সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ


২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:৪৫

রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট ইসলামোফোবিয়া ভারতে বেড়েই চলেছে
মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ভারতের বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ তীব্রতর হয়েছে। মোদি সরকারের অধীনে ‘সিলেক্টিভ’ বা বেছে বেছে আইন প্রয়োগ এবং ক্রমবর্ধমান ইসলামোফোবিয়া (ইসলামভীতি) নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিমাচল প্রদেশের রাজধানী শিমলার সাঞ্জৌলি মসজিদের ওপরের তলাগুলো ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। সরকারি বাজেট অনুমোদনের পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর আগে মসজিদের দুটি তলা অপসারণ করা হয়েছিল। মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ লতিফ বলেন, এ পদক্ষেপ তাদের গভীর মর্মাহত করেছে। তাদের মনে হচ্ছে বিশেষভাবে এ সম্প্রদায়কেই লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। স্থানীয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতি উপেক্ষা করেই কর্তৃপক্ষ এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অনুরূপ চিত্র দেখা গেছে উত্তরাখণ্ডেও। সেখানে মুসৌরি-দেহরাদুন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কান্দোগাল গ্রামের একটি মসজিদের প্রথম ও দ্বিতীয় তলা সিল করে দিয়েছে। কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, ওই নির্মাণের কোনো অনুমোদন ছিল না। তবে স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় আরও অনেক অবৈধ স্থাপনা থাকলেও সেগুলো স্পর্শ করা হয়নি। শুধুমাত্র মসজিদকে লক্ষ্যবস্তু করায় মুসলিমদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ঘটনাগুলো ভারতে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট ইসলামোফোবিয়ার একটি বৃহত্তর নমুনার প্রতিফলন। তাদের দাবি, মোদি সরকার আইনি ও প্রশাসনিক অজুহাতে মুসলিম সম্প্রদায়কে কোণঠাসা করছে, তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করছে এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের কাছে একটি ভীতিকর বার্তা পাঠাচ্ছে। উল্লেখ্য, হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্টের নির্দেশে পাঁচতলা বিশিষ্ট সাঞ্জৌলি মসজিদের ওপরের তিনটি তলা অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে বর্তমানে তৃতীয় তলাটি ভাঙার কাজ চলছে। ২০২৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, দেহরাদুনে রেজিস্ট্রেশন না থাকার অভিযোগে প্রায় ১১টি মাদরাসা সিল করে দেওয়া হয়েছে। একটি মানবাধিকার সংস্থার (সিএসএসএস) রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা ৮৪ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৩ সালে এ ধরনের ঘটনা ছিল ৩২টি, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯টিতে। সিয়াসত ডেইলি।

জেলেনস্কিকে শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পুতিনের
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সামনে নতুন এক শর্তসাপেক্ষ প্রস্তাব তুলে ধরেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। ইউক্রেনে যদি জাতীয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘোষণা করা হয়, তাহলে সেই নির্বাচনকালীন সময়জুড়ে দেশটির ভেতরে হামলা বন্ধ রাখতে প্রস্তুত রয়েছে রুশ বাহিনী এমনটাই জানিয়েছেন পুতিন। এ প্রস্তাব রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার মধ্যে নতুন রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করেছে। গত শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম রাশিয়ান টেলিভিশন (আরটি)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, ইউক্রেন যদি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে, তাহলে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে যেতে পারে। তিনি জানান, ভোটের দিন ইউক্রেনের অভ্যন্তরে কোনো হামলা চালানো হবে না। এমনকি সীমান্ত পেরিয়ে যেসব ইউক্রেনীয় নাগরিক বর্তমানে রাশিয়ার ভূখণ্ডে আশ্রয় নিয়েছেন, তারাও নির্বিঘ্নে ইউক্রেনে ফিরে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে রুশ সেনারা কোনো বাধা দেবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি। তবে এ প্রস্তাবের সঙ্গে একটি কঠোর সতর্কবার্তাও দিয়েছেন পুতিন। তিনি বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে যদি ইউক্রেন অস্ত্র ও সেনা মজুত শুরু করে, তাহলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে। অর্থাৎ সাময়িক শান্তিকে যদি সামরিক সুবিধা আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে রাশিয়া তা মেনে নেবে না।
উল্লেখ্য, ইউক্রেনে সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৯ সালের মে মাসে। ওই নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০ মে ভলোদিমির জেলেনস্কি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ইউক্রেনের সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের মেয়াদ পাঁচ বছর হওয়ায় ২০২৪ সালের মে মাসেই তার সাংবিধানিক মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইউক্রেনে একাধিকবার নতুন নির্বাচনের দাবি উঠলেও প্রতিবারই তা প্রত্যাখ্যান করেছেন জেলেনস্কি। তার যুক্তি ছিলো দেশে যুদ্ধ চলমান থাকায় নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। এ অজুহাতে তিনি দফায় দফায় সামরিক আইনের মেয়াদ বাড়িয়ে ক্ষমতায় বহাল থাকেন। ২০২৪ সালের মে মাস পার হওয়ার পর থেকেই মস্কো প্রকাশ্যে জানিয়ে আসছিল, জেলেনস্কির বৈধ মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সংলাপে বসতে আগ্রহী নয় রাশিয়া। সে সময় পুতিন স্পষ্ট করে বলেন, যদি ইউক্রেন নির্বাচনের ঘোষণা দেয়, তাহলে নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত নতুন সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আপত্তি নেই রাশিয়ার। এমনকি জেলেনস্কি যদি পুনরায় নির্বাচিত হন, তাহলেও সংলাপের পথ খোলা থাকবে। তবে ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররা, যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন এবং জেলেনস্কি নিজে, কেউই তখন মস্কোর এ আহ্বানকে গুরুত্ব দেননি। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজনের বিরোধিতাই ছিল পশ্চিমা অবস্থান। পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর। ২০২৫ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সক্রিয় কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ শুরু করে। এ চাপের ফলেই সম্প্রতি জেলেনস্কি ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সব মিলিয়ে নির্বাচনের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে পুতিনের এ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইউক্রেন সংকটে নতুন এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। তবে এটি শান্তির পথে বাস্তব অগ্রগতি আনবে, নাকি কৌশলগত টানাপড়েন আরও বাড়াবে তা নির্ভর করবে নির্বাচনের বাস্তবায়ন ও যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতির ওপর। আরটি।

২০২৬ সাল হতে যাচ্ছে ‘উষ্ণতর’ বর্ষ
২০২৬ সাল পড়ার আগেই বছরভর আবহাওয়া নিয়ে অশনিসংকেত দিলেন বিশেষজ্ঞরা। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে পৃথিবীর গড় উষ্ণতা যতটা বৃদ্ধি পেতে চলেছে, তা বিপদসীমা থেকে মাত্র এক পা দূরে! বিন্দু বিন্দু জমে সিন্ধু হয়Ñ এ ইতিবাচকতা সব ক্ষেত্রে সত্য নয়। বিশেষত তাপমাত্রা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটু একটু বাড়বাড়ন্ত থেকেই একসময়ে বিস্ফোরক হয়ে ওঠে। সেই কবে থেকে সামান্যতম উষ্ণতা বাড়তে বাড়তে এমন একটা পর্যায় পৌঁছেছে, যেখান থেকে আর নিয়ন্ত্রণের উপায় প্রায় নেই। হিসেবনিকেশ করে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, গড় উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত বাড়লেই নেমে আসবে মহাবিপদ। ২০২৬ সালে সেই অঙ্ক ছুঁয়ে ফেলবে ১.৪ ডিগ্রি! দশমিকের অঙ্ক কী ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ এক্ষেত্রে, তা বোঝাই যাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা, বিশ্বের গড় উষ্ণতা ১.৩ ডিগ্রি থেকে বেড়ে ১.৪ ডিগ্রি হওয়া নেহাত যোগ-বিয়োগের হিসেবমাত্র, এত বিপদের বীভৎসতা তেমন আন্দাজ করা যায় না। গত তিন বছর থেকে এ বৃদ্ধির দ্রুত হারেই লুকিয়ে অশনি সংকেত। আবহাওয়ার চরম সময় শুরু হয়েছে তখন থেকেই। অর্থাৎ তীব্র গরম পড়া মানে সারা বছর একইরকম গরম, আবার বৃষ্টি শুরু হলো তো অবিরাম তা চলছেই, আবার কোথাও শুষ্ক-রুক্ষতাই সদা বিরাজমান। এটাই হলো উষ্ণায়ন চরমে পৌঁছানোর একেকটা ইঙ্গিত। আশঙ্কার কথা এই যে, এর সুদূরপ্রসারী প্রভাবে কোথাও কোথাও গোটা বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়তে পারে, হারিয়ে যেতে পারে জীববৈচিত্র্য। সব মিলিয়ে পৃথিবীর সমস্ত নিয়মশৃঙ্খলার বাঁধন ছিঁড়ে তুমুল বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি হওয়া হয়ত আর রুখে দেওয়া সম্ভব নয়। আনন্দের সঙ্গে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি আশু বিপদের কথাও স্মরণে রাখতে হবে আমাদের। আল-জাজিরা।

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বিপর্যয়কর হতে পারে : লুলা
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রে ‘সামরিক হস্তক্ষেপ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে’ বলে সতর্ক করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুয়িজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা। প্রতিবেশী দেশ ভেনেজুয়েলার কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান পদক্ষেপের মুখে গত শনিবার (২০ ডিসেম্বর) এ হুঁশিয়ারি জানিয়েছেন লুলা। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ভেনেজুয়েলা থেকে ছেড়ে আসা ও দেশটির জলসীমায় প্রবেশ করতে যাওয়া নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেল ট্যাঙ্কারগুলো ‘অবরোধ’ করার আদেশ দিয়েছেন। রয়টার্স লিখেছে, ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরো সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়াতে দেশটির আয়ের প্রধান উৎসকে লক্ষ্যস্থল করে সর্বশেষ এ পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন। উত্তেজনা বাড়তে থাকার মধ্যে লাতিন আমেরিকার দুই বৃহত্তম অর্থনীতি ব্রাজিল ও মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট লুলা ও ক্লাউদিয়া শিনবাউম ইতোমধ্যে সবাইকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু শনিবার ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ফোজ দো ইগুয়াসুতে দক্ষিণ আমেরিকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক জোট ‘মার্কোসুর’ এর বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে লুলা আরও জোরালো একটি বিবৃতি দেন। এতে তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করলে তা বিশ্বের জন্য একটি বিপজ্জনক নজির হবে।’ রয়টার্স।

ভারতে মুসলিম হকারকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ
বিহারের নবাদা জেলার রোহ ব্লকের ভাট্টা গ্রামে ৫০ বছর বয়সী মুসলিম হকার মোহাম্মদ আতহারকে উগ্রহিন্দু জনতার পিটুনিতে হত্যার কয়েকদিন পর এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে পুলিশ। ওই ভিডিওতে নিহত আতহারকে চোর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের এ পদক্ষেপে নিহতের পরিবার, স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এটি এক ধরনের ‘মৃত্যুর পরও ভিকটিমকে দোষারোপ’ করার চেষ্টা। পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত হামলায় গত ৫ ডিসেম্বর রাতে আতহারকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি পরে মারা যান। এ হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী রাজনৈতিক নেতারাও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দোষীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনের নাম এফআইআরে উল্লেখ রয়েছে এবং ছয়জন অজ্ঞাতনামা। তবে এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া প্রায় ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও। এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ভিডিওটি ‘চুরির অভিযোগের দিক’ থেকে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ‘একটি ছোট ভিডিও সামনে এসেছে। আমরা সব দিক যাচাই করছি’,- বলেন ওই কর্মকর্তা। নিহতের স্ত্রী শাবনাম, যিনি ৬ ডিসেম্বর এফআইআর দায়ের করেন, এ তদন্ত পদ্ধতির তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তার অভিযোগ, প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের বদলে পুলিশ নিহতকেই দোষী প্রমাণের চেষ্টা করছে। পরিবারের দাবি, আতহার ছিলেন একজন দরিদ্র কিন্তু সৎ হকার। তিনি আশপাশের গ্রামে ঘুরে ঘুরে সংসারের সামগ্রী বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এক প্রতিবেশী বলেন, ‘তিনি গরিব ছিলেন, কিন্তু চোর নন। আইন নয়, উগ্র হিন্দু জনতাই তার ভাগ্য নির্ধারণ করেছে।’ পরিবার আরো জানায়, মৃত্যুর আগে আতহার হামলার ভয়াবহ বর্ণনা দিয়ে গেছেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাকে বিবস্ত্র করে ধর্ম সম্পর্কে প্রশ্ন করে, গরম লোহার রড দিয়ে শরীরে দগ্ধ করে এবং প্লাস দিয়ে কানের একটি অংশ কেটে দেয়। পুলিশ বলছে, তদন্ত এখনো চলমান। এদিকে আতহারের পরিবার ও মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা দাবি জানিয়েছেন, তদন্ত যেন নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গত হয় এবং নিহতের ওপর দায় চাপানোর পরিবর্তে কিলিংয়ের জন্য দায়ীদের কঠোরভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা হয়। মাকতুব মিডিয়া।

বৈশ্বিক বাণিজ্যে জটিলতা আরো বাড়বে নতুন বছরে
মুক্ত বাণিজ্যের জন্য ২০২৫ সাল ছিল বেশ কঠিন। গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক শুল্কারোপ করলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধাক্কা লাগে। মিত্র-প্রতিদ্বন্দ্বী সবার ওপরই শুল্কারোপ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার অবশিষ্ট কাঠামো কার্যত ভেঙে পড়ে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা ডব্লিউটিওর দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়, আর যুক্তরাষ্ট্র যে আর এ ব্যবস্থার অভিভাবক নয়, সেটিও নিশ্চিত হয়ে যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র শতাব্দীর মধ্যে সর্বোচ্চ গড় শুল্কারোপ করলেও বৈশ্বিক বাণিজ্য পুরোপুরি থেমে যায়নি। অক্টোবর মাসে ডব্লিউটিও ২০২৫ সালে পণ্য বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ২ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত করে, যা বছরের শুরুতে ছিল মাত্র ০ দশমিক ৯ শতাংশ। রপ্তানিকারকরা দ্রুত মানিয়ে নিতে শুরু করেছে। ট্রাম্পের শুল্কের প্রধান লক্ষ্য চীন হলেও ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে দেশটির রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ছয় শতাংশ বেড়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ১৫ শতাংশের বেশি কমেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নে তা বেড়েছে প্রায় আট শতাংশ, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানে এক-ষষ্ঠাংশ এবং আফ্রিকায় প্রায় এক-চতুর্থাংশ। চীন তার শিল্পপণ্যের উদ্বৃত্ত অন্য বাজারে ঘুরিয়ে দিচ্ছে। চীনের পথ ধরে অন্য দেশগুলোও নিজেদের রপ্তানি গন্তব্য বদলাচ্ছে। ভিয়েতনাম ইউরোপে আরও বেশি কৃষিপণ্য পাঠাচ্ছে, ভারত উপসাগরীয় দেশগুলোয় বস্ত্র রপ্তানি বাড়াচ্ছে, আর ব্রাজিল চীনে আরও বেশি গরুর মাংস বিক্রি করছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ অভিযোজনেরও সীমা আছে। ২০২৬ সালে বৈশ্বিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কপ্রাচীর এবং চীনের শিল্প উৎপাদনের অতিরিক্ত জোগানের বিপরীতে বাকি বিশ্ব কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, তার ওপর। অনেক দেশের কাছে সুরক্ষাবাদই এখন সবচেয়ে সহজ পথ হয়ে উঠছে। ট্রাম্পের সন্তুষ্টি ধরে রাখতে মেক্সিকো এরই মধ্যে চীনা গাড়ির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজার বন্ধ হলে ইউরোপে সরিয়ে আনা পণ্যের ঢল নামাতে পারে। তাই তারা ইস্পাত কোটা প্রায় অর্ধেকে নামানো এবং শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশও চীনা পণ্যের চাপ থেকে স্থানীয় শিল্প রক্ষার উপায় খুঁজছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদার বিকল্প বাজার খুঁজতে গিয়ে বাণিজ্য কূটনীতির নতুন রূপ নিচ্ছে।
ট্রাম্পের শুল্কনীতির পর অনেক দেশ দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে চাইছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদি বাজার নিশ্চিত করা যায়। এক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সবচেয়ে সক্রিয়। ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পরপরই ইইউ ২৫ বছর ঝুলে থাকা মারকোসুর (দক্ষিণ আমেরিকান জোট) জোটের সঙ্গে চুক্তি করে, যদিও তা এখনো অনুমোদিত হয়নি। ইইউ ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গেও চুক্তি চূড়ান্ত করেছে এবং ২০২৬ সালের শুরুতে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে চুক্তির আশা করছে। ব্রাজিল কানাডার সঙ্গে আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করেছে, জাপানের সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে এবং ২০২৬ সালে মেক্সিকোর সঙ্গে চুক্তির প্রত্যাশা করছে। কানাডা ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে চুক্তি সই করেছে এবং আসিয়ানের সঙ্গে আলোচনা শেষ করতে চায় আগামী বছরে। দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পাশাপাশি নিয়মভিত্তিক বাণিজ্যব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার চেষ্টাও চলছে। ডব্লিউটিও দুর্বল হলেও এখনো পুরোপুরি অচল হয়নি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও এর কিছু অংশ বাঁচিয়ে রাখতে আগ্রহ দেখাচ্ছে- ডিজিটাল রপ্তানিতে শুল্ক না আরোপের স্থগিতাদেশ বাড়ানো এবং একজন রাষ্ট্রদূত নিয়োগের চেষ্টা তার উদাহরণ। ছোট অর্থনীতির দেশগুলো মামলা দায়ের করছে এবং সংস্কারের দাবি জানাচ্ছে। চীন উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ব্রাজিল থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত বহু দেশ ডব্লিউটিওকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে। তবে সংস্কার হবে ধীরগতির। বিশ্লেষকদের মতে, নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার এখন একজন শক্তিশালী অভিভাবক দরকার। প্রশ্ন হলো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কি সেই ভূমিকা নেবে। কেউ কেউ প্রস্তাব দিয়েছেন, ইইউকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় বাণিজ্য চুক্তি সিপিটিপিপির সঙ্গে যুক্ত করার। এ জোটে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চিলি, জাপান ও মেক্সিকোসহ ১২টি দেশ রয়েছে, যাদের সম্মিলিত অর্থনীতি বৈশ্বিক জিডিপির ১৪ শতাংশ। তবে এমন বৃহৎ জোট গঠনের সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিভাজন আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে মুক্ত ও নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টাও চলতে থাকবে। দ্য ইকোনমিস্ট।

মিশর-ইসরাইল গ্যাস চুক্তি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন : জাতিসংঘ
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে তেলআবিবের গণহত্যার যুদ্ধের মধ্যে ইসরাইল ও মিশরের মধ্যে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের গ্যাস চুক্তির পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। এক্স অ্যাকাউন্টের এক পোস্টে আলবানিজ বলেছেন, মিশরের ইসরাইল থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের গ্যাস অধিগ্রহণ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে, যার মধ্যে ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) কর্তৃক জারি করা পরামর্শমূলক মতামতও রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ফিলিস্তিনের জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যামূলক যুদ্ধের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থনের একটি ‘অবিশ্বাস্য’ ইঙ্গিত এই চুক্তি। রাষ্ট্রগুলোকে মানবতার ওপর মুনাফাকে স্থান দেয়া বন্ধ করতে হবে। সম্প্রতি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মিসরের সাথে ৩৪.৭ বিলিয়ন ডলারের প্রাকৃতিক গ্যাস চুক্তি অনুমোদন করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, রফতানি চুক্তিটি ইসরাইলের ‘গুরুত্বপূর্ণ’ চাহিদা পূরণ করবে। এক ভিডিও বিবৃতিতে নেতানিয়াহু এবং ইসরাইলি জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, ৩৪.৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির ১৮ বিলিয়ন ডলার ইসরাইলের ‘জনসাধারণের কোষাগারে’ যাবে। এই চুক্তির আওতায় প্রথম চার বছরে প্রতি বছর ১৫৫ মিলিয়ন ডলার সরকারকে দেয়া হবে। ২০৩৩ সালের মধ্যে এটি ১.৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার আশা করা হয়েছিল। ইসরাইল যখন ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব ভূমি এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর সার্বভৌমত্ব অস্বীকার করছে সে সময় এ গ্যাস চুক্তিটি করার খবর এলো। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিচ্ছেন, ইসরাইলের সাথে মিশরের নতুন গ্যাস চুক্তিকে এ অঞ্চলে কৌশলগত ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। তবে কায়রো জোর দিয়ে দাবি করছে, এ চুক্তিটি একটি বিশুদ্ধ বাণিজ্যিক ব্যবস্থা এবং এই চুক্তির কোনো রাজনৈতিক মাত্রা নেই। ২০২৩ সালের অক্টোবরে যখন ইসরাইল অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গণহত্যা যুদ্ধ শুরু করে, তখন থেকে গাজায় কমপক্ষে ৭০ হাজার ৯২৫ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজার ১৮৫ জনের বেশি আহত হয়েছে। পার্সটুডে।

বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় চালু করতে যাচ্ছে জাপান
জাপান বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কাশিওয়াজাকি-কারিওয়ায় পুনরায় কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। গত ২২ ডিসেম্বর সোমবার নিগাতার স্থানীয় সরকার কর্তৃক এক ভোটে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির আংশিক পুনঃসূচনা সবুজ সংকেত পেয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, জনসাধারণের বিরোধিতা সত্ত্বেও ফুকুশিমা বিপর্যয়ের পর ৫৪টি চুল্লি বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এখন ১৫ বছর পর ওই নীতি পরিবর্তন করে জাপান নির্গমন কমাতে বেশ কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনা পুনরায় চালু করেছে। নিগাতা প্রিফেকচারের অ্যাসেম্বলি গভর্নর হিদেয়ো হানাজুমির ওপর আস্থা ভোটে পাস করে। তিনি গত মাসে পুনঃসূচনাকে সমর্থন করেছিলেন। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আবারো কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম হয়েছিল। ২০১১ সালে ভূমিকম্প ও সুনামির পর ফুকুশিমায় তিনবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট জাপানের পারমাণবিক শক্তি অবকাঠামোর ওপর আস্থা নষ্ট করে দেয়। তবে আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভর করার পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ব্যয় জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচিকে কিছু বন্ধ বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুনরায় চালু করার পক্ষে সমর্থন করতে বাধ্য করেছে। দেশে এখনো চালু থাকা ৩৩টি পারমাণবিক কেন্দ্রের মধ্যে চৌদ্দটি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। তবে কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া হলো টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টিইপিসিও) পরিচালিত প্রথম চুল্লি, যা ফুকুশিমা কেন্দ্র পরিচালনা করতো। জাপানের পাবলিক ব্রডকাস্টার এনএইচকে জানিয়েছে, টিইপিসিও ২০ জানুয়ারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাতটি চুল্লির মধ্যে প্রথমটি পুনরায় সক্রিয় করার কথা বিবেচনা করছে। জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় অনুমান করেছে, প্রথম চুল্লিটিই টোকিও অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ২ শতাংশ বাড়িয়ে দিতে পারে। আল-জাজিরা।

তুষারপাতের মতো বিরল দৃশ্য দেখল সৌদি আরব
তুষারপাতের মতো বিরল ঘটনার সাক্ষী হলো মরুর দেশ সৌদি আরব। বরফের চাদরে ঢাকা পড়েছে উত্তরাঞ্চলীয় বহু এলাকা। তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে। তুষারাবৃত পর্বতের একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, যা রীতিমতো ভাইরাল। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ায় দুর্লভ এ ঘটনার সাক্ষী হয়েছে সৌদি আরব; ব্যাখ্যা আবহাওয়া বিভাগের। তপ্ত বালুরাশি আর ধু-ধু মরুভূমির জন্য পরিচিত মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব কিন্তু সেই মরুর বুকজুড়ে শ্বেতশুভ্র তুষার। যেন কল্পরাজ্যের কোনো চিত্র ধরা দিয়েছে বাস্তবতায়। সৌদিতে তুষারপাতের একাধিক ভিডিও ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিরল এ ঘটনা দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় তাবুক ও হাইল প্রদেশের। অঞ্চলটির জর্ডান সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকাগুলোয় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমেছে। তুষারপাত ছাড়াও উত্তর সৌদি আরবের কিছু অংশ তীব্র বৃষ্টিপাতের সম্মুখীন হয়। এছাড়া রিয়াদের উত্তরাঞ্চলেও দেখা দেয় বৈরি আবহাওয়া। এসব ঘটনাকে একেবারেই বিরল এবং অঞ্চলটির কয়েক দশকের ইতিহাসে প্রথম বলছেন বাসিন্দারা। কয়েকদিন আগেই পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে শৈত্যপ্রবাহ ও তুষারপাতের পূর্বাভাস দিয়েছিলো সৌদির আবহাওয়া বিভাগ। আবহাওয়াবিদদের দাবি- পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের কারণেই দেখা মিলেছে ভারি বৃষ্টি ও তুষারপাতের। আরব নিউজ।

ইসলাম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য তুলসী গ্যাবার্ডের
মার্কিন ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্সের প্রধান তুলসী গ্যাবার্ড এবার ইসলাম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইসলামবাদ’, যাকে তিনি ইসলামী বিশ্বাস থেকে আলাদা একটি রাজনৈতিক আদর্শ হিসাবে বর্ণনা করেছেন, আমেরিকান স্বাধীনতার ভিত্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গত রোববার (২১ ডিসেম্বর) এক সমাবেশে তিনি একে ‘ইসলামবাদী আদর্শ’ হিসাবে বর্ণনা করে এর তীব্র সমালোচনা করেছেন, সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য হুমকিস্বরূপ। দেশের কিছু অংশে উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে গ্যাবার্ড দাবি করেছেন যে আইনি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ইসলামী নীতি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চলছে। ‘প্যাটারসন, নিউ জার্সির নিজেদেরকে প্রথম মুসলিম শহর হিসেবে দাবি করতে পেরে গর্বিত। তারা আইন বা সহিংসতার মাধ্যমে মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এ ইসলামী নীতি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে,’ তিনি আরও বলেন যে একই রকম প্রবণতা অন্যত্র দৃশ্যমান। ‘হিউস্টনের মতো জায়গায় ইতোমধ্যেই এটি চলছে। এটি এমন কিছু নয়, যা সম্ভবত ঘটতে পারে। এটি ইতোমধ্যেই এখানে, আমাদের সীমানার মধ্যে ঘটছে,’ তিনি বলেন। গ্যাবার্ড ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ইসলামবাদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরেন, পরেরটিকে একটি রাজনৈতিক মতবাদ হিসেবে বর্ণনা করেন যা ব্যক্তি স্বাধীনতাকে প্রত্যাখ্যান করে। ‘মূল কথা হলো যখন আমরা ইসলামবাদের হুমকির কথা বলি, তখন ব্যক্তি স্বাধীনতা বা স্বাধীনতা বলে কিছু নেই,’ তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের জাতির স্বাধীনতার ভিত্তির সাথে মৌলিকভাবে অসঙ্গত।’ তিনি যুক্তি দেন যে মার্কিন ব্যবস্থা এ বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি যে স্বাধীনতা সহজাত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত নয়। ‘যখন আমরা বুঝতে পারি যে আমাদের স্বাধীনতা ঈশ্বরের কাছ থেকে আসে এবং অন্য কেউ নয়, তখন আমরা এই ইসলামী আদর্শের হুমকির গুরুতরতা বুঝতে পারি,’ গ্যাবার্ড বলেন, এ ধরনের মতাদর্শ এ নীতিকে অস্বীকার করে। গ্যাবার্ডের মন্তব্যের ক্লিপগুলো ব্যাপকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা হয়েছে, যা নিয়ে প্রচণ্ড সমালোচনা হচ্ছে। তবে অনেকেই তার বক্তব্যকে সমর্থন দিয়েছেন। সমর্থকরা তাকে জাতীয় নিরাপত্তা এবং সাংবিধানিক উদ্বেগ হিসেবে খোলাখুলিভাবে সম্বোধন করার জন্য প্রশংসা করেছেন; অন্যদিকে সমালোচকরা তাকে এমন ব্যাপক সাধারণীকরণ করার অভিযোগ করেছেন, যা মুসলিম সম্প্রদায়কে কলঙ্কিত করার ঝুঁকি তৈরি করে। গ্যাবার্ড পূর্বে বলেছেন যে তার সমালোচনা রাজনৈতিক ইসলাম এবং চরমপন্থা নিয়ে, ধর্ম হিসেবে ইসলামকে বা ব্যক্তি হিসেবে মুসলমানদের নিয়ে নয়। ইন্ডিয়া টুডে।

পুনরায় গাজা যুদ্ধ শুরু করতে চান নেতানিয়াহু
গাজা যুদ্ধে যুদ্ধবিরতি সুসংহত করার এবং এলাকা পুনর্নির্মাণের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ইসরাইলি এক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরাইলি কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টা উপেক্ষা করে গাজায় পুনরায় বৃহৎ পরিসরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়। ইসরাইলি কর্মকর্তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তারা গাজায় একটি বৃহৎ পরিসরে সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করতে চায়, যা বাস্তবে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টাকে অবজ্ঞা করার মতো পদক্ষেপ বলে বিবেচিত হয়। চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার জন্য মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টার মধ্যে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী সপ্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করার এবং কথা বলার জন্য ফ্লোরিডার মিয়ামিতে যাওয়ার কথা রয়েছে। নেতানিয়াহু গত ১৮ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) নিরাপত্তা ও সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে একটি বৈঠক করেন, যেখানে গাজায় পুনঃপ্রবেশ এবং বৃহৎ আকারের আক্রমণ পুনরায় শুরু করার জন্য প্রস্তুতি নেয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়া হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলের মূল্যায়ন হলো ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতি স্থিতিশীল করতে এবং গাজাকে সামরিকীকরণের জন্য একটি বহুজাতিক বাহিনী গঠন করতে অক্ষম। অথচ সামরিক আক্রমণ বন্ধের বিকল্প ও একমাত্র সমাধান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল বহুজাতিক বাহিনী গঠন। ইসরাইলি অর্থমন্ত্রী বেটজালেল স্মোট্রিচ আরো বলেন, নির্বাচনের আগে ইসরাইল সম্ভবত গাজা এবং লেবাননে নতুন করে সামরিক অভিযান চালাতে বাধ্য হবে এবং বর্তমান যুদ্ধবিরতি দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী নাও হতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ হুইটক মিসর, কাতার এবং তুরস্কের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকের পর বলেছেন দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য সকল পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন। পার্সটুডে।

বাড়িতে সাজাভোগের আবেদন প্রত্যাখ্যান
মালয়েশিয়ার একটি আদালত দুর্নীতির দায়ে কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বাকি সাজা তার বাড়িতে কাটানোর আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। আদালতের মতে, এ বিষয়ে যে রাজকীয় আদেশের কথা বলা হচ্ছে, তা বৈধ নয়। গত সোমবার (২২ ডিসেম্বর) কুয়ালালামপুর হাইকোর্ট এ রায় দিয়েছে। হাইকোর্টের এ সিদ্ধান্ত নাজিবের জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা হিসেবে এসেছে। তিনি বহু বিলিয়ন ডলারের একএমডিবি কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার দায়ে ২০২২ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। ৭২ বছর বয়সী নাজিব মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষকে রাজকীয় আদেশ নিশ্চিত করতে এবং কার্যকর করতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, গত বছর মালয়েশিয়ার সাবেক রাজার দেয়া ক্ষমার অংশ হিসেবে একটি রাজকীয় আদেশ জারি হয়েছিল। ওই আদেশ অনুযায়ী তিনি কারাগারের বাইরে, নিজ বাড়িতে থেকে বাকি সাজা ভোগের অধিকার পান। মালয়েশিয়ায় রাজা মূলত আনুষ্ঠানিক ভূমিকা পালন করেন। তবে তিনি সংবিধানের প্রদত্ত বিবেচনামূলক ক্ষমতার অংশ হিসেবে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ক্ষমা করতে পারেন। বিচারক অ্যালিস লক বলেন, আদেশের অস্তিত্ব নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই, তবে আদেশটি আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এটি সংবিধান অনুসারে দেশের ক্ষমা পর্ষদের পরামর্শক্রমে করা হয়নি। মালয়েশিয়ার শাসকরা তাদের বিবেচনার ভিত্তিতে ক্ষমা জারি করার অনুমতি পেলেও তাদের ক্ষমতা সীমাহীন নয়। তিনি আরো বলেন, ‘আদালত রায় দিয়েছে, রাজা ক্ষমা পর্ষদের বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে গৃহবন্দীর আদেশ মঞ্জুর করতে পারেন না। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমি মনে করি, গৃহবন্দী আদেশ কার্যকর করা সম্ভব নয়। মালয়েশিয়ায় এ ধরনের ব্যবস্থার কোনো আইনি বিধান নেই।’ ২০০৯ সালে রাষ্ট্রীয় তহবিল ১এমডিবি থেকে প্রায় ২.২৮ বিলিয়ন রিঙ্গিত (৫৫৪ মিলিয়ন ডলার) হাতিয়ে নেয়ার জন্য নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের চারটি অভিযোগ ও অর্থ পাচারের ২১টি অভিযোগ রয়েছে। আর্থিক কেলেঙ্কারির সাথে সম্পর্কিত একটি পৃথক মামলায় নাজিব এ সপ্তাহে আরেকটি রায়ের মুখোমুখি হচ্ছেন। আল-জাজিরা।

পাকিস্তানজুড়ে আন্দোলনের ডাক ইমরান খানের
তোশাখানা মামলায় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। এর প্রতিবাদে দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তিনি। এছাড়া ইসলামাবাদ হাইকোর্টে এ রায়কে চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। কারাগারে থাকায় ইমরান খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সরাসরি ব্যবহার করতে পারেন না। তবে এক্সে তার আইনজীবীর তাদের কথোপকথনের বিবরণ প্রকাশ করেছেন। এতে ইমরান খান বলেছেন, ‘আমি খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিকে রাজপথে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে একটি বার্তা পাঠিয়েছি। সমগ্র জাতিকে তার অধিকারের জন্য জেগে উঠতে হবে।’ ইমরান খান বলেন, এ মামলায় তার সাজার বিষয়টি অবাক করার মতো কিছু না। তবে তিনি তার আইনি দলকে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যেতে বলেছেন। তিনি আরো বলেন, ‘গত তিন বছরের ভিত্তিহীন সিদ্ধান্ত ও রায়ের মতো তোশাখানা-২ এর রায়ও আমার কাছে নতুন কিছু নয়। বিচারক কোনো প্রমাণ ছাড়াই এবং আইনি প্রয়োজনীয়তা পূরণ না করেই তাড়াহুড়ো করে এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।’ পিটিআই প্রধান বলেন, আইনের শ্রেষ্ঠত্ব ও সংবিধান পুনরুদ্ধারের জন্য ইনসাফ আইনজীবী ফোরাম এবং আইনজীবী সম্প্রদায়ের ‘সামনে এগিয়ে আসা’ অনিবার্য। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এদিকে পিটিআই এক বিবৃতিতে এ রায়কে ‘অসাংবিধানিক, অবৈধ, বিদ্বেষপূর্ণ ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের সবচেয়ে খারাপ রূপ এবং নির্যাতনের একটি নিকৃষ্টতম উদাহরণ’ বলে অভিহিত করেছে। পিটিআই নেতারা অভিযোগ করেন, এ সাজা কেবল ইমরান খানের কারাবাসের মেয়াদ বাড়ানোর এবং একটি ‘ভয়ঙ্কর শাসক চক্র’কে সাময়িক স্বস্তি দেয়ার প্রচেষ্টা। তারা বলেন, পাকিস্তানে আইনের শাসন সমাহিত করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিশোধ একটি ‘অধীনস্থ’ বিচার বিভাগের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ডন।

মার্কিন লুকাস ড্রোন ইরানি শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের নকল
মার্কিন ম্যাগাজিন ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের লুকাস ড্রোনকে ইরানি শাহেদ ড্রোনের নকল বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এতদিন গর্বভরে বলতো, টেকনোলজিতে তারাই সবচেয়ে অগ্রসর দেশ, অন্যরা তাদের অনুসরণ করে চলে। সম্প্রতি এমন এক বিস্ফোরক তথ্য পাওয়া গেছে, যাতে বাস্তবতা দেখা গেছে ভিন্ন রকম। বরং প্রমাণিত হয়েছে, টেকনোলজির একাধিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাপিয়ে গেছে অন্যরা। বিশেষ করে ড্রোন শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অন্যদের আবিষ্কার সূত্র নকল করারও প্রমাণ পাওয়া গেছে। সূত্রটি জানিয়েছে, ইরানের ড্রোন প্রযুক্তি নকল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে স্বল্প খরচের কার্যকর ড্রোনের সূত্রগুলো তাদের থেকে নেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটির লেখক ও পত্রিকাটির নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পাদক ব্র্যান্ডন ওয়েইচার্ট আক্ষেপ করে বলেছেন, যেখানে চীন, রাশিয়া, তুরস্ক ও ইউক্রেনের মতো শত্রু ও মিত্র দেশগুলো নতুন আবিষ্কারের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র কেবল নিজের অতীত কৃতিত্বের ওপর সন্তুষ্ট থাকছে। এরপর তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বল্পব্যয়ের একটি ড্রোন আছে মেরিন কর্পস ‘লুকাস’ নামে। এটি তাদের নিজস্ব আবিষ্কার নয়। বরং এটি হলো ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোনেরই কার্বন কপি।

নাইজেরিয়ায় মুক্তি পেল অপহৃত ১৩০ শিক্ষার্থী
নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলের নায়েজার প্রদেশে গণঅপহরণের শিকার ক্যাথলিক স্কুলের ১৩০ স্কুলশিশু ও বেশকিছু কর্মীদের মুক্তি দেয়া হয়েছে। গত সোমবার (২২ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ এ তথ্য জানায়। গত রোববার (২১ ডিসেম্বর) এ ঘোষণা দেয় দেশটির প্রশাসন। জানিয়েছে, এখন আর বন্দিদশায় নেই কেউ। গেলো নভেম্বরে, সশস্ত্র বন্দুকধারীরা একটি ক্যাথলিক স্কুলে হানা দেয়। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিল ৩১৫ শিক্ষার্থী ও স্কুল কর্মীরা। তবে চলতি মাসের শুরুতে ১০০ জনকে মুক্তি দেয়া হয়। তবে আসলেই সবাই মুক্ত হয়েছে কিনা তা নিয়ে এখনো রয়ে গেছে ধোঁয়াশা। কারণ কয়জন অপহরণের শিকার হয়েছিল তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার সময়ে অনেকেই পালিয়ে গিয়েছিল। আর অনেকের বাড়ি প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় তাদের খোঁজ নেয়া সম্ভব হয়নি। তাই ধারণা করা হচ্ছে, দুই দফায় সবাইকেই মুক্তি দেয়া হয়েছে। এটি দেশটির উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থানে লক্ষ্যভিত্তিক হামলার সর্বশেষ ঘটনা। নভেম্বরের আগে কয়েকদিনের মধ্যে অন্য কিছু স্কুল ও চার্চে অপহরণ ও হত্যা ঘটেছিল। বিবিসি।

৪০০ বছরের ঐতিহ্যের সমাপ্তি
ডেনমার্কে ৪০০ বছরের পুরনো চিঠি বিলির ঐতিহ্য শেষ হওয়ার পথে। দেশটিতে চিঠি বিতরণ শেষ হবে ৩০ ডিসেম্বর এবং এর মধ্য দিয়ে বন্ধ হয়ে যাবে মানুষের দ্বারে চিঠি পৌঁছানোর দীর্ঘ ইতিহাস। পোস্টনর্ড কোম্পানি জানিয়েছে, ডিজিটালাইজেশনের কারণে চিঠির চাহিদা ব্যাপকভাবে কমেছে। ডেনমার্কের ডাক বিভাগ ২০০৯ সালে সুইডেনের সঙ্গে একীভূত হয়ে পোস্টনর্ড কোম্পানি গঠন করেছিল। কোম্পানিটি জানিয়েছে, চিঠি বিতরণ বন্ধের ফলে ১,৫০০ কর্মী ছাঁটাই হবে এবং রাস্তা থেকে ১,৫০০টি লাল পোস্টবক্স সরিয়ে ফেলা হবে। পোস্টনর্ডের দাবি, দেশটি বিশ্বের অন্যতম ‘ডিজিটাল দেশ’, যেখানে অনলাইনে কেনাকাটার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই তারা এখন চিঠির পরিবর্তে পার্সেল বিলির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। ইতোমধ্যেই এক হাজার পোস্টবক্স সরিয়ে নিলে তা নিলামে মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। জানুয়ারি মাসে আরও ২০০টি পোস্টবক্স নিলামে বিক্রি করা হবে। পোস্টনর্ড জানিয়েছে, সুইডেনে তারা এখনো চিঠি বিলি করবে এবং ডেনমার্কের গ্রাহকদের অব্যবহৃত স্ট্যাম্পের টাকা ফেরত দেবে। এছাড়া ডেনমার্কের নাগরিকেরা চাইলে বেসরকারি কোম্পানি ‘ডাও’-র মাধ্যমে চিঠি পাঠাতে পারবেন। ডাও ১ জানুয়ারি থেকে তাদের সেবা বিস্তৃত করছে এবং আগামী বছর চিঠি বিতরণ সংখ্যা আট কোটিতে পৌঁছাবে। তবে গ্রাহকদের ডাও শপে গিয়ে চিঠি পোস্ট করতে হবে বা বাড়ি থেকে সংগ্রহের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। ডেনমার্কে রাষ্ট্রীয়ভাবে চিঠি বিতরণ ১৬২৪ সাল থেকে হয়ে আসছিল। তবে গত ২৫ বছরে চিঠি পাঠানোর হার ৯০ শতাংশের বেশি কমেছে। তবে নতুন প্রজন্মের মধ্যে আবারও চিঠি লেখার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। ডাওয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীরা অন্য বয়সীদের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ বেশি চিঠি পাঠাচ্ছে, যা চিঠি লেখার ঐতিহ্যকে নতুন করে ফিরিয়ে আনতে পারে। দ্য গার্ডিয়ান।

নৃশংসতার মধ্যে পালিয়ে বেড়াচ্ছে সুদানের মানুষ
অক্টোবরের শেষ দিকে সুদানের রাজধানী আল ফাশিরের পতন দেশটিতে প্রায় তিন বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের অন্যতম রক্তক্ষয়ী অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সুদানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াইরত আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) উত্তর দার্ফুরের শহরটি দখল করে নেয়, যার ফলে অঞ্চলটির প্রায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যায়। সহায়তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, শহরজুড়ে তাণ্ডব চালানোর সময় আরএসএফ ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতায় লিপ্ত হয়। আল ফাশিরের পতনের পর প্রায় ১ লাখ মানুষ সেখান থেকে পালিয়ে গেছে এবং ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আরএসএফের সহিংসতা থেকে কিছু মানুষ অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেও এল ফাশার পতনের পর পরই আল সউদি হাসপাতালে আরএসএফ সদস্যরা ৪শ’রও বেশি রোগীকে হত্যা করেছে। শহরটিতে প্রবেশ অসম্ভব হয়ে পড়ায় প্রতিবেদনকারীরা এখন তথ্যের জন্য পূর্ব শাদের শরণার্থী শিবিরগুলোয় নির্ভর করছেন, যেখানে দারফুরসহ সুদানের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত প্রায় ৯ লাখ সুদানী আশ্রয় নিয়েছে। শরণার্থী শিবিরগুলোর মধ্যে অন্যতম ওউর কাসোনি শিবির, যা ২০০৪ সালের দার্ফুর গণহত্যার পর স্থাপিত হয়, যখন বর্তমান আর.এস.এফ.-এর পূর্বসূরি জানজাউইদ বাহিনীর সহিংসতায় আল ফাশির থেকে হাজার হাজার মানুষ শাদে পালিয়ে আসে। বর্তমানে শিবিরটিতে ১ লাখের বেশি শরণার্থী রয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। তবে অতি প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত এ শিবিরটির পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ। এখানে বিশুদ্ধ পানি এবং ত্রাণের তীব্র সংকট রয়েছে এবং গত এক বছরে এর জনসংখ্যা দ্বিগুণ হলেও আন্তর্জাতিক সহায়তা সেই অনুপাতে বাড়েনি। শরণার্থীদের অন্যতম আলি ইসহাক ও তাঁর বন্ধু ইয়াহিয়া রিজিক। ইসহাক জানান, গত বছর একটি বিমান হামলায় তিনি একটি পা হারান; ওই হামলায় তাঁর পুরো পরিবার নিহত হয়। পালানোর স্মৃতি তুলে ধরে রিজিক বলেন, ‘আমাদের বাদুড়ের মতো শুধু রাতেই চলতে হয়। সকালে ধরতে পারলে তারা কচুকাটা করবে।’ এপি।

একঘরে হয়ে পড়ছেন জার্মান চ্যান্সেলর
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ ইউরোপে জমা রাখা রাশিয়ান সম্পদ জব্দ করার পক্ষে অবস্থান নেয়ার কারণে ইউরোপীয়দের মধ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। গত ২০ ডিসেম্বর শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জার্মানির প্রভাবশালী সংবাদপত্র বার্লিনারের জেইতুং। নিউজ আউটলেট অনুসারে, মার্জ শেষ অবধি রাশিয়ার সম্পদ জব্দ করার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরার এবং এমন পদক্ষেপের ঝুঁকি কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন। যাইহোক, গত সপ্তাহে ইউরোক্লিয়ার ডিপোজিটরি যেখানে অবরুদ্ধ রাশিয়ান সম্পদের বৃহত্তর অংশ ধারণ করা হয়েছে, সেখান থেকে ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক পর্যন্ত এ ধরনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আরও তীব্র হয়েছে। ‘এমনকি যখন রাশিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক ইউরোক্লিয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিল এবং ফিচ রেটিং এজেন্সির ইউরোক্লিয়ারের জন্য (রেটিংয়ের সম্ভাব্য পতন সম্পর্কে) একটি সতর্কতা জারি করেছিল, তারপরেও মার্জ রুশ সম্পদ জব্দ করার পক্ষে সাফাই গেয়ে চলেছিলেন,’ নিবন্ধটি ইঙ্গিত করে। ‘তথ্যগুলো প্রকাশ হওয়ার পরে মার্জ এবং (ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা) ভন ডার লেয়েন তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে যান। পরে অবশ্য ভন ডার লেয়েন মার্জের অবস্থান থেকে দূরে সরে যেতে থাকেন যখন এটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, জার্মান চ্যান্সেলর ইউরোপে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন,’ বার্লিনার জেইতুং বলেছে, ‘চ্যান্সেলন ভুল ‘সিদ্ধান্ত’ নিয়েছিলেন এবং এর জন্য মাশুলও দিচ্ছেন।’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা তথাকথিত ‘প্রতিদান ঋণ’ স্কিমের মাধ্যমে হিমায়িত রাশিয়ান সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে একমত হতে ব্যর্থ হয়েছে। পরিবর্তে ইইউ সদস্যদের যৌথ ঋণের মাধ্যমে ইউক্রেনকে ৯০ বিলিয়ন ইউরো সুদমুক্ত ঋণ বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তাস।

ভারতীয় নাবিকসহ জ্বালানি পাচারকারী জাহাজ জব্দ করল ইরান
পারস্য উপসাগরে চোরাই জ্বালানি বহনকারী একটি বিদেশি জাহাজ জব্দ করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ওই অঞ্চলে ভরতুকিযুক্ত ইরানি জ্বালানির অবৈধ কিন্তু লাভজনক ব্যবসা বন্ধে চলমান বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে জাহাজটি জব্দ করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী এসোয়াতিনির পতাকাযুক্ত একটি জাহাজ জব্দ করেছে। আটক জাহাজটি ৩ লাখ ৫০ হাজার লিটার চোরাই ডিজেল পরিবহন করছিল। আইআরজিসি নৌবাহিনীর দ্বিতীয় জোনের কমান্ডার জেনারেল হায়দার হুনারিয়ান জানান, আদালতের নির্দেশে এ অভিযান চালানো হয়েছে। জাহাজটি বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বুশেহর বন্দরে নিয়ে আসা হয়েছে এবং এর মালামাল খালাস করা হচ্ছে। হুনারিয়ান আরও জানান, অভিযানের সময় জাহাজের ১৩ জনের নাবিক দলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা ভারত এবং একটি প্রতিবেশী দেশের নাগরিক। পারস্য উপসাগরে ইরানি তেলজাত পণ্য পাচার রোধে ইরান বর্তমানে বেশ তৎপর। মূলত মোটর জ্বালানি জাতীয় এ পণ্যগুলো অবৈধভাবে পার্শ্ববর্তী আরব দেশগুলোতে পাচার করা হয়, যেখানে জ্বালানির দাম ইরানের তুলনায় ২০ গুণেরও বেশি। এর আগে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আইআরজিসি পারস্য উপসাগরে ইরানের আঞ্চলিক পানিসীমার বাইরে থেকে মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাযুক্ত একটি ট্যাংকার জব্দ করেছিল। পরবর্তী প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ট্যাংকারটি প্রায় ৩০,০০০ মেট্রিক টন ইরানি মালিকানাধীন পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহন করছিল। পণ্য খালাসের চার দিন পর ইরানি কর্তৃপক্ষ জাহাজটিকে মুক্তি দেয়। তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

পাকিস্তানে তীব্র ডলার সংকট
পাকিস্তানে খোলাবাজারে এখনো তীব্র ডলার সংকট চলছে। কর্তৃপক্ষের নানা উদ্যোগের পরও অনেক মানি এক্সচেঞ্জে ডলার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করা মানুষজন ও শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। শহরের বিভিন্ন এলাকার এক্সচেঞ্জ হাউস ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের কাছে পর্যাপ্ত ডলার নেই। অনেক এক্সচেঞ্জ হাউস একেবারেই ডলার বিক্রি বন্ধ রেখেছে, আবার কেউ কেউ দিনে সর্বোচ্চ ১০০ ডলার পর্যন্ত বিক্রি করছে। কেউ কেউ বলছেন, তারা কেবল যেটুকু ডলার কিনতে পারছেন, সেটুকুই বিক্রি করছেন। এছাড়া কিছু এক্সচেঞ্জ হাউসে শুধু পুরোনো নকশার ডলার নোট পাওয়া যাচ্ছে। এসব নোট অনেক দেশে সহজে গ্রহণ করা হয় না, ফলে বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য এগুলো তেমন কাজে আসছে না। ডলার না পেয়ে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে দেশে থেকেই অন্য বিদেশি মুদ্রা কিনছেন। এতে তারা খারাপ বিনিময় হারে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ডলার সংকটের প্রভাব শুধু ভ্রমণকারীদের ওপর নয়, শিক্ষার্থীরাও চরম সমস্যায় পড়েছেন। লাহোরের এক বাসিন্দা জানান, ভাই-বোনের পড়াশোনার খরচ পাঠাতে তিনি ১১টি এক্সচেঞ্জ হাউস ঘুরেও ডলার কিনতে পারেননি। অনেকে মনে করছেন, ডলার সংকটের পেছনে নতুন নিয়মকানুনও দায়ী। এর মধ্যে রয়েছে বায়োমেট্রিক যাচাই, মূল জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা এবং সম্প্রতি স্টেট ব্যাংকের নির্দেশ অনুযায়ী ডলার কিনে বিদেশি অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হলে চেক ব্যবহার করা। ডন অনলাইন।

গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান