ভোটাধিকার রক্ষার সত্যিকারের নির্বাচন চাই
১০ জুলাই ২০২৫ ১১:২০
ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিগত দেড় দশকে দেশের গণতান্ত্রিক সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণে ফ্যাসিস্টদের অপছায়া গত বছরের ৫ আগস্টের পর পরই জাতি অবাক বিস্ময়ে প্রত্যক্ষ করেছে এবং করছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের পতন ও শীর্ষনেতাদের পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আগে ক্ষমতায় থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সুবিধাবাদী একটি অংশ দেশটাকে আগের ফ্যাসিস্টদের মতো বাপ-দাদার তালুক ভেবে অত্যাচারী জমিদারের মতো কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করে। ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে সাথে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার এজেন্ডা বাদ দিয়ে নব্য স্বৈরাচারী শাসন কায়েমের নীলনকশা আঁকতে থাকে। ৩৬ জুলাই আন্দোলন-সংগ্রামের সহযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে পতিত ফ্যাসিস্ট এবং তাদের একমাত্র পৃষ্ঠপোষক ভারতের সাথে যোগাযোগ করে যেনতেনভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার ছক আঁকে। রাষ্ট্র সংস্কার, নতুন সংবিধান রচনা, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার ও ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিরোধিতা করতে গিয়ে তাদের লুকানো তীক্ষè নখ বের করে। স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদরাসার মতো সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠন, হাট-বাজার, টোলপ্লাজাগুলোর ইজারাসহ সরকারি সব সুযোগ-সুবিধায় তাদের একক দাবি প্রতিষ্ঠা করতে বন্ধুপ্রতিম দলগুলোর সাথেই শুধু নয়, নিজ দলের নেতাকর্মীদের ওপরও চড়াও হয়। মিটিং-মিছিলে হামলা, অফিসে হামলা-ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ; এমনকি কুরআনের মতো পবিত্র ধর্মগ্রন্থ অবমাননা করতেও তাদের হাত কাঁপে না।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা; এমনকি থানা ঘেরাও করে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটায়। এমন অবস্থায় জাতীয় নির্বাচন দিলে তারা যে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের এজেন্ট, ভোটার এবং প্রিসাইডিং, পোলিং অফিসারদের পণবন্দি করে ভোট ছিনতাই করে ৩৬ জুলাই বিপ্লবের চেতনা হত্যা করবে, এতে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই। তাই আমরা মনে করি, যেনতেন নির্বাচন হলে দেশের ব্যাপক ক্ষতি হবে। পতিত ফ্যাসিস্টরা এ সুযোগে তাদের পুনর্বাসনের দুঃস্বপ্নে বিভোর হবে, যা দেশ জাতির জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে না। বরং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হবে। তাই রাষ্ট্র সংস্কার ও সংবিধান রচনার মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের আগে নির্বাচন নয়। নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে কতটা সক্ষম, তা দেখতে জুলাই বিপ্লবী রাজনৈতিক দলগুলোর মতো আমরাও মরে করি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের সেই পরীক্ষা হয়ে যাক। ততদিনে রাজনৈতিক দলগুলোও গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারে অভ্যস্ত হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। আমাদের মনে রাখতে হবেÑ আইনশৃঙ্খলার উন্নতির জন্য রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা বাড়াতে হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর মতো আমরাও মনে করি, নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ নয়। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোকেও এ বিষয়ে প্রস্তুত থাকতে হয়। কিন্তু সেই প্রস্তুতি এখনো দৃশ্যমান নয়।
তাই আমরা আর ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪-এর মতো ভোটার বঞ্চিত করার নির্বাচন নির্বাচন নাটকের মাধ্যমে কোনো জমিদার ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সরকার গঠন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার লাইসেন্সের আয়োজন চাই না। সংস্কারসহ সব প্রস্তুতি ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পর ভোটাধিকার রক্ষার সত্যিকারের নির্বাচন চাই।