জুলাই শহীদ দিবস পালিত
১৭ জুলাই ২০২৫ ১২:৫১
সোনার বাংলা রিপোর্ট : যথাযোগ্য মর্যাদায় গত ১৬ জুলাই বুধবার সারা দেশে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে শোক দিবস পালন করা হয়েছে। ২০২৪ সালের এদিনে ফ্যাসিস্ট হাসিনার নির্দেশে পুলিশের গুলিতে শাহাদাতবরণ করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। দিবসটিকে ঘিরে সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোসহ সরকারি ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। জুলাই শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। গত ১৫ জুলাই মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
রংপুরে আবু সাঈদের কবরে শ্রদ্ধা ও নানা আনুষ্ঠানিকতা: নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রংপুরে পালিত হয়েছে জুলাই শহীদ দিবস। গত বছর গণআন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের স্মরণে এ দিনটিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করা হয়। দিবসের শুরুতেই গত ১৬ জুলাই বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় রংপুরের পীরগঞ্জে জাফরপাড়ায় শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন রংপুরের জেলা প্রশাসক রবিউল ফয়সাল, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শওকাত আলী, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শওকাত আলী জানান, আবু সাঈদের আত্মদানের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কোনোদিন ভুলে যাবে না। তাঁর স্মৃতি নিয়ে কাজ করছে তারা। একই সাথে আবু সাঈদ হত্যার বিচার দ্রুত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বদা সক্রিয় ভূমিকা রাখার কথাও জানান তিনি। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন আবু সাঈদের বাবা-মা। দাবি করেন, ছেলে হত্যার বিচার এবং আবু সাঈদের সম্মানার্থে দিবসের স্বীকৃতির। এছাড়া সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কালো ব্যাজ ধারণ করে একটি শোকর্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় উদ্বোধন করা হয় আবু সাঈদ তোরণ ও মিউজিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর এবং ১০টা ১৫ মিনিটে তার নিহত স্থানে ‘আবু সাঈদ চত্বর’ ঘোষণার মাধ্যমে একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের কাজ শুরু হয়। সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, যেখানে উপস্থিত ছিলেন সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টা। তাদের মধ্যে ছিলেন আইন ও বিচার সংসদের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল, শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই আজম বীরপ্রতীক। দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল বিকেল ৩টায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং বিকেল সাড়ে ৫টায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল।
শহীদ আবু সাঈদের স্মরণে দিনব্যাপী নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও বিশেষ কর্মসূচি পালন করেছে। জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করেছে এবং টেলিভিশন ও বিভিন্ন ইলেক্ট্রিকস মিডিয়া বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে। উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় ঐক্যের প্রত্যয়ে সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।