সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ


১৩ নভেম্বর ২০২৫ ১৪:৫৬

ধূমপান ত্যাগে সৌদি আরবের ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ
মধ্যপ্রাচ্যের জনস্বাস্থ্য পরিবর্তনের যাত্রায় এখন কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রয়েছে সৌদি আরব। দেশটি এক মিলিয়ন ধূমপায়ীকে ধূমপান ছাড়তে সহায়তা করার এক সাহসী উদ্যোগ নিয়েছে। পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ)-এর অর্থায়নে ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ‘বাদায়েল’ এ উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাদের প্রধান পণ্য তামাকমুক্ত নিকোটিন পাউচ ‘ডিজার্ট’, যা ধূমপায়ীদের সিগারেট থেকে ধীরে ধীরে দূরে যেতে সহায়তা করছে। বাদায়েলের প্রভাব যেমন দ্রুত, তেমনি উল্লেখযোগ্য। প্রতিষ্ঠার পর মাত্র ২৪ মাসের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৪ লাখ ধূমপায়ীকে ধূমপান ছাড়তে সহায়তা করেছে, যার মধ্যে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ সম্পূর্ণভাবে নিকোটিন ব্যবহার বন্ধ করেছেন। এ অসাধারণ সাফল্যের ফলে ধারণা করা হচ্ছে, বাদাইল ২০৩২ সালের পরিবর্তে ছয় বছর আগেই, অর্থাৎ ২০২৬ সালের মধ্যেই এক মিলিয়ন ধূমপায়ীকে সহায়তা করার লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে। ধূমপান কমানোর ক্ষেত্রে সৌদি আরবের কৌশলটি এ অঞ্চলজুড়ে প্রচলিত নিষেধাজ্ঞাভিত্তিক নীতি থেকে একেবারেই আলাদা। দেশটি নিষেধাজ্ঞা বা শাস্তির পরিবর্তে গুরুত্ব দিচ্ছে ‘হার্ম রিডাকশন’ বা ক্ষতি কমানোর বিজ্ঞানে ভিত্তিক মডেলে, যেখানে ধূমপায়ীদের জন্য নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত বিকল্প ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এ পরিবর্তন সৌদি ভিশন ২০৩০-এর বিস্তৃত লক্ষ্যের অংশ; বিশেষ করে ‘কোয়ালিটি অব লাইফ প্রোগ্রাম’-এর মাধ্যমে, যার উদ্দেশ্য হলো অগ্রসর স্বাস্থ্য সংস্কারের মাধ্যমে নাগরিকদের জীবনমান উন্নত করা। এ কৌশলের মূলে রয়েছে নিকোটিন পাউচ ‘ডিজার্ট’-এর মতো আধুনিক সমাধান। ‘ডিজার্ট’ এর মতো পণ্যগুলোয় কোনো তামাক নেই, এগুলোয় পোড়ানো বা ধোঁয়া উৎপন্ন হয় না, ফলে ক্যান্সার, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো মারাত্মক রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শ অনেক কমে যায়।
ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গবেষণা প্রমাণ করছে যে, সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি করা হলে এ ধরনের বিকল্প পণ্য প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় অনেক কম ক্ষতিকর। এ নতুন পদক্ষেপের ফলাফল ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। সৌদি আরবের প্রাথমিক স্বাস্থ্য প্রতিবেদনগুলো আশাব্যঞ্জক, সম্প্রতি দেখা গেছে ধূমপান-সম্পর্কিত রোগের কারণে হাসপাতাল ভিজিটের সংখ্যা কমে আসছে। একইসঙ্গে জনমতেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে; মানুষ এখন ‘হাম রিডাকশন’ বা ক্ষতি কমানোর পদ্ধতিকে ধূমপায়ীদের সহায়তা করার একটি কার্যকর ও বৈজ্ঞানিক কৌশল হিসেবে গ্রহণ করছে। এ সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সম্প্রতি বাদায়েল শুরু করেছে ‘লেট’স ক্লিয়ার দ্য এয়ার’ নামের একটি জাতীয় প্রচারণা। এ উদ্যোগে ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক এবং সরকারি পর্যায়ে সবাইকে ধূমপানমুক্ত সৌদি আরব গড়ার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রচারণাটি দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং এটি আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছে ধূমপানমুক্ত ভবিষ্যৎ গড়তে সম্মিলিত উদ্যোগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। সৌদি আরবের অগ্রগতি এখন এ অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর তুলনায় একেবারেই ভিন্ন ও উল্লেখযোগ্য। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ এখনো এশিয়ার অন্যতম ভয়াবহ তামাক সংকটের মুখোমুখি, যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৩৫ শতাংশেরও বেশি মানুষ কোনো না কোনোভাবে তামাক ব্যবহার করেন এবং প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ তামাকজনিত রোগে মারা যান। বহু দশক ধরে সচেতনতা বৃদ্ধি ও কর নীতিমালা কার্যকর থাকার পরও আসক্তি সমাজে গভীরভাবে রয়ে গেছে। এ প্রেক্ষাপটে, সৌদি আরবের অভিজ্ঞতা গোটা অঞ্চলের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দেশটি প্রমাণ করেছে, বিজ্ঞানভিত্তিক নীতি ও উদ্ভাবনী পদক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুত ও টেকসই ফলাফল পাওয়া সম্ভব। বাদায়েল তাদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার সঙ্গে সঙ্গে, সৌদি আরব দেখিয়ে দিচ্ছে যে, সুশৃঙ্খল ‘হাম রিডাকশন’ বা ক্ষতি কমানোর কৌশল দীর্ঘদিনের ধূমপানের অভ্যাস থাকা সমাজেও সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সৌদি গেজেট।

ট্রাম্পবিরোধী জনমত শক্তিশালী হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে
মার্কিন রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনের ফল এবার স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে- ট্রাম্পবিরোধী জনমত আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। বিভিন্ন জরিপে এমন ইঙ্গিত আগে পাওয়া গেলেও এবার ভোটের ফলাফলে তা বাস্তব রূপ নিয়েছে। গত ৪ নভেম্বর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র, নিউ জার্সি ও ভার্জিনিয়ার গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ তিনটি নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পরাজয় ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাবের জন্য বড় এক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব নির্বাচনের ফল কেবল স্থানীয় প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়; বরং এটি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষের প্রতিফলন। ট্রাম্প নিজে এ নির্বাচনে নিজের সম্পৃক্ততা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করলেও জনগণের ভোট যে মূলত তার নীতির বিরুদ্ধেই গেছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি ও ভার্জিনিয়ার তিন নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীরা ডেমোক্রেটিক প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হন। এ ফলাফল রিপাবলিকান শিবিরে হতাশা ছড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচনের পর শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমি নির্বাচনটা দেখেছি, কিন্তু এসব বিষয়ে আমি তেমনভাবে জড়িত ছিলাম না।’ তিনি আরও দাবি করেন, “আমি ভার্জিনিয়ার গভর্নর প্রার্থীকে সমর্থন করিনি, নিউ জার্সির প্রার্থীকেও খুব একটা সহায়তা করিনি। নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে আমাকে যখন অ্যান্ড্রু কুমো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন আমি বলেছিলাম আপনি কি একজন ‘ঠগ’ চান, নাকি একজন ‘বামপন্থী’?” তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যতই নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন না কেন, ভোটাররা এবার স্পষ্টভাবে তার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। ভোটের ব্যালটে ট্রাম্পের নাম না থাকলেও জনগণের ভোট যেন তার নীতির প্রত্যাখ্যানের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনের আগেই সিএনএনের এক জরিপে দেখা গিয়েছিল, ট্রাম্পবিরোধী ভোট আগের চেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে। ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, নিবন্ধিত ভোটারদের ৪১ শতাংশ কংগ্রেস নির্বাচনে ট্রাম্পের বিরোধিতা জানানোর জন্য ভোট দিতে চান, যেখানে মাত্র ২১ শতাংশ তাকে সমর্থন করেন। অর্থাৎ ট্রাম্পবিরোধী ভোটের হার ট্রাম্পপন্থীদের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। গত ৪ নভেম্বর নির্বাচনের বুথফেরত জরিপও সিএনএনের সেই জরিপকে সমর্থন করেছে। ২০১৭ সালে ভার্জিনিয়ায় ট্রাম্পবিরোধী ও ট্রাম্পপন্থী ভোটের ব্যবধান ছিল ১৭ পয়েন্ট (৩৪%-১৭%)। এবারের নির্বাচনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ পয়েন্টে (৩৮%-১৬%)। অন্যদিকে নিউ জার্সিতে ব্যবধান আরও বেশি বেড়েছে ২০১৭ সালে তা ছিল ১৭ পয়েন্ট (২৮%-১১%), এবার ২৮ পয়েন্টে পৌঁছেছে (৪১%-১৩%)। এ পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিচের দিকে নামছে। ট্রাম্পবিরোধী ভোট বৃদ্ধির পেছনে দুটি বড় কারণ উঠে এসেছে। প্রথমত, সাম্প্রতিক মাসে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ‘নো কিংস’ আন্দোলন। ট্রাম্পের কর্তৃত্ববাদী আচরণ ও নীতির বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা এ আন্দোলন দ্রুতই সংগঠিত রূপ নেয়। আন্দোলনের স্লোগান ছিল ‘আমেরিকায় কোনো রাজা নয়’, যা সরাসরি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠে। এ আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা হয়তো সবাই ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থক নন, কিন্তু তারা সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশ নিচ্ছেন এবং ভোটের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানাচ্ছেন। দ্বিতীয় কারণটি হলো, ট্রাম্পের মূল সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যে আগ্রহের ঘাটতি। আগের মতো তারা আর উৎসাহের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বিতর্কিত নীতি, সামাজিক বিভাজনমূলক বক্তব্য এবং অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক অস্থিরতা অনেক সমর্থককেই হতাশ করেছে। ফলে, ট্রাম্প শিবিরের ভোট কমে গেছে, আর বিরোধীরা সংগঠিতভাবে ভোট দিতে এগিয়ে এসেছে। সিএনএন।

তুরস্ক-মিশরের বাধায় পিছু হটলো সুদানের গণহত্যাকারী আরএসএফ
সুদানের দারফুর অঞ্চল বহু বছর ধরেই সংঘাত, জাতিগত দ্বন্দ্ব এবং অবৈধ অস্ত্র বাণিজ্যের কারণে বিশ্বের অন্যতম অস্থিতিশীল যুদ্ধ বিধ্বস্ত এলাকায় পরিণত হয়েছে। এ অঞ্চলে নতুন করে ভয়াবহ সহিংসতার জন্ম দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থনপুষ্ট আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ)। দারফুরের এলফাসের ও আশপাশের এলাকায় নারী-শিশুসহ অসংখ্য বেসামরিক নাগরিককে টার্গেট করে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায় গোষ্ঠীটি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এটিকে সুস্পষ্ট ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। গত রোববার (৯ নভেম্বর) তুরস্ক ও মিশরের সহযোগিতায় সুদানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর জাজিরা রাজ্যের রাজধানী ওয়াদ মাদানীতে প্রবেশ করে সরকারি বাহিনী। আরএসএফের নৃশংসতা ও দখলদারিত্ব ঠেকাতে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছে সুদানের সরকারি বাহিনী। তবে গত কয়েক মাসে আরএসএফের আগ্রাসন নতুন মাত্রা পেলে সংঘাতে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠলেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছিল না। এমন সময় সরাসরি উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দুই গুরুত্বপূর্ণ শক্তি তুরস্ক ও মিশর। সুদানি বাহিনীকে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা দিতে দেশ দুটি ড্রোন, স্যাটেলাইট নজরদারি ও বিশেষায়িত ক্ষেপণাস্ত্র সাপোর্ট প্রদান করে। এর ফলে সরকারি বাহিনীর পাল্টা হামলা নতুন গতি পায়। বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক ও মিশরের সমন্বিত সহযোগিতা সুদানি সেনাবাহিনীর অপারেশনাল ক্ষমতাকে নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দেয়, যা আরএসএফের আগ্রাসী অবস্থানকে দুর্বল করে তোলে।
এরই ধারাবাহিকতায় ৬ নভেম্বর সুদানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর জাজিরা রাজ্যের রাজধানী ওয়াদ মাদানীতে প্রবেশ করতে সক্ষম হয় সরকারি বাহিনী। শহরটি দীর্ঘদিন ছিল আরএসএফের কৌশলগত ঘাঁটি। বাহিনীটির পতন সুদানি সেনাদের জন্য যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার মতো ঘটনা বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। শহরে সরকারি বাহিনীর প্রবেশের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আরএসএফ যোদ্ধারা পালাতে শুরু করে। তবে পিছু হটার পথে আরএসএফ আবারও বর্বরতা দেখায়। সুদান জেনারেল কো-অর্ডিনেশন ফর ডিসপ্লেসড পারসনস অ্যান্ড রিফিউজিস-এর মুখপাত্র অ্যাডাম রিগাল জানান, পালানোর সময় আরএসএফের সদস্যরা অন্তত ১৫০ জন নারীকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন করে। অনেক পরিবারকে বিচ্ছিন্ন করে শিশুদের আলাদা করে ফেলে যায় গোষ্ঠীটি। রিগালের ভাষ্য, পালানোর আগেই তারা যতটা সম্ভব আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সহিংসতা ও আরএসএফের দখলদারিত্বের কারণে শুধু এলফাসের ও আশপাশের এলাকা থেকেই ৮১ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, খাদ্য, পানি ও চিকিৎসার সংকট ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যস্থতায় গঠিত ‘কোয়াট’ এর প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতিতে আরএসএফ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। তবে সরকারি বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক সম্মতি পাওয়া যায়নি। আল জাজিরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়সসীমা বেঁধে দেবে ডেনমার্ক সরকার
বর্তমান যুগে হাতে স্মার্টফোন মানেই অসীম ভার্চুয়াল জগতের প্রবেশপথ। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের কাছে এটি যেন এক অদৃশ্য দুনিয়া, যেখানে সময়ের হিসাব ভুলে যায় তারা। ডেনমার্কের অভিভাবক ও নীতিনির্ধারকরা দীর্ঘদিন ধরেই এ বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। শিশুদের মানসিক বিকাশ, বিশ্রাম ও খেলাধুলার সময় যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়া গিলে খাচ্ছে, তা নিয়ে দেশটিতে আলোচনা ও সমালোচনা দুটিই বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সরকার এখন এক নতুন উদ্যোগ নিয়েছেÑ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে ডেনমার্ক। গত শুক্রবার (৭ নভেম্বর) ডেনমার্ক সরকার ঘোষণা দেয় যে তারা নির্দিষ্ট কিছু জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশের জন্য ন্যূনতম বয়সসীমা ১৫ বছর নির্ধারণ করতে চায়। সরকারের দাবি, এ পদক্ষেপ নেওয়া হলে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং ডিজিটাল আসক্তির প্রবণতা কমবে। মূল উদ্দেশ্য হলো শিশু ও কিশোরদের সাইবার ঝুঁকি, অনলাইন অপরাধ ও মানসিক চাপ থেকে রক্ষা করা। এ বিষয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তুরস্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবা। ডেনমার্কের ডিজিটাল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ আইন কার্যকর হলে অভিভাবকদের জন্য কিছু ছাড়ের বিধান রাখা হবে। কোনো সন্তানের মা-বাবা চাইলে ১৩ বছর বয়সে তাদের সন্তানকে সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি দিতে পারবেন। তবে তাতে অভিভাবকদের লিখিত সম্মতি ও ডিজিটাল যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। মন্ত্রণালয়ের মতে, এ সিদ্ধান্তের লক্ষ্য শিশুদের আরও বেশি বিশ্রাম, খেলা এবং বাস্তব জীবনের বিকাশের সময় নিশ্চিত করা। তারা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রোফাইল তৈরি করার আগে শিশুদের বোঝানো জরুরি, অনলাইনে তাদের সামনে কী ধরনের ঝুঁকি অপেক্ষা করছে।’
যদিও এ প্রস্তাবটি এখনো পরিকল্পনার স্তরে রয়েছে। ডেনমার্ক সরকার এখনও ঘোষণা দেয়নি এ নতুন নিয়ম কবে নাগাদ কার্যকর হবে বা কোন কোন প্ল্যাটফর্ম এতে অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে অনুমান করা হচ্ছে, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট ও ফেসবুকের মতো বড় ও জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো প্রথমে এ নীতির আওতায় আসবে। যদি এ আইনটি সংসদে পাস হয়, তবে ডেনমার্ক হবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম দেশগুলোর মধ্যে একটি, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়সসীমা আরোপের পথে এগোচ্ছে। ডেনিশ সরকার জানিয়েছে, তারা এ বিষয়টি শুধু দেশীয়ভাবে নয়, বরং ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে আলোচনার টেবিলে তুলতে চায়। জুলাই মাসে ইইউ কাউন্সিল বৈঠকের পর থেকেই ডেনমার্ক বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। সরকারের লক্ষ্যÑ ইউরোপে শিশু ও কিশোরদের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা। ইতোমধ্যে জার্মানিতেও এ ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে, যেখানে অনেকে বলছেন- অপ্রাপ্তবয়স্কদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রবেশাধিকার সীমিত না করলে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটবে। ডেনমার্ক সরকারের মতে, এটি কোনো নিষেধ নয়, বরং একটি সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা। সরকার আশা করছে, এ নিয়ম শিশুদের শুধু ভারসাম্যপূর্ণ ডিজিটাল জীবন নয়, বরং বাস্তব জীবনে সম্পর্ক ও খেলাধুলায় আরও মনোযোগী করে তুলবে। শিশুদের জন্য ‘ডিজিটাল শৃঙ্খলা’ তৈরি করাই হবে এ নীতির আসল লক্ষ্য। রয়টার্স।

অনুশোচনায় ভুগছে ইসরাইলি সেনারা
ইসরাইলি সেনারা গাজায় একপ্রকার নিয়ন্ত্রণহীন যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নৈতিকতার ভাঙনের চিত্র তুলে ধরেছেন, যেখানে বেসামরিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে অফিসারদের খেয়াল-খুশিমতো। এমন অভিযোগ উঠে এসেছে ব্রিটিশ টেলিভিশন আইটিভির প্রামাণ্যচিত্র ‘ব্রেকিং র‌্যাঙ্কস : ইনসাইড ইসরাইলস ওয়ার’-এ। ডকুমেন্টারিটি গত সোমবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্যে প্রচারিত হওয়ার কথা। এতে ইসরাইল প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) বেশ কিছু সেনা নিজেদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। কেউ পরিচয় গোপন রেখে, কেউবা প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। সবাই একইভাবে জানিয়েছেন যে, বেসামরিক নাগরিকদের প্রতি আইডিএফের আচরণ ছিল বর্বর। ড্যানিয়েল নামে একজন ট্যাঙ্ক ইউনিট কমান্ডার বলেছেন, ‘যদি তুমি সীমাহীনভাবে গুলি চালাতে চাও, সেটা পারো। কেউ তোমাকে আটকাবে না।’ অন্য এক কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইয়োতাম ভিল্ক বলেছেন, আইডিএফের প্রাথমিক প্রশিক্ষণে সেনাদের শেখানো হয় ‘মিন্স, ইনটেন্ট অ্যান্ড অ্যাবিলিটি’। অর্থাৎ, শত্রুর হাতে অস্ত্র (মিন্স), ক্ষতির ইচ্ছা (ইনটেন্ট), এবং তা করার সামর্থ্য (এবিলিটি) থাকতে হবে। কিন্তু, ভিল্কের ভাষায়, ‘গাজায় এসব কিছুর কোনো মানে নেই। কেউ যদি নিষিদ্ধ এলাকায় হাঁটে, তাহলেই সন্দেহভাজন। বয়স যদি ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হয়, তাহলেই সম্ভাব্য শত্রু। আরেক সৈনিক, যিনি ‘এলি নামে পরিচিত তিনি বলেন, ‘জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নিয়ম বা ফায়ারিং প্রটোকল দিয়ে হয় না। মাঠের কমান্ডারের বিবেকই শেষ কথা। এসব পরিস্থিতিতে শত্রু বা সন্ত্রাসী কাকে বলা হবে তা সম্পূর্ণ মনগড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, কেউ খুব দ্রুত হাঁটলে সে সন্দেহভাজন। কেউ ধীরে হাঁটলে, তাও সন্দেহজনক। মনে করা হয় কিছু একটা করছে। তিনজন একসাথে হাঁটলে এবং একজন পিছিয়ে থাকলে, বলা হয় তারা সামরিক ‘টু-টু-ওয়ান ফরমেশন’-এ আছে। এলি একটি ঘটনার কথা বলেন, যেখানে এক সিনিয়র অফিসার নির্দেশ দেন একটি ট্যাঙ্ক থেকে গোলা ছুড়ে এমন একটি ভবন ধ্বংস করতে, যা বেসামরিকদের জন্য নিরাপদ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত ছিল। তিনি বলেন, একজন মানুষ ছাদে কাপড় শুকাচ্ছিলেন। অফিসার বললেন, তিনি হয়তো ‘স্পটার’, অর্থাৎ শত্রুর নজরদার। অথচ লোকটা শুধু কাপড় শুকাচ্ছিলেন। কোনো দূরবীন বা অস্ত্র তার হাতে ছিল না। নিকটতম সামরিক ইউনিট ছিল ৬০০-৭০০ মিটার দূরে। তারপরও ট্যাঙ্ক থেকে গোলা ছোড়া হয়। ভবনের অর্ধেক ধসে পড়ে, অনেক মানুষ মারা যায় ও আহত হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় নিহতদের মধ্যে প্রায় ৮৩ শতাংশই বেসামরিক, যা আধুনিক যুদ্ধে নজিরবিহীন একটি সংখ্যা। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। আইডিএফ এক লিখিত বিবৃতিতে বলেছে, ‘আইডিএফ আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ এবং আইনগত ও নৈতিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে থেকেই কাজ করছে, যদিও হামাস ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক স্থাপনায় লুকিয়ে যুদ্ধ চালাচ্ছে, যা অপারেশনকে জটিল করেছে।’ তবে প্রামাণ্যচিত্রে সাক্ষাৎকার দেওয়া কিছু সেনা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় প্রায় এক হাজার ২০০ ইসরাইলি ও বিদেশির নিহত হওয়ার পর ইসরাইলি রাজনীতিক ও ধর্মীয় নেতাদের ভাষায় তারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। যেখানে বলা হচ্ছিল, ‘প্রত্যেক ফিলিস্তিনি এখন তাদের প্রধান টার্গেট।’ প্রামাণ্যচিত্রে আরো প্রকাশ পেয়েছে যে, ইসরাইলি সেনাদের মধ্যে এ ধরণের প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাব ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রেখেছেন সেনাবাহিনীর চরমপন্থী ধর্মীয় নেতা রাব্বি আভ্রাহাম জারবিভ। মেজর নেতা কাসপিন বলেন, ‘একবার রাব্বি আমার পাশে বসে আধাঘণ্টা ধরে বোঝালেন যে আমাদেরও ৭ অক্টোবরের মতো হতে হবে। আমাদের প্রতিশোধ নিতে হবে সবার ওপর; এমনকি বেসামরিকদের ওপরও। যেন আমরা কোনো পার্থক্য না করি। এটাই একমাত্র পথ। চরমপন্থী ধর্মীয় নেতা রাব্বি আভ্রাহাম জারবিভ, যিনি গাজায় ৫০০ দিনেরও বেশি সময় কাটিয়েছেন, প্রামাণ্যচিত্রে বলেন, ‘ওখানে সবকিছুই এক বিশাল সন্ত্রাসী অবকাঠামো।’ জারবিভ শুধু ফিলিস্তিনি পাড়াগুলো ধ্বংসের ধর্মীয় বৈধতা প্রদানই করেননি, বরং নিজেই সামরিক বুলডোজার চালিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে তিনিই এ কৌশলটির উদ্ভাবক, যা পরে পুরো আইডিএফ গ্রহণ করে। দ্য গার্ডিয়ান।

পাকিস্তানে সংবিধান সংশোধন নিয়ে বিতর্ক
পাকিস্তানে সংবিধান সংশোধনে সিনেটে বিল উত্থাপণ করা হয়েছে। গত শনিবার (৮ নভেম্বর) দেশটির আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার সংবিধানের ২৭তম সংশোধনী বিলটি উত্থাপণ করেন। তবে এর বিরোধীতা করে আন্দোলনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিরোধীরা। খবর দ্য ডনের। বিলে একটি ফেডারেল সাংবিধানিক আদালত গঠন, উচ্চ আদালতের বিচারকদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন, প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার উচ্চতর সীমা এবং সামরিক নেতৃত্ব কাঠামোতে পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলের কিছু ধারায় ফিল্ড মার্শাল, বিমান বাহিনীর মার্শাল বা নৌবহরের অ্যাডমিরাল-এর মতো পাঁচ তারকা পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আজীবন সাংবিধানিক সুরক্ষার প্রস্তাবও করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিত কমান্ড ও পরিচালনা নিশ্চিত করতে ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ নামে একটি নতুন পদ তৈরি করা হয়েছে। সংশোধন অনুযায়ী, সেনাপ্রধান একইসঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি জাতীয় কৌশলগত কমান্ডের প্রধান নিযুক্ত করবেন। নতুন বিল অনুযায়ী, সেনাপ্রধানের সুপারিশে প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের প্রধান নিয়োগ করবেন। এছাড়া সংবিধানের ২৪৮ অনুচ্ছেদে সংশোধন এনে রাষ্ট্রপতিকে আজীবন ফৌজদারি মামলা বা গ্রেপ্তার থেকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বিলটির বিরোধীতা করছে কয়েকটি বিরোধী দল। আরএ।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান