সম্পাদকীয়

ইউরোপ-আমেরিকার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে ফ্যাসিস্টদের কঠোর হাতে দমন করুন


৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:৩৭

জুলাই আন্দোলনের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ প্রত্যেক ছাত্র-জনতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তারা কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, জুলাই-আগস্ট বিপ্লবীদের প্রতিনিধি হিসেবেই দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সংস্কার এবং ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ বন্ধ করে দেশে সুষ্ঠুধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা এবং নির্বাচিত সৎ-যোগ্য জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার জন্য তারা ওয়াদাবদ্ধ। ওয়াদা রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে সেই দায় তাদের অবশ্যই নিতে হবে। এমন আশঙ্কাও অমূলক নয়, এ ব্যর্থতার দায় তাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভোগ করতে হবে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগকে যারা চেনেন, তারা ভালো করেই জানেন, আজ যারা আড়ালে-আবডালে থেকে তাদের পক্ষে কাজ করে মনে করেছেন, নিজেরা রক্ষা পাবেন, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। ফ্যাসিবাদী দলগুলোর দর্শনই হলো রক্তপাত ও ফ্যাসাদ সৃষ্টি করা। তাই ইউরোপ-আমেরিকার মতো উদার গণতান্ত্রিক দেশেও তাদের কঠোর হাতে দমন করা হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, ড. ইউনূসের সরকার বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে না। সামরিক-বেসামরিক আমলা, কিছু রাজনৈতিক নেতা যারা গোপনে এবং প্রকাশ্যে ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপকর্ম চালাচ্ছেন, ফ্যাসিবাদী অপশক্তি সুযোগ পেলে ক্ষমতার জন্য সবার আগে তাদেরই বলির পাঁঠা বানাবে, অতীত ইতিহাস তাই বলে। মীর জাফর আলী খাঁ, জগৎশেঠ থেকে নিয়ে হাসিনার ষড়যন্ত্রে পিলখানায় নির্মমভাবে শহীদ সেনাসদস্যরাই এর সাক্ষী। মীর জাফর ও জগৎ শেঠরা সিরাজ-উ-দ্দৌলাকে উৎখাত ও শহীদ করতে ইংরেজদের সাথে হাত মিলিয়েছিল। পিলখানায় যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের অনেকেই ১/১১ ঘটিয়ে নির্বাচন নির্বাচন নাটক করে হাসিনাকে ক্ষমতায় বসানোর নাটের গুরু হিসেবে কাজ করেছিলেন। কিন্তু ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দোসর ভারতের প্রতিশোধ থেকে তারাও রক্ষা পায়নি। তাই আজ যারা ব্যক্তিগত হীনস্বার্থে দেশকে অস্থিতিশীল করতে উঠেপড়ে মাঠে নেমেছেন, তারা সাবধান!
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ছাত্র-জনতার সহযোগিতায় দেশকে ফ্যাসিস্টমুক্ত এবং সংস্কারের কাজ একযোগে চলছিল। কিন্তু একটি চিহ্নিত মহল গণপ্রতিরোধকে মব এবং চুরি-ডাকাতি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধকে ‘মব’ বলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। ন্যায়ের পক্ষের সামাজিক প্রতিরোধের দুর্গে আঘাত হানতে দেশকে এমন একপর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে যে, পরাজিত অপশক্তিগুলো ভিন্ন নামে অন্তর্বর্তী সরকার, জনগণ ও জুলাই চেতনার পক্ষের শক্তির দিকে চোখ রাঙানোর সাহস দেখাচ্ছে।
আমরা মনে করি, অন্তর্বর্তী সরকারের সব উইং দেশপ্রেমিক সামরিক-বেসামরিক আমলা, পুলিশ ও সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এবং জনগণের আর বসে থাকার সুযোগ নেই। অস্থিতিশীলতার নাটের গুরু সে যেই হোক, যত বড় কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা দলের নেতা হোন না কেন, ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। ইউরোপ-আমেরিকাসহ উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে ফ্যাসিস্ট এবং তাদের দোসরদের কঠোর হাতে দমন করা হয়, আমাদেরও দায়িত্ব সেই শিক্ষা কাজে লাগানো। তাহলেই জুলাই-আগস্ট বিপ্লবীদের রক্তের ঋণ শোধ হবে। এখানে যদি বা কিন্তুর কোনো সুযোগ নেই। সেই সুযোগ দিলে দেশ আবার ভারতীয় আগ্রাসনের গ্রাসে পরিণত হয়ে আয়নাঘরের জাহেলিয়াতের অন্ধকারে বন্দি হবে, যা কারো কাম্য নয়। ইউটিউব লিঙ্ক  : https://www.youtube.com/watch?v=URB2UBxx7Bc (কপি পেস্ট করে গুগলে সার্চ করুন)