ভঙ্গুর অর্থনীতিতে যুদ্ধের উত্তাপ


১২ মার্চ ২০২৬ ১০:২২

সঠিক পদক্ষেপ নিতে না পারলে অর্থনৈতিক অচলাবস্থা তৈরির শঙ্কা

॥ উসমান ফারুক ॥
ভঙ্গুর অর্থনীতিকে টেনে তুলতে ক্ষতগুলো চিহ্নিত করে একে একে সমাধান শুরু করেছিল ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকার। বৈদেশিক বাণিজ্য ও রিজার্ভ পরিস্থিতি উন্নীত করে আর্থিক খাতের সংস্কারের পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করেছিল। এই সময়ে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করে। যদিও সুষ্ঠু ভোটের এ নির্বাচনের ফল ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারপরও ফল চ্যালেঞ্জ করে বিরোধীদল সংসদে বসতে যাচ্ছে- এমন সময়ে যখন অর্থনীতিতে বিরাজমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ মন্দা, নেতিবাচক কর্মসংস্থান, এডিপি বাস্তবায়নের হার কমে যাওয়া, উচ্চহারের খেলাপি ঋণ, পুঁজিবাজারের তারল্যসংকট ও প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায় না হওয়ার মতো পুরনো সমস্যাগুলো রয়ে গেছে।
নতুন সরকারের সামণে এসব সমাধানই অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা। ঠিক সেই মুহূর্তে ইরানের ওপর হামলার পর পাল্টা আক্রমনে পড়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। শুরু হলো এক অসম যুদ্ধ। এখন সরকারের প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করছে, এই চ্যালেঞ্জ কতটা সামাল দিতে পারে। মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে এখনো তেমন কোনো পরিকল্পনা জাতির সামনে উপস্থাপন না করায় শঙ্কা বেড়ে যাচ্ছে দিন দিন। বিশেষ করে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে জ্বালানি প্রাপ্তির বিষয়টি। ইতোমধ্যে পেট্রলপাম্পের সামনে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেয়া শুরু হয়ে গেছে। যদিও জ্বালানি তেলের সংকটে সরকার রেশনিং শুরু করেছে। তাতে অনেক পেট্রলপাম্পে হাতাহাতি থেকে শুরু করে নিহতের ঘটনাও ঘটেছে, যা সামনের দিকে আরো বেড়ে যেতে পারে।
একদিকে উচ্চ দর; অন্যদিকে বেশি দাম দিতে চাইলেও না পাওয়ার মতো ঘটনা। বেশি দরে তেল নিলে মূল্যস্ফীতির লাগাম আটকানো যাবে না, আবার না পেলে জীবন চলবে না। এমন অবস্থায় বেশি দামে জ্বালানি সংগ্রহ করতে গিয়ে মাত্র ৩৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে রিজার্ভ ফুরিয়ে যাবে কয়েক মাসের মধ্যে। সরকারের সামনে পণ্য সরবরাহ ঠিক রেখে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে।
এমন অবস্থায় বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনীতিকে বর্তমান অবস্থার মতো চালিয়ে নিতে বৈদেশিক মুদ্রার সংগ্রহ বাড়াতে হবে। যুদ্ধের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যেও অশান্ত হয়ে পড়ায় প্রবাসী আয়ের বড় উৎস এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। অন্যদিকে গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে রপ্তানি আয় নেতিবাচক ধারায় প্রবেশ করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনীতিতে আগে থেকেই উচ্চহারের মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে ভাটা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি না হওয়া, বার্ষিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন (এডিপি) ১৩ বছরের মধ্যে কম বাস্তবায়ন, ৩৬ শতাংশ খেলাপি নিয়ে ব্যাংকিং খাত, পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্ত না হওয়া, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়া ও কাক্সিক্ষত সংস্কার না হওয়ার মতো জেঁকে বসা সমস্যার পাহাড় রয়েছে। ভঙ্গুর সেই অবস্থার মধ্যে যুদ্ধের চাপ সামাল দেওয়ার মতো সক্ষমতা অর্থনীতির নেই। সাধারণ মানুষ ও দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে হলে প্রয়োজন আগের দরে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখা। হরমুজ প্রণালী এখন শুধু চীন ব্যবহার করতে পারছে। মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নীত করে বাকিতে জ্বালানি তেল সংগ্রহ ও চীনের সঙ্গে পুরনো সম্পর্ক ফিরিয়ে আনতে পারলে বাংলাদেশ এ যাত্রায় উতরে যেতে পারবে।
সমস্যা সমাধানের সে পদক্ষেপের সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে প্রশসানে ওত পেতে থাকা ভারতীয় দোসর। গত দেড় দশকে সরকারি দপ্তরের সকল স্তরে শিকড় গেড়ে বসা এসব দোসর সরাতে না পারলে অর্থনৈতিক এ অচলাবস্থা থেকে বের হতে পারবে না সরকার। ভঙ্গুর এ অর্থনীতি নতুন কোনো চাপ সইতে না পেরে মহামারির কবলে পড়ে যাবে।
আওয়ামী লীগের ভারতনির্ভরতায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশ
শুরু থেকেই বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ছিল মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা। এছাড়া আঞ্চলিক বিষয়ের প্রয়োজনে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা। এ কারণেই বহির্বিশ্বে কূটনৈতিক যোগাযোগে বাংলাদেশ সবসময়ই একটি ভারসাম্যপূর্ণ পন্থা অবলম্বন করে আসছিল।
এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মুসলিম দেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি প্রবাসীদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। এখনো বিদেশে কর্মসংস্থান ও প্রবাসী আয়ে বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে পোশাক রপ্তানিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়িয়ে চলে বাংলাদেশ। এসব দেশের সঙ্গে নানা কারণেই সুসম্পর্ক রেখে চলায় আমদানি-রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আসতে পেরেছে বাংলাদেশ।
কিন্তু গত দেড় দশকে আওয়ামী লীগ সেই নীতির বাইরে গিয়ে পুরো কূটনৈতিক মনোযোগ ছিল শুধু একটি দেশ অর্থাৎ ভারতনির্ভর। বাংলাদেশের পুরো কূটনীতিই চলে ভারতের মর্জির ওপর। এতে অন্যান্য দেশও ধরে নিয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক করার আগে ভারতের মর্জি জানতে হবে। ভারতনীতির বিরুদ্ধে থাকা দেশগুলো তাই সুযোগ থাকার পরও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এতে ধীরে ধীরে অন্যান্য দেশের সঙ্গে থাকা সেই সম্পর্কে চিড় ধরে।
ভারসাম্যের সম্পর্কে সুবিধায় চীন
বিশ্বের জ্বালানিসহ পণ্য পরিবহনের ২৫ শতাংশ যায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। যুদ্ধ শুরু হলে হরমুজ প্রণালী সকল দেশের জাহাজের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইরান। পুরো প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখন শুধু চীনের জাহাজ চলাচল করার সুযোগ পাচ্ছে। কারণ হচ্ছে, যুদ্ধের সময়ে শুধু ইরানের পাশে চীন দাঁড়িয়েছে শুরু থেকে। প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জামের সঙ্গে রসদ জোগান দেওয়ার বিষয়টি এখন খোলাসা হচ্ছে। এ কারণে চীনের জাহাজ চলাচলে কোনো ধরনের সমস্যা করেনি ইরান। এখন মধ্যপ্রাচ্যর সস্তা তেল নিতে পারবে শুধু চীন।
হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে না পারায় জাহাজগুলোকে এখন বিকল্প পথে চলাচল করতে হবে। তাতে জাহাজগুলোর কয়েক হাজার কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে আসতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লেগে যাবে। এতে পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে যেতে শুরু করেছে, যার প্রভাবে দামও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। এই সুযোগে ইতোমধ্যে নির্মাণ সামগ্রীর দাম বাড়িয়ে দেওয়া শুরু করেছে অনেক প্রতিষ্ঠান। যথা সময়ে জ্বালানি তেল না পেলে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাবে হু-হু করে।
সমাধান কোন পথে?
ঝুঁকিপূর্ণ ও বিশেষ সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুধু বন্ধুরাই এগিয়ে আসে। কিন্তু ভারতের মতো সুবিধাবাদী রাষ্ট্র কখনোই কারো প্রয়োজনের সময়ে পাশে থাকে না। ইরানের ওপর যখন ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র হামলা করে তখন দেশটির একটি যুদ্ধ জাহাজ শুভেচ্ছা সফরে ভারতে এসেছিল। ভারতের আমন্ত্রণেই দেশটিতে এসেছিল ইরানের জাহাজটি। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ায় ইরানের জাহাজটি দেশে ফিরে যেতে পারেনি। আন্তর্জাতিক যুদ্ধ নীতি ও এরকম শুভেচ্ছা সফরের সময়ে আগত দেশেরই তাকে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা।
কিন্তু ভারত মহাসাগরে অবস্থানকালেই ইরানের নিরস্ত্র জাহাজটির তথ্য চলে যায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। ভারতে থাকা অবস্থায় হামলা চালিয়ে ৮৭ নাবিকসহ নিরস্ত্র জাহাজটি ধ্বংস করে যুক্তরাষ্ট্র। নিরীহ নাবিকদের উদ্ধারে কোনো তৎপরতা দেখায়নি ভারত। অথচ ইরানি জাহাজটিকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব ছিল ভারতের ওপর। হামলার খবর পেয়ে দূরে থাকা শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী পর্যন্ত চলে আসে। কিন্তু তারা আসার আগেই শহীদ হন জাহাজে থাকা ৮৭ নাবিক।
এজন্য দুঃসময়ে পাশে থাকবে এমন রাষ্ট্রের সঙ্গেই শুধু বন্ধুত্ব রক্ষা করতে বাংলাদেশকে ফিরে যেতে হবে কূটনীতির সেই পুরনো সম্পর্ক উন্নয়নে। চীন, ইরান, তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মুসলিম দেশ হিসেবে সম্পর্ক রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই একটি স্বাধীন দেশের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদ করতে হবে বাংলাদেশকে। জ্বালানি তেলসমৃদ্ধ ইরানের ওপর হামলা প্রমাণ করে ইসরাইল কোনো মুসলিম দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।
ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলে এখন বাংলদেশের জ্বালানি তেল নিয়ে সমস্যায় পড়তে হতো না। হরমুজ প্রণালী পারি দেওয়ার অপেক্ষায় আটকে থাকতে হতো না বাংলাদেশি জাহাজের। তেল কেনা আছে তারপরও বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে।
রিজার্ভ ধরে রাখটা চ্যালেঞ্জ
একসময় বাংলাদেশের রিজার্ভ দিয়ে ৪-৬ মাসের আমদানি দায় মেটানোর সক্ষমতায় ছিল বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের সময়ে লাগামহীন অর্থ পাচারের কারণে রিজার্ভ ক্ষয় হয়ে ১৭ বিলিয়ন ডলারে নামে। সেখান থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নানামুখী তৎপরতায় রিজার্ভ এখন ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ওপরে। এখন আমদানি দায় মেটানোর সক্ষমতা হচ্ছে সাড়ে চার মাসের।
গত কয়েকদিনে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেলপ্রতি তেলের দর বেড়েছে ৭০ শতাংশের বেশি। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল ৭৬ ডলার, এখন তা ১১৫ ডলারে ঠেকেছে। এর সঙ্গে রয়েছে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি। তাতে আমদানি ব্যয় বেড়ে গিয়ে রিজার্ভ ক্ষয় হতে শুরু করবে। কারণ হচ্ছে, হুট করে খরচ বাড়লেও বৈদেশিক মুদ্রা আয় সেভাবে বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাওয়াটা সময়সাপেক্ষ। এই মুহূর্তে রিজার্ভ ধরে রাখতে না পারলে ডলারের বিপরীতে টাকার মান পড়ে যাবে। তাতে মূল্যস্ফীতি ফের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলবে সাধারণ মানুষের।
যা বলছেন বিশ্লেষকরা
জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে বড় ধরনের আর্থিক মন্দার কবলে পড়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। একদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ; অন্যদিকে টাকার মান ধরে রাখার মতো চ্যালেঞ্জ সমানে চলে আসায় সামষ্টিক অর্থনীতি এক ধরনের অস্বস্তিকর অবস্থায় চলে যেতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে করণীয় কী হতে পারে- সেই প্রশ্নে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরি বলেন, রিজার্ভ ধরে রাখতে হবে যেকোনো উপায়ে। নগদ অর্থে আমদানি করার বদলে বাকিতে পণ্য আনতে হবে। এতে সুদব্যয় একটু বাড়লেও ভবিষ্যতে তা পরিশোধ করা সম্ভব হবে। কিন্তু কোনো কারণে রিজার্ভ কমতে শুরু করলে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিবে পণ্য দিতে। আবার টাকার ওপর চাপ বেড়ে গিয়ে বিনিময় হারে প্রভাব পড়বে। টাকার মান পড়ে গেলে আমদানি ব্যয় তখন এমনিতেই বেড়ে যাবে। তখন দুটি সমস্যা হবে। রিজার্ভ কমে যাওয়া ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া। কিন্তু যদি রিজার্ভ ধরে রাখা যায়, তাহলে টাকার মানও ধরে রাখা যাবে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাশরুর রিয়াজ বলেন, বিকল্প উৎস থেকে দ্রুত জ্বালানি সংগ্রহ করতে হবে। অনেক দেশের মজুদ সক্ষমতা অনেক। কয়েক মাস তাদের কাছ থেকেও তেল আনা যায়। এটি তখনই সম্ভব হবে, যদি দেশটির সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক ভালো থাকে। রিজার্ভ ধরে রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, জরুরি মুহূর্তে শুধু রিজার্ভ ব্যবহার করা যেতে পারে। রিজার্ভ না থাকলে জরুরি মুহূর্তে বেকায়দায় পড়বে দেশ।
অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি কতটা নাজুক হতে পারে, তা নির্ভর করছে যুদ্ধটা কতদিন চলে। এটাই কেউ বলতে পারছে না। তাই প্রভাব বুঝতে আরো সময় লাগবে। তবে আমাদের আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে- যাতে পণ্যও সরবরাহ লাইন ঠিক থাকে। বিকল্প যতগুলো পথ আছে, তার ব্যবহার করা। এই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশই জ্বালানি বিক্রি করতে পারছে না। তৃতীয় কোনো পক্ষের মাধ্যমে সেই জ্বালানি তেল আনা যায় কি না, সেটাও বিবেচনায় নেওয়া দরকার। চীন সেটা পেরেছে। আমরা তাদের সঙ্গেও কথা বলতে পারি। কারণ হলো, চীন থেকে আমরা সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি করি। তাদের সঙ্গে আমদানি বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে বাংলাদেশের।
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, যেকোনোভাবেই শিল্পের চাকা সচল রাখতে হবে। বিকল্প পথে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়বে। উপার্জনের সুযোগ কমে গেলে বাড়তে পারে চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হলে জনজীবনে বিপর্যয় নেমে আসবে। একইসঙ্গে বাজার তদারকি বাড়াতে হবে। যুদ্ধ অজুহাত তুলে অনেকেই ইতোমধ্যে কিছু কিছু পণ্যর দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। কঠোর নজরদারির মাধ্যমে মজুদদারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে সরকারকে। দূরের এই যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপরে পড়ে গেছে। এখন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো ভঙ্গুর অর্থনীতির পুরনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জকে সময়োচিত পদক্ষেপের মাধ্যমে সমাধান করা।