হঠাৎ বৃদ্ধির পর কমেনি চালের মূল্য

সবজি কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে স্থিতিশীল মুদিপণ্য, মাছ-গোশত

স্টাফ রিপোর্টার
৩১ জুলাই ২০২৫ ১৪:৩০

স্টাফ রিপোর্টার : স্বল্পআয়ের মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে সবজির মূল্য। টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজধানীর বাজারগুলোয় বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। এখন যে মূল্যে সবজি বিক্রি হচ্ছে, কয়েকদিন পর এর চেয়েও বেশি মূল্যে বিক্রি করতে হবে- এমন আভাস দিচ্ছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, টানা বৃষ্টিতে অনেক সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। আরও বৃষ্টি হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। যদি তাই হয়, তাহলে ক্রেতাদের আরও বেশি মূল্যে সবজি কিনতে হতে পারে। এদিকে বাজারে কয়েক সপ্তাহ ধরে অতিনিত্যপণ্য আলু, পেঁয়াজ ও ডিমের মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। এসব নিত্যপণ্যের মূল্য তুলনামূলক অনেক কম রয়েছে। রাজধানীর বাজারগুলোয় মাছ ও গোশতের মূল্যও স্থিতিশীল রয়েছে।
রাজধানীর বাজারগুলোয় টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে, যা এক মাস আগেও ছিল ৮০-৯০ টাকার মধ্যে। গাঁজর কেজি প্রতি ১০০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৭০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, বরবটি, ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও ধন্দুল কেজিপ্রতি ৮০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কচুরলতি, পটোল ও লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। অন্যান্য সবজির মধ্যে প্রতি হালি কাঁচকলা ৪০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ টাকা, কচু ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি ফালি (এক কেজির কম বেশি) ৩০ টাকা হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।
শনির আখড়া কাঁচাবাজারে যাত্রাবাড়ী থেকে সাইবোর্ড পর্যন্ত কয়েক হাজার পরিবার নিত্যপণ্য কিনতে আসেন। ওই বাজারের মধ্যরাত পর্যন্ত সব ধরনের পণ্য পাওয়া যাওয়ায় বাজারও বেশ জমে থাকে। মাছ-গোশত থেকে শুরু করে সব ধরনের পণ্যই পাওয়া যায় সেখানে। এ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গরুর গোশত বিক্রি হচ্ছে আগের মূল্যেই। এখন প্রতি কেজি গুরুর গোশত কিনতে লাগছে মানভেদে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা পর্যন্ত। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৭০ থেকে (আকার ছোট-বাড়) ৩০০ টাকা কেজি। এখানে মাছের মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। নতুন করে কোনো মাছের মূল্য বাড়েনি। অবশ্য ইলিশ মাছের মূল্য আগে থেকেই আকাশছোঁয়া। এছাড়া সাধারণ মানুষ প্রতিদিন যেসব মাছ নিয়মিত ক্রয় করেন, সেসব মাছের মূল্য একদমই বাড়েনি। বরং চিংড়ি মাছের মূল্য কিছুটা কমেছে। ছোট চিংড়ি মাছের মূল্য এক সপ্তাহ আগেও ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হতো এখন সেই একই মানের চিংড়ি মাছ ক্রয় করা হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়।
বাজারে চালের মূল্যবৃদ্ধি হওয়ার পর এখন মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। নতুন করে আর মূল্য বাড়েনি। চিনি, তেলসহ সব মুদিপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। অন্যদিকে আদা-রসুনসহ সব মসল্লার মূল্যও স্থিতিশীল রয়েছে। নতুন করে কোনো মসল্লার মূল্য তেমন একটা বাড়েনি।
বেসরকারি চাকরিজীবী মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বাজারের চালের মূল্য কম ছিল, কিন্তু কুরবানি ঈদের পর কোনো কারণ ছাড়াই বাজারে সব ধরনের চাল বস্তাপ্রতি ২০০ টাকার মতো বেড়ে গেল। রয়েল ক্রাউন কাটারি নাজির চালের ২৫ কেজি ওজনের এক বস্তা চালের মূল্য কুরবানি ঈদের আগে ছিল ১৮৫০ টাকা। ঈদের সপ্তাহখানেক পর থেকে দাম বাড়তে শুরু করে। এখন এই একই ব্র্যান্ডের এবং একই ওজনের চালের মূল্য ২১০০ টাকা। অর্থাৎ ২৫ কেজিতে বেড়েছে ২৫০ টাকা। কেন বৃদ্ধি করা হলো এর কোনো ব্যাখ্যা সরকার অথবা কোনো ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। অজ্ঞাত কারণে এমন মূল্যবৃদ্ধি মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে।