প্রশাসনজুড়ে স্থবিরতা, গতি নেই

প্রিন্ট ভার্সন
২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:০৭

সুবিধাবাদী আমলাদের ক্ষমতা প্রত্যাশীদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা
সন্ত্রাসী-অস্ত্র উদ্ধার আশাব্যঞ্জক নয়
বিগত আওয়ামী দলীয়করণের খেসারত দিচ্ছে প্রশাসন

॥ সাইদুর রহমান রুমী ॥
নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র কিছুদিন বাকি। তার আগেই প্রশাসনে কাজে নেমে এসেছি স্থবিরতা, কোনো গতি নেই। কোনোরকমে চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। আমলাতন্ত্র আর ‘লালফিতা’র দৌরাত্ম্য এবং হয়রানি রয়ে গেছে প্রায় আগের মতোই। নির্বাচনপূর্ব সময়ে প্রশাসন; বিশেষ করে পুলিশ বিভাগে গতিহীন কার্যক্রমে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের কাউন্টডাউন। নতুন সরকারকে বরণের প্রস্তুতিও চলছে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়সহ বিভিন্ন দপ্তর ও অধিদপ্তরে। তবে পরবর্তী সরকার কে বা কোন দলের হবে, সে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে পুলিশসহ বেসামরিক প্রশাসনে। আর এ কারণেই কাজের চেয়ে আগামী সরকারের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন অনেকে। পুলিশ তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রুটিন কিছু কাজ নিয়ে আছে। তবে রুটিন কাজ চললেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধিকাংশ কর্মকর্তা আড্ডায় পার করছেন সময়।
সংস্কার কাজে নেই গতি : স্থবির প্রশাসন
অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত বিভিন্ন সংস্কার কমিটির সুপারিশের অধিকাংশেরই কোনো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষ এবং জুলাই সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো হতাশায়। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, এ সংস্কারগুলোর বাস্তবায়ন করতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আমলাদের মাঝে আগ্রহ নেই বললেই চলে।
জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাজকর্ম কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছেÑ এমন আলোচনা আছে সচিবালয়সহ প্রশাসনের সর্বস্তরে। মন্ত্রণালয়ের সভা কিংবা বৈঠকগুলোয়ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় বিষয়টি উঠে আসছে। বিশেষ করে পরবর্তী সময়ে কারা দেশ পরিচালনা করবেন, সেই আলোচনা প্রশাসনের গণ্ডি পেরিয়ে বাইরেও ছড়াচ্ছে। এ কারণে অনেকেই পরবর্তী সরকারের কাছাকাছি যাওয়ার রাস্তা খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। প্রশাসনের মধ্যে কারা প্রভাবশালী বা কোন দলের সমর্থক, সেটি বিবেচনায় নিয়ে তাদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনের অজুহাতে জনসেবা প্রদান কিংবা রুটিন কাজে শৈথিল্য প্রদর্শনের কোনো সুযোগ নেই। রুটিন কাজ না করে ফেলে রাখাও এক ধরনের অপরাধ। তারা আরও বলছেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা সরকারের স্থায়ী অংশ। কে ক্ষমতায় আছে বা কে ক্ষমতায় আসবেন, তা দেখা কর্মচারীর কাজ না। তাদের উচিত অর্পিত দায়িত্ব আইন ও বিধিবিধানের আলোকে পালন করা। নির্বাচনী আইনে কোথাও বলা নেই তফসিল ঘোষণা করলে সেবা বা স্বাভাবিক কাজ বন্ধ রাখতে হবে।
জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে বিশাল সুযোগ তৈরির পরও প্রশাসনিক সংস্কার না হওয়ার জন্য সরকারের দুর্বল পদক্ষেপ ও আমলাতন্ত্রের ওপর অতিমাত্রায় ভরসা করাকে দায়ী করছেন সাবেক আমলারা। পাশাপাশি আমলাতন্ত্রকে নিজেদের পক্ষে নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর অসুস্থ প্রতিযোগিতাকেও দায়ী করছেন তারা।
শক্ত অবস্থান নিয়ে প্রশাসনের কাজে গতি ফেরাতে পারেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বড় কোনো নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আমলাদের মধ্যে একটি অংশ সরকারকে সহযোগিতা করছে না বলে সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া একাধিকবার জানিয়েছেন। কিন্তু এরপরও গতি আসেনি কাজে। গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকার কাজগুলো এগোচ্ছে ধীরগতিতে।
ক্ষমতা প্রত্যাশীদের কাছে ঘেঁষার চেষ্টায় প্রশাসন
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলেন, তিন ধারায় বিভক্ত প্রশাসন দেশ ও জাতির স্বার্থ রক্ষার চেয়ে পদোন্নতি, পদায়ন ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে পুরো সময় পার করছে। সম্ভাব্য ক্ষমতাসীনদের কাছে ঘেঁষে পদ টিকিয়ে রাখা ও নতুন পদে বসার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে।
তবে প্রশাসনের সব স্তরে স্থবিরতা বিরাজ করছে এমনটি মানতে নারাজ অনেকে। তারা বলেন, সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে বর্তমান প্রশাসন। সবাই এখন নির্বাচনমুখী হওয়ায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম মনে হতে পারে।
মূলত জনপ্রশাসনকে অন্তর্বর্তী সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে মুয়ীদ কমিশন এমন অভিযোগ প্রশাসনের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের। জনপ্রশাসনকে সরকার থেকে দূরে ঠেলে দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশনের অপরিপক্ব ও অন্যায্য প্রস্তাবনাকে দায়ী করেন তারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জুলাই বিপ্লবে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। এর কয়েক দিনের মাথায় গণমুখী, জবাবদিহিমূলক, দক্ষ ও নিরপেক্ষ জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে সাবেক সচিব আবদুল মুয়ীদ চৌধুরীর নেতৃত্বে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। এ কমিশন ওই বছরের ১৭ ডিসেম্বর সচিবালয়ে একটি সভায় খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করে। এতে বলা হয়, পরীক্ষা ছাড়া সিভিল সার্ভিসের উপসচিব এবং যুগ্ম সচিব পর্যায়ে কেউ পদোন্নতি পাবেন না। পাশাপাশি উপসচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য ৫০ এবং অন্য ক্যাডার থেকে ৫০ শতাংশ কর্মকর্তাদের নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা ৭৫ শতাংশ এবং অন্য ক্যাডার থেকে ২৫ শতাংশ কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়ে থাকেন। এছাড়া জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মতো স্বাস্থ্য ও শিক্ষাকে ক্যাডার সার্ভিস থেকে আলাদা করার প্রস্তাব করা হয় ওই খসড়ায়। সেইসঙ্গে প্রশাসন ক্যাডারের বাইরে ২৭টি ক্যাডারকে পাঁচটি গুচ্ছ ক্যাডার করে সুপারিশ করার কথা বলা হয় খসড়া প্রস্তাবনায়। মূলত ঝামেলা হয় এ প্রস্তাবকে কেন্দ্র করেই। তখনই গুপ্ত আওয়ামী লীগ সক্রিয় হয়ে ওঠে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মুয়ীদ কমিশনের এ প্রস্তাব প্রশাসন ক্যাডারের সব স্তরের কর্মকর্তাদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। নিজেদের মধ্যকার ভেদাভেদ ভুলে সবাই নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় এক কাতারে চলে আসে এবং খসড়া প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এক্ষেত্রে শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরশাসনকে টিকিয়ে রেখে সুবিধা নেওয়া কর্মকর্তা এবং ওই আমলের বঞ্চিত ও হয়রানির শিকার কর্মকর্তাদের মাঝখানের দেয়ালটি আর থাকল না। একপর্যায়ে জনপ্রশাসনে অচলাবস্থার তৈরি হয়।
ঢিলেঢালা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
দেশে গত এক বছরে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রে রাজনৈতিক সহিংসতায় আড়াই শতাধিক বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়। নিহত হয় শতাধিক ব্যক্তি। এসব ঘটনায় জুলাই গণআন্দোলনের সময় বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রয়েছে বলে অনেকে ধারণা করছেন। এতে আওয়ামী দোসর ক্যাডারদের সাথে আন্ডারওয়ার্ল্ড ও দলীয় পুলিশ সদস্যদের যোগসাজস পরিস্থিতিকে ভয়ংকর করে তুলছে। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাইযোদ্ধা শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে খোদ রাজধানীতে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যার ঘটনা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এর বাইরে দেশব্যাপী গুলিতে আরো অনেক রাজনৈতিক নেতাকর্মী নিহত হন।
গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরিস্থিতি উপ্তত্তের মাধ্যমে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে দেশে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ অস্ত্র ঢুকছে। তারপরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেমন যেন খাপছাড়া। জুলাই আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও পুলিশি স্থাপনা থেকে ৫ হাজার ৭৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে গণভবন থেকে লুট হওয়া স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৩২টি ভয়ংকর অস্ত্রও রয়েছে। এর মাঝে এখনো ১ হাজার ৩৩৫টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। আর ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৮৯টি গুলি এখনো উদ্ধার করা যায়নি।
ধারণা করা হচ্ছে এর সঙ্গে থানা থেকে লুট হওয়া পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় এসব অস্ত্র অপরাধীর হাতে চলে গেছে। এসব অস্ত্রে হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করার প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু এতদিন পরও এসব অস্ত্র গুলি উদ্ধার না হওয়া সরকারের প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা মনে করছেন সবাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, শেখ হাসিনা পলায়নের পর পুলিশ এখনো জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। পুলিশ এখানো ভয়ভীতির মধ্যে আছে। ফলে কোথাও কোনো বড় ঝামেলা হলে অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ যেতে চায় না। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সরকার না থাকায় পুলিশ কর্মকর্তারা এখন নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না। তারা ঝুঁকি নিয়ে কোনো কাজ করতে অনাগ্রহী। নিজ থেকে দায়িত্ব নিয়ে কেউ কোনো কিছু করতে চাইছেন না।
অতীতের দলীয়করণের খেসারত দিচ্ছে প্রশাসন
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিগত ১৭ বছর প্রশাসনে যোগ্য নিরপেক্ষ লোক না দেয়ায় পদে পদে সমস্যায় পড়ছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। শক্ত অবস্থান নিয়েও প্রশাসনের কাজে গতি ফেরাতে পারেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে বড় বড় কোনো নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা এ চক্রটি আবার ক্ষমতা প্রত্যাশী বিএনপির নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সচিব ইমরুল কায়েস মিয়া বলেন, বর্তমান সরকারের কাছ থেকে দেশের মানুষ পরিবর্তন আশা করেছিল। কিন্তু তারা নিজেদের লোক না চেনায় দলীয় সরকারের চেয়ে অনেক পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। মেরামতের পরিবর্তে প্রশাসনে আরও বিশৃঙ্খলা ও বিভাজন তৈরি হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগের চেয়ে কাজ অনেক কমে গেছে। বলা যায়, কাজই নেই। তিনি বলেন, অফিসে আসি, বন্ধুরা আসেন, গল্প-গুজব-আড্ডা হয়, এরপর বাসায় চলে যাই। মাঝেমধ্যে মিটিং থাকলে অংশ নিই। সবাই মূলত নতুন সরকারের আগমনের অপেক্ষা করছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কাজ নেই। শুধু আসা-যাওয়ার পালা। এলেও সিনিয়র-জুনিয়র মিলে আড্ডা হয়। পাশাপাশি কারা ক্ষমতায় আসছেন, সে বিষয়েও চলে নানারকম গবেষণা। একই মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব বলেন, নতুন সরকার না আসা পর্যন্ত কাজে আর গতি আসবে না।
তবে প্রশাসনেরে সব স্তরে স্থবিরতা বিরাজ করছে এমনটি মানতে নারাজ খাদ্য মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসন সাজানোর দায়িত্ব পালনকারী এ উপদেষ্টা গণমাধ্যমকে বলেন, প্রশাসনে আমরা কোনো ধরনের স্থবিরতা দেখতে পাচ্ছি না। সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে বর্তমান প্রশাসন। সবাই এখন নির্বাচনমুখী হওয়ায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম মনে হতে পারে।

সাইদুর রহমান রুমী

সম্পর্কিত খবর