ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নানা চ্যালেঞ্জ
৭ আগস্ট ২০২৫ ১৩:৩০
॥ ফারাহ মাসুম॥
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যেই জাতির উদ্দেশে দেয়া গত ৫ আগস্ট মঙ্গলবার ভাষণে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন নিয়ে একটি স্পষ্ট ‘নির্বাচনের পথরেখা’ উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু চ্যালেঞ্জ হলো- এ নির্বাচন টেকসই গণতান্ত্রিক রূপান্তরে কতটা সফল হতে পারবে। এর আগে প্রফেসর ইউনূস রাষ্ট্র সংস্কারের এবং গণহত্যার বিচারের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেটিকে কতটা তিনি বাস্তবায়ন করতে পারবেন। রাজনৈতিক পক্ষগুলো প্রধান উপদেষ্টার পদক্ষেপের সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কূটনৈতিক অংশীদারদের সবারই নিজস্ব উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে। প্রশ্ন হলো- কী হবে পরবর্তী ৬ মাসে?
ঘোষিত পথরেখা : প্রধান উপদেষ্টার ঘোষিত পথরেখা অনুসারে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন হবে সংবিধানের পুনর্গঠিত কাঠামো ও ‘জুলাই সনদ’-এর নীতিনির্ধারণী নির্দেশনার ভিত্তিতে। সুতরাং এটি হবে ‘গণআন্দোলনোত্তর পুনর্নির্মাণের প্রথম জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার’।
নির্বাচনের সাংবিধানিক ভিত্তি ও আইনি কাঠামোর জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ও সংস্কার কমিশনের যৌথ পরামর্শে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ একটি নতুন নির্বাচন আইন বা নির্বাচনী সংস্কার প্যাকেজ পাস করা হতে পারে। এতে কিছু সম্ভাব্য পরিবর্তন থাকতে পারে, যার আওতায় দলীয় ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক উভয় প্রার্থীকে সমান সুযোগ প্রদান করা হতে পারে। সেন্সাস ও জনসংখ্যাভিত্তিক আসন পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে। ভোটের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকবে। দুর্নীতিবাজ ও দাগী অপরাধীদের মনোনয়ন বাতিল করার আইনি ভিত্তি তৈরি করা হতে পারে। এর মাধ্যমে ‘সবার জন্য গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন’-এর জন্য আইনি পরিবেশ প্রস্তুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে নির্বাচন কমিশনের রূপান্তরের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কাযর্ক্রম হবে পূর্ণ স্বাধীন, জবাবদিহিমূলক এবং জাতীয় ঐকমত্যে গঠিত।’
জুলাই সনদের আওতায় নতুন নিবন্ধন কাঠামো তৈরি হচ্ছে, যেখানে অংশগ্রহণমূলক সংলাপের মাধ্যমে দলগুলোর প্রাথমিক সমঝোতা ও স্বাক্ষর আবশ্যক হবে। কোনো দল সনদে সই না করলে নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যেই নির্বাচন সীমাবদ্ধ থাকবে।
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে একটি নিরপেক্ষ ও দলনিরপেক্ষ প্রশাসন কাঠামো প্রস্তুত করা হচ্ছে, যার আওতায় মাঠ প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল হতে পারে। পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির নির্বাচনকালীন বিধি কঠোরভাবে প্রণয়ন হতে পারে। ডিজিটাল নির্বাচন মনিটরিং সেল থাকতে পারে। ‘ব্যালট না ব্যারেল’- এ নীতিতে নির্বাচন হবে। এ নীতিটি একটি রাজনৈতিক দর্শন বা মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে, যার মূল বক্তব্য হলো- রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও শাসনের বৈধতা জনগণের ভোটের মাধ্যমে (ব্যালট) নির্ধারিত হবে, অস্ত্রের জোরে (ব্যারেল) নয়।
ভোটার তালিকা ও নাগরিক অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে বলা হচ্ছে, নতুন ভোটার তালিকায় প্রবাসী ভোটার অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ থাকবে। স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে অনলাইন যাচাইকরণ হবে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও দলিত জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র পরিচিতি নিশ্চিত করে অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা থাকবে। নির্বাচন হবে ‘সবার জন্য’- সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতিফলন থাকবে। সর্বজনীন অংশগ্রহণ ও পর্যবেক্ষণের অংশ হিসাবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা হবে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ‘সিভিল নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল’ এর পর্যবেক্ষণে থাকবে অভিযোগ নিষ্পত্তিতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।
প্রত্যাশা অনুসারে আইন ও কাঠামো হিসেবে জুলাই সনদভিত্তিক ব্যবস্থায় সবার জন্য সমান সুযোগ থাকবে। ঐকমত্যভিত্তিক নিবন্ধন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে। সেনাবাহিনীনির্ভর নয়, প্রশাসন ও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা থাকবে। নারী, তরুণ, প্রবাসী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ থাকবে। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ও নাগরিক সমাজ পর্যবেক্ষণ করবে।
জুলাই সনদ সংলাপের আউটকাম
২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার, রাজনৈতিক দলসমূহ, নাগরিক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে চলমান সংলাপের ভিত্তিতে যে সর্বসম্মত বা ন্যূনতম ঐকমত্যভিত্তিক ‘সনদ’ গৃহীত হবে, তার মূল কাঠামো, উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি কীভাবে বাস্তবে পরিণত হবে, তা থাকবে জুলাই সনদে।
‘জুলাই সনদ’ হবে একটি লিখিত জাতীয় সনদ। সংলাপ শেষ হলে একটি লিখিত চুক্তি বা ঘোষণাপত্র (খসড়া নয়, চূড়ান্ত) ‘জুলাই সনদ’ নামে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে। এটি হবে একটি সর্বদলীয় ঐকমত্যের রাষ্ট্র সংস্কার চুক্তি, যার ভাষা হবে- ‘আমরা বাংলাদেশের নাগরিকগণ ও রাজনৈতিক দলসমূহ এ সনদের মাধ্যমে অঙ্গীকার করছি…’। এটি হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার একটি গণআন্দোলন-উত্তর জাতীয় চুক্তিনির্ভর রূপান্তরের দলিল।
ছয়টি কাঠামোগত সংস্কারের অঙ্গীকার থাকবে এতে। সংলাপে অংশগ্রহণকারী সকল পক্ষকে কেন্দ্র করে সনদে অন্তর্ভুক্ত থাকবে ৬টি মূল রূপান্তর- সংবিধান প্রশ্নে প্রস্তাবিত রূপান্তরে গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক সংস্করণ, রাষ্ট্রধর্ম ও ক্ষমতার ভারসাম্য। দলনিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন নির্বাচনে দল ও ব্যক্তি উভয়ের জন্য সুযোগ নিশ্চিত করবে। বিচারপতি নিয়োগ পদ্ধতি, বিচারিক স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে বিচারব্যবস্থায়। জনপ্রশাসনের দলমুক্তকরণ ও চাকরির গ্যারান্টির আইন সংশোধন হবে। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ, নিরপেক্ষ ও নির্যাতনমুক্ত পুলিশ বাহিনী থাকবে। দুর্নীতি দমনে স্বাধীন দুদক, রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা আইন, ডিজিটাল স্বচ্ছতা থাকবে। এ সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে সমন্বিত রোডম্যাপ থাকবে ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে।
রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষর ও ন্যূনতম ঐকমত্য সনদ বাস্তবায়নে একটি বড় শর্ত। আশা করা হচ্ছে, সংলাপের মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দল বা তাদের বড় অংশ একমত হবে এবং সনদে স্বাক্ষর করবে। যারা চাইবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (মতপার্থক্য) যুক্ত করতে, যা আলাদাভাবে চিহ্নিত থাকবে।
আইনগত গ্রহণযোগ্যতা ও ভবিষ্যতের সরকারে বাধ্যবাধকতা হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে এটা অন্তর্ভুক্ত থাকবে- ‘২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী সরকার এ সনদের মৌলিক কাঠামো বাস্তবায়নে আইন প্রণয়ন করবে।’ অধিকাংশ দল চাইছে এখনই এটি ‘জাতীয় চুক্তি আইন’ হিসেবে ঘোষিত হোক- যাতে এ সনদ ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করবে।
জুলাই সনদের আলোকে আগামী জাতীয় নির্বাচন (২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি) হবে সনদ-অনুমোদিত সংবিধান সংশোধন ও নির্বাচনী আইন অনুসারে। নির্বাচনী প্রচারণা ও সংরক্ষিত আসনের নীতিমালা সনদভিত্তিক। নির্বাচন হবে ‘জুলাই সনদসম্মত নির্বাচন’ যা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পাবে। সনদে স্পষ্টভাবে লেখা থাকবে, ‘আমরা জনগণের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করি এবং প্রতিশ্রুতি দিই, আর কখনো কোনো কর্তৃত্ববাদ, পরিবারতন্ত্র বা বৈদেশিক নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রকে বলি হতে দেব না।’ এ বাক্যগুলো জাতির সামনে একটি নৈতিক ও ইতিহাসভিত্তিক শপথ হয়ে থাকবে।
দুই বছরের সময়সীমা: চূড়ান্ত ঘোষণার পর পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে এ সংস্কারগুলো প্রণয়ন ও প্রয়োগের অঙ্গীকার রাখা হয়েছে প্রয়োজনীয় আইনি সংশোধন, নতুন আইন, বিধি বা সংবিধান সংশোধনসহ একাধিক পদক্ষেপে। বেশকিছু রাজনৈতিক দল; বিশেষ করে জামায়াত ও এনসিপি বলছে, সনদকে আইনগত কাঠামোয় আনার প্রয়োজন- যাতে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে বিএনপি সংসদের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পক্ষে, এখনই আইনি ভিত্তি চাইছে না।
জুলাই সনদ ঘোষণার তাৎপর্য ও সাফল্যের চ্যালেঞ্জ
জুলাই সনদ সাফল্যে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। রাজনৈতিক ঐকমত্য ও বাস্তব ভাবনা ছাড়া সনদ কার্যকর হবে না, যা অতীতে বহু প্রতিশ্রুতির মতো নথির মধ্যে মাত্র থেকে যায় বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন। এজন্য জনমতের অংশগ্রহণ জরুরি। স্থায়ী সমঝোতা ও জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া এটি কার্যকর হবে না বলে দেখা যাচ্ছে। সনদ চূড়ান্ত হলে এটি জাতীয়ভাবে ঘোষণা করা হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সইসহ এর বাস্তবায়ন সজ্ঞানে সামগ্রিক রূপে গৃহীত হবে। এটি বাস্তবায়নের শর্তÑ আইনগত স্বীকৃতি, রাজনৈতিক ইচ্ছা এবং জনগণের ভূমিকা। এর সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ থাকা নিষ্ঠার সঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সরকার এগুলো অনুসরণ করে কিনা, তার ওপর।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের গত ৫ আগস্ট মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে দেওয়া ‘জুলাই ঘোষণা’ একটি ঐতিহাসিক ভাষণ হিসেবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী পুনর্গঠন ও জাতীয় ঐকমত্য গঠনের প্রক্রিয়ায় বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
জুলাই সনদ ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক বছরের শাসন পূর্ণ করেছে। এ ঘোষণাপত্র ছিল একটি মূল্যায়নমূলক ভাষণ। এক বছরের অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও সংকল্পের পুনর্ব্যক্তি। ভবিষ্যতের রূপরেখা- রাজনৈতিক সংস্কার, সংবিধান সংশোধন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি। এটি ১৯৭১-এর ২৬ মার্চ, ১৯৯০-এর স্বৈরশাসনের পতনের পর ৬ ডিসেম্বরের ঘোষণার ধারাবাহিকতায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
ভাষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল: “এই জাতিকে একটি ন্যায্য, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে রূপান্তরের জন্য ‘জুলাই সনদ’ই হবে আমাদের জাতীয় চুক্তি।” সনদ বাস্তবায়নের জন্য দুই বছর সময়সীমা নির্ধারণ। সকল রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও জনগণকে ‘জাতীয় ঐক্য ও পুনর্গঠন’-এ যুক্ত হওয়ার আহ্বান। এ সনদ হবে ভবিষ্যৎ শাসনের ভিত্তি ও দায়বদ্ধতার কাঠামো।
প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা করেন: ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার, সব দল, শ্রেণি ও মতকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন স্বেচ্ছাশাসিত প্রশাসন কাজ করছে।’ এটি ক্ষমতা দখলের পরিবর্তে ক্ষমতা হস্তান্তরের রোডম্যাপ। তিনি স্পষ্ট করেন, ‘আমরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব না,’ যা এ সরকারের নিরপেক্ষতা জোরদার করে। এটি একটি ‘ট্রানজিশনাল গভর্ন্যান্স’-এর আদর্শ দৃষ্টান্ত, যা স্বেচ্ছাশাসনের মাধ্যমে হয়।
অর্থনৈতিক ও ভূ-কৌশলিক পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত রয়েছে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে। এতে‘স্বনির্ভর অর্থনীতি’ ও ‘নতুন কূটনৈতিক মেরুকরণ’- দুই দিকেই এ ঘোষণা স্পষ্ট সিগন্যাল দেয় যে, জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারতসহ সকল অংশীদারের সঙ্গে নতুন ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা হবে। এটি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের পথে অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণ ও কৌশলগত স্বাধীনতার ঘোষণা।
প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে ছিল একটি আদর্শিক অভ্যুত্থানকে প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতির দিকে রূপান্তর করার ডাক। এটি হলো গণতন্ত্রের কাঠামোগত সংস্কারের রূপরেখা, যেখানে নির্বাচন কমিশন, বিচারব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশ সংস্কারসহ বহু ক্ষেত্রে পুনর্গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
জাতীয় পুনর্মিলন ও ক্ষমার রাজনীতির ইঙ্গিত দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘যারা ভুল করেছে, তারা অনুতপ্ত হলে নতুন বাংলাদেশ তাদের জন্যও উন্মুক্ত।’ এটা একটি ইনক্লুসিভ রিকনসিলিয়েশন মডেল, যা দক্ষিণ আফ্রিকার ‘ট্রুথ কমিশন’-এর মতো উদাহরণকে স্মরণ করায়।
প্রশ্ন হলো- কেন এটি তাৎপর্যপূর্ণ? কারণ এটি রাজনৈতিক দিক থেকে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের রোডম্যাপ এবং নতুন এক সমাজ চুক্তি। আদর্শিকভাবে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনকে রাষ্ট্রচিন্তার মূলধারায় আনা। আইনিভাবে সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্যে ভিত্তি করে সনদের প্রতিশ্রুতি। কূটনৈতিকভাবে বৈশ্বিক মেরুকরণ থেকে কৌশলগত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার সংকল্প। আর সামাজিকভাবে জনগণ; বিশেষত তরুণদের রাষ্ট্র নির্মাণে কেন্দ্রে আনা।
সনদের কাঠামো : ছয়টি রূপান্তর ধারা
জুলাই সনদ সংলাপ থেকে পাওয়া চূড়ান্ত খসড়া অনুযায়ী, এ সনদে অন্তর্ভুক্ত থাকছে ছয়টি মৌলিক কাঠামোগত সংস্কার- ১. সংবিধান সংস্কার : রাষ্ট্রধর্ম প্রশ্ন, ক্ষমতার ভারসাম্য ও জনগণের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা। ২. নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কার : দল ও ব্যক্তি সমানভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে, নির্বাচন কমিশন হবে স্বাধীন। ৩. বিচারব্যবস্থা সংস্কার : জবাবদিহিমূলক ও দলনিরপেক্ষ বিচারিক কাঠামো, বিচারপতি নিয়োগে স্বচ্ছতা। ৪. প্রশাসন সংস্কার: দলমুক্ত ও জনবান্ধব প্রশাসনিক ব্যবস্থা; চাকরিতে স্থায়িত্ব, মেধাভিত্তিক পদোন্নতি। ৫. পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী সংস্কার : নির্যাতনমুক্ত, পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক বাহিনী গঠন। ৬. দুর্নীতি দমন ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ সুরক্ষা : স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বচ্ছ অর্থ ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল নজরদারি।
এসব বিষয়ের প্রতিটির জন্য পৃথক রোডম্যাপ প্রস্তুত করছে সংস্কার কমিশন, যা আগামী নির্বাচিত সরকারের জন্য বাধ্যবাধকতা হিসেবে কাজ করবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান
সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলসমূহের অধিকাংশ এ সনদের মূলনীতির সঙ্গে একমত। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, গণফ্রন্ট ও এনসিপি ইতোমধ্যেই সনদের খসড়া অনুমোদনের নীতিগত সমর্থন জানিয়েছে। তবে কিছু দল তাদের মতপার্থক্যসহ (‘নোট অব ডিসেন্ট’) সই করতে চায়। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্রদের অবস্থান এখনো অনিশ্চিত, যদিও জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জানিয়েছে, ‘কারও অনুপস্থিতি সনদ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে না’।
জুলাই সনদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- এটি আইনি বা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত নথিতে পরিণত করা হবে কিনা। বিএনপি চায়, ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী সরকার এ সনদের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করুক। অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপির মতো দল তাৎক্ষণিক আইনগত ভিত্তি চায়।
প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা করেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন (২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি) হবে ‘জুলাই সনদভিত্তিক নির্বাচনী কাঠামো’ অনুসরণ করে। এর মানে হলো- নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধি হবে সনদ অনুসারে। নিবন্ধিত দলগুলোকে সনদে স্বাক্ষরের শর্তে অংশগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন থাকবে দলনিরপেক্ষ। এ নির্বাচনকে ‘পুনর্গঠনের নির্বাচন’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
এ সনদকে অনেক বিশ্লেষক তুলনা করছেন ১৯৭১-এর স্বাধীনতার ঘোষণার আওয়ামী ব্যর্থতার পরবর্তী জাতীয় পুনর্গঠনের দলিল হিসেবে। তবে এবার এটি হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণে গঠিত একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রূপান্তর চুক্তি। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে বলেন, ‘এই সনদ হবে আমাদের নতুন বাংলাদেশ গড়ার দ্বিতীয় স্বাধীনতার দলিল- যেখানে লক্ষ্য শুধুই সরকার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কার।’
জুলাই সনদ শুধু একটি রাজনৈতিক চুক্তি নয়, এটি একটি নতুন রাষ্ট্রচিন্তার ভিত্তি। এটি একটি পথনির্দেশনা, যা দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণকে রাষ্ট্রের কেন্দ্রে নিয়ে আসতে চায়। ভবিষ্যতের সরকার, বিচারব্যবস্থা ও নির্বাচন- সবকিছুই যদি এ সনদের আলোকে গঠিত হয়, তবে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রব্যবস্থা এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।
ঐকমত্যের পথ কতটা সহজ?
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে আগামী ফেব্রুয়ারিতে বহুদলীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে তুলেছে, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণ এখনো কতটা চ্যালেঞ্জের মুখে।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, গণসংহতি আন্দোলনসহ জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা বেশিরভাগ দল এ ঘোষণাপত্র ‘গণআন্দোলনের অর্জনের ধারাবাহিকতা’ হিসেবে স্বাগত জানালেও তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে, নির্বাচন কেবল একটি ধাপ, পূর্ণ সংস্কার ও ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী কাঠামোগত পরিবর্তনই মূল লক্ষ্য।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নির্বাচন হলে ভালো, তবে তা সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে হতে হবে। ব্যবস্থার পুনর্গঠন ছাড়া শুধু নির্বাচন দিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না।’ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘এ নির্বাচন যেন পুরনো স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।’
সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে দলটির ঘনিষ্ঠ মহল এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের ঘোষণা আওয়ামী লীগকে নতুনভাবে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। শেখ রেহানার নেতৃত্বাধীন একটি পুনর্গঠিত ‘গণতান্ত্রিক ধারা’র আওতায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, “আওয়ামী লীগ হয়তো ‘নতুন নামে, নতুন মোড়কে’ ফের নির্বাচনী রাজনীতিতে ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে।”
গণঅধিকার পরিষদ, বাম জোট ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন নির্বাচনকে ‘দ্বিতীয়িক বিষয়’ হিসেবে চিহ্নিত করে বলছে, এ নির্বাচন যদি শুধুই ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া হয়, তবে তা জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। বিকল্পধারার কিছু দল এ ঘোষণাকে ইতিবাচক বললেও তারা ১৪ দফা জাতীয় সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন ছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ঘোষণা দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার একটি ইতিবাচক সিগন্যাল দিলেও রাজনৈতিক ঐকমত্যের পথ এখনো কণ্টকাকীর্ণ। ‘জুলাই সনদ’ ও ‘ঐকমত্য কমিশনের’ সুপারিশ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, দলীয় অর্থায়নের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার না হলে আগামীর নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণায় দেশে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে- যার গন্তব্য নির্বাচন নয়, বরং গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক একটি রাষ্ট্র কাঠামো। এ প্রক্রিয়া সফল করতে হলে সব পক্ষের অংশগ্রহণ, বিশ্বাসযোগ্যতা ও ঐকমত্যের ভিত্তি নিশ্চিত করা আবশ্যক। আগামী কয়েক সপ্তাহ হবে এ নির্ধারণের সময়- বাংলাদেশ কি নতুন যুগে পা রাখবে, নাকি পুরনো কৌশলের ফাঁদেই আটকে পড়বে।
কূটনৈতিক অংশীদারদের অবস্থান
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন আলোড়ন তৈরি হয়েছে, ঠিক তেমনি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে গভীর আলোচনা, পর্যবেক্ষণ ও প্রতিক্রিয়া। বহুমাত্রিক স্বার্থ, ভূরাজনৈতিক অবস্থান এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বিবেচনায় বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদার রাষ্ট্রগুলো এ ঘোষণাকে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়ন করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর জোর: ওয়াশিংটন বাংলাদেশে একটি ‘অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক এবং সহিংসতাবিহীন’ নির্বাচন চায়- এ অবস্থান একাধিকবার স্পষ্ট করেছে। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার যখন এক নতুন পথনকশা গ্রহণ করেছে, তখন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নির্বাচন ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এটি গুরুত্বপূর্ণ এক পদক্ষেপ, তবে চূড়ান্ত বিচার হবে নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর।’ যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার ও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন প্রস্তুতির কথাও আলোচনায় এসেছে, যা নির্বাচনের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
ভারতপন্থীদের ক্ষমতায়ন চায় দিল্লি: দিল্লি বাংলাদেশে ভারতবান্ধব সরকার চায়। যদিও জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে ভারত চুপ থেকেছে, নির্বাচন ঘোষণার পর তারা এর প্রতি কৌশলগতভাবে সমর্থন জানিয়েছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, ‘গণতান্ত্রিক রূপান্তরের এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত নির্বাচনে এমন ফল প্রত্যাশা করছে, যেখানে প্রতিবেশী সম্পর্ক অক্ষুণ্ন থাকে এবং চীন বা অন্যান্য প্রভাবশালী শক্তির তুলনায় তাদের ভূমিকা প্রধান থাকে।
ইইউ’র সংলাপ ও রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্ব: ইইউ বরাবরই গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতা, মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পক্ষপাতী। নির্বাচন ঘোষণার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এটি একটি অগ্রগতি, তবে নির্বাচন ব্যবস্থায় সকল দলের অংশগ্রহণ, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অপরিহার্য।’ ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে আগ্রহী, তবে তারা সংলাপকেন্দ্রিক অভিযাত্রাকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে; বিশেষত বিএনপি, জামায়াত, বাম ও জাতীয় প্ল্যাটফর্মসমূহের অবস্থান।
চীন বিনিয়োগ ও কৌশলগত স্বার্থে সচেষ্ট: বেইজিং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘সহযোগী প্রশাসন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ইতোমধ্যে চলমান অর্থনৈতিক প্রকল্পগুলোয় অগ্রাধিকার দিয়েছে। নির্বাচন ঘোষণায় চীনের প্রতিক্রিয়া বরাবরের মতো ‘অ-হস্তক্ষেপমূলক’ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককেন্দ্রিক ছিল। চীনা মুখপাত্র বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ যেকোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম। আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চলবে।’ চীন মূলত স্থিতিশীলতা ও অবকাঠামোগত অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে সরকার ব্যবস্থার ধরনে তেমন মাথা ঘামায় না, তবে তাদের নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে এ অঞ্চলে।
জাতিসংঘ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়: জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন- যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। নির্বাচনের ঘোষণাকে তারা ইতিবাচক আখ্যা দিলেও বাস্তবায়নের দিকে গভীর নজর থাকবে বলে জানিয়েছেন। জাতিসংঘের নির্বাচন সহায়তা ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের সম্ভাব্য প্রস্তুতিও আলোচনায় রয়েছে।
বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচন কেবল দেশীয় রাজনৈতিক ভারসাম্য নয়, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমীকরণেও একটি নির্ণায়ক মুহূর্ত। অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত নির্বাচন প্রক্রিয়া কোন দিকে মোড় নেয়- তা নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতের কূটনৈতিক অবস্থান, বাণিজ্যিক চুক্তি এবং সামগ্রিক গ্লোবাল ইমেজ। এ প্রেক্ষাপটে নির্বাচন শুধু একটি অভ্যন্তরীণ ঘটনা হবে না, বরং এক বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক পরীক্ষাও বটে।