অধ্যাপক ইউনূসের প্রতি বিশ্বনেতাদের সমর্থন: বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:৪৬
বিশ্বনেতারা অধ্যাপক ইউনূসের দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সামাজিক ন্যায়ের জন্য আজীবন সংগ্রামের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের মানুষের পাশে আছি। আপনাদের পাশে আমরা সম্পূর্ণভাবে ঐক্যবদ্ধ।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ডজনখানেক প্রভাবশালী বিশ্বনেতা। তারা বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ভাইরা ভিকে-ফ্রেইবার্গার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি অধ্যাপক ইউনূসের হোটেল স্যুইটে সাক্ষাৎ করেন। তিনি নিজামী গঞ্জাভি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের সহ-সভাপতিও।
সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন স্লোভেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বোরুত পোহোর, সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ, গ্রিসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপান্দ্রেউ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রাক্তন সভাপতি শার্ল মিশেল, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, মৌরিতানিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানসহ একাধিক বিশ্বনেতা। এছাড়া কমনওয়েলথের সাবেক মহাসচিব, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাবেক সভাপতি, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিশ্বব্যাংকের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসমাইল সেরাগেলদিন, রবার্ট এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটসের সভাপতি কেরি কেনেডি এবং জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির নির্বাহী পরিচালক মেলান ভারভিয়ারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা ছিলেন।
বিশ্বনেতারা অধ্যাপক ইউনূসের দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সামাজিক ন্যায়ের জন্য আজীবন সংগ্রামের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের মানুষের পাশে আছি। আপনাদের পাশে আমরা সম্পূর্ণভাবে ঐক্যবদ্ধ।’
অতীতের দুর্নীতি ও শোষণের পর বাংলাদেশ আজ নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে—এ কথা উল্লেখ করে নেতারা অন্তর্বর্তী সরকারকে পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে তাদের দক্ষতা ও সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দেন। কেরি কেনেডি বাংলাদেশের মানবাধিকার অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, ‘আপনারা মানবাধিকারে যে সাফল্য দেখিয়েছেন তা সত্যিই অসাধারণ।’
জর্জটাউন ইনস্টিটিউট শিগগিরই বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানাবে বলে ঘোষণা দেন নির্বাহী পরিচালক মেলান ভারভিয়ার। নিজামী গঞ্জাভি সেন্টারের সহ-সভাপতি ইসমাইল সেরাগেলদিন বলেন, ‘যখনই আমাদের প্রয়োজন হবে, আমরা আছি।’
অধ্যাপক ইউনূস সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘এটি আমার কল্পনার বাইরে। আপনাদের এভাবে একসঙ্গে দাঁড়ানো আমাদের জন্য অবিশ্বাস্য এবং গভীরভাবে স্পর্শকাতর।’
বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে তিনি দীর্ঘ ভূমিকম্পোত্তর পুনর্গঠনের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে এ দেশ একটি ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের মতো ধাক্কা সহ্য করেছে।’ তিনি আরো যোগ করেন,‘মানুষ রাতারাতি অলৌকিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে, অথচ আমাদের সামর্থ্য সীমিত। তবে তরুণদের স্বপ্ন পূরণ করতেই হবে—তারা নতুন বাংলাদেশ খুঁজছে।’
অধ্যাপক ইউনূস ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আপনাদের দিকনির্দেশনা, সমর্থন ও নৈতিক শক্তি আমাদের জন্য অমূল্য হবে।’বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন।