বই পড়া : পশ্চিমারা এগিয়ে পিছিয়ে মুসলিমরা
৬ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৫১
॥ ফেরদৌস আহমদ ভূইয়া ॥
পড়া তথা বই পড়া নিয়ে সৃষ্টির অনাদিকাল থেকেই বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কারণ বই পড়েই মানুষকে জ্ঞান-বিজ্ঞান অর্জন করতে হয়। বই না পড়ে জ্ঞানার্জনের অন্য কোনো বিকল্প নেই। আর এ জ্ঞান-বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করেই মানবসভ্যতা গড়ে উঠেছে। প্রকৃতির নিয়মও হচ্ছে জ্ঞানার্জনের পরই যথাযথ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব। জ্ঞানার্জন ছাড়া আল্লাহর আদেশ-নিষেধ জানার যেমন কোনো সুযোগ নেই, তেমনি না জেনে কার্যক্রম তথা আমল করারও অবকাশ নেই। তাই আল্লাহ নিজেই মানবজাতিকে তার প্রেরিত সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ রাসূলের মাধ্যমে প্রথম যে নির্দেশটি দিয়েছেন, তা হচ্ছে ‘পড়ো’। স্রষ্টা তার সৃষ্টি তথা মানবজাতির জন্য যে বিধিবিধান পাঠিয়েছেন, তাও বই তথা কিতাব আকারে পাঠিয়েছেন। এ বই পড়েই তার এ বিধিবিধান জানতে হবে এবং তার নির্দেশিত কাজ করতে হবে। আল-কুরআনে সূরা আলাকের প্রথম আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘ইকরা বিসমি রাব্বিকাল্লাজি খালাক’ অর্থাৎ পড়ো তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। এ আয়াত দিয়ে ইসলামে পড়া তথা জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে। এ আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তার কুরআন নাজিল শুরু করেছেন। তাই এটাকে ইসলামের প্রথম নির্দেশও বলা যেতে পারে। পড়তে বলা মানেই জানা ও জ্ঞানার্জন করা। আর এ জ্ঞানার্জনের জন্য হযরত মুহাম্মদ সা. বিদেশ বিভুঁয়ে যেতে বলেছেন। তার বর্ণিত অসংখ্য হাদীসে তিনি জ্ঞানার্জন তথা বই পড়ার তাগিদ দিয়েছেন। মুহাম্মদ সা. বলেছেন, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জ্ঞানার্জন করা ফরজ। ইবনে মাজাহ (২২৪)। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইলম (জ্ঞান) অর্জন করার উদ্দেশ্যে পথ চলবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সুগম করে দিবেন,’ তিরমিযী বর্ণিত, আবু হুরায়রা (রা.) (তিরমিযী হা/২৬৪৬; ইবনে মাজাহ হা/২২৩; সহিহুল জামেয়া’ হা/৬২৯৮)।
আল্লাহ যেমন কুরআনে জ্ঞানার্জন করতে বলেছেন তেমনিভাবে হযরত মুহাম্মদ সা. হাদীসেও জ্ঞানার্জন করার জন্য তাগিদ দিয়েছেন। আর জ্ঞানার্জনের জন্য কিতাব তথা বই পড়তে হবে। এ বই পড়ার জন্য যুগ যুগ ধরে বড় বড় মনীষীরাও তাগিদ করেছেন।
চীনের কমিউনিস্ট নেতা মাও সেতুং বলেছেন, পড়, পড় এবং পড়। ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন, জীবনে ৩টি জিনিস এর প্রয়োজন বই, বই এবং বই। মার্ক টোয়েন বলেছেন, ভালো বন্ধু, ভালো বই এবং একটি শান্ত বিবেক : এটি আদর্শ জীবন।
ফরাসি সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ভিক্টর হুগো বলেছেন, বই হলো সভ্যতার রক্ষাকবচ। চেক ঔপন্যাসিক ফ্রানৎস কাফকা বলেছেন, আমাদের আত্মার মাঝে যে জমাটবাঁধা সমুদ্র, সেই সমুদ্রের বরফ ভাঙার কুঠার হলো বই।
বই পড়ে জ্ঞানার্জন করাকে ইউরোপ আমেরিকাসহ উন্নত দেশের জনগণ গুরুত্ব সহকারে নিলেও মুসলিমরা এক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে। বই পড়া নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংস্থার জরিপে দেখা গেছে যে, সারা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইতালি এ পাঁচটি দেশের জনগণ সবচেয়ে বেশি বই পড়েন এবং তারা বই পড়ার সময়ও অন্য দেশগুলোর তুলনায় বেশি দেন। দেশভিত্তিক এক জরিপে জানা গেছে যে, আমেরিকানরা বই পড়ায় প্রতি বছর সময় দেন ৩৫৭ ঘণ্টা এবং বছরে ১৭টি বই পড়েন, ভারতীয়রা বছরে বই পড়ায় সময় দেয় ৩৫২ ঘণ্টা এবং ১৬টি বই পড়েন, যুক্তরাজ্যের জনগণ বছরে বই পড়ায় সময় দেন ৩৪৩ ঘণ্টা এবং বই পড়েন ১৫টি, ফরাসিরা বছরে বই পড়ায় সময় দেন ৩০৫ ঘণ্টা এবং বই পড়েন ১৪টি আর ইতালিয়ানরা বছরে বই পড়ায় সময় দেন ২৭৮ ঘণ্টা এবং ১৩টি বই পড়েন। বই পড়া ও বই পড়ায় সময় দেয়া নিয়ে ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউর ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী এক জরিপে এ তথ্য জানা গেছে। তবে বই পড়া উল্লেখিত সময় হচ্ছে জনসংখ্যার গড় হিসাব। ওয়াল্ড পপুলেশন রিভিউ বই পড়া নিয়ে ১০৪টি দেশের ওপর এক জরিপ করে।
এ জরিপে দেখা গেছে, বই পড়ায় এগিয়ে রয়েছে ইউরোপ ও আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলো আর পিছিয়ে আছে মুসলিম দেশগুলো। বই পড়ায় পিছিয়ে পড়া দশটি দেশ হচ্ছে আফগানিস্তান, ব্রুনেই, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাংলাদেশ, কাজাখাস্তান, ইরাক, আলজেরিয়া ও কাতার। আর এ দশটিই হচ্ছে মুসলিম অধ্যুষিত দেশ। এ দশটি মুসলিম দেশের মুসলিমরা বছরে গড়ে তিনটি করেও বই পড়েন না। কাতারের মুসলিমরা বছরে তিনটি বই পড়েন আর তালেবানদের আফগানিস্তানের মুসলিমরা বছরে তিনটি বই পড়েন না। অথচ আফগানিস্তানের সরকারে আছেন তালেবান তথা ছাত্রদের নেতৃত্বের একটি গ্রুপ। আর বাংলাদেশের জনগণ বছরে তিনটিরও কম বই পড়েন। বই পড়ার তালিকার প্রথম দিকে পঞ্চাশ দেশের মধ্যে অধিকাংশ ১২টি দেশ হচ্ছে ইউরোপের, এশিয়ার দেশ হচ্ছে আটটি তন্মধ্যে মাত্র একটি হচ্ছে মুসলিম দেশ ইরান।
আরেক জরিপে জানা গেছে যে, প্রতি সপ্তাহে ভারতীয়রা ১০ ঘণ্টা বই পড়েন, থাইল্যান্ডের নাগরিকরা প্রায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা, চীনারা ৮ ঘণ্টা, ফিলিপিনো ও মিশরীয়রা সাড়ে সাত ঘণ্টা এবং রাশিয়ানরা সাত ঘণ্টা বই পড়েন।
গ্লোবাল বুক রিডিং স্ট্যাটিকস ফর ২০২২ অ্যান্ড ২০২৩-র এক জরিপে জানা গেছে, ২৭ ভাগ পাঠক জানিয়েছেন, ২০২২ সালে তারা ২০টি বই পড়েছেন, ৩২ ভাগ পাঠক জানিয়েছেন, তারা এক থেকে পাঁচটি বই পড়েছেন, ১৮ ভাগ পাঠক জানিয়েছেন, তারা ছয় থেকে দশটি বই পড়েছেন এবং ১৯ ভাগ পাঠক জানিয়েছেন, তারা ২০২২ সালে ১১ থেকে ২০টি বই পড়েছেন।
বিশ্বের আঞ্চলিক পর্যায়ের জরিপে দেখা গেছে যে, ৩৯ ভাগ আমেরিকান পাঠক ২০২২ সালে ২০টি বই পড়েছেন আর ৪৪ ভাগ ব্রিটিশ পাঠক ২০টি বই পড়েছেন। অপরদিকে ২৩ ভাগ কানাডিয়ান পাঠক ২০টি বই পড়েছেন।
বিশ্বব্যাপী পাঠকরা কোনো ধরনের বই পড়ে তার জরিপে দেখা গেছে, ৩৪ ভাগ পাঠক ইতিহাস বিষয়ক বই পড়ে, ৩৩ ভাগ পাঠক রহস্যবিষয়ক বই পড়েন আর ৩১ ভাগ পাঠক জীবনী ও স্মৃতিকথা বিষয়ক বই।
জরিপে জানা গেছে যে, ৫৭ ভাগ পাঠক মুদ্রিত বই পড়েন, ৪১ ভাগ পাঠক পেপারব্যাক বই পড়েন এবং ১৬ ভাগ পাঠক হার্ডকভার বই পড়েন, ৩২ ভাগ পাঠক ই বুক পড়েন। ৮ ভাগ পাঠক অডিও বই শুনেন এবং তিন ভাগ পাঠক ব্রেইল ও অন্যান্য ফরমেটের বই পড়েন।
বই পড়ার হার বেশি হওয়ার কারণে উন্নত দেশগুলোয় বই প্রকাশও বেশি হয়ে থাকে। অনেক দেশ বই প্রকাশ করে বিদেশেও রপ্তানি করে থাকে। যেমন ব্রিটিশ বই প্রকাশ করে এবং বছরে ৭ বিলিয়ন ডলারের বই রপ্তানি করে, যা বাংলাদেশি টাকায় ৮৪ হাজার কোটি টাকা।
বই পড়ার জন্য সময় দরকার হয়, তাই অনেক দেশের নাগরিকরা যাতায়াতের সময় ট্রেনে বাসেও বই পড়ে থাকে। অনেক দেশের ট্রেনের ছবিতে দেখা যায় যে অনেক পাঠক দাঁড়িয়েই বই পড়ছে। তার জলন্ত উদাহরণ হচ্ছে, মস্কো। মস্কোয় ট্রেনে চলতে চলতে অনেকেই দাঁড়িয়েই বই পড়ে। ধরুন আপনি ট্রেনে উঠেছেন, মস্কো থেকে সেন্ট পিটার্সবার্গ যাবেন। গোটা ৪ ঘণ্টার ভ্রমণে দেখবেন মানুষ বইয়ের দিকে কেমন বুঁদ হয়ে আছে। যেন বই পড়ার প্রতিযোগিতা চলছে তাদের মধ্যে। হয়তো কেউ মোবাইলের দিকে তাকিয়ে আছে বহুক্ষণ ধরে, কাছে গিয়ে দেখবেন পিডিএফে বই পড়ছেন ভদ্রলোক।
অনেকে সিট না পেয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন অথচ হাতে ঠিকই বই মেলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়ছেন। ছোট ছোট বাচ্চা মায়ের পাশে বসে বই পড়ছে, মাও বইয়ের দিকে তাকিয়ে যেন মারা গেছে এমন অবস্থা। কেবল ট্রেনে কিংবা বাসে না। পার্কেও একই অবস্থা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই পড়ে অবসর কাটিয়ে দিচ্ছেন বৃদ্ধরা। অফিস শেষে আড্ডা জমেছে, সেখানেও গতকাল কোন বই কেমন লেগেছে তার আলোচনা। একই অবস্থা কফি শপ থেকে চায়ের দোকানে, রেস্টুরেন্ট, ব্যাংকেও। সামনে লম্বা সিরিয়াল তো দাঁড়িয়ে কিংবা বসে বই পড়ছে রাশিয়ানরা। রাশিয়ার মোট জনসংখ্যার শতকরা ৪০ ভাগই মাসে অন্তত ৫টি করে বই কিনেন। ৭০ ভাগ পরিবারেই ব্যক্তিগত লাইব্রেরি আছে।
বই পড়লে জ্ঞান বাড়ে, মান বাড়ে- এটা সত্যি। কিন্তু বই পড়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিজ্ঞান কী বলে? সেটা নিয়ে আমরা কী ভেবেছি? বই পড়ার সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো নিজের তথ্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ করা।
স্কুলের পাঠ্যবইগুলো যেমন আমাদের বিজ্ঞান, ইতিহাস বা অঙ্ক শেখায়, ঠিক তেমনি গল্পের বই আমাদের কল্পনাশক্তি বাড়ায়। বিজ্ঞান, সাহিত্য, সমাজবিজ্ঞানসহ বিচিত্র সব বই পড়লে নতুন তথ্য জানার পাশাপাশি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি আরও বিস্তৃত হয়। কানাডার ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মনোবিজ্ঞানী তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞাতার প্রেক্ষিতে বলেন, ‘যারা বেশি বেশি গল্প-উপন্যাস পড়েন, অন্যদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা বোঝা তাদের পক্ষে সহজ। এ ব্যাপারটা আমাদের সামাজিক দক্ষতায় উন্নতি ঘটায়। বই মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। এটাকে মস্তিষ্কের এক ধরনের ব্যায়াম বলা যায়। তাই নিয়মিত বই পড়লে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ে, চিন্তা করার ক্ষমতা উন্নত হয় এবং স্মৃতিশক্তি শাণিত হয়ে ওঠে। ফলে অনেক বেশি মনোযোগী ও বিশ্লেষণী দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে বই।
বই মানসিক চাপ কমাতে বড় ভূমিকা রাখে। মজার গল্প বা রোমাঞ্চকর উপন্যাস পড়ার সময় মানুষ সেই গল্পের মধ্যে ডুবে যায়। এটা বাস্তব জীবনের চাপ থেকে মুক্তি দেয়, মনকে প্রশান্ত করে। সুতরাং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বই পড়া খুবই উপকারী একটা অভ্যাস।
কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মনোবিজ্ঞানী কিথ ওকলে সাহিত্য ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন। তার গবেষণা বলছে, উপন্যাস বা গল্পের বই পড়া মানুষের সহানুভূতিশীলতা এবং সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে এবং বাস্তব জীবনে সম্পর্কগুলোকে আরও সুসংহত করতে সহায়ক হয়।’ যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্সের গবেষক এমিলি শ্যুট দেখিয়েছেন, মাত্র ৬ মিনিট বই পড়লে মানসিক চাপ ৬৮ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, ‘বই পড়া শুধু মনের প্রশান্তিই দেয় না, এটি আমাদের শারীরিক চাপও কমিয়ে দেয় এবং মস্তিষ্ককে শিথিল রাখে।’
বই পড়া ব্যাপরটা নিজের সঙ্গে নিজের সময় কাটানোর সুযোগ করে দেয়। অনেক সময় মানুষ একা একটুখানি সময় কাটাতে চায়। কিন্তু একাকিত্ব আবার একঘেঁয়েমি ও মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত করে তুলতে পারে। কিন্তু বই পড়লে তেমনটা হয় না কখনো। তাই একাকী মুহূর্তগুলোয় বই ভালো সঙ্গীর ভূমিকা নেয়।
বই পড়ার অভ্যাস জ্ঞান ও বুদ্ধিকে যেমন শাণিত করতে সাহায্য করে, তেমনি ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার প্রেরণাও বই থেকে পাওয়া যায়। তাই প্রতিদিন একটু হলেও বই পড়ার চেষ্টা করা উচিত।
বই পড়া নিয়ে আল্লাহ ও তার রাসূল হযরত মুহাম্মদ সা. শুধু গুরুত্বই দেননি, বই পড়ে জ্ঞানার্জন করাকে ফরজ তথা অত্যাবশ্যকীয় ঘোষণা করেছেন। অথচ মুসলিমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত কিতাব আল কুরআন অধ্যয়ন করছেন কম। রাসূল সা. বর্ণিত হাদীস গ্রন্থগুলোও পড়ছেন না। বিগত শতাব্দীতে কুরআন হাদীসের আলোকে মুসলিম মনীষীদের গবেষণালব্ধ যেসব ইসলামী সাহিত্য রচিত হয়েছে তাও পড়ছেন না। মুসলিমদের একটি অংশ কিছু পড়লেও মনোযোগ সহকারে অধ্যবসায় হিসেবে পড়াকে নিচ্ছেন না। বিশ্বব্যাপী জরিপেই মুসলিমদের বই পড়ার করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। মুসলিমদের আল্লাহ মানবজাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে ঘোষণা করেছেন। শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে মুসলিমদেরই বেশি করে বই পড়ে জ্ঞান-বিজ্ঞানে নিজেরা সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি মানবসভ্যতাকে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব ছিল। জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে বিশ্ব ব্যবস্থায় মুসলিমদেরই নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্ব ছিল। কিন্তু বর্তমান বিশ্বের মুসলিমরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে পিছিয়ে পড়ায় বিশ্বের নেতৃত্বের আসন থেকে ছিটকে পড়েছে। ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে ‘Readers are leaders, অর্থাৎ যারা পড়ে তারাই নেতা ও নেতৃত্ব দেয়। আর একটি প্রবাদেও বলা হয়েছে, ‘Today a reader, tomorrow a leader’ অর্থাৎ আজকের পাঠক আগামী দিনের নেতা। আল-কুরআনেও আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদের সুউচ্চ মর্যাদা দান করবেন।’ (সূরা মুজাদালাহ : ১১)। এ আয়াত দ্বারাও বোঝা যায় যারা বই পড়ে জ্ঞান-বিজ্ঞান অর্জন করবে, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অনেক মর্যাদা পাবেন। দুনিয়ার সর্বস্তরে নেতৃত্ব গ্রহণ ও প্রদানের মাধ্যমেই মানুষ এ সুউচ্চ মর্যাদা লাভ করে থাকে। তাই মুসলিমদের দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দিতে হলে আল্লাহর ঐ প্রথম বাণীকেই আমল করতে হবে আর তা হচ্ছে ‘পড় তোমার প্রতিপালকের নামে’। এভাবে আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক বই পড়ে জ্ঞানার্জন করতে পারলেই বিশ্বের নেতৃত্ব পুনরায় ফিরে পাবে মুসলিমরা। মুসলিমরা বই পড়ায় সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে জ্ঞানার্জন করে বিশ্ব ব্যবস্থায় নেতৃত্বের আসনে সমাসীন হোকÑ এটাই সময়ের দাবি।
লেখক : বার্তা সম্পাদক, সাপ্তাহিক সোনার বাংলা।