জনগণের প্রত্যাশা : ইসলামী শক্তির ঐক্য

জামশেদ মেহদী
৩ জুলাই ২০২৫ ১১:৪৯

গত ২৯ জুন রোববার একজন ইউটিউবার তার ইউটিউব চ্যানেলে দেশের সমকালীন রাজনীতি নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে বলেন, লন্ডনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠকের পর উভয় নেতা মনে করেছিলেন যে, সারা বাংলাদেশ রাজনৈতিকভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এ ইউটিউবারের নাম গৌতম দাস। লন্ডন বৈঠক বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক ভেদাভেদ দূর করেছে। তার মতে, যেহেতু ড. ইউনূসের রয়েছে ব্যাপক জনসমর্থন আর তারেক রহমানের বিএনপির রয়েছে বৃহত্তম রাজনৈতিক সংগঠন, সুতরাং আগামী দিনগুলোয় তাদের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা কুসুমাস্তীর্ণ হবে বলে তারা ধারণা করেছিলেন। রাজনৈতিক মতৈক্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়ে ব্যাপক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। এ ইউটিউবার বলেন, কিন্তু বাস্তবে হয়েছে তার ঠিক উল্টোটা। ঐক্যের পরিবর্তে অনৈক্য আরো বেড়ে গেছে। বিএনপি এবং তার সহযোগী দু-তিনটি ক্ষুদ্র দলের জোট ছাড়া দেশের সব রাজনৈতিক দল মনে করে যে, রাজনীতিতে তাদের উপেক্ষা করা হয়েছে।
ইসলামী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বলেন, তারেক রহমান একজন রাজনীতিবিদ। তিনি লন্ডনে থাকেন। ড. ইউনূস সরকারিভাবে লন্ডন সফরে গিয়ে এমন একজন শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতার সাথে দেখা করতেই পারেন। কিন্তু লন্ডনে বসে দেড় ঘণ্টা বৈঠকের পর সেখানেই নির্বাচন এপ্রিল থেকে এগিয়ে এনে ফেব্রুয়ারিতে করার ঘোষণা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে অশোভন। তিনি ঢাকায় ফিরে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলাপ-আলোচনা করতে পারতেন এবং তারপর এ ধরনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারতেন। লন্ডনে এ ঘোষণা দেওয়ার ফলে একদিকে যেমন দেশের অন্য দলগুলোর প্রতি উপেক্ষা করা হয়েছে, অন্যদিকে তেমনি একটি বিশেষ দলের প্রতি অনুরাগ দেখানো হয়েছে।
শুধু ঐ ইউটিউব ব্লগার নন, অনেক রাজনৈতিক ভাষ্যকার এখন দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলছেন যে, গত ২৮ জুন শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলনের ডাকে লাখ লাখ লোকের যে বিশাল জনসভা হয়েছে, সেই সভা পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের রাজনীতিকে সুস্পষ্টভাবে দুই ভাগে ভাগ করেছে। আলোচ্য জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ বিশাল জনসভায় অন্তত ১০টি রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। যেসব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ঐ সভামঞ্চে হাজির ছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও খেলাফত মজলিসের দুই অংশের নেতৃবৃন্দ, এনসিপি, ইসলামী ঐক্যজোট, আমার বাংলাদেশ-এবি পার্টি, নুরুল হক নূরের গণঅধিকার পরিষদসহ নেতৃবৃন্দ। এ বিশাল জনসভার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম সবগুলো ইসলামী দল এক মঞ্চে উঠল। সব দলের সব নেতার কণ্ঠেই ছিল ইসলামী দলসমূহের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের আওয়াজ। চরমোনাই পীরসাহেব তো সরাসরি বলেই দেন যে, আগামী নির্বাচনে সব ইসলামী দল একটি বাক্সে ভোট দেবে। আমরা জানি না যে, ইসলামী রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে ইতোমধ্যেই বৃহত্তর ঐক্যজোট গঠিত হয়েছে কিনা। বিষয়টি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা লাভের জন্য কয়েকজন নেতার বক্তব্যের অংশবিশেষ সংক্ষেপে নিম্নে তুলে ধরা হচ্ছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ৫৪ বছরে অনেক দলকে দেশ শাসন করতে দেখেছি। কিন্তু ইসলামকে এখনো ক্ষমতায় নিতে পারিনি। এবার ইসলামপন্থীদের ঐক্যের ব্যাপারে গণপ্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। আগামী নির্বাচনে শুধু ইসলাম দলই নয়, বরং দেশপ্রেমিক আরো অনেক রাজনৈতিক দলও ‘এক বাক্স’ নীতিতে আসতে পারে। যদি একত্রে নির্বাচন ও কার্যকর ঐক্য গড়ে তুলতে পারি, তাহলে দেশে ইসলামপন্থীরাই হবে প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। গত ২৮ জুন শনিবার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক মহাসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে অবস্থার এখনো পরিবর্তন হয়নি বলে মন্তব্য করেন সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, একটি দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। কারো নাম ধরে সমালোচনা করতে চাই না। তবে পুরোনো রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি জিইয়ে রাখার চেষ্টা সহ্য করা হবে না। রাজনীতির নামে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিকে প্রতিহত করতে হবে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও গণমানুষের জীবনমান উন্নত করা।
মহাসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলনের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম আরও বলেন, কার্যকর ঐক্য গড়ে তুলতে পারলে আগামীতে ইসলামপন্থিরাই প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হবে। আমি শুরু থেকেই ইসলামপন্থি সব ভোট এক বাক্সে আনার কথা বলে আসছি। আগামী নির্বাচনে শুধু ইসলামী দলই নয়; বরং দেশপ্রেমিক আরো অনেক রাজনৈতিক দল এক বাক্সনীতিতে আসতে পারে, ইনশাআল্লাহ। যদি আমরা একত্রে নির্বাচন করতে পারি, যদি কার্যকর ঐক্য গড়ে তুলতে পারি, তাহলে বাংলাদেশে ইসলামপন্থিরাই হবে প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব আমাদের হাতেই আসবে, ইনশাআল্লাহ।
আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি ছাড়া আগামী নির্বাচন দেশের মানুষ মানবে না। তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিছু কিছু আচরণ জনগণের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করেছে। নির্বাচনের আগে নিজেদের নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে হবে। লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। দৃশ্যমান সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। যারা বলেন ক্ষমতায় গেলে সংস্কার করবেন, তারা কীভাবে বুঝলেন তারা ক্ষমতায় যাবেন?
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সংস্কার সম্পন্ন করেই হতে হবে আগামী জাতীয় নির্বাচন। দেশের প্রতি শকুনের নজর পড়েছে। ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সব দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, আগামী নির্বাচনে কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তিকে সামনে রেখে কিছু হবে না। চব্বিশ-পরবর্তী বাংলাদেশে সবাই ঐক্যবদ্ধ। কারো অপপ্রচার বা প্রোপাগান্ডায় কিছু যায় আসে না। তিনি বলেন, বিগত দিনে পাঞ্জাবি-টুপি পরিহিতদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। আগামীতে দেশ, জনগণ ও খুনিদের বিচার প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব। আমরা এক থাকলে হাসিনার মতো কেউ আর আসতে পারবে না। যত বড় খুনিই হোক, তাদের প্রতিহত করা হবে। তিনি সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে নিজের মতামত ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমেদ বলেন, এখন লক্ষ্য করছি, মব জাস্টিস, চাঁদাবাজি ও দখলদারি চলছে। ইসলাম কখনো মব জাস্টিস, দখলদারি ও চাঁদাবাজি পছন্দ করে না।
গত ২৯ জুন প্রকাশিত দৈনিক আমার দেশের খবরে বলা হয়েছে, আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে তিন দফা দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত মহাসমাবেশে এক মঞ্চে উঠলেন জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ সব ইসলামী ও সমমনা দলের নেতারা। প্রয়োজনীয় রাষ্ট্র সংস্কার, গণতহবিল বিভাগ এবং সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিতে শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে গুরুত্ব পায় ইসলামী দলগুলোর একতা এবং আগামী নির্বাচনে ইসলামপন্থীদের একক প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি।
সমাবেশে এক মঞ্চে ভিন্নমতের নেতাদের একত্রিত করায় চরমোনাই পীর ও জামায়াত আমীরের ভূমিকার প্রশংসা করেন বক্তারা। এছাড়া মহাসমাবেশ থেকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে হুঁশিয়ার করে বক্তব্য দেন বিভিন্ন দলের নেতারা। প্রয়োজনীয় সংস্কার না করে যেনতেন নির্বাচন তারা মানবেন না।
সংস্কার, বিচার ও পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দাবি সম্পর্কে তারা বলেন, খুনিদের অবশ্যই বিচার করতে হবে আর নির্বাচন দিতে হবে পিআর পদ্ধতিতে। দু-একটি দলের কথায় হিসাব না মানার কোনো সুযোগ নেই।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সমাবেশ থেকে জানানো মূল দাবিগুলো সংস্কারবিষয়ক। সঙ্গে ছিল স্থানীয় নির্বাচন আগে দেওয়ার দাবিও। মূলত সংস্কার প্রস্তাবের যে বিষয়গুলো নিয়ে কমিশনের বৈঠকে ঐকমত্য হয়নি, সেগুলো আলোচনার টেবিল থেকে মাঠে নিয়ে এলো দলটি।
এ আওয়াজে তাদের সঙ্গে গলা মেলাতে হাজির ছিল জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, নেজামে ইসলাম পার্টি, খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলনসহ ১১টি দল। এ দলগুলো সংসদের দুই কক্ষে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন চায়। বিএনপি এর বিপক্ষে। ফলে সমাবেশে তারা দাওয়াত পায়নি। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দিয়েছে জাতীয় হিন্দু মহাজোট ও বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনও। তাদের উপস্থিতি মূলত সম্প্রীতির নিদর্শন। সমাবেশ থেকে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচনের দাবি জানানো হয়। জামায়াত আগে থেকে এ দাবি করে আসছে।
এদিকে ইসলামী আন্দোলনের এ মহাসমাবেশের আগের দিন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের সকল ইসলামী শক্তির মধ্যে অচিরেই সমঝোতা হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের ইসলামিক পণ্ডিত ও আলেম-ওলামা বুঝতে সক্ষম হয়েছেন যে, এবারের নির্বাচনে সকল ইসলামী শক্তির মধ্যে একটা নির্বাচনী ঐক্য থাকতে হবে। সেই লক্ষ্যে তারা কাজ করছেন এবং আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের মধ্যে অচিরেই একটা সমঝোতা হতে যাচ্ছে ইনশাআল্লাহ। এই ইসলামী শক্তির ধারাকে অক্ষুণ্ন রেখে সকল আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আমাদের দেশপ্রেম, জাতিসত্তা, ইসলামী মূল্যবোধ, হাজারো শহীদের আকাক্সক্ষা, প্রিয় শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ- যারা ফাঁসিতে ঝুলে শাহাদাতের পিয়ালা পান করলেন, যারা নতুন বাংলাদেশ দেখে যেতে পারেননি, তাদের স্বপ্নপূরণের জন্য আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ই হচ্ছে তাদের ঋণ পরিশোধের একমাত্র উপায়। আসুন, আমরা এ তারবিয়াতি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের মান সকল দিক দিয়ে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে নিয়ে যাই এবং তৃণমূল সংগঠনকে মডেল সংগঠনে পরিণত করার সকল শর্ত পূরণের অঙ্গীকার করি।
বস্তুতপক্ষে সাম্প্রতিক অতীতে একশ্রেণির বিএনপি নেতার আত্মাম্ভরিতা এবং জামায়াতসহ অন্য ইসলামী দলসমূহের প্রতি তাচ্ছিল্যের কারণে ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী সব রাজনৈতিক দল নিজেদের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য গড়ার তাগিদ অনুভব করছিলেন। ইসলামী দলসমূহের বৃহত্তর ঐক্য নিয়ে মেইনস্ট্রিম পত্রপত্রিকায়ও কয়েকদিন ধরে বেশ জল্পনা-কল্পনা চলছে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকা এবং ইউটিউবের আলাপ-আলোচনার নির্যাস নিচে দেওয়া হলো।
আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থাকছে না- এমনটা ধরে নিয়ে রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের চেষ্টা চলছে। এরই অংশ হিসেবে বিএনপির বাইরে এক ধরনের ‘বৃহত্তর নির্বাচনী সমঝোতা’র প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া দলগুলো।
আপাতত এর অবয়বটা হলো- জামায়াতে ইসলামী বিএনপির মতো এককভাবে নির্বাচন করবে। চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনকে সামনে রেখে ধর্মভিত্তিক দলগুলো একটা প্ল্যাটফর্ম গঠন করবে। আর সংস্কার আলোচনায় বিএনপির বিপরীতে অবস্থান নেওয়া দলগুলো নিয়ে পৃথক মোর্চা গঠন করবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ তিন শক্তি আনুষ্ঠানিক কোনো জোট গঠন করবে না। কিন্তু তারা নির্বাচনে একে অন্যকে আসনভিত্তিক ছাড় দেবে।
জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত মজলিসের দুই অংশ, এবি পার্টি এবং গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন আভাস দেওয়া হয়েছে ঐসব গণমাধ্যমে।
ইসলামী দলসমূহের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের আলামত দেখার পর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল বলেন যে, ইসলামী দলসমূহের মধ্যে শুধুমাত্র নির্বাচনী ঐক্য গড়লেই হবে না। এ ঐক্য যেন নির্বাচনের পরেও স্থায়ী হয়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। শুধু তাই নয়, এ বৃহত্তর ঐক্যজোটের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হবে বিএনপি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ। তাই ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোকে শুধুমাত্র বক্তৃতা-বিবৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তাদের প্রকৃত রাজনৈতিক দল হতে হবে। একদিকে মহান ইসলামের আদর্শের প্রচার; অন্যদিকে সেক্যুলার শক্তিরা বাধা দিলে তাদের প্রতিহত করার মতো ঈমানী শক্তি নিয়ে মাঠে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। এটা যদি তারা করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের মাটি থেকে সেক্যুলার এবং বামপন্থি অপশক্তি ধীরে ধীরে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল হয়ে যাবে।