ভারতীয় গরু আসা বন্ধ থাকায় খুশি খামারিরা
৪ জুন ২০২৫ ১৩:০১
আবু সাইদ বিশ্বাস, সাতক্ষীরা: সীমান্তপথে ভারতীয় গরু আসা বন্ধ থাকায় এবার কুরবানির ঈদে দেশীয় গরুর বেশ চাহিদা বেড়েছে। পারিবারিক খামারের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে বাণিজ্যিক খামার। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে হাজারো যুবকের। এতে বেশ খুশি খামারিরা। তবে চাহিদার তুলনায় পশুর জোগান বেশি থাকায় কাক্সিক্ষত দাম নিয়ে শঙ্কায় জেলার কয়েক হাজার খামারি। চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত ১৫ হাজার ২৮৮টি কুরবানির পশু মজুদ রয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবারে কুরবানির জন্য গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৫ হাজার ৩১৮টি। চাহিদার বিপরীতে পশু প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ৬০৬টি। ফলে বাজারে পশুখাদ্য এবং পশু পরিচর্যা ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় আশানুরূপ দাম পাওয়ার ব্যাপারে খুব বেশি আশাবাদী না খামারিরা।
এদিকে কুরবানির ঈদ সামনে রেখে কাক্সিক্ষত দাম পাওয়ার আশায় শেষ মুহূর্তে পশু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার খামারিরা। গমের ভুসি, ভুট্টা, পালিশ, সয়াবিন খৈল এবং নিজেদের চাষ করা ঘাসসহ অর্গানিক খাবার খাইয়ে গরু মোটাতাজা করছেন তারা। ইতোমধ্যে গরু বিক্রি শুরু হয়েছে। এবার বড় গরুর তুলনায় ছোট গরুর চাহিদা বেশি। তবে জেলায় চাহিদার তুলনায় পশুর জোগান বেশি থাকায় কাক্সিক্ষত আয় নিয়ে শঙ্কা রয়েছে অনেকের মনে।
খামারিরা জানান, গত বছর খাবারের মূল্য কম থাকায় আমরা লাভবান হয়েছিলাম। এবার খাবারের দাম বেশি। তবে ভারত থেকে গরু না এলে এবারও লাভবান হতে পারবেন বলে আশাবাদী খামারিরা। দেবহাটার একটি গরুর খামারের মালিক আল ফেরদৌস আলফা জানান, তার খামারে ছোট বড় মিলে মোট ৬৭ টি গরু ছিল। ইতোমধ্যে তার খামারের ১৫টি দেশি জাতের ছোট ‘গরু বিক্রি হয়ে গেছে। তবে বড় গরুর তুলনায় এবার ছোট গরুর চাহিদা বেশি।
কয়েকজন ক্রেতা জানান, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় এবার দাম কম হবে প্রত্যাশা ছিল। তবে ক্রেতাদের কেউ বলছেন, গত বছরের চেয়ে এবার দাম একটু বেশি। আবার কেউ বলছেন, তুলনামূলকভাবে কম। তবে কুরবানির পশুর সরবরাহ রয়েছে বেশ ভালো। এজন্য পশু কিনতে আরো বেশ কিছুদিন দেরি করতে হবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) ডা. বিষ্ণুপদ বিশ্বাস বলেন, এ বছর জেলায় খামারির সংখ্যা ১২ হাজার ৮৯৪। এসব খামারে ৪৯ হাজার ১৯৯টি গরু, ১ হাজার ১৮২টি মহিষ, ৪৪ হাজার ৫৪টি ছাগল, ৬ হাজার ১৫৬টি ভেড়া এবং অন্যান্য ১০টিসহ ১ লাখ ৬০৬টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। এ বছর জেলায় কুরবানি হতে পারে ৪২ হাজার ৩৫২টি গরু, ৬১৬টি মহিষ, ৩৮ হাজার ৮৫০টি ছাগল এবং ৩ হাজার ৫০০টি ভেড়াসহ মোট ৮৫ হাজার ৩১৮টি। সেই হিসাবে ১৫ হাজার ২৮৮টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ২ থেকে ৩% কুরবানির পশু বেড়েছে। কাজেই কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। তিনি আরও বলেন, এবার সীমান্ত পেরিয়ে কোনো গরু আসবে না। এক্ষেত্রে সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। তারপরও চোরাইপথে কিছু ঢুকলেও প্রান্তিক চাষিদের তেমন কোনো সমস্যা হবে না বলে মনে করেন তিনি।