সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
২০ নভেম্বর ২০২৫ ২১:০৮
জেন-জির আন্দোলনে উত্তাল মেক্সিকো
স্থানীয় সময় গত শনিবার (১৫ নভেম্বর) সহিংসতায় রূপ নেয়া এ আন্দোলনে ১৫০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছে; যাদের বেশিরভাগই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউমের সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নেমেছে হাজার হাজার মানুষ। এ সময় বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের বাসভবন ন্যাশনাল প্যালেস অবরুদ্ধ করলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে হামলা চালায় পুলিশ। ফলে ১২০ জনের মতো আহত হয়। তবে আহতদের মধ্যে পুলিশের সংখ্যাই বেশি বলে জানা গেছে। সূত্রটি আরো জানিয়েছে, বিক্ষোভটি প্রথমে জেনজির কিছু সদস্যের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। তবে এতে বিরোধীদলীয়রা জোরালো সমর্থন দিলে তা গতি লাভ করে। মেক্সিকো সিটির নিরাপত্তা প্রধান পাবলো ভাজকেজ বলেন, বিক্ষোভ সমাবেশটি প্রথমে শান্তভাবেই এগিয়ে চলছিল। কিন্তু একদল মুখোশধারী এসে সহিংসতা শুরু করে। তিনি জানিয়েছেন, এ সহিংসতায় ১০০ পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গার্ডিয়ান।
সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাশে থাকবে চীন
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে বেইজিং গেছেন। তার এ সফরে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার অঙ্গীকার করেছেন। শাইবানির এ সফরকে সিরিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিচ্ছিন্ন থাকার পর গত ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হলে নতুন ইসলামপন্থী নেতৃত্ব দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। গত সোমবার (১৭ নভেম্বর) ওয়াং ই বলেন, চীন সিরিয়াকে শান্তি প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে যুক্ত হতে সহায়তা করবে। তিনি আরো জানান, রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছার সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশ পুনর্গঠনের পরিকল্পনায়ও সহায়তা করবে বেইজিং। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিরিয়ার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার পথে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করতে চীন প্রস্তুত। ক্ষমতায় আসার পর সিরিয়ার নতুন নেতৃত্ব অতীতের সহিংসতা থেকে সরে এসে দেশে ও বিদেশে আরো সংযত ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা করছে। ২০১১ সালে আসাদ সরকারবিরোধী আন্দোলন দমন করতে চাইলে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এতে অনেক মানুষ নিহত এবং দেশের অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য হিসেবে চীন দীর্ঘদিন ধরে দামেস্ককে কূটনৈতিক সহযোগিতা করে আসছে। ২০২৩ সালে এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগ মুহূর্তে আসাদ চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সাথে বৈঠক করেন। সেটিই ছিল ২০০৪ সালের পর তার প্রথম চীন সফর। সে সময় সি সিরিয়ার সাথে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ ঘোষণা করেন এবং দুই দেশের সম্পর্ককে আন্তর্জাতিক পরিবর্তনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বলে উল্লেখ করেন। এএফপি।
মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হিন্দু চরমপন্থীদের মুক্তি দেওয়ার উদ্যোগ যোগী সরকারের
২০১৫ সালে মোহাম্মদ আখলাক হত্যাকাণ্ড মামলা তুলে নিতে যাচ্ছে উত্তরপ্রদেশের হিন্দুত্ববাদী যোগী সরকার। ২০১৫ সালে দাদরিতে হিন্দু চরমপন্থী গোরক্ষক দলের গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছিল আখলাকের। প্রায় এক দশক পর এ মামলায় অভিযুক্ত ১০ জনের বিরুদ্ধে আনা যাবতীয় অভিযোগ প্রত্যাহার করার পথে হাঁটল যোগী সরকার। উত্তরপ্রদেশের বিসাহাড়া গ্রামে বাড়িতে গরু জবাই করে রাখা হয়েছে এমনই গুজবে আখলাক ও তার ছেলে দানিশকে বাড়ি থেকে বের করে এনে বেধড়ক মারধর করা হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আখলাকের। গুরুতর আহত হয় তার ছেলে। এ হত্যাকাণ্ড সাড়া ফেলে দেয় গোটা ভারতে। পরবর্তী সময়ে দেশের নানা প্রান্তে ঘটে গোরক্ষার নামে এমন হত্যা। এ ঘটনায় একাধিক জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদের মধ্যে ছিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতা সঞ্জয় রানার ছেলে বিষ্ণু রানাও। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনসহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। তবে ১০ বছর পর এ মামলায় ভোলবদল করল যোগী সরকার। সম্প্রতি আদালতে সরকারের তরফে একটি আবেদন জানানো হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩২১ ধারায় মামলাটি প্রত্যাহার করতে চায় রাজ্য। জানা যাচ্ছে, গত ২৬ অক্টোবর রাজ্য সরকারের তরফে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি আসে সরকারি কৌঁসুলির কাছে। যেখানে বলা হয়, উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল লিখিত অনুমোদন দিয়েছে মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য। সরকারি চিঠির পর গত ১৫ অক্টোবর আদালতে রাজ্যসরকারের আবেদন জমা দেওয়া হয় সরকারি আইনজীবীর তরফে। আদালত অনুমতি দিলে প্রত্যাহার করা হবে মামলাটি। সিয়াসত ডেইলি।
তফসিল ঘোষণা করল নেপালের নির্বাচন কমিশন
নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরেই সেখানে কবে নির্বাচন হবে তা জানিয়েছিলেন সুশীলা কার্কি। আর এবার সেই দেশের সাধারণ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে দিল নেপালের নির্বাচন কমিশন। রবিবারই এই তফসিল জানানো হয়েছে। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নেপালে নির্বাচন হবে আগামী ৫ মার্চ। জানুয়ারি মাসে হবে মনোনয়ন পর্ব। মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নেপালের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সেখানে মনোনয়ন পত্র জমা নেওয়া হবে ২০ জানুয়ারি। সেই দিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে। ওইদিন বিকেলেই প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করে দেবে কমিশন। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা পরের দিনেই (২১ জানুয়ারি) জানাতে হবে। সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৩ জানুয়ারি। ওইদিনই বিকেলে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে নেপালের নির্বাচন কমিশন। তার পরে ৫ মার্চ সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। উল্লেখ্য, নেপালের সংসদে আছে ২৭৫টি আসন। এর মধ্যে ১৬৫ জন সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। বাকি ১১০ জনকে কোন দল কত আসন বা ভোট পেয়েছেন তার নিরিখে নির্বাচন করা হয়। প্রসঙ্গত, জেন জি আন্দোলনের জেরে সেপ্টেম্বর মাসে নেপালের কেপি ওলি শর্মার সরকারের পতন হয়। এরপরে নেপালের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে বেছে নেয় জেন জি। ১২ সেপ্টেম্বর শপথ নেন তিনি। শপথ নেওয়ার ৬ মাসের মধ্যেই নেপালে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেবে বলেও জানিয়েছিলেন সুশীলা কার্কি। তার শপথ গ্রহণ করার পরেই নেপালের প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হয়েছিল। আনন্দবাজার।
পাক-আফগান সীমান্ত সংঘাত প্রশমনে মধ্যস্থতায় আগ্রহী রাশিয়া
রাশিয়া পাকিস্তান-আফগানিস্তান উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং সীমান্তে সংঘাত রোধ করাই ক্রেমলিনের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এটি দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের জন্য কার্যকর সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করবে। রুশ মধ্যস্থতার প্রস্তাবটি এসেছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে চলমান উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে। গত ১৪ নভেম্বর শুক্রবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি টেলিফোনে কথা বলেন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। সীমান্তে উত্তেজনা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাশিয়া মনে করছে, কার্যকর মধ্যস্থতা টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হতে পারে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভার ১৪ নভেম্বর ক্রেমলিনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রাশিয়ার প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি আফগান-পাকিস্তান সীমান্তে কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। জাখারোভার মতে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অংশীদার হিসেবে ধরা হচ্ছে এবং সীমান্তে উত্তেজনা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক বিরোধের স্থায়ী সমাধান শুধুমাত্র সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সম্ভব বলে জোর দিয়েছে। দুই দেশকে সংযম দেখাতে, আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করতে এবং উত্তেজনা বাড়াতে পারে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় আমিরাতের উদ্যোগে গণবিবাহের ঘোষণা
ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার তরুণ প্রজন্মকে সহায়তা এবং সর্বস্বান্ত পরিবারগুলোর দায়ভার কমাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত নতুন একটি মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে গাজায় গণবিবাহের আয়োজন করা হবে। কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘দ্য ড্রেস অব জয়’ বা ‘আনন্দের পোশাক’। আমিরাতের সরকার ২ ডিসেম্বর নিজেদের জাতীয় দিবসে গাজায় একসাথে ৫৪টি বিয়ে আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য মূলত গাজার তরুণ প্রজন্মকে সহায়তা করা এবং যুদ্ধের কারণে সবকিছু হারানো পরিবারগুলোর আর্থিক ও সামাজিক চাপ কমানো। এ গণবিবাহের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে নবদম্পতিদের যাবতীয় ব্যয় বহন করবে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তাও দেবে। নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথমত, আগ্রহী পুরুষ ও নারীকে অবশ্যই কমপক্ষে ২৭ বছর বয়স্ক এবং অবিবাহিত হতে হবে। তাদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে বিয়ের জন্য উপযুক্ত হতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রার্থীরা অবশ্যই ফিলিস্তিনের নাগরিক এবং গাজার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। তৃতীয়ত, গাজার সরকারি কোনো কর্মী এ উদ্যোগে আবেদন করতে পারবেন না। দরিদ্র পরিবার বা যুদ্ধে সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলোর সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। চতুর্থত, নির্বাচিত প্রার্থীদের আমিরাত সরকারের পরিচালিত অপারেশন আল ফারিস আল শাম ৩ বা অপারেশন গ্যালান্ত নাইট ৩-এর নির্দেশনা মানতে হবে। খালিজ টাইমস।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান