রাখতে বন্দর ও শুল্কহার পুনর্বিন্যাস করা যেতে পারে। একইভাবে বাংলাদেশ থেকে রফতানি হয়ে গন্তব্য দেশগুলো থেকে পণ্য আনতে শর্ত জুড়ে দেওয়া যেতে পারে।