শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল
১৯ জুন ২০২৫ ১১:৪৬
স্টাফ রিপোর্টার : চার ধরনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধের জন্য বিভাগীয় মামলা ছাড়াই শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে চাকরিচ্যুত করা যাবে- এমন বিধান রেখে গত ২৫ মে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫’ জারি করা হয়। এর আগে গত ২২ মে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অধ্যাদেশটির খসড়া অনুমোদন হয়। ২৪ মে থেকেই আইনটি প্রত্যাহারের দাবিতে সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব সংগঠন সম্মিলিতভাবে আন্দোলন করে আসছে। তারা এ অধ্যাদেশটিকে নিবর্তনমূলক ও কালো আইন হিসেবে অবহিত করছেন। ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিলের দাবিতে গত মাসে শুরু হওয়া এ আন্দোলন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এরই অংশ হিসেবে গত ১৮ জুন বুধবার দুপুরে এ রিপোর্ট লেখার দিনেও সচিবালয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে, আন্দোলনে থাকা সরকারি কর্মচারীরা।
গত ১৮ জুন বেলা ১১টার পর আন্দোলনকারীরা সচিবালয়ে ৬ নম্বর ভবনের সামনে বাদামতলায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। এরপর তারা মিছিল নিয়ে সচিবালয় চত্বর প্রদক্ষিণ করেছেন। সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরামের নেতৃত্বে এ আন্দোলন চলমান রয়েছে। জানা গেছে, অন্যান্য দিনের চেয়ে ১৮ জুনের বিক্ষোভ মিছিলে কর্মচারীদের সংখ্যা ছিল খুবই কম।
ঈদের ছুটির পর গত সোমবার (১৬ জুন) ফের আন্দোলনে নামেন সচিবালয়ের কর্মচারীরা। গত ১৭ জুনও তারা সচিবালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। ১৭ জুন ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫’ বাতিলের দাবিতে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কর্মচারী নেতারা। দ্রুত অধ্যাদেশটি বাতিল না করলে তারা দেশের আট বিভাগে সম্মেলন করবেন। সেখান থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে। সম্মেলনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শিগগির প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন কর্মচারী নেতা নুরুল ইসলাম।
১৭ জুন মঙ্গলবার বেলা ১১টায় কর্মচারীরা সচিবালয়ে ৬ নম্বর ভবনের সামনে বাদামতলায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। এরপর তারা মিছিল নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নতুন ভবনের নিচে যান। সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সমাবেশ শেষে তারা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বরাবর স্মারকলিপি দেন।
গত ১৭ জুন সচিবালয়ে বিক্ষোভ চলাকালে কর্মচারী নেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, আমরা আঙুল এখনো সোজা রাখছি, বাঁকা করলে খবর আছে। বিক্ষোভ সমাবেশে ঐক্য ফোরামের কো-চেয়ারম্যান মো. বাদিউল কবীর ও মো. নুরুল ইসলাম, কো-মহাসচিব মো. নজরুল ইসলামসহ অন্য নেতারা অংশ নেন। কর্মচারী নেতা নজরুল ইসলাম বলেন, আইন উপদেষ্টার নেতৃত্বে গঠিত কমিটি চাকরি অধ্যাদেশ সংশোধনের সুপারিশ করবেন বলে আমরা শুনেছি। কিন্তু আমরা সেটি মেনে নেব না।