সীমাহীন দুর্নীতি রুখতে হবে শক্ত হাতে


১৪ আগস্ট ২০২৫ ১৫:০৪

একেএম রফিকুন্নবী

॥ একেএম রফিকুন্নবী ॥
৫৪ বছরের বাংলাদেশে দুর্নীতি ছায়ার মতো লেগেই আছে। শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, সবাই পায় সোনার খনি আমরা পেয়েছি চোরের খনি। অথচ ঐতিহহাসিক সত্য হলো- তিনি নিজেই ছিলেন চোর। বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মইনুল হোসেন চৌধুরী বীরবিক্রম তার “এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য- স্বাধীনতার প্রথম দশক”, নামক বইতে বলেছেন (চধমব ৬০-৬১)।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর প্রথম তিন বছরে বাংলাদেশ ২.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বৈদেশিক সাহায্য পায়। (সূত্র: আইডিএস বুলেটিন, জুলাই ১৯৭৭, ভলিউম ৯, ইংল্যান্ড)। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ২৩ বছরেও এতো সাহায্য পায়নি। এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পশ্চিম জার্মানি মার্শাল প্লানের আওয়তায় যে বৈদেশিক সাহায্য পেয়েছিল, তাও এই অঙ্কের চেয়ে কম। কিন্তু বাংলাদেশ এই বিপুল পরিমাণ সাহায্য যথাযথভাবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়।” এবং এরপরেও শেখ মুজিব বাংলাদেশের মানুষের মুখে ভাত তুলে দিতে ব্যর্থ হয়। ১৯৭৪ সালে দেশ ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হয়, হাজার-হাজার (ড়ভভরপরধষ ভরমঁৎব ধনড়ঁঃ ২৭,০০০) মানুষ মারা যায় খাদ্যের অভাবে। আর এই হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিল কবি রফিক আজাদের সেই হারামজাদা, কেননা তার পরিবার এবং তার বাকশালী দলের পাণ্ডারা, তার ছত্রছায়ায় নির্বিকারভাবে লুট করে সাধারণ মানুষের জন্যই আসা এই বৈদেশিক সাহায্যের টাকা। এখানে আপনাদের সামনে তুলে ধরবো যারা আমাদের স্বাধীনতাকে চুরি করেছে, আমাদের বিজয়ের গৌরবকে চুরি করেছে, সেই আওয়ামী লীগ এবং শেখ পরিবারের সদস্যদের চৌর্যবৃত্তি, লুটের উপাখ্যান এবং তাদের অপশাসন ও দুর্নীতির কাহিনী ।
বাংলাদেশের প্রথম অবৈধ রাষ্ট্রপতি, তৎকালীন অবৈধ প্রধানমন্ত্রী, স্বৈরশাসক, একদলীয় বাকশালী সরকারের প্রবর্তক, বাকশালের জনক শেখ মুজিব তার নিজের পরিবার এবং নেতাদের গুণাবলী অনুধাবন করেই বলেছিলেন,
‘অন্যরা পেয়েছে সোনার খনি আর আমি পেয়েছি চোরের খনি’।
তবে এ চুরির জনকও কিন্তু শেখ মুজিব-ই।
১৯৭৪ সালের দৈনিক গণকণ্ঠের রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে মুক্তিযুদ্ধের ব্যয় নির্বাহের জন্যে মুজিবনগর সরকার কর্তৃক সংগৃহীত ৭৫ কোটি টাকা লোপাট হয়। মুক্তিযুদ্ধকালীন এরকম আরো কিছু টাকা শেখ মুজিব কীভাবে লোপাট করেছে, তার একটি বর্ণনা পাওয়া যায় মঈদুল হাসানের স্মৃতিচারণে তার রচিত ‘মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর কথোপকথন’ বইয়ের ১৪৩ নম্বর পৃষ্ঠায়। ভারত থেকে স্বাধীনতার পর ঢাকায় এসেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী প্রশাসনের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি পি. এন. হাকসার। হাকসার ঢাকায় এসে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে। আলোচনাকালে সামনে আসে মুজিবনগর সরকারের সেই টাকার প্রসঙ্গ, যা তখন ভারতীয় ব্যাংকে গচ্ছিত ছিল। মঈদুল হাসানের স্মৃতিচারণ অনুসারেÑ তিনি শেখ মুজিবকে বলেন, “ভারত সরকার এই টাকাটা ফেরত দিতে চায় কিন্তু কীভাবে আমরা ফেরত পাঠাব। ব্যাংক ড্রাফট করে পাঠাব, নাকি তোমরা জিনিসপত্র কিনবে- জিনিসপত্র কিনলে তার বিপরীতে আমরা ব্লক হিসাবে সেই টাকা দেব? তবে আমরা বিদেশি মুদ্রায় দিতে পারবো না, ভারতীয় মুদ্রায় দেব।” তখন শেখ মুজিব বললেন টাকাগুলো ট্রাকে করে পাঠিয়ে দিতে। বিস্মিত পি. এন. হাকসার শেখ মুজিবকে বললেন, ‘ট্রাকে করে টাকা কীভাবে দেবো? আমাদের তো সরকারি হিসাব-পদ্ধতি আছে, ব্যাংকিং পদ্ধতি আছে।’ তারপর নাকি শেখ মুজিব বলেছিলেন, ‘সামনে আমার নির্বাচন, এই টাকা সে জন্যে আমার দরকার হবে।’
পি. এন. হাকসার অতন্ত নিয়মতান্ত্রিক, ন্যায়নিষ্ঠ মানুষ ছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমানের ওই কথায় তিনি খুবই আহত হয়েছিলেন। পরে হাকসার ভারতে ফিরে গিয়ে মিসেস গান্ধী ও তাঁর সহকর্মীদের এ কথা জানান। ডি. পি. ধর, যিনি তখন ভারতের পরিকল্পনামন্ত্রী ১৯৭২ সালের জুন মাসে মঈদুল হাসানকে এই ঘটনার কথা জানান। পরে ১৯৮১ সালে খোদ পি. এন. হাকসারও এর সত্যতা স্বীকার করেন। উৎস: মঈদুল হাসান, ‘মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর কথোপকথন’। পৃষ্ঠা-১৪৩। চোর আসে দুর্নীতির হাত ধরেই। আমাদের দেশে বর্তমানে ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে সাড়ে ১২ কোটি ভোটার দেশে-বিদেশে। বর্তমানে ভোটারের ভোটে নির্বাচিত হবে দেশের সরকার।
গত ৩টি নির্বাচনে ভোটারদের মতের দরকার হয়নি। যেনতেনভাবে নির্বাচিত লোকদের মাধ্যমে শেখ হাসিনা স্বৈরাচারে পরিণত হয়েছিল। তাদের দল ও আত্মীয়রা দেশের সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি, ব্যাংক খালি করে টাকা পাচার করে বিদেশে পাঠানো, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করে দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করে যখন-তখন গ্রেফতার, জেলে ভরার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, খুন, গুম, আয়নাঘরে নির্যাতন করে শাসকদলের দুর্নীতির কারণে সব বিভাগে অরাজকতা নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছিল। গত ৫৪ বছরে আমাদের দেশ দুনিয়ায় ৫ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কোনো সরকারই দুর্নীতি কমাতে পারেনি। একমাত্র জোট সরকারে জামায়াতের দুজন মন্ত্রী শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও শহীদ আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ৫ বছর ৩টি মন্ত্রণালয় দুর্নীতিমুক্তভাবে চালিয়ে দেশের জন্য এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছিলেন। তারপরও তাদের স্বৈরাচার হাসিনা বিচারিক কিলিং করে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছেন। যে ট্রাইব্যুনালে তাদের বিচারের নামে প্রহসন করা হয়েছিল, সেই ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির আসামি মজলুম জননেতা এটিএম আজহারুল ইসলামকে বেকসুর খালাস দিয়ে দেশের আপিল বিভাগ বিচারের ক্ষেত্রে এক নজির সৃষ্টি করেছেন। তারা সর্বসম্মত এ রায় দিয়েছেন এবং মন্তব্য করেছেন যে, এ বিচার ছিল বিচারের নামে অবিচারের স্বাক্ষর।
দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন স্বৈরাচার হাসিনা বিচার বিভাগকে তাদের অনুগত বাহিনীতে পরিণত করেছিলেন। হাসিনার পালানোর পর ঐ বিচারকরাও পালিয়েছে। জেলে আশ্রয় হয়েছে। বিচারের সম্মুখীন হয়েছে। স্বৈরাচার হাসিনা সেবাদাস সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক এ দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। বর্তমানে তাকে ট্রাইব্যুনালে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে। দুনিয়ার কোনো দেশের প্রধান বিচারপতি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে, আমার জানা নেই। দুর্নীতি করে কারো রেহাই হবে না। দুনিয়ায় বড় বড় রাষ্ট্রপ্রধানদের এমন ঘটনা বিরল নয়।
স্বৈরাচার হাসিনার দুর্নীতি তার বাপের আমল থেকেই উত্তরাধিকার হিসেবেই পেয়েছে। তার বাপের আমলে গাজী গোলাম মোস্তফার কম্বল চুরির কথা নতুন প্রজন্মের লোকেরা জানেন না। স্বৈরাচার হাসিনার লোকেরা গ্রামের মেম্বার থেকে শুরু করে ইউপি চেয়ারম্যান, পৌরসভার কমিশনার, মেয়র, এমপি-মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী সবাই দুর্নীতির জালে জড়িয়ে গিয়েছিল। যার কারণে তারা সবাই তাদের দায়িত্ব ফেলে পালিয়েছে। জেলে গেছে, বিদেশে পালিয়েছে। আমরা তাদের সবার দুর্নীতির বিচার চাই। এর সাথে জড়িত কথাটা না বললেই নয়, এসব স্থানীয় সরকারের লোকেরা পালানোর কারণে জনগণ তাদের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারের লোকেরা তাদের দায়িত্বের বাইরে পালানো লোকদের দায়িত্ব পালনে হিমশিম খাচ্ছে। তাই অতিসত্বর স্থানীয় সরকার নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয় সরকারের নির্বাচন ভাগে ভাগে করলে আইনশৃঙ্খলা যেমন ঠিক রাখা যাবে; অন্যদিকে নির্বাচন বিভাগের যোগ্যতার প্রমাণ হবে। কালবিলম্ব না করে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন দেয়া এ সরকারের বড় কাজ।
বর্তমান সরকারের মধ্যেও দুর্নীতির খবর মিডিয়ায় স্থান পাচ্ছে। ইতোমধ্যেই একজন সিনিয়র সচিব প্রকাশ্যে লোক সমাবেশে বলেই ফেললেন, ৮ জন উপদেষ্টার দুর্নীতি তার কাছে প্রমাণ হিসেবে আছে। এটা গুরুতর অভিযোগ। দেশের গোয়েন্দা সংস্থার এখন কাজ এই ৮ জন উপদেষ্টার দুর্নীতি খুঁজে বের করা এবং প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টিতে আনা দরকার। অভিযোগ প্রমাণ হলে কালবিলম্ব না করে উপদেষ্টা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া এবং বিচারের আওতায় আনা।
নতুন দল এনসিসিপির লোকদের দুর্নীতিও প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। এ খবর খুবই উদ্বেগজনক। মূল কথা হলো, দুর্নীতির উৎস খুঁজে বের করতে হবে। আমি আগেই উদাহরণ দিয়েছি জামায়াতের দুজন মন্ত্রী দুর্নীতিমুক্ত মন্ত্রণালয় চালানোর বাস্তব প্রমাণ রেখে গেছেন। তাছাড়া এ দেশে দুর্নীতিমুক্ত অনেক প্রতিষ্ঠান গ্রাম থেকে শুরু করে শহরে গড়ে উঠেছে। তারা আর্থিক এবং সেবা দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে আর্থিক অঙ্গনে ইসলামী ব্যাংক দেশের সেরা ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জামায়াতের লোকদের সহযোগিতায়। কিন্তু হাসিনার দোসর এস আলম ২০১৭ সালে এ ব্যাংককে খেয়ে ফেলল। প্রায় সব টাকা এস আলম গ্রুপ নামে-বেনামে নিয়ে গেছে। ব্যাংক চিটা করে ফেলেছিল। বিপ্লবের পর এক বছরে এ ব্যাংক আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। বৈদেশিক রেমিট্যান্সের সিংহভাগ ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে আসছে। কারণ দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন হলে এটা সম্ভব। মূল কারণ দুর্নীতিমুক্ত লোক তৈরি করা।
কেউ বিশ্বাস করুক আর না করুক, জামায়াত-শিবির এ দেশে সর্বক্ষেত্রে সৎ, যোগ্য, দুর্নীতিমুক্ত লোক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। দুর্নীতির দায়ে জামায়াত-শিবিরের কোনো লোককে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি স্বৈরাচার হাসিনার দুঃশাসনের সময়ও।
তাই আমাদের দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে হলে দুর্নীতিমুক্ত লোক তৈরির কারখানা তৈরি করতে হবে। জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের এবং শিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা লোক দিয়ে কলকারখানা, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ দেশে-বিদেশে কাজ করছে।
বর্তমান সরকারের বড় কাজ পুলিশ বিভাগের সংস্কার। স্বৈরাচার হাসিনার সময় পুলিশকে সীমাহীন দুর্নীতি করার সুযোগ দিয়েছিল। হাসিনার আমলে পুলিশপ্রধান থেকে শুরু করে সাধারণ পুলিশরাও গাড়ি-বাড়ি করে দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তুলেছিল। এখনো পুলিশ বিভাগে আশানুরূপ পরিবর্তন হয়নি। নতুন পুলিশ নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ বিভাগের পুরনো ও নতুনদের নৈতিক ও মানবিক দুর্নীতিমুক্ত থাকার ভালোভাবে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রয়োজনে তাদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে।
অন্যদিকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত যে দলের লোকই হোক, তাদের বিচার কঠোর হাতে সম্পন্ন করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেয়া যাবে না। দুর্নীতিবাজদের কোনো দলে স্থান দেয়া যাবে না। জুলাই বিপ্লবে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে, তারা দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদিক কায়েমসহ তরুণ-যুবকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়েছে বলেই ফ্যাসিাদী হাসিনাকে দেশত্যাগে বাধ্য করতে পেরেছিল। আমরা জুলাই বিপ্লবের শহীদ যোদ্ধাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। তাদের পরিবারগুলোকে ধৈর্যধারণের জন্য দোয়া করছি। তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার জোর দাবি করছি বর্তমান সরকারের কাছে এবং তাদের মরণোত্তর সেরা যোদ্ধা হিসেবে ঘোষণার দাবি করছি। সাথে সাথে যারা আহত হয়েছে, পঙ্গু হয়েছে, তাদের সুচিকিৎসাসহ ক্ষতিপূরণ দেয়ার জোর দাবি করছি।
বড় সুখের ব্যাপার হলো- জামায়াতে ইসলামী জুলাই বিপ্লবের শহীদদের তালিকা আপাতত: একসঙ্গে ৩ ভাষায় বাংলা, ইংরেজি ও ফারসি প্রকাশ করেছে। এ কাজে জামায়াতে ইসলামী ইতিহাসে স্থান করে নেবে। সরকারও আজ পর্যন্ত এ তালিকা পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি। সৎ, যোগ্য, দুর্নীতিহীন ব্যক্তিদের মাধ্যমেই এ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং এ তালিকা আরো বাড়বে। তদন্ত করে তাও প্রকাশ করবে এ দেশের জনমানুষের সংগঠন জামায়াতে ইসলামী। যে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতার বাইরে থেকে এত বড় কাজ করতে পারে, তারা ক্ষমতায় গেলেও মানুষের কল্যাণ করতে পারবে দুর্নীতিমুক্তভাবে। উল্লেখ্য, গত ৫৪ বছরের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। তারপরও বর্তমানে চেষ্টা করা যেতে পারে।
ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর একদল ক্ষমতায় যাওয়ার দম্ভে গ্রাম-গঞ্জ-শহর-বন্দরে চাঁদাবাজি, দখলবাজিতে মেতে উঠেছে। দুর্নীতি আর চাঁদাবাজি যেন তাদের প্রাপ্য ফ্যাসিস্টদের ফেলে যাওয়া অঙ্গনে। আমরা সব দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজির বিপক্ষে, জনগণের অধিকারের পক্ষে লড়ে যাব।
দেশের প্রশাসনে এখনো দুর্নীতিবাজ আমলারা বসে আছে। গত কয়েকদিন পূর্বে পত্রিকায় নাম ধরে তাদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এদের অতিসত্বর আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। ভালো আমলার অভাব আছে- আমি মনে করি না। তাদের পদায়ন করা হোক। এরই সাথে বলে রাখতে চাই- ৬৪টি জেলার জেলা প্রশাসক বদলাতে হবে। সৎ, চরিত্রবান, দুর্নীতির ঊর্ধ্বে যারা বিভিন্ন বিভাগে কাজ করছে তাদের ৬৪টি জেলায় প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করতে হবে। সাথে সাথে পুলিশপ্রধানকে বলব, তার ৬৪ জেলার এসপিদেরও সৎ, চরিত্রবান, দুর্নীতিমুক্ত লোক বাছাই করে পদায়ন করতে হবে। প্রত্যেক জেলার ডিসি ও এসপি দুর্নীতিমুক্ত হলে আগামী নির্বাচন ভালো করার কাজে সহযোগিতা হবে। জনগণেরও সেবা পাওয়া নিশ্চিত হবে।
কেন্দ্রীয়ভাবে সব বিভাগে কোনো দুর্বলতা না দেখিয়ে কঠিনভাবে সততা ও চরিত্রবান অফিসারদের সাহস দিতে হবে। অসৎ অফিসারদের বিতাড়িত করতে হবে।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা যে ঘোষণা দিয়েছেন, লটারির মাধ্যমে জেলায় লোক নিয়োগ দেয়া হবে। মোটেও ভালো সিদ্ধান্ত নয়। কারণ অসৎ চরিত্রের লোক যেখানেই যাবে, তার চরিত্র বদলাবে না। তাই সৎ, চরিত্রবান, দুর্নীতিমুক্ত অফিসার বাছাই করে ভালো লোক পদায়ন করতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টাকে বলতে চাই, যেহেতু আপনি দেশবরেণ্য নোবেল বিজয়ী একজন ভালো মানুষ। তাই আপনার উপদেষ্টা থেকে শুরু করে সব জায়গায় দ্রুত সৎ, চরিত্রবান, দুর্নীতিমুক্ত লোকদের বসান- যাতে করে তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে দলের জন্য নয়- দেশের জন্য তারা কাজ করবে। আপনি চলে যাবেন, থেকে যাবে আপনার দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার পদক্ষেপ। ফ্যাসিবাদ গেছে, এখন দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়াই আমাদের প্রধান কাজ।
লেখক : সাবেক সিনেট সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।