গাজায় ইসরাইলি নৃশংস গণহত্যার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ

নতজানু নীতি পরিহার করে ওআইসিকে গর্জে উঠতে হবে–মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল


১০ এপ্রিল ২০২৫ ১২:২০

ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘের পরিবর্তে নতুন সংঘ গঠিত হতে পারে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন, জাতিসংঘের নীরব ভূমিকায় মুসলিম উম্মাহ ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ। মুসলমানদের হত্যা করা হলে কোনো মানবাধিকার থাকে না! বিশ্ব মোড়লরা মুসলমানদের মানুষই মনে করে না। তাদের বিরুদ্ধে মুসলিম উম্মাহ গর্জে উঠলে কেউ রক্ষা পাবে না। ইসরাইলকে ছিন্নভিন্ন করতে না পারা ইসলামী রাষ্ট্র নেতাদের ব্যর্থতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২শত কোটি মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্বে যারা রয়েছে, ইহুদিদের প্রতি তাদের আনুগত্যশীলতা প্রকাশ পাচ্ছে। ইহুদিদের প্রতি নতজানু নীতি পরিহার করে ইসলামী আদর্শে অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে তিনি ইসলামী রাষ্ট্রপ্রধান এবং ওআইসির প্রতি আহ্বান জানান।
গত সোমবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে ‘গাজায় ইসরাইলি নৃশংস গণহত্যা ও বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেনের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি শামছুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন খান, মাওলানা ফরিদুল ইসলাম, ডা. আতিয়ার রহমান, আবদুস সালাম, মাওলানা মোশাররফ হোসেন, ড. মোবারক হোসেন, কামরুল আহসান হাসান, শাহীন আহমদ খান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সহকারী সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমনসহ মহানগরীর নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে শেষে জননেতা মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীসহ হাজার হাজার তাওহিদী জনতা বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিজয়নগর হয়ে কাকরাইল মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত পথসভার মাধ্যমে কর্মসূচি সম্পন্ন করে।
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, মানবতাবিরোধী নেতানিয়াহু মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোড়া। নেতানিয়াহুর নিদের্শে ফিলিস্তিনের অগণিত বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করা সত্ত্বেও জাতিসংঘ চুপ করে বসে রয়েছে। অনতিবিলম্বে জাতিসংঘ কর্তৃক ইসরাইলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।
ফিলিস্তিনের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শুধু পতাকা উত্তোলন নয়, ইসরাইলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে কঠোর জবাব দিতে হবে উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা শান্তিতে নোবেল বিজয়ী। তিনি বিশ্বের কাছে শ্রদ্ধা এবং আস্থার এক মহান ব্যক্তি। তাই বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসরাইলি হামলা বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণ করার আহ্বান জানান নূরুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসরাইল যুদ্ধ বন্ধ না করলে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে ইসরাইলের নাম মুছে দিতে হবে। এজন্য ২শত কোটি মুসলিমকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কান্নাজড়িতকণ্ঠে নূরুল ইসলাম বুলবুল বিশ্ব নেতৃত্বের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, বোমার আঘাতে মানুষের দেহ যখন ছিন্নভিন্ন হয়ে বাতাসে উড়ে জমিনে পড়ে, সেই দৃশ্য কোন মানবতার অংশ? তিনি ধর্মের ভিত্তিতে বিশ্ববাসীকে মূল্যায়ন না করে, মানুষ হিসেবে বিশ্বের সকল মানুষকে সমান মূল্যায়ন করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. খলিলুর রহমান মাদানী বলেন, ইহুদি গোষ্ঠী আশ্রয়ের জন্য আরব ভূখণ্ডে এসেছে। মুসলিমরা দয়া দেখিয়ে তাদের আশ্রয় দেওয়ার পর তারা ইসরাইল রাষ্ট্র গঠন করে। ফিলিস্তিন দখল করে নেওয়ার উদ্দেশ্যে আমেরিকার মদদে ফিলিস্তিনে বর্বরোচিত নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছে ইসরাইল। তিনি ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতি আহ্বান জানান।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, মুসলিম উম্মাহ যখন ঈদুল ফিতরের উৎসবে ঠিক সেই সময় সন্ত্রাসী ইসরাইল গোষ্ঠী ফিলিস্তিনের বেসামরিক লোকজনের ওপর এমনভাবে হামলা চালিয়েছে, লোকজনের লাশ পাখির মতো আকাশে উড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে জমিনে পড়েছে। এমন নিকৃষ্টতম ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। তিনি ইসরাইলের বিরুদ্ধে লংমার্চ করার প্রস্তুতি নিতে মুসলিম উম্মাহর প্রতি আহ্বান জানান।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করে ইসরাইল সন্ত্রাসী কায়দায় ফিলিস্তিনে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। ফিলিস্তিনের রাফাহ্ শহর নিঃশেষ করার প্রতিবাদে মুসলিম উম্মাহর উচিত ইসরাইলকে নিঃশেষ করে দেওয়া। ইসরাইলের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে পারলে ইসরাইল দুর্বল ও নিঃশেষ হয়ে যাবে। এজন্য তিনি ইসরাইলের সকল পণ্য ইসলামী রাষ্ট্রগুলোয় বয়কট করার আহ্বান জানান।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ইসরাইল ফিলিস্তিনের বেসামরিক লোকজনের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে এ পর্যন্ত ৬১ হাজার বেসামরিক লোকজনকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ইসরাইলের পণ্য বয়কট করার মাধ্যমে সন্ত্রাসী ইসরাইল গোষ্ঠীকে দুর্বল করতে মুসলিম উম্মাহর প্রতি আহ্বান জানান। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান বলেন, বায়তুল মোকাদ্দাস রক্ষা করা মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব। ইসরাইলের বিরুদ্ধে জিহাদ করা মুসলমানদের জন্য ফরজ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।