সম্পাদকীয়

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা কার্যকর করে এখনই মশকনিধন শুরু করুন


১০ এপ্রিল ২০২৫ ১৩:২৫

মশক নিধনের কথা অনেক সময়ই সরকার, স্থানীয় সরকার ও অন্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলো ভুলে যায়। অতি ক্ষুদ্র প্রাণী, তাই হয়তো অনেক ক্ষেত্রে বড় বড় কর্তাব্যক্তিরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে চান না। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মানুষের মৃত্যুর কারণ ভয়ঙ্কর প্রাণীর তালিকায় মশার অবস্থান এক নম্বরে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মশাই বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাণী। ম্যালেরিয়ার মতো রোগ ছড়িয়ে এ পতঙ্গটি প্রতি বছর ৭ লাখ ২৫ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটায়। অবশ্য শুধু স্ত্রী মশাই কামড়ায়। বিশেষ করে আফ্রিকায় ম্যালেরিয়া পরিস্থিতি খুবই খারাপ। অঞ্চলটিতে প্রতি বছর ম্যালেরিয়ায় যত মানুষের মৃত্যু হয়, তা বিশ্বের মোট মৃত্যুর ৯৫ থেকে ৯৬ শতাংশ। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে মশার উপদ্রব বেড়েছে। ইতোমধ্যেই রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ডেঙ্গুর চোখরাঙানি, কিউলেক্সের যন্ত্রণা শুরু হয়েছে। কীটতত্ত্ববিদরা মনে করেন, বৃষ্টি শুরুর আগেই যদি এডিস মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাহলে বর্ষায় মশার উপদ্রব কম হবে। কিন্তু সেই লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। শুকনো মৌসুমেও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ি, স্থাপনায় পাওয়া যাচ্ছে এডিস মশার লার্ভা, মিলছে পূর্ণ বয়স্ক মশাও। এ বছর প্রথম তিন মাসে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা মাথায় রেখে বর্ষার আগেই এডিস মশার এ উপস্থিতিকে আশঙ্কাজনক বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এজন্য মশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। প্রতি বছরই রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগী আক্রান্ত হয়ে অনেক নাগরিক মারা যান।
আমরা জানি, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ডেঙ্গুর সংক্রমণ হয় ১৯৬০ সালের দিকে। এরপর কেটে গেছে চার দশক। তারপর ২০০০ সালের জুন মাসে ডেঙ্গু সর্বপ্রথম মহামারি আকারে দেখা দেয় বাংলাদেশে। সে বছর মোট ৫ হাজার ৫৫১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন, যার মধ্যে মারা যান ৯৩ জন। ২০২৩ সালে এসে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। গত ২০২৩-এর ভয়াবহতা বিবেচনায় ২০২৪-এ আগে থেকেই বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ায় এ বছরে আক্রান্তের হার অনেক কমেছিল। মৃত্যুর সংখ্যাও অনেক কম। ২০২২ সাল পর্যন্ত ২৩ বছরে দেশে ডেঙ্গুতে মোট মারা গেছেন ৮৬৮ জন। কিন্তু ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ হার অবিশ্বাস্য এ সময় মারা গেছেন এক হাজারেরও বেশি মানুষ। এ সময়ের মাঝে ২০২৩ সালের আগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গিয়েছিল কোভিডের আগের বছর ২০১৯ সালে। ঐ বছর সারা দেশে মোট ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন, মারা যান ১৬৪ জন।
২০১৯-এর সাথে এ বছরকে তুলনা করলে দেখা যায়, সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে দশগুণ। সেইসাথে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে তিনগুণ।
আমরা মনে করি, বাংলাদেশের এ পরিণতির পেছনে গত দেড় দশকের চলমান অপরিকল্পিত নগরায়ণ, মশক নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা, স্বাস্থ্য খাতের দুরবস্থাসহ বেশকিছু কারণ রয়েছে। আমরা আশা করি, দেশের জনস্বাস্থ অধিদপ্তর, সিটি কর্পোরেশনসহ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা কার্যকর ও সক্রিয় করার মাধ্যমে এখনই মশকনিধন কার্যক্রম শুরু করতে হবে। তা না হলে পরিণতি হবে ভয়াবহ, যা কারো কাম্য নয়।