মাছ ও সবজির মূল্য বেশি, কমছে না পেঁয়াজের দাম
২৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৬:৩৮
স্টাফ রিপোর্টার : কোনো কিছুর মূল্য বাড়লে আর কমছে না। এখন শীতের মৌসুম। এ সময় সবজির সরবরাহ থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে। কিন্তু ঢাকার বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেশি। ভরা মৌসুমে কেন সবজির মূল্য কমছে না, তার কোনো ব্যাখ্যা দিচ্ছে না সরকার। দোকানিরাও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো কথা বলতে পারছেন না। মানুষের রান্নার কাজে অতি নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজিখ্যাত পেঁয়াজের মূল্য হঠাৎ বাড়ানো হয়। কেজি ৭০ টাকার পেঁয়াজ এক সপ্তাহের ব্যবধানে মূল্য বেড়ে দাঁড়ায় ১১০ টাকা, কিন্তু আর কমার কোনো খবর নেই। কোনো ধরনের সংকট ছাড়াই কেন মূল্য বাড়ানো হলো, তারও কোনো ব্যাখ্যা নেই। মূল্য বাড়লে পেঁয়াজ আমদানির নজির থাকলেও সরকার চুপচাপ। ক্রেতারা মনে করছেন, অদৃশ্য স্বার্থে সরকার হাত-পা গুটিয়ে বসে আছে। দীর্ঘদিন ধরে বাজারে প্রায় সব ধরনের মাছ বিক্রি হচ্ছে উচ্চমূল্যে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ভোক্তারা অসহায় এদের এ অসহায়ত্ব দেখার কেউ নেই।
রাজধানীর বাজারগুলোয় মাছের দাম বাড়তি। খবর নিয়ে জানা গেছে, বাজারে চাষের রুই-কাতল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়। পাবদা ছোট সাইজের ৪০০ টাকা, মাঝারি সাইজের ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিং ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, সরপুঁটি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পুঁটি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, নাইলো টিকা ২২০ থেকে ২৮০ টাকা এবং পাঙাশ ও সিলভারকার্প ২০০ থেকে ২৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
সামুদ্রিক মাছের মধ্যে লইট্যা ২৫০-৩০০ টাকা। অথচ এই জাতের মাছের মূল্য সব সময়ই ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে ছিল। অন্যদিকে কোরাল ৭০০ থেকে ৯০০ এবং আইড় ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাগদা ও গলদা চিংড়ি প্রকারভেদে ৭৫০ থেকে ১,২০০ টাকার মধ্যে মিলছে। ইলিশের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। দুই কেজি ওজনের ২,৬০০ থেকে ৩,০০০ টাকা, এক কেজির ইলিশ ২,২০০ থেকে ২,৫০০ এবং ছোট জাটকা ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে মুরগি ও ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। যে কারণে ব্রয়লার মুরগির দোকানে ক্রেতাদের ভিড়ও তুলনামূলক বেশি। বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা, সোনালি ২৯০ থেকে ৩৩০ টাকা, লেয়ার ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাল ডিম ডজনপ্রতি ১২০ টাকা, সাদা ১২০ থেকে ১২৫ টাকা এবং হাঁসের ডিম ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে গরু-খাসির গোশতের বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। গরু গোশত কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৯৫০ টাকা এবং খাসির গোশত ১,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে প্রায় চার সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। রান্নাঘরের অতীব জরুরি পণ্যটির দাম এ সময়ের মধ্যে এক পর্যায়ে প্রতি কেজি ১৪০ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। এরপর সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা দাম স্বাভাবিক না হলে আমদানির হুঁশিয়ারি দেন। এর ২-৩ দিন পর অবশ্য দাম কিছুটা কমে ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে নেমে আসে। এই দাম এখনো স্থির রয়েছে। তবে, মাত্র চার সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যেত। সেই হিসেবে বাণিজ্য উপদেষ্টার হুঁশিয়ারির পরও দাম এখনো স্বাভাবিক হয়নি। তা সত্ত্বেও নেই কোনো আমদানির উদ্যোগ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী দুই-এক সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে দেশি নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়বে। এ মুহূর্তে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হলে দেশীয় চাষিরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। কেননা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম অনেক কম হওয়ায় দেশীয় পেঁয়াজেও বড় দরপতন হবে। এতে উৎপাদন খরচ মেটাতে না পেরে দেশীয় চাষিদের বড় লোকসান হতে পারে। এমনটা হলে দেশীয় চাষিরা পরবর্তীতে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাবে। তাই এ মুহূর্তে আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। তবে সরকার বাজার পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজন হলে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে কেজিপ্রতি ৮ রুপিতে (প্রায় ১২ টাকা) নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে পেঁয়াজের আমদানির অনুমোদন দিলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা লাভবান হবে। বিপরীতে ক্ষতি হবে দেশের কৃষকের। এ কারণে বাণিজ্য, কৃষি মন্ত্রণালয়সহ যৌথ কমিটির বৈঠকে আপাতত পেঁয়াজ আমদানি না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে আমদানি করা হবে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খবর নিয়ে জানা গেছে, বাজারে তিন ধরনের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। ছোট সাইজের প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১০০ টাকা, মাঝারি সাইজ ১১০ এবং এবং বড় সাইজের পেঁয়াজ ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে পাতাযুক্ত নতুন পেঁয়াজ দেখা গেছে। এ পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দামে।