বন্দর নিয়ে বিতর্ক

পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে বিদেশিদের


২৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৬:২৩

সোনার বাংলা রিপোর্ট : বন্দরগুলো হলো দেশের অর্থ-বাণিজ্য, আমদানি-রফতানি ও বিনিয়োগের দুয়ার। এ দুয়ারের অপারেটর দুর্বল ও দুর্নীতিবাজ হলে দেশের বারোটা বাজে। অন্তর্বর্তী সরকার এ দুয়ার শক্তিশালী করতে নজর দিয়েছে। কিন্তু বিতর্ক শুরু হয়েছে তারা বন্দর বিদেশিদের দিয়ে দিচ্ছেন। সরকার বলছে, দিয়ে দেয়া হচ্ছে না। পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে, পৃথিবীর সেরা আন্তর্জাতিকমানের বন্দর পরিচালনা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে; যারা পৃথিবীর বড় বড় বন্দরগুলো পরিচালনা করছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘একটি দেশ যেই সরকারকে নির্বাচিত করেনি, সেই সরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে না।’ চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ পরিচালনা এবং ঢাকার পানগাঁও নৌ-টার্মিনাল পরিচালনার ভার বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়া নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে গত ২৪ নভেম্বর সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে এ প্রতিক্রিয়া জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের জনগণের ওপর এসব সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রয়েছে। অথচ এমন একটি সরকার এসব কৌশলগত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যাদের গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট নেই। বন্দরের বিষয়ে সাম্প্রতিক দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তগুলো নিয়মিত কাজের (রুটিন ওয়ার্ক) অংশ নয়। এগুলো একটি জাতীয় সম্পদ নিয়ে কৌশলগত প্রতিশ্রুতি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বেঁধে ফেলার এসব সিদ্ধান্ত এমন একটি অন্তর্বর্তী সরকার নিয়েছে, যাদের কোনো ধরনের গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট নেই।
একদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি-সম্পর্কিত প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিটের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট আগামী ৪ ডিসেম্বর রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন। ওই মামলার শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল কী বলেছেন, তা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। ‘ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং তাদের (রিট আবেদনকারী) কাউন্সিল কিছুক্ষণ আগে ব্রিফ করেছেন, তারা বলেছেন, তারেক রহমান যেটা বলেছেন গতকালও ওনাদের কনসার্ন (উদ্বেগ) হবে যে রাজনৈতিক দল এসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিক, সেক্ষেত্রে যুক্তি খণ্ডাবেন কীভাবে’- এমন প্রশ্নে অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এটা ওনাদের সাবমিশন ওনারা বলেছেন। আমাদের কথা যদি পলিটিক্যাল গভর্নমেন্ট (রাজনৈতিক সরকার) যে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, এ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।’ চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তি সম্পর্কিত প্রক্রিয়া নিয়ে ওই রিটটি করা হয়েছিল। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আহসানুল করিম ও কায়সার কামাল শুনানিতে অংশ নেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক শুনানি করেন।
একটি সূত্রে প্রকাশ, বিশ্বের ১৩০টি দেশে বন্দর পরিচালনা করে এপি মোলার। দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড সেই স্থান দখলে নিতে ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ নিয়ে মাঠে নেমেছে। তারাও এখন বিশ্বের ৩০টি দেশে ১৪০টি বন্দর পরিচালনা করে। বন্দর কোনো ছেলেখেলা বিষয় নয়। এর সাথে একটি দেশের অর্থনীতি জড়িত। আমাদের চট্টগ্রাম বন্দর বিশাল এক সিন্ডিকেটের হাতে পণবন্দি, ফলে বন্দরের সক্ষমতা অনেক কম। কনটেইনার হ্যান্ডলিং স্লো। ড্রাফটিং লো। তাই ডিপি ওয়ার্ল্ড বা এপি মোলার অপারেটর হিসেবে আসলে; আমরা হব বিশ্বের সেরা পোর্ট অপারেটরদের একটি।
বিদেশিদের হাতে দেশের এনআইডি সার্ভার, দেশের ফিন্যান্সিয়াল সার্ভার, দেশের ইন্টারনেট গেটওয়েসহ দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল দায়িত্ব। ইভেন দেশের নেতারাও বিদেশিদের হাতেই আছে। কিন্তু বন্দর নিয়ে আপত্তির কারণ হচ্ছে; বিদেশি অপারেটর এলে শ্রমিক ইউনিয়ন, দুর্নীতিবাজ অফিসার, রাজনৈতিক নেতা, সিএন্ডএফ এজেন্টসহ বিশাল এক সিন্ডিকেট ধসে পড়বে। বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তর করতে বিদেশি অপারেটর দিয়ে চালালে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে ৫ গুণ, সময় কমবে চারগুণ, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে ১০গুণ। কিন্তু ভেঙে যাবে সিন্ডিকেট। যারা বন্দরকে পণবন্দি করে রেখেছে। দেশকে করে পণবন্দি রেখেছে। জাতিকে পণবন্দি করে রেখেছে। তারাই চায় না বন্দরের উন্নয়ন। দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক নেতাদের বন্দর উন্নয়নে এগিয়ে আসা উচিত। লুটেরা নেতারাই শুধু সিন্ডিকেটের পক্ষে থাকবে। কারণ দেশ, দেশের অর্থনীতি, দেশের জনগণের চেয়েও নিজেদের পকেটকে তারা বেশি ভালোবাসে।
সূত্রে প্রকাশ, এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনা এবং পানগাঁও আইসিটি পরিচালনায় দুই বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ডেনমার্কের এপি মোলার মায়ের্সক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস লালদিয়া ও সুইজারল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান মেডলগ এসএ পরিচালনা করবে পানগাঁও আইসিটি। বিদেশিদের দিয়ে বন্দর পরিচালনা নিয়ে নানামুখী সমালোচনার মধ্যে এ চুক্তি হলো। বন্দর ব্যবহারকারী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিজ্ঞ বিদেশি অপারেটররা বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনা করলে দেশ লাভবান হবে। তবে তা চুক্তির শর্তের ওপরও অনেকাংশে নির্ভর করছে।
সূত্র জানায়, অবৈধ দখলে থাকা লালদিয়া থেকে বসতি উচ্ছেদ করে তাতে বন্দরের জেটি নির্মাণের উপযোগী করা হয়। আর চট্টগ্রাম বন্দর নিজস্ব ১৫৬ কোটি টাকা অর্থায়নে পানগাঁও আইসিটি নির্মাণ করলেও ১০ বছর ধরে কার্যকর করা যায়নি।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ নভেম্বর সোমবার ঢাকার একটি হোটেলে আলাদা দুই অনুষ্ঠানে চুক্তি দুটি সই হয়। লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে চুক্তিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং এপিএম টার্মিনালসের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টেইন ভ্যান ডোঙ্গেন সই করেন। পানগাঁও আইসিটি নিয়ে করা চুক্তিতে সই করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও মেডলগ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম আনিসুল মিল্লাত।
যা আছে চুক্তিতে
চুক্তি অনুযায়ী, এপিএম টার্মিনালস চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ এবং পরিচালনায় ৩৩ বছরের জন্য দায়িত্ব পেয়েছে। এ সময়ের প্রথম তিন বছরে টার্মিনাল নির্মাণ ও পরবর্তী ৩০ বছর পরিচালনার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাবলিক-পার্টনারশিপের (পিপিপি) চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া চরে টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ৫৫ কোটি ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ছয় হাজার ৭শ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করবে এপিএম টার্মিনালস। চুক্তি স্বাক্ষরের দিনই সাইনিং মানি হিসেবে ২৫০ কোটি টাকা পেয়েছে বাংলাদেশ।
মোটকথা হলো, সরকার কীভাবে দিচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করবে। তবে লালদিয়া গ্লোবাল অপারেটরদের দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক। এতে বন্দরগুলো প্রযুক্তিনির্ভর হবে। দেশ এগিয়ে যাবে। ব্যবসায়ীরা সুবিধা পাবেন। বন্দর বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক সদস্য জাফর আলম চুক্তি অনুযায়ী লালদিয়া টার্মিনালে বছরে আট থেকে দশ লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা থাকবে। এর মধ্যে আট লাখ পর্যন্ত প্রতি টিইইউএসে বাংলাদেশ পাবে ২১ ডলার করে। এর চেয়ে বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হলে প্রতি টিইইউএসের জন্য ২৩ ডলার করে পাবে বাংলাদেশ।
রাজধানী ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জের পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনালটি (পিআইসিটি) ২২ বছর পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে মেডলগ এসএ। চুক্তি অনুযায়ী মেডলগ পানগাঁও টার্মিনালে মোট চার কোটি ডলার, যা বর্তমানে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৯০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। চুক্তি স্বাক্ষরের দিনই সাইনিং মানি হিসেবে ১৮ কোটি টাকা পেয়েছে বাংলাদেশ। জানা যায়, লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ২০২১ সালের জুনে বাংলাদেশের সঙ্গে ডেনমার্ক সরকারের জি টু জি সমঝোতা হয়। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিপিং কোম্পানি মায়ের্সক লাইন্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস। এপিএম টার্মিনালস বিশ্বের ৩৩টি দেশে ৬০টি টার্মিনাল ও বন্দর পরিচালনা করছে।
লালদিয়া ও পানগাঁও টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে বন্দর বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক সদস্য জাফর আলম বলেন, ‘বিশ্বের বড় বড় দেশের বন্দরগুলো পরিচালনা করছে গ্লোবাল অপারেটররা। ভারতের আটটি বড় বন্দরও পরিচালনা করে গ্লোবাল টার্মিনাল অপারেটররাই। আগে যখন প্রাইভেট বিনিয়োগ পাওয়া যেত না, তখন সরকার নিজের টাকায় বন্দর-টার্মিনাল এগুলো বানাতো। এখন বড় বড় বিনিয়োগ সরকারের করার সময় নেই।’
তিনি বলেন, ‘বিদেশি অপারেটর বলে কোনো কথা নেই। এগুলো গ্লোবাল অপারেটর। এপিএম টার্মিনাল ও একটি গ্লোবাল টার্মিনাল। এখন আশপাশের দেশ মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, চীন, ভারত, পাকিস্তান সব দেশের বন্দর ইন্টারন্যাশনাল টার্মিনাল অপারেটররাই অপারেশন করছে। এখন বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আমাদের বসে থাকার কোনো কারণ নেই।’এটি একটি ভালো উদ্যোগ। বিশেষ করে লালদিয়ায় শতভাগ বিনিয়োগকারী আসবে। বর্তমান বন্দরে বড় জাহাজ ঢুকতে পারে না। লালদিয়ার চরটি হলো কর্ণফুলী নদীর মোহনার দিকে। লালদিয়ায় টার্মিনাল হলে ১১ মিটার কিংবা তারও কিছু বেশি ড্রাফটের জাহাজ ঢুকতে পারবে। বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ এ বন্দর বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ‘মোটকথা হলো- সরকার কীভাবে দিচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করবে। তবে লালদিয়া গ্লোবাল অপারেটরদের দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক। এতে বন্দরগুলো প্রযুক্তিনির্ভর হবে। দেশ এগিয়ে যাবে। ব্যবসায়ীরা সুবিধা পাবেন।’
দুই টার্মিনালের চুক্তির বিষয়ে কথা হলে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ বলেন, ‘এটি একটি ভালো উদ্যোগ। বিশেষ করে লালদিয়ায় শতভাগ বিনিয়োগকারী আসবে। বর্তমান বন্দরে বড় জাহাজ ঢুকতে পারে না। লালদিয়ার চরটি হলো কর্ণফুলী নদীর মোহনার দিকে। লালদিয়ায় টার্মিনাল হলে ১১ মিটার কিংবা তারও কিছু বেশি ড্রাফটের জাহাজ ঢুকতে পারবে।’
‘ওখানে এপিএম টার্মিনাল জেটি বানালে একটি মডার্ন জেটি হবে। তারা (এপিএম) নিজেদের প্ল্যান অনুযায়ী করবে। বিশ্বে বন্দর পরিচালনায় তাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তারা অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে লালদিয়ায় টার্মিনাল নির্মাণ করবে। এতে অন্যরাও তাদের কাছ থেকে শিখতে পারবে।’
পানগাঁও টার্মিনাল পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর ব্যর্থ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পানগাঁও আইসিটিকে অপারেশন করে বন্দর সফল হতে পারেনি। কারণ বন্দরের তো নিজস্ব কনটেইনার নেই। এখন পানগাঁও সুইজারল্যান্ডের মেডলগ এসএকে দেওয়া হয়েছে। মেডলগ একটি আন্তর্জাতিক সুপরিচিত কোম্পানি। তারা (মেডলগ) তাদের টেকনোলজি, গবেষণা পানগাঁওয়ে কাজে লাগাবে। মেডলগের নিজস্ব যেসব কনটেইনার রয়েছে, সেগুলোও যদি তারা পানগাঁওয়ে হ্যান্ডেল করে, তাহলে টার্মিনালটি লাভজনক হয়ে উঠবে।’
তিনি বলেন, ‘এপিএম টার্মিনালস মায়ের্কস লাইন্সের প্রতিষ্ঠান। তাতে দেখা যাবে লালদিয়ায় শুধু মায়ের্কস লাইন্সের কনটেইনার হ্যান্ডেল হলেই অন্যদের কনটেইনার নামাতে হবে না। এতে বর্তমান বন্দরের মূল জেটির কনটেইনার জট আরও কমে যাবে। বিদেশি বিনিয়োগ এলে প্রতিযোগিতা বাড়বে। এতে কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জও কমে আসবে।’