বড় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে মধ্যপ্রাচ্য
৫ মার্চ ২০২৬ ২১:০৪
বেপরোয়া প্রতিশোধ তেহরানের॥ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে ইসরাইল
॥ ফারাহ মাসুম ॥
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও বারুদের গন্ধ। একদিকে ইরান; অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলÑ ত্রিমুখী উত্তেজনায় গোটা অঞ্চল দাঁড়িয়ে আছে অনিশ্চয়তার কিনারায়। ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত দিলেও তেহরান বারবার তা প্রত্যাখ্যান করছে। প্রশ্ন উঠছেÑ কেন আলোচনায় বসছে না ইরান? তারা কতদিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে? এই সংঘাত কি বড় আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে? আরব দেশগুলো কোথায় দাঁড়িয়ে? আর চীন-রাশিয়ার ভূমিকা কী?
এই প্রতিবেদন সেই প্রশ্নগুলোর কৌশলগত, সামরিক ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ তুলে ধরছে।
আলোচনায় অনীহা : তেহরানের হিসাব-নিকাশ
ইরানের বর্তমান অবস্থান বোঝার জন্য প্রথমেই দেখতে হবে তাদের রাজনৈতিক মানসিকতা। তেহরান মনে করে, যুদ্ধের মাঝখানে আলোচনা মানে দুর্বলতার স্বীকারোক্তি। বিশেষ করে যদি আগে প্রতিপক্ষ সামরিক হামলা চালিয়ে থাকে, তাহলে আলোচনায় বসা সরকারের অভ্যন্তরীণ গ্রহণযোগ্যতা কমিয়ে দিতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রদর্শনে ‘রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ একটি মূলনীতি। তারা বিশ্বাস করে, দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়যুদ্ধের মাধ্যমে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করা যায়। সরাসরি সমঝোতার বদলে সময় টেনে নেওয়াÑ এটাই তাদের কৌশল। এর সঙ্গে আছে নিষেধাজ্ঞার প্রশ্ন। তেহরান বারবার বলছে, আগে অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিল করতে হবে, তারপরই আলোচনার পরিবেশ তৈরি হবে। অর্থাৎ ‘কনসেশন আগে, আলোচনা পরে’Ñ এমন দরকষাকষির অবস্থান নিয়েই তারা অটল।
অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও বড় ফ্যাক্টর। কঠোর অবস্থান জাতীয়তাবাদী আবেগকে উসকে দেয়, যা সরকারের পক্ষে জনসমর্থন ধরে রাখতে সহায়ক। ফলে আপসের রাজনীতি এখন তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
সংখ্যায় বা প্রযুক্তিতে ইসরাইল বা যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ না হলেও ইরানের রয়েছে ভিন্ন ধরনের শক্তি।
প্রথমত, তাদের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারÑ স্বল্প ও মধ্যপাল্লার ব্যালাস্টিক মিসাইল, ড্রোন, কামিকাজে ইউএভি। এগুলো দিয়ে দূরপাল্লায় হামলা চালানো সম্ভব।
দ্বিতীয়ত, প্রক্সি নেটওয়ার্ক। ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেনÑ বিভিন্ন দেশে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয়। সরাসরি যুদ্ধ না করেও এই বাহিনী দিয়ে চাপ সৃষ্টি করা যায়।
তবে সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট। বিমান শক্তি দুর্বল, আধুনিক ফাইটার জেট কম, আকাশ প্রতিরক্ষা তুলনামূলক পিছিয়ে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করে।
বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চমাত্রার সরাসরি যুদ্ধ তারা ৩-৬ মাস চালাতে পারলেও, ড্রোন-মিসাইল ও প্রক্সিনির্ভর নিম্নমাত্রার যুদ্ধ বহু বছর ধরে টেনে নেওয়া সম্ভব।
যুদ্ধের রূপ : আঞ্চলিক বিস্তার : আরব বিশ্ব কোন পথে?
ইরানের সামরিক মতবাদ মূলত ‘অসামান্য যুদ্ধ’Ñ যেখানে সরাসরি ট্যাংক-বিমান নয়, বরং ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, সাইবার হামলা ও প্রক্সি বাহিনী ব্যবহার করা হয়।
এই কৌশলের সুবিধা হলো, কম খরচে বেশি চাপ। প্রতিপক্ষকে সার্বক্ষণিক অনিশ্চয়তায় রাখা যায়।
ফলে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের বদলে ‘লো-ইনটেনসিটি কনফ্লিক্ট’ দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পূর্ববর্তী হুমকি অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর আমেরিকান ঘাঁটি ও স্থাপনায় ব্যাপকভাবে আঘাত করেছে। কিন্তু এরপরও এসব দেশ কড়া প্রতিবাদ জানালেও সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনাগ্রহী।
সৌদি আরব সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে। তারা তেল বাজার ও অর্থনীতিকে ঝুঁকিতে ফেলতে চায় না। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার ঝুঁকি না নিয়ে বরং মধ্যস্থতার ভূমিকায় থাকতে চায়। তবে ইরাক ও লেবানন প্রক্সি সংঘাতের ময়দানে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে লেবাননে ইরানপন্থী শক্তির সক্রিয়তা সীমান্ত উত্তেজনা বাড়াতে পারে। এসব বিবেচনায় আরব সরকারগুলো সরাসরি যুদ্ধে না গেলেও তাদের ভূখণ্ড সংঘাতের ‘বাফার জোন’ হয়ে উঠতে পারে।
বৈশ্বিক ঝুঁকি : তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি সম্ভব?
রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মেদভেদবসহ অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই সংঘাত বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিতে পারে। আসলেই কি সে রূপ নেবে? বাস্তবতা বলছে, সম্ভাবনা সীমিত, তবে ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের তেল পরিবহন হয়। যদি এই পথ বন্ধ হয়, বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হবে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে অস্থির করে তুলবে। জাতিসংঘ বা বৃহৎ শক্তিগুলো তাই সরাসরি সংঘাত এড়াতে চাইবে। কিন্তু ভুলবশত বড় শক্তির সেনা নিহত হলে বা একাধিক ফ্রন্ট খুলে গেলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হতে পারে।
চীন ইরানের বড় তেল ক্রেতা। তারা অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দেবে, কিন্তু সরাসরি যুদ্ধে যাবে না। তাদের লক্ষ্য জ্বালানি নিরাপত্তা ও মার্কিন প্রভাবের ভারসাম্য। রাশিয়া পশ্চিমা চাপ কমাতে ইরানকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখে। প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সহযোগিতা দিতে পারে, কিন্তু ‘বুটস অন দ্য গ্রাউন্ড’ পাঠানোর সম্ভাবনা কম।
দুই দেশই প্রক্সি সহায়তা দেবে, সরাসরি সংঘাতে জড়াবে না।
সম্ভাব্য তিনটি দৃশ্যপট বিশ্লেষকরা দেখছেনÑ এক. স্বল্পমেয়াদি তীব্র যুদ্ধ : কয়েক মাসে কূটনৈতিক সমঝোতা। দুই. মাঝারিমেয়াদি ক্ষয়যুদ্ধ : ড্রোন-মিসাইল হামলা, প্রক্সি সংঘর্ষ, ১-২ বছর। তিন. দীর্ঘস্থায়ী নিম্নমাত্রার সংঘাত : আঞ্চলিক উত্তেজনা স্থায়ী রূপ নেয়।
ইরানের পরমাণু শক্তিধর হওয়ার সম্ভাবনা কতটা?
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনার কেন্দ্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্নÑ ইরান কি সত্যিই পরমাণু অস্ত্র তৈরির দ্বারপ্রান্তে? যদি হয়, তাহলে কত দ্রুত তারা ‘নিউক্লিয়ার পাওয়ার’ হয়ে উঠতে পারে?
এই প্রশ্ন শুধু সামরিক নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা, তেলবাজার; এমনকি বিশ্বশক্তির ভারসাম্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। কারণ একবার ইরান পারমাণবিক অস্ত্রধর হলে ইসরাইল, সৌদি আরব এবং যুক্তরাষ্ট্রÑ সবার কৌশল বদলে যাবে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরান ইতোমধ্যে ‘নিউক্লিয়ার থ্রেশহোল্ড স্টেট’Ñ অর্থাৎ চাইলে খুব দ্রুত অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে, কিন্তু এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র বানায়নি।
তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি এখন ৬০% পর্যন্ত পৌঁছেছে। সাধারণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ৩-৫% যথেষ্ট, কিন্তু অস্ত্রমানের জন্য ৯০% দরকার।
অর্থাৎ প্রযুক্তিগত ব্যবধান খুব বেশি নয়। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, ‘শেষ ধাপটাই সবচেয়ে ছোট।’
‘ব্রেকআউট টাইম’ বলতে বোঝায় সিদ্ধান্ত নিলে কত দ্রুত অস্ত্রমানের ইউরেনিয়াম তৈরি করা সম্ভব।
বর্তমান হিসাব বলছে, অস্ত্রমানের ইউরেনিয়াম: কয়েক সপ্তাহ; বোমার নকশা ও অ্যাসেম্বলি: ৬-১২ মাস; কার্যকর ডেলিভারি সিস্টেম (মিসাইল/ওয়ারহেড): আরও সময়।
অর্থাৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিলে ১ বছরের মধ্যে একটি কার্যকর পারমাণবিক বোমা তৈরি সম্ভবÑ এমন ধারণাই শক্তিশালী হচ্ছে।
প্রশ্ন হলোÑ ইরান কেন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র বানায়নি? এখানে কৌশলগত হিসাব আছে। ইরান জানে অস্ত্র ঘোষণা করলে সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক জোট হামলা চালাতে পারে। তাই তারা ‘থ্রেশহোল্ড’ অবস্থানে থেকে চাপ সৃষ্টি করছে।
এটা এক ধরনের ‘পারমাণবিক অস্পষ্টতা’Ñ যেখানে সবাই জানে সক্ষমতা আছে, কিন্তু নিশ্চিত নয়। এই অনিশ্চয়তাই তাদের প্রতিরক্ষা।
আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, সেটিও একটি প্রশ্ন। যদি ইরান পরমাণু শক্তিধর হয়Ñ সৌদি আরব নিজস্ব কর্মসূচি বা পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি করতে পারে; তুরস্ক ও মিশর প্রতিযোগিতায় নামতে পারে; মধ্যপ্রাচ্যে ‘নিউক্লিয়ার রেস’ শুরু হবে; এতে অঞ্চল আরও অস্থিতিশীল হবে।
চীন ও রাশিয়া সরাসরি অস্ত্র কর্মসূচি সমর্থন করবে না, তবে কূটনৈতিক সুরক্ষা দেবে। তারা চাইবে না ইরান পুরোপুরি ভেঙে পড়ুক, আবার সরাসরি নিউক্লিয়ার ঘোষণা করুকÑ তাও চায় না। কারণ এতে বড় যুদ্ধ বাধতে পারে।
বিশ্লেষকদের অনুমান, অস্ত্র তৈরির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা: ৮০-৯০% প্রস্তুত; খামেনির মৃত্যুর পর এ বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা : মাঝারি, তাৎক্ষণিক ঘোষণা: কম এবং ‘থ্রেশহোল্ড স্টেট’ হিসেবে থাকা সবচেয়ে বেশি সম্ভাব্য। অর্থাৎ ইরান চাইলে দ্রুত বোমা বানাতে পারবেÑ কিন্তু আপাতত ‘ঘোষণা না দিয়ে সক্ষমতা ধরে রাখা’ নীতিতেই এগোচ্ছে।
ইরানের পরবর্তী টার্গেট কী হতে পারে
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় বড় প্রশ্ন এখনÑ ইরান যদি সরাসরি বা পরোক্ষ পাল্টা আঘাত হানে, তাহলে পরবর্তী লক্ষ্য কোথায় হতে পারে? এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি: ইরান সাধারণত সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের পথে না গিয়ে অসামান্য ও প্রক্সি কৌশল ব্যবহার করে। অর্থাৎ তারা এমন জায়গায় আঘাত করে, যেখানে রাজনৈতিক চাপ বেশি কিন্তু সরাসরি বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি কম।
ইরানের সবচেয়ে সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি। কারণ সরাসরি মার্কিন ভূখণ্ডে হামলা করলে বড় যুদ্ধ বেধে যাবে, কিন্তু আঞ্চলিক ঘাঁটিতে চাপ দিলে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া যায়। সম্ভাব্য এলাকা হতে পারে ইরাক, সিরিয়া, কাতার, বাহরাইন। এখানে ড্রোন, রকেট বা প্রক্সি মিলিশিয়া ব্যবহার করে সীমিত হামলাÑ ইরানের পুরনো কৌশল।
ইসরাইলের বিরুদ্ধে সরাসরি বা প্রক্সি হামলা ইরানের ‘ডিটারেন্স’ কৌশলের অংশ। সম্ভাব্য চাপের পথ : সীমান্তে প্রক্সি গোষ্ঠীর তৎপরতা; সাইবার আক্রমণ ও বাণিজ্যিক/কূটনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতে চাপ
তবে সরাসরি বড় শহরে হামলা করলে তা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ ডেকে আনতে পারেÑ তাই ইরান সাধারণত ‘নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা’ বজায় রাখে।
ইরান জানে, বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গা হলো তেল সরবরাহ। এতে সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে : হরমুজ ও বাবেল মানদেব প্রণালি। এই পথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের তেল যায়। সরাসরি আক্রমণ নয়, বরং জাহাজে হয়রানি বা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করলেই আন্তর্জাতিক বাজার কেঁপে ওঠে। এটা ইরানের জন্য কম খরচে বেশি প্রভাবের কৌশল।
এছাড়া সাইবার যুদ্ধ সবচেয়ে নিরাপদ ও সম্ভাব্য। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতের বড় লড়াই হতে পারে সাইবার স্পেসে। কারণ সরাসরি প্রাণহানি কম; দায় অস্বীকার করা সহজ এবং অর্থনীতি ও অবকাঠামোতে বড় প্রভাব থাকে। বিদ্যুৎ গ্রিড, ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক, বন্দরÑ এসব খাতে সাইবার চাপ তৈরি করা ইরানের জন্য বাস্তবসম্মত ও কম ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি।
প্রশ্ন আসতে পারে আরব দেশগুলো কি সরাসরি লক্ষ্য হবে? সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাত সরাসরি লক্ষ্য হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। কারণ ইরান এখন তাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে; সরাসরি হামলা করলে পুরো আরব বিশ্ব একজোট হয়ে যেতে পারে। তবে তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটি বা জ্বালানি স্থাপনা পরোক্ষভাবে ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
ইরান সম্ভবত এমন লক্ষ্য বেছে নেবেÑ যেখানে রাজনৈতিক বার্তা জোরালো, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি কম। অর্থাৎ বড় শহরে সরাসরি হামলার বদলে আঞ্চলিক ঘাঁটি, জ্বালানি রুট, প্রক্সি সংঘাত ও সাইবার চাপÑ এই ‘গ্রে জোন’ কৌশলই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত।
ফলে সামনে আমরা হয়তো বড় বিস্ফোরণের খবরের চেয়ে ছোট ছোট কিন্তু ধারাবাহিক উত্তেজনা, প্রক্সি সংঘর্ষ ও অর্থনৈতিক চাপ বেশি দেখব।
ইরানের পর ইসরাইলের পরের টার্গেট কোন দেশ?
ইরানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি প্রশ্ন সামনে আসছেÑ যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সামরিকভাবে এগোতে থাকে, তাহলে তাদের পরবর্তী লক্ষ্য কোন দেশ হতে পারে?
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা মাথায় রাখা দরকার : কোনো দেশ সরাসরি ‘পরবর্তী টার্গেট’ ঘোষণা করে না। বড় শক্তিগুলো সাধারণত সরাসরি রাষ্ট্র আক্রমণের বদলে কৌশলগত হুমকি বা প্রক্সি অবকাঠামো ভাঙতে চায়। অর্থাৎ লক্ষ্য হয় রাষ্ট্র নয়, বরং হুমকির উৎস, প্রক্সি ঘাঁটি, মিসাইল বা ড্রোন নেটওয়ার্ক।
তাই বিশ্লেষণ করতে হবেÑ কোন দেশগুলোয় ইরানপন্থী শক্তি বেশি সক্রিয় এবং কোথায় আঘাত করলে কম ঝুঁকিতে বেশি কৌশলগত লাভ হবে।
সবচেয়ে বেশি সম্ভাব্য পরবর্তী ফ্রন্ট লেবাননÑ প্রক্সি যুদ্ধের ক্ষেত্র। সেখানে ইরানপন্থী শক্তিশালী গোষ্ঠী সক্রিয় এবং ইসরাইলের উত্তর সীমান্তে সরাসরি চাপ রয়েছে। এতে সীমান্ত সংঘর্ষ, বিমান-ড্রোন হামলা আর পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ নয়, বরং সীমিত সামরিক অভিযান হতে পারে।
ইরাকে মার্কিন ঘাঁটি টার্গেট হলে পাল্টা হামলা হতে পারে। কারণ সেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে আবার ইরানপন্থী মিলিশিয়া সক্রিয়। যদি এসব ঘাঁটিতে হামলা বাড়ে, যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা অভিযান চালাতে পারে।
প্রক্সি সংঘাতের ময়দান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি হলো ইয়েমেন যেটি পরোক্ষ চাপের জায়গা। কারণ এটি লোহিত সাগরের শিপিং রুট নিয়ন্ত্রণের কৌশলগত অবস্থান এবং সেখানে ইরানপন্থী সশস্ত্র শক্তির উপস্থিতি রয়েছে। এতে জাহাজ চলাচল নিরাপত্তা ইস্যুতে সীমিত হামলার সম্ভাবনা রয়েছে।
যেসব দেশ নানা কারণে তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে তার মধ্যে রয়েছে- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার। এই দেশগুলো সরাসরি লক্ষ্য হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ এদের সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য আছে, সরাসরি হামলা করলে পুরো আরব বিশ্ব জোটবদ্ধ হয়ে যেতে পারে, তেলবাজার অস্থিতিশীল হলে পশ্চিমা অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবেÑ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কৌশল হবেÑ ইরানের মিত্র ও প্রক্সি নেটওয়ার্ক দুর্বল করা; মিসাইল-ড্রোন অবকাঠামো ধ্বংস করা; আঞ্চলিক ঘাঁটিতে চাপ সৃষ্টি করা। তাই ‘পরবর্তী টার্গেট’ হিসেবে নতুন কোনো বড় দেশের নাম আসার সম্ভাবনা কম। বরং সিরিয়া-লেবানন-ইরাকÑ এ ত্রিভুজই পরবর্তী উত্তেজনার কেন্দ্র হতে পারে।
পাকিস্তান ও তুরস্ক কি ইসরাইলের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হতে পারে?
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেনÑ ইরানের পর কি ইসরাইল বা যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক কৌশল বাড়িয়ে পাকিস্তান বা তুরস্কের মতো দেশকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে? সংক্ষেপে বললে, সরাসরি রাষ্ট্র হিসেবে টার্গেট হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ এই দুই দেশই আঞ্চলিক শক্তি এবং এদের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ মানে বড় মাত্রার আন্তর্জাতিক সংঘাত।
তবে কেন এই প্রশ্ন উঠছে এবং বাস্তবে কী হতে পারেÑ সেটাই বিশ্লেষণ করা জরুরি।
পাকিস্তান : কেন ‘টার্গেট’ হওয়ার সম্ভাবনা কম? এর জবাব হলো বাস্তবতা। পাকিস্তান একটি ঘোষিত পারমাণবিক শক্তি। সরাসরি হামলা মানে নিউক্লিয়ার প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি। ইসরাইল বা যুক্তরাষ্ট্র এমন ঝুঁকি নেবে না। এছাড়া ইসরাইল-পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও সরাসরি সামরিক সংঘাতের ইতিহাস নেই। পাকিস্তান ইরানকে রাজনৈতিকভাবে সমর্থন দিতে পারে, কিন্তু যুদ্ধে সরাসরি জড়ানোর সম্ভাবনা কম।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে পাকিস্তান ভৌগোলিকভাবে দূরে। লজিস্টিক ও সামরিক দিক থেকে সরাসরি আক্রমণ ব্যয়বহুল ও জটিল। প্রশ্ন হলো কী হতে পারে? এক্ষত্রে কূটনৈতিক চাপ, গোয়েন্দা নজরদারি, রাজনৈতিক সতর্কবার্তাÑ এসব হতে পারে সরাসরি সামরিক টার্গেট হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।
তুরস্ক টার্গেট জবার ঝুঁকি তুলনামূলক একটু বেশি, কিন্তু তবুও কমই থাকবে। বাস্তবতা হলো, দেশটি ন্যাটোর সদস্য। সরাসরি হামলা মানে পুরো জোটের সঙ্গে সংঘাত। এটা কার্যত অসম্ভব। তুরস্ক নিজেই বড় আঞ্চলিক সামরিক শক্তি। বিমান বাহিনী ও ড্রোন প্রযুক্তিতে অগ্রসর। তুরস্ক ইসরাইলের সমালোচক হলেও সরাসরি যুদ্ধে যায়নি। বরং কূটনৈতিক ও মানবিক অবস্থান নেয়।
যা হতে পারে তা হলো : কূটনৈতিক উত্তেজনা; সাইবার/রাজনৈতিক চাপ এবং প্রক্সি পর্যায়ে সীমিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা। পূর্ণাঙ্গ হামলার সম্ভাবনা কম।
তাহলে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র কাদের দিকে নজর দেবে? বাস্তব কৌশল হলোÑ সরাসরি রাষ্ট্র আক্রমণ নয়, বরং প্রক্সি নেটওয়ার্ক, মিসাইল সাইট, ড্রোন ঘাঁটি ধ্বংস। সম্ভাব্য ক্ষেত্র সিরিয়া, লেবানন, ইরাক ও ইয়েমেন। অর্থাৎ রাষ্ট্র নয়, ‘হুমকির উৎস’ টার্গেট।
অষ্টম দশকে কি অস্তিত্ব সংকটে ইসরাইল?
অতীতে ইহুদিদের কোনো দেশ অষ্টম দশক পার করতে পারেনি। ইসরাইলের বয়স এখন আট দশকের দোরগোড়ায়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিটি দশকই যুদ্ধ, সংঘাত ও নিরাপত্তা হুমকিতে কেটেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোয় গাজা যুদ্ধ, উত্তর সীমান্তে রকেট হামলা, ইরানের সঙ্গে ছায়াযুদ্ধ, আন্তর্জাতিক চাপ সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে রাষ্ট্র হিসেবে কি ইসরাইল বিলুপ্তির ঝুঁকিতে?
এই প্রশ্ন আবেগপ্রবণ, কিন্তু বাস্তবতা বিশ্লেষণ দাবি করে ঠাণ্ডা মাথার হিসাব। কারণ ‘রাষ্ট্র ধ্বংস’ আর ‘রাষ্ট্র দুর্বল হওয়া’Ñ দুটি এক জিনিস নয়। ইসরাইলের ক্ষেত্রে দ্বিতীয়টির ঝুঁকিই বেশি। প্রথমটি কম নয়।
ইসরাইলের নিরাপত্তা সংকটের মূল বৈশিষ্ট্য হলোÑ একসাথে বহু ফ্রন্টে লড়াই। দক্ষিণে গাজা, উত্তরে লেবানন সীমান্ত, পশ্চিমতীরে অস্থিরতা, দূরে থেকেও ইরানের মিসাইল-ড্রোন হুমকি। একটি ফ্রন্টে যুদ্ধ হলে রাষ্ট্র সহজে সামলে নিতে পারে। কিন্তু তিন-চারটি ফ্রন্টে একসাথে চাপ এলে তা অর্থনীতি, সেনাবাহিনী ও জনজীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে।
এ কারণেই ‘অষ্টম দশকের সংকট’ কথাটা এখন বেশি শোনা যাচ্ছে।
যারা বলেন ইসরাইল বিলুপ্ত হতে পারে, তারা সাধারণত একটি বিষয় এড়িয়ে যানÑ ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক শক্তিগুলোর একটি। এর শক্তির উৎস-অত্যাধুনিক বিমানবাহিনী; শক্তিশালী গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক; বহুস্তর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সবচেয়ে বড় বিষয় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও সামরিক সমর্থন।
বাস্তব হিসাব বলছে : রাষ্ট্র হিসেবে সম্পূর্ণ ধ্বংস বা পতন প্রায় অসম্ভাব্য। কারণ কোনো আঞ্চলিক শক্তির একার পক্ষে এই প্রতিরক্ষা ভাঙা কঠিন।
তবে ঝুঁকি রয়েছে ক্ষয়যুদ্ধের ফাঁদ। ইরান সরাসরি যুদ্ধ না করে প্রক্সি ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে ক্লান্ত করার কৌশল নেয়। প্রতিদিন ছোট ছোট হামলা, যা রাষ্ট্রকে ধীরে ধীরে অবসন্ন করে।
দীর্ঘমেয়াদি সেনা মোতায়েন দেশটির জন্য একটি ঝুঁকি। রিজার্ভ সেনাদের বারবার ডাকা মানে কর্মক্ষেত্র ফাঁকা হওয়া, উৎপাদন কমে যাওয়া। আর যখন নাগরিকরা প্রতিদিন সাইরেন শোনে, তখন বিদেশে চলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়েÑ এটাকে বলে ব্রেইন ড্রেইন। এছাড়া মানবাধিকার ইস্যুতে কূটনৈতিক চাপ বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি অর্থনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্ককে দুর্বল করে। তাই ‘অস্তিত্বগত ধ্বংস’ একবারে অসম্ভবও নয়।
ইসরাইলের বিরুদ্ধে একক কোনো রাষ্ট্র নয়, বরং এক ধরনের ‘নেটওয়ার্ক হুমকি’ তৈরি হয়েছে। ইরান দিচ্ছে কৌশলগত নেতৃত্ব; লেবানন সীমান্তে প্রক্সি চাপ; গাজায় সশস্ত্র সংঘাত আর সিরিয়া-ইরাক রুটে অস্ত্র সরবরাহ। এই সমন্বিত চাপ ইসরাইলকে ক্লান্ত করে।
তবে আরব রাষ্ট্রগুলোর বড় অংশ সরাসরি যুদ্ধে যেতে চায় না। কারণ যুদ্ধ মানে তেল বাজার ও অর্থনীতির ক্ষতি। ফলে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক জোট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম।
অর্থনীতি : অদৃশ্য কিন্তু বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। যুদ্ধ শুধু বন্দুক দিয়ে হয় না, অর্থনীতি দিয়েও হয়।
সম্ভাব্য প্রভাব হলোÑ পর্যটন কমে যাওয়া, বিদেশি বিনিয়োগ হ্রাস, স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি খাতে ধাক্কা এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় বেড়ে যাওয়া। ইসরাইলের অর্থনীতির বড় শক্তি হলো হাইটেক ও স্টার্টআপ সেক্টর। দীর্ঘ যুদ্ধ এই খাতকে দুর্বল করলে দেশটির প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা কমে যাবে।
অর্থাৎ সামরিকভাবে টিকে থাকলেও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
ইসরাইলের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জনসংখ্যার গঠন। ইহুদি ও আরব জনসংখ্যার ভারসাম্য; অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন; ধর্মনিরপেক্ষ বনাম ধর্মীয় রাজনীতিÑ এ বিষয়গুলো সামাজিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে। রাষ্ট্র বাইরে থেকে নয়, ভেতর থেকেও দুর্বল হতে পারে।
ইসরাইল ‘বিলুপ্তির তত্ত্ব’ কেন জনপ্রিয়?
মূলত তিন কারণে এটি জনপ্রিয়-১. প্রতীকী ভাষা (রাজনৈতিক স্লোগান); ২. সামাজিকমাধ্যমে অতিরঞ্জন এবং ৩. ধারাবাহিক যুদ্ধের ক্লান্তি। কিন্তু কঠিন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় শক্তির সরাসরি সমর্থন থাকলে কোনো রাষ্ট্র এত সহজে বিলীন হয় না।
সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ দৃশ্যপট হতে পারে এ রকম: দৃশ্যপট ১. দ্রুত সমঝোতা- কূটনৈতিক চাপ বাড়লে সীমিত যুদ্ধবিরতি অস্থিরতা কমে। দৃশ্যপট ২. দীর্ঘ ক্ষয়যুদ্ধ (সবচেয়ে সম্ভাব্য)-ড্রোন-রকেট-প্রক্সি সংঘর্ষ চলতেই থাকবে। দৃশ্যপট ৩. বড় আঞ্চলিক যুদ্ধ- একাধিক ফ্রন্টে একসাথে তীব্র যুদ্ধÑ স্বল্পমেয়াদি বড় সংকট, তবে স্থায়ী পতন নয়।
বর্তমান বাস্তবতায় দ্বিতীয় বা তৃতীয় পথই বেশি সম্ভাব্য।
অস্থিরতার নতুন অধ্যায়
ইরান এখন সময়কে নিজের পক্ষে কাজে লাগাতে চাইছে। সরাসরি আলোচনায় না গিয়ে তারা প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করার কৌশল নিচ্ছে। আরব বিশ্ব যুদ্ধ এড়াতে চাইছে, চীন-রাশিয়া পরোক্ষ সমর্থনে সীমাবদ্ধ থাকবে, আর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল দ্রুত সমাধান চাইলেও সহজ পথ নেই। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ‘পূর্ণাঙ্গ বিশ্বযুদ্ধ’ হয়তো হবে না, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা ও প্রক্সি সংঘাতের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছেÑ যার প্রভাব পড়বে জ্বালানি বাজার, বিশ্ব অর্থনীতি এবং ভূরাজনীতিতে।
এই যুদ্ধ তাই কেবল সীমান্তের লড়াই নয়; এটি শক্তির ভারসাম্য বদলের লড়াইÑ যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তই ভবিষ্যৎ বিশ্বের মানচিত্রে নতুন রেখা টানতে পারে।
অষ্টম দশকে ইসরাইলের সামনে সবচেয়ে বড় হুমকি ‘ধ্বংস’ না হলেও ‘অবসন্নতা’ আসতে পারে, যা একসময় বিলুপ্তির দিকে নিয়ে যায়। রাষ্ট্র হিসেবে তারা টিকে থাকবে যতক্ষণ সামরিক শক্তি ও মিত্র সমর্থন আছে। কিন্তু যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে অর্থনীতি, সমাজ ও রাজনীতিতে ক্ষয় তৈরি হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের এ বাস্তবতায় ইসরাইলের অষ্টম দশক হবে সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন; এমনকি বিলুপ্তও হতে পারে।