পূর্ব থেকে পশ্চিম : ইসলামের জাগরণ
১৩ নভেম্বর ২০২৫ ১৪:৫৪
॥ একেএম রফিকুন্নবী ॥
মহান আল্লাহ তায়ালা পৃথিবী সৃষ্টি করে তার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মানবজাতি তৈরি করেছেন। শুধু তাই নয়, এ পৃথিবী কীভাবে চলবেÑ তার বাস্তবরূপ দেখানোর জন্য যুগে যুগে যুগোপযোগী জীবনবিধান এবং নবী-রাসূল আ. পাঠিয়ে জনগণকে পরিচালনার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সা.-কে প্রায় ১৫০০ বছর পূর্বে আরবের মরু অঞ্চলে পাঠিয়েছিলেন পবিত্র আল কুরআন দিয়ে। তিনি কুরআনের আলোকে তার সাহাবীদের নিয়ে আরবজগতে একটি কল্যাণকামী মানববান্ধব দেশ ও জাতি গঠন করে নবী জীবনের ১৩ বছর মক্কায় এবং ১০ বছর মদিনায় জীবনযাপন করে গেছেন। তাঁর সময়ে ধনী-গরিব, মুসলিম-অমুসলিম, ছোট-বড়, নারী-পুরুষ সবাই যার যার কাজ স্বাধীনভাবে করে জীবনযাপন করেছেন। যারা মহান আল্লাহর বাণী মেনে এবং নবী মুহাম্মদের সা. নির্দেশ অনুযায়ী জীবনযাপন করে গেছেন তারা দুনিয়ায়ও শান্তিতে বসবাস করেছেন এবং পরকালেও তারা সীমাহীন জান্নাতে পরম সুখে জীবনযাপন করবেন।
আমরা বর্তমান যুগে বিংশ শতকে দুনিয়ার পূর্ব থেকে পশ্চিমের দেশগুলোয় প্রকারভেদে মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, হিন্দু ধর্মের লোকেরা বাস করছি। কিছুদিন হলো দেশে দেশে ইসলামের বাণী নিয়ে তার স্বাতন্ত্র্য দিকনির্দেশনার আলোকে মুসলমানরা দেশ পরিচালনার চেষ্টা করছে। আমাদের পূর্বের দেশ মালয়েশিয়ায় আনোয়ার ইব্রাহীম সেদেশকে মুসলিম ঐতিহ্য নিয়ে চালাতে চেষ্টা করছেন। সেখানেও নানা ধরনের জাতি-গোষ্ঠী রয়েছে। সেখানে আমার যাওয়ার সুযোগ হয়েছে আমার ছেলের বিবিএ-এর কনভোকেশনের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য। ট্যাক্সিওয়ালা থেকে শুরু করে অনেকের সাথে আলাপ হয়েছে। তারা বলেছে, ভালো আছে এবং আমরা আমাদের ধর্ম নিয়ে চলছি, কোনো অসুবিধা নেই। সেখানে মসজিদে নামাজের সময় জুতা বাইরে রেখেই নামাজ আদায় করেছি, চুরি হয়নি। সেদেশের আইআইইউএম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৭টি মুসলিম দেশের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে। প্রতিষ্ঠানটির আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। খাওয়া-দাওয়া ভালো। পাশেই ইন্দোনেশিয়া। সেখানে মুসলিম শাসক। দুনিয়ার মধ্যে সবচেয়ে মুসলিম জনবহুল দেশ।
পাশেই ছোট দেশ মালদ্বীপ। জনসংখ্যা ১ কোটিরও কম। মুহাম্মদ মইজ্জু ভারতের আধিপত্য থেকে মুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়ে নির্বাচিত হয়ে কিছুদিনের মধ্যেই ভারতের সেনাবাহিনী তাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের অর্থনীতি ভালো চলছে। পর্যটনের জন্য দেশটি আকর্ষণীয়।
আমরা যদি পশ্চিমের দিকে তাকাই। মাত্র কয়েকদিন পূর্বে দুনিয়ার মধ্যে একটি বড় শহর নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচিত হলেন উগান্ডায় জন্মগ্রহণকারী জোহরান মামদানী। তিনি ৭ বছর বয়সে বাবার সাথে আমেরিকা যান। তার বাবা ইউনিভার্সিটির প্রফেসর, মা শিক্ষিত ও কর্মজীবী। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে লেখাপড়া শেষ করে সেদেশের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরোধিতার মধ্যেই বিপুল ভোটে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে পরাজিত করে নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। জয়লাভের পরপরই প্রথম বক্তৃতায় তার মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, তার স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা ও কাজের স্বীকৃতি দিয়েছেন। তার শহরের সব শ্রেণির মানুষকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তার এক বাংলাদেশি আন্টি মিসেস মাসুমের। তিনি শহীদ মীর কাসেম আলীর ছোট ভাই মাসুমের স্ত্রী। এ মাসুম ভাই ঢাকায় আমাকে গাড়ি চালানো শিখিয়েছিলেন একদিনেই। আমিও তার কাছে কৃতজ্ঞ। মামদানীর সাথে আরো দুই বাংলাদেশি নির্বাচিত হয়েছেন, তারা নিউইয়র্ক শহরে জনগণের সেবায় নিয়োজিত। মামদানীর নির্বাচনের পরের দিনই সাধারণ মুসলমানদের সাথে জুমআর নামায আদায়ের ঘটনাও দুনিয়াবাসীর কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমার এ শহরে একাধিকবার যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। আমার এক আত্মীয় ঐ শহরের রেলওয়েতে চাকরি করেন। তিনি জানালো, ঐ শহরে আন্ডারগ্রাউন্টড রেললাইন ১০০ বছর আগে নির্মিত হয়েছে। আমেরিকার প্রশাসন দুই কারণে আন্ডারগ্রাউন্ড রেললাইন করেছেÑ এক. আন্ডারগ্রাউন্ডে কোনো যানজট নেই। আর শত্রুর আক্রমণ থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য। ঐ শহরে মুসলমানদের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা-দীক্ষা সবই ভালোভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। আমেরিকা বিরাট দেশ, তাই বিমানের মাধ্যমে চলাচল সহজ। আমেরিকা এখনো সামরিক দিক দিয়ে এক নম্বরে। তাদের মুদ্রা ডলারের মাধ্যমে গোটা দুনিয়ায় লেনদেন হয় বলে আর্থিক অবস্থাও ভালো। যেকোনো লোক ২৫-৩০ বছরের কিস্তিতে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে বাড়ি কিনতে পারেন। দূরদূরান্ত থেকে গাড়িতে, রেলে চড়ে অফিস-আদালত করে। সড়কপথ খুবই ভালো। সেই শহরে জোহরান মামদানী বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় সেদেশে ইসলামের উত্থান মনে হয়। মুসলমানরা যদি আল্লাহর ওপর ভরসা করে সততার সাথে কাজ করে, তবে সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতিতে ভরা এ সমাজে ভালো হবেই।
আসা যাক ব্রিটেনের কথায়। ব্রিটিশরা যেখানে দুনিয়া শাসন করেছে। একসময় বলা হতো ব্রিটিশদের সাম্রাজ্যে সূর্য ডুবে না। সেই ব্রিটেনের লন্ডন শহরে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন সাদেক খান। তিনি ভালোভাবেই মেয়রের কাজ পরিচালনা করছেন। লন্ডনেও একাধিকবার যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। ইস্ট লন্ডন মসজিদে নামাজ পড়ার পর দাঁড়ালে মনে হয় ঢাকায় বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে সবাই বের হচ্ছে। ছোট-বড়, ছেলে-মেয়ে সবাই দলে দলে নামাজ পড়তে আসে। ঐ মসজিদের একজন খতিব আমাদেরই বন্ধু মানুষ। শহীদ নিজামীর ছেলের শ্বশুর। লন্ডনে আমাদের অনেক বন্ধু-বান্ধব আছে। তারা ঐ সমাজে নীতি-নৈতিকতা নিয়ে কাজ করছেন। ইসলামী সংগঠনও সেখানে আছে। নেতাদের অনেকেই বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাকর্মী।
আমরা যদি তুরস্কের কথা বলি। তুরস্ক কামাল পাশা থেকে শুরু করে বর্তমান প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান সাম্রাজ্য। বর্তমানে তুরস্ক ইসলামী জগতে বড় ভূমিকা রাখছে। মহান আল্লাহ তায়ালা এরদোগানকে সামরিক অভ্যুত্থান থেকে নিজগুণে বাঁচিয়েছিলেন। যে বিমান তাকে ধরতে আকাশে উড়ছে সেই বিমানকে ফাঁকি দিয়ে নিচ দিয়ে উড়ে ঐ এয়ারপোর্টেই নেমেছিলেন। জনগণ মাঠে নেমে প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে সাপোর্ট করে সামরিক ক্যু ব্যর্থ করে দিয়েছিলেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের স্ত্রীর হিজাব পরার কারণে তার পার্লামেন্টের সদস্য পদ বাতিল হয়েছিল। আর এখন তুরস্ক ইসলামের পক্ষের শক্তিকে দুনিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শহীদ মতিউর রহমান নিজামী অনেকদিন পূর্বে আমার মোবাইল নাম্বার থেকে তাকে টেলিফোন করেছিলেন, যা আমার জন্য একটি দুনিয়ায় আখিরাতের পাওনা। তুরস্ক দুনিয়ার ইসলামী জাগরণের জন্য বিরাট ভূমিকা রাখছে। তাদের সামরিক যোগ্যতাও দুনিয়ার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। সুখের খবর হলো, তুরস্ক বাংলাদেশে ড্রোন কারখানার কাজ শুরু করেছে। মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আমরা যদি আধুনিক আফগানিস্তানের কথা বলি, তবে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেই বলতে হবে। আফগান মুজাহিদরা আমেরিকার মতো শক্তিধর দেশকে আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে। ব্রিটিশ আমেরিকা রাশিয়া থেকে দেশকে মুক্ত করে বর্তমানে আফগানরা দুনিয়ার সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। তাদের অর্থনীতি ও টাকার মান সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁছেছে। আল্লাহর প্রতি ঈমান আর সততা নিয়ে কাজ করলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।
ইরানকে আমরা বলব, অন্যতম সামরিক শক্তিধর একটি ইসলামী দেশ। ইরানের খোমেনী পরিবার ফ্রান্সে নির্বাসিত থেকে ইরানের পাহলভী সরকারের পতন ঘটিয়ে ইসলামী ইরান প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে জনগণ সেদেশের সরকারকে তাদের উপযুক্ত সরকার বলে মনে করে। শিয়া-সুন্নির বাধা ভেঙে দেশ এগিয়ে চলছে। আমেরিকাকে সালাম না দিয়েই ইরান এখন পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। আমরা ইরানের কল্যাণ কামনা করি। সিরিয়া গত কিছুদিন আগে ১২ দিনের আন্দোলনে সেদেশের স্বৈরশাসকের পতন ঘটিয়েছে। তারা ইসলামী বিপ্লবী সরকার গঠন করে ৫ বছরের সময় নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে। বর্তমানে সিরিয়ার সরকারকে আমেরিকাও স্বীকৃতি দিয়ে তার নেতার সাথে বৈঠক করার উদ্যোগ নিয়েছে। সিরিয়ায় স্বৈরশাসকের পতন এবং বর্তমানের বিপ্লবী সরকার ইসলামের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করছে।
মুসলিম দেশের মধ্যে পাকিস্তান একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর। তাদের সেনাবাহিনী গোটা আরব দেশে পাহারার কাজ করছে। যদিও সেখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামী দলগুলোর উপস্থিতি কম। এমনকি খেলোয়াড় থেকে সফল রাষ্ট্রনায়ক ইমরান খানকেও জেলে বন্দী করে রেখেছে। ইমরান খান মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যের ভূমিকা রাখতে পারতো। আমরা তার মুক্তি কামনা করছি।
এবার আসি আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশের কথায়। গত ৫৪ বছর আমরা ৯২% মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত হলেও ইসলামী আন্দোলনের কাজ আমরা সঠিকভাবে করতে পারছি না। প্রতিবেশী দেশের সরাসরি হস্তক্ষেপে এদেশের সরকারগুলো ইসলামী আন্দোলনের কাজে বাধা দিয়ে আসছে। বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে অন্যায়ভাবে জামায়াতে ইসলামী, শিবিরসহ ইসলামী দলগুলোর নেতাদের ফাঁসি, হত্যা, গুম, খুন ও আয়নাঘরের মতো নির্যাতনের পাশবিক সব জায়গা ব্যবহার করে ইসলামী দলের কাজে বাধা সৃষ্টি করছে।
মহান আল্লাহ তায়ালা আ’লীগের মতো দেশবিরোধী দল ও তার নেতা দাজ্জাল হাসিনা তার ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য সামরিক-বেসামরিক বাহিনী দিয়ে সরকারবিরোধীদের দমন-নিপীড়ন চালিয়ে দেশের সব বিভাগের দুর্নীতিতে ভরে দিয়েছিল। ছাত্র-জনতা অতিষ্ঠ হয়ে জুলাই ২০২৪ সালে ৩৬ দিনের আন্দোলনে লেডি হিটলার হাসিনাকে তার দাদার বাড়ি পালাতে বাধ্য করে, বর্তমানে হাসিনা ও তার পাপের ভাগীদাররা সবাই আমাদের দেশের শত্রু। ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে আমাদের দেশে অরাজকতা করার চেষ্টায় লিপ্ত।
এদেশের জনগণ ভারতবিরোধী, সাথে সাথে ইসলামপ্রিয়। যার নমুনা গত ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে আজ পর্যন্ত প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে। এদেশের মানুষের জন্য সততা ও দুর্নীতিমুক্ত থেকে জামায়াত ও শিবিরের লোকেরা দেশের মানুষের কল্যাণে ব্যাংক-বীমা, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করে প্রমাণ রেখেছেন, আসলে জামায়াত ও শিবিরের নিবেদিতপ্রাণ জনশক্তিই বাংলাদেশের জন্য দরকার। ইতোমধ্যে প্রমাণ হয়েছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের নির্বাচনে জামায়াত-শিবিরের একক বিজয়। প্রমাণ হয়েছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনে শিবিরের অসাধারণ বিজয়। তাছাড়া জাকসু, চাকসু, রাকসুতেও ছাত্রশিবিরের বিজয় এদেশের জন্য আল্লাহর নিয়ামত হিসিবেই আবির্ভূত হয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে আর বড় দল বলে কিছু নেই। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারকে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবেÑ যাতে করে সৎ, যোগ্য, দুর্নীতিমুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত দেশ গঠন করা যায়। জামায়াত ইতোমধ্যেই ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে জনগণের কাছে যাচ্ছে। অন্য দলগুলো তাদের নিজেদের মধ্যে মারামারি করতে ব্যস্ত। ফলে সাধারণ মানুষ আর কোনো ফ্যাসিবাদীদের নির্বাচনে ভোট দেবে না। কোনো ভারতীয় দালালদের ভোট দেবে না। জনগণ এবার জামায়াতের মনোনীত সৎ, যোগ্য, দুর্নীতিমুক্ত লোকদেরই তাদের নেতা বানাবে। ফলে অন্যরা বিষয়টি আঁচ করতে পেরেই ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারকে সঠিকভাবে কাজ করতে দিচ্ছে না। উল্লেখ্য, গত ১১ নভেম্বর মঙ্গলবার পল্টনে জামায়াতের নেতৃত্বে ৮ দলের বিশাল জনসভায় প্রমাণ হয়েছে জুলাই বিপ্লবের স্বীকৃতি ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না।
আমরা বলব, গোটা দুনিয়া যেহেতু ইসলামের পক্ষে সৎ, যোগ্য, দুর্নীতিমুক্ত নেতার পক্ষে, তাই আমরা বাংলাদেশের জনগণ এবার জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও সহযোগীদের নির্বাচিত করে ১৮ কোটি মানুষের এদেশকে দুনিয়ার মধ্যে প্রমাণ করে দিতে চাই। ইসলামই শ্রেষ্ঠ ধর্ম। আর সৎ, যোগ্য, দুর্নীতিমুক্ত নেতা হলে আমরা মুসলমানরাই দুনিয়া শাসন করব, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহর আইন মেনেই গোটা দুনিয়া সেরা ধর্ম ও ইসলামের দুনিয়া বানাতে সক্ষম হবো। আমরা দুনিয়াব্যাপী সৎলোকের শাসন কায়েম করে দুনিয়ায় শক্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই, বিনিময়ে আখিরাতে সীমাহীন শান্তির আবাস পেতে চাই।
লেখক : সাবেক সিনেট সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ই-মেইল : rnabi1954@gmail.com