হাসিনাসহ অভিযুক্তরা নির্বাচনে অযোগ্য
৯ অক্টোবর ২০২৫ ১৩:২৬
সোনার বাংলা ডেস্ক: জুলাই আন্দোলনে গণহত্যার দায়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে সংঘটিত সকল গুমের অভিযোগ আমলে নিয়ে শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন বাহিনীর শীর্ষ ৩০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গত ৮ অক্টোবর বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ পরোয়ানা জারি করেন। বিভিন্ন বাহিনীর শীর্ষ এ কর্মকর্তারা সবাই পলাতক আছেন। এর আগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়। এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
এ লক্ষ্যে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তও শুরু হয়ে গেছে। কর্মকর্তারা দ্রুত এ সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবেন। প্রতিবেদন পাওয়া সাপেক্ষে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ৭ অক্টোবর মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগের বিচারের ব্যাপারে আগেরই আবেদন ছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ১৯৭৩-এ আনা সংশোধনীতে এসব বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। এতে অধ্যাদেশে ২০(সি) ধারা সংযোজন করা হয়। ৬ অক্টোবর সোমবার ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট ১৯৭৩ সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়। প্রসঙ্গত, ইতোমধ্যে ফরমাল চার্জ দাখিল হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে বিচারও শুরু হয়েছে। ফলে হাসিনাসহ অভিযুক্তরা নির্বাচনে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে তাজুল ইসলাম বলেন, দলকে তো আর সাজা দেওয়া যাবে না। তবে দলকে কী ধরনের সাজা দেওয়া যাবে, সেটা আইনে বলা আছে। যেমন দলকে নিষিদ্ধ করা বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় সাজা দেওয়া বা তাদের নেতাকর্মীর ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা ইস্যু করা, এসবই আইনে আছে। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ব্যাপারেই তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া সাপেক্ষে আওয়ামী লীগের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরও যেসব দল এতে জড়িত ছিল, তাদের ব্যাপারেও যদি তদন্তের প্রয়োজন হয়, তবে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে তদন্ত সংস্থা।