লালমনিরহাট ও নীলফমারীর জেলার তিস্তা ব্যারেজ হেলিপ্যাডে আয়োজিত  নির্বাচনী জনসভায় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান

যুগ যুগ ধরে এই এলাকার মানুষকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে

সোনার বাংলা অনলাইন
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৪

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান ফাইল ছবি

৪ ফেব্রুয়ারি সাড়ে দুপুর ১২টায় ১১ দলীয় ঐক্য জোট কর্তৃক লালমনিরহাট ও নীলফমারীর জেলার তিস্তা ব্যারেজ হেলিপ্যাডে আয়োজিত যৌথ নির্বাচনী জনসভায় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমি সংক্ষেপে কিছু কথা আপনাদের কাছে আমানত হিসেবে রাখতে চাই। আপনারা সেই আমানত ধারণ করার জন্য প্রস্তুত আছেন? আলহামদুলিল্লাহ। আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি যাদের কারণে, যাদের লড়াইয়ে, যাদের জীবনদানে আমরা দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন থেকে মুক্ত হতে পেরেছি। জনগণ তাদের এই মহান আত্মদান বৃথা যেতে দিবে না ইনশাআল্লাহ। আমরা চাই একটি সম্প্রীতির বাংলাদেশ, একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ। কিন্তু একদল মতলববাজ মতলব হাসিল করার জন্য মাঝেমধ্যে কিছু দুষ্টামি করে। এদের প্রতি আমাদের একদম স্পষ্ট বার্তা, এই বাংলাদেশকে আগামীতে আর আমরা বিভক্ত করতে দেবো না ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও বলেন, “এরা জাতিকে বিভক্ত করে জাতির মধ্যে হিংসা, প্রতিহিংসা, জেদ সৃষ্টি করে, জাতিকে পরস্পরের বিরুদ্ধে লাগিয়ে, এরা জাতির সম্পদ চুরি করেছে, ডাকাতি করেছে, লুণ্ঠন করেছে, মানুষের ওপর ফ্যাসিবাদ দফায় দফায় চাপিয়ে দিয়েছে। এই মতলববাজ রাজনীতির এখন কবর রচনার সুযোগ এসেছে। ১২ তারিখের এই নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন না। স্বাধীনতার পর থেকে ৫৪টি বছর যারা জাতির সাথে ধোঁকাবাজি করেছে, বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, বেইমানি করেছে, রাজনীতির নামে জাতিকে অবহেলা-অবজ্ঞা করেছে, আমরা কথা দিচ্ছি, এই বঞ্চিত এলাকা থেকেই এদের বিদায় ঘণ্টা বাজবে ইনশাআল্লাহ।

যুগ যুগ ধরে এই এলাকার মানুষকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে আর তাদের অনুভূতিকে সস্তা পুঁজি করে ক্ষমতার মসনদে পালাবদল করে অনেকে গিয়েছেন। জনগণের দিকে তাকানোর সময় পাঁচ বছরে একবার হয়। আর বাকি সময় জনগণকে তারা চেনেন না। আমরা সেই বসন্তের কোকিল না। আমরা বিপদেও আছি, আমরা সুখের সময়েও আছি। আমরা বিপদের সময় দেশ ছেড়ে চলে যাই না, আমরা মাটি কামড়ে পড়ে থাকি, মাটি কামড়ে পড়ে থাকব ইনশাআল্লাহ।

বাংলাদেশে আল্লাহ দান করেছেন, এটিই আমাদের জন্য যথেষ্ট। এখান থেকে চলে যায় কেন? নিজেদের তৈরি করা ফ্যাসিবাদের যন্ত্রণা যাতে ভোগ করতে না হয়। সেই জন্য চলে যায়। তারা মনে করে এই দেশ নিরাপদ নয়, যায় মনে করে যে এই দেশ উন্নত নয়, উন্নত হতে বাধা দিয়েছিল কে তোদেরকে? তোরা তো পালাক্রমে দেশ শাসন করলি। আমরা ঘোষণা দিয়েছি, উত্তরবঙ্গকে ইনশাআল্লাহ আমরা কৃষি শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলব। তখন কর্মসংস্থান যেমন হবে, সারা দেশ উপকৃত হবে।

দেশের উৎপাদিত শস্য এবং বিভিন্ন পণ্য ইনশাআল্লাহ শুধু দেশের চাহিদা পূরণ করবে না, বিদেশেও রপ্তানি হবে। আমরা সেই শিল্প পুরা এলাকাকে আমরা শিল্পে সমৃদ্ধ করতে চাই। আপনারা শুধু দোয়া করবেন কথা যা দিচ্ছি আমাদেরকে যদি আল্লাহ তায়ালা এই দেশ সেবার সুযোগ দেন আমরা যেন আপনাদেরকে ভুলে না যাই। আমরা যেন আপনাদেরকে আমাদের হৃদয়ে, আমাদের কলিজায় শক্তভাবে মজবুতভাবে ধারণ করতে পারি সেই দোয়াটা আপনারা করবেন।”

আরেকটা কথা আমরা পরিষ্কার করি, “আমরা এই দেশে আর মাইনরিটি-মেজরিটি গুলা শুনতে চাই না। অন্যান্য ধর্মের যে সমস্ত ভাই-বোনেরা আছেন আমরা ইনশাআল্লাহ বুকের চাদর দিয়ে তাদেরকে আগলে রাখব। সবাইকে নিয়ে আমরা বাংলাদেশের বাগান সাজাব ইনশাআল্লাহ। সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষকে নিয়ে বাগান সাজাব। আর কোনো বৈষম্য এখানে বরদাশত করা হবে না। ন্যায়বিচার কায়েম হবে ইনশাআল্লাহ।

সেই ন্যায়বিচার যে কেউ অপরাধ করলে শাস্তি হবে, দেশের প্রেসিডেন্ট হলে একই অপরাধে একই পন্থায় তার বিচারও হবে এবং শাস্তিও নিশ্চিত হবে। বিচার কারো মুখের দিকে তাকাইয়া আর হবে না। বিচার চলবে একদম সোজাসাপ্টা। বিচারের দিকে তাকাবে অন্য কোনো দিকে তাকাবে না। সম্মানিত ভাইয়েরা গরম ভাতে বিলাই বেজার। ঠিক? যারা সারা জিন্দেগি মানুষকে কষ্ট দিয়েছে তারা ভয় পাচ্ছে, ও তোমাদেরও ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নাই। এই ন্যায়বিচার তোমাদের জন্য, আমাদের জন্য, সবার জন্য। এখন আমরা তোমাদেরকে বসাব মর্যাদার আসনে, এখন হবা তোমরা দেশ গড়ার কারিগর ইনশাআল্লাহ। হালাল রুজি নিয়ে আমরা যেমন বাঁচব তোমরাও তেমন বাঁচবা। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা আছেন, আমি জানি তাদের অনেকে যে বেতন দেওয়া হয়, যে সুবিধাদি দেওয়া হয় চলার জন্য এটা মোটেই যথেষ্ট নয়। অর্থাৎ রাষ্ট্রই বাধ্য করছে তাদেরকে দুর্নীতি করার জন্য। যে রাষ্ট্র তার কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি সম্মান দেখাতে পারে না, সেই রাষ্ট্র তার কর্মকর্তা-কর্মচারী অপরাধ করলে কোনো বিচারের অধিকারও রাখে না। আগে তাকে সম্মানটা দিতে হবে। সম্মানজনকভাবে বাঁচার সুযোগ করে দিতে হবে। তারপরে যদি অপরাধ করে অবশ্যই তাকে সেইভাবেই বিচারের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু এর আগে নয়। এইজন্য আমরা সবাইকে বলি এটা আমার দেশ, এটা আপনারও দেশ। সবাই মিলে আমরা গড়ব ইনশাআল্লাহ আগামী নতুন বাংলাদেশ।”
“আমরা ওদেরকে পরিষ্কার বলে দিচ্ছি প্রয়োজনে জীবন দেব কিন্তু মায়ের ইজ্জত কাউকে কেড়ে নিতে দেব না। এ দেশের নয় কোটি নারী আমাদের মা। এই মায়েদেরকে আমরা শ্রদ্ধার আসনে বসাতে চাই। তারা শিক্ষা নিবে, তারা দেশ গড়ায় অংশ নিবে, পেশাগত দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু ইনশাআল্লাহ ঘরে, রাস্তায় এবং কর্মস্থলে তারা থাকবে নিরাপদ আর কাজ করবে তারা অত্যন্ত মর্যাদার সাথে। আমরা নারী জাতির জন্য সেটা নিশ্চিত করব ইনশাআল্লাহ। তাদের জন্য সমাজের আরও কিছু করণীয় আছে সেটাও আমরা করব ইনশাআল্লা। যাতে সবাই মিলেমিশেই আমরা দেশটা গড়তে পারি।”

আমাদের দুটি ভোট। কয়টা ভোট? দুইটা ভোট। প্রথম ভোটটা হবে ইনশাআল্লাহ গণভোট। গণভোটে হ্যাঁ-না কোনটা? হ্যাঁ! সমস্ত মানুষকে নিয়ে আমরা হ্যাঁ ভোটের জোয়ার তুলব। কেউ কেউ প্রথম দিকে রাজি হন নাই, না ভোটের পক্ষে তারা শুরু করে দিয়েছিলেন অভিযান। পরে দেখেছেন জনস্রোতে ভেসে যাবেন খবরও থাকবে না। তারা এখন হ্যাঁ ভোটের পক্ষে কথা বলছেন। অভিনন্দন, মোবারকবাদ। হ্যাঁ ভোটের পক্ষে যারা থাকবে, তারা প্রমাণ করবে যে তারা বস্তাপচা রাজনীতির সাথে নাই, ফ্যাসিবাদীদের সাথে নাই, চাঁদাবাজদের সাথে নাই, দুর্নীতির সাথে নাই, মামলাবাজদের সাথে নাই, মায়েদের অপমানের সাথে তারা নাই। তারা আছে নতুন বাংলাদেশের সাথে, তারা আছে চব্বিশের আকাঙ্ক্ষার সাথে।আমরা সেই চব্বিশের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করেই হ্যাঁ ভোট দিব ইনশাআল্লাহ। দ্বিতীয় ভোটটা দেশ গড়ার ভোট।আগামীতে যারা সরকার চালাবে তারা কারা? যারা অতীতে ভালো মানুষ প্রমাণিত হয়েছে তারা। অথবা যারা অতীতে নিজেকে ভালো মানুষ প্রমাণ করতে পারে নাই তাদেরকে লাল কার্ড।

দুর্নীতি যারা করে তারা তো ডাকাত! তারা তো চোর! তারা তো লুণ্ঠনকারী! আমরা কথা দিচ্ছি সর্বশক্তি নিয়োগ করে ওদের মুখ দিয়ে পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে এগুলা বের করে আনবো ইনশাআল্লাহ। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।ইনশাআল্লাহ পেট পর্যন্ত যাওয়া লাগবে না, ওরা জায়গায় জায়গায় পেট বানিয়ে রেখেছে না? ওই পেটগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো ফেরত আনা হবে ইনশাআল্লাহ। এরপরে প্রয়োজনে তাদেরকেও আনা হবে, আসো— দেখে যাও এটি নতুন বাংলাদেশ। সম্মানিত ভাইয়েরা, আমরা নিজ নিজ দলের প্রতীকেই আমরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।কিন্তু যেখানে যাকে দেওয়া হবে এটাই ১২ দলের প্রতীক। তার পক্ষেই আমরা সবাই খেটে ইনশাআল্লাহ বিজয় আনবো। ইনশাআল্লাহ বিজয় জনতার হবে।

আরেকটা জিনিস স্পষ্ট করি, আমি জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না। আপনারা বলবেন আশ্চর্য, আজকের এই মিটিং মূলত জামায়াত করলো আর আপনি জামায়াতের বিজয় চান না এ কেমন কথা? আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করে ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।মানুষের বিজয়, ১৮ কোটি পরাজিত হয়ে গেলে আমরাও পরাজিত। হ্যাঁ ভোটের বিজয় মানে জনতার বিজয়, হ্যাঁ ভোটের পরাজয় মানে জনগণের পরাজয়। সে পরাজয় থেকে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন, আমিন।-তারিখ: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 

জামায়াতে ইসলামী

সম্পর্কিত খবর