আলোকে তিমিরে

শুধু মেজরিটি নয়, মনুষ্যত্বের অবস্থান জরুরি

প্রিন্ট ভার্সন
৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৫৪

Mahbubul Haq

॥ মাহবুবুল হক ॥
বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পরিচয় কী? জাতিসত্তা কী? এটা কী ধরনের রাষ্ট্র। কী প্রকৃতির রাষ্ট্র। সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, সুশিক্ষিত মানুষও হুট করে বলতে পারবে না। এর কারণ অনেক। সেদিকে আমরা যাচ্ছি না। মানুষের মতো একটা জাতি বা দেশের নাম, পরিচয়, গোষ্ঠী, বাপ-দাদার পরিচয়সহ অনেক কিছু প্রয়োজন হয়। যেমন- যদি আমরা ধরে নিই এটা একটা দেশ, তাহলে এর নাম কী? এদেশের মূল পরিচয় কী? দেশটির কীভাবে জন্ম হলো। বর্তমানে কোন কোন জাতি এদেশে বাস করে। নাকি এক জাতির লোকই এখানে বসবাস করে, সেসব জানাটা খুবই দরকার হয়ে পড়ে। মানুষে মানুষে যেমন বন্ধুত্ব হয়, আত্মীয়তা হয়, শত্রুতা হয়, ঠিক তেমনি একটি দেশের পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার বিষয় আছে। আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বিষয় আছে। প্রয়োজনে শত্রুতার বিষয়ও সামনে এসে উপস্থিত হতে পারে। সে কারণে নিজের পরিচয় জানলে হবে না। পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের পরিচয় আমাদের জানতে হয়। কিন্তু আমরা এদিক থেকে অনেকটা দুর্ভাগা। আমরা আমাদের পরিচয় যেমন ভালো করে জানি না, তেমনি আমাদের দেশের পরিচয়ও ভালো করে জানি না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, চৌধুরী বাড়ির একটি ছেলে ভালো করে জানে না, সে কেমন করে চৌধুরী হলো। কোথা থেকে কেমন করে এ উপাধিটা তারা পেল। তারা সমাজ থেকে অন্যদের তুলনায় কিছুটা সম্মান ও মর্যাদা বেশি পায়। কেন এ সম্মান ও মর্যাদা? এর ল্যাগাসি সে একদম জানে না। জানলেও সবটা জানে না। এটা শুধু চৌধুরীদের ক্ষেত্রে নয়। উপাধিপ্রাপ্ত সকল বংশের লোকদের বেলায় একই কথা। এই যে বংশ কথাটি বললাম। এর অর্থ কী? এর পরম্পরা কী? আমরা ভালো করে তা জানি না। কিছু কিছু পরিবারে হয়তো বংশলতিকা রয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা জানি না। আমরা কীভাবে মিয়া, ভূঁঞা, পাটোয়ারী ইত্যাদি হলাম। যে নিজের আত্মপরিচয় জানে না, সে কখনো বড় মানুষ হতে পারে না।
মুসলিম সমাজে জাত্যাভিমান নেই- এ কথা বলা হলেও বাস্তবে এর কোনো অনুসরণ নেই। বিশেষ করে পূর্বকালে সৈয়দদের সাথে সৈয়দদের বিয়ে-শাদী সম্পন্ন হতো। বারো ভূঁঞাদের সাথে বারো ভূঁঞা। শুধু মুসলিম ক্ষেত্রেই নয়, সনাতন, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও তাই। বর্তমানকালে মুসলিমদের ক্ষেত্রে এ বিভেদ অনেকটা ঘুচে গেলেও অন্যান্য ধর্মের ক্ষেত্রে জাত্যাভিমানের বিষয়টি এখনো অনেকটা বিরাজমান রয়েছে।
আমাদের দেশের নাম হলো বাংলাদেশ। এ নামটা কেন হলো, সেটা মোটামুটিভাবে আমরা সবাই জানি। সাধারণভাবে আমরা বুঝি আমাদের মাতৃভাষা বাংলা, সে কারণেই নানা পরম্পরায় এদেশের নাম হয়েছে বাংলাদেশ। আর আমাদের পরিচয়ের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’।
দেশের নামটা নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনা নেই। কিন্তু পরিচয়টা নিয়ে গত ৫৪ বছরে নানা তর্ক-বিতর্ক রয়েছে। এখানে ‘গণ’ বলতে আসলে কী বোঝাচ্ছে, তা সবার কাছে স্পষ্ট নয়। যদিও সরকারিভাবে এর ব্যাখ্যা রয়েছে। অর্থাৎ ‘গণ’ মানে মানুষের সমষ্টি। এতে সহজে বোঝা যায়, এখানে কোনো রাজা নেই এবং ভবিষ্যতেও কোনো রাজা হবে না বা থাকবে না। অর্থাৎ রাজতন্ত্রকে এখানে ‘নো’ বলা হয়েছে। প্রজাকে এখানে রাজার আসনে বসানো হয়েছে। এ প্রজারা আবার রাজাহীন প্রজা। এককালে আমরা যে প্রজা ছিলাম এবং সবসময় কোনো রাজার অধীন ছিলাম, সেটাই এখানে পরিস্ফুটিত হয়েছে। রাজাদের তন্ত্র-মন্ত্র, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, আশা-ভরসা, স্বপ্ন এখানে চলবে না। এখানে চলবে প্রজাদের স্বপ্ন এবং তাদের আশা-ভরসা, কৃষ্টি-সংস্কৃতি, যাপিত জীবন ইত্যাদি। কালে কালে প্রজারা দুঃসহ ও দুর্বহ জীবনযাপন করেছে। রাজাদের দ্বারা অত্যাচারিত ও নির্যাতিত হয়েছে। সে কারণে প্রজাদের বিষয়টিকে উচ্চকিত করা হয়েছে। সমুজ্জ্বল করা হয়েছে। বাস্তবে কী হয়েছে, সেটা তো আমরা জানি।
এ ভূখণ্ডের ইতিহাস ৪ থেকে ৬ হাজার বছরের। স্থানভেদে বিষয়টি বলা হলো। এখানকার মানুষের ধর্মীয় পরিচয় ছিল মোটাদাগে হিন্দু, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সনাতন ধর্ম। কালক্রমে এখানকার মানুষ বিভিন্ন ধর্ম গ্রহণ করেছে। কেউ মুসলিম, কেউ বৌদ্ধ, কেউ খ্রিস্টান এবং কেউ কেউ পুরনো ধর্মে প্রাকৃতিক ধর্মে থিতু রয়ে গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ৯১ শতাংশ মানুষ মুসলিম, সনাতন ধর্ম ৮ শতাংশ, বৌদ্ধ ০.৬ শতাংশ, খ্রিস্টান ০.৩ শতাংশ বাকিটা নানা ধর্ম-উপধর্মের মানুষ। অর্থাৎ এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলিম। গণতন্ত্রের মূল কথাই হলো মেজরিটি। ইংরেজিতে বলা হয়, মেজরিটি মাস্ট বি গ্রান্টেড’। মেজরিটির স্বপ্ন, আশা-আকাক্সক্ষা, ইচ্ছা-বাসনা, অভিপ্রায়, মেজরিটির পরিকল্পনা, মেজরিটির সংস্কৃতি, মেজরিটির ইতিহাস, মেজরিটির ঐতিহ্য, মেজরিটির ঐশ্বর্য, মেজরিটির সাহিত্য, শিল্পকলা, লোককলা, লোকজ ধ্যান-ধারণা, সংগীত এবং লোকজ সংগীত, বিনোদন, চলচ্চিত্র, মঞ্চ নাটক, রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিকতা, শিল্প-বাণিজ্য, খেলাধুলা, বিচার-আচার অর্থাৎ জীবনের যাবতীয় প্রয়োজন, আকাক্সক্ষা ও উৎপাদন সবকিছু মেজরিটির বোধ ও বিশ্বাস, ধর্ম এবং জীবন জিজ্ঞাসা ও জীবন ব্যবস্থা সবই মেজরিটির মনননির্ভর হবে- এটাই স্বাভাবিক। একসময় যুক্তরাষ্ট্রে মদ এবং ড্রাগ নিষিদ্ধ ছিল, সমকামিতা নিষিদ্ধ ছিল, অকল্যাণজনক অনেক কিছুই নিষিদ্ধ ছিল। তখন সমাজে খ্রিস্টান ধর্মের আবহ ও আবেদন ছিল। সংসদে কোনো আইন পাস করতে হলে ধর্মের সম্মুখীন হতে হতো। সংবিধানের চেয়ে বাইবেল, পোপ, গির্জা এসবের গুরুত্ব ছিল বেশি। কালে কালে, ধীরে ধীরে খ্রিস্টান্দ ধর্মের শক্তি কমে এলে একই সংসদ থেকে শুধু মেজরিটির কারণে উপর্যুক্ত অকল্যাণকর বিষয়গুলো আর নিষিদ্ধ থাকেনি। মেজরিটির ভোটের কারণে সবকিছু সিদ্ধ হয়ে গেছে এবং আমরা সবাই জানি এর চেয়েও নিকৃষ্টতর ‘বিল’ পাস হবার ফলে মানুষ মনুষ্যত্ব, মানবিকতা, মানবচরিত্র কি হারে সবকিছু তছনছ হয়ে গেছে। এখন মানুষ আর মানুষ নেই। মানুষ হাইওয়ান ও জন্তু-জানোয়ারের চেয়েও খবিস হয়ে গেছে। মানুষ কোন পর্যায়ে গেলে শক্তির দাপটে ভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট এবং ফার্স্টলেডিকে ধরে নিয়ে আসতে পারে। ভিন্ন দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, আইনকানুন সবকিছুর ওপর জবরদস্তি করতে পারে। নিজের দেশের আইন ভিন্ন দেশে বলবত করতে পারে। ভিন্ন দেশ দখল করতে পারে। পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের পর দেশ ধ্বংস করতে পারে- এ বিষয়গুলো এ যুগে এখন প্রতিটি দেশকে, দেশের মানুষকে ভাবতে হবে।
আমাদের দেশে তথাকথিত গণতন্ত্রের নামে বার বার মেজরিটির শাসন এসেছে। আবার এসেছে সেনাশাসন। সেটাও এক ধরনের মেজরিটি। অস্ত্রের মেজর শক্তি। গত ৫৪ বছরে এদেশের হতভাগ্য মানুষের ওপর যে জুলুম-সিতম (অন্যায়-নির্যাতন) হয়েছে, যত অত্যাচার-অবিচার হয়েছে, যত খুন-গুম-হত্যা সংঘটিত হয়েছে। তার কারণ এই মেজরিটি। কিছু পূর্বেই আমরা মেজরিটির ভালো দিকগুলো বলার সংক্ষিপ্ত প্রয়াস পেয়েছি। পরবর্তীতে আমরা মেজরিটির খারাপ দিকগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
বর্তমান জগতে গণতন্ত্রকেই মানুষ শ্রেষ্ঠতর আদর্শ বা মতবাদ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যদিও অল্প কিছু দেশে গণতন্ত্র বিরাজমান রয়েছে, কিন্তু গণতন্ত্রের সমস্ত কিছু ত্রুটি নিয়ে তথাকথিত গণতন্ত্রের নামে বিশ্বমানবতা এখন মৃত্যুমুখে ঢলে পড়েছে। মানবিকতা, মনুষ্যত্ব, মানবাধিকার সবকিছু আজ প্রশ্নবিদ্ধ। সব ধর্ম আদর্শ ও মতবাদ আজ বিলীন হওয়ার পথে। তথাকথিত সভ্য দেশগুলো- যারা নিজেদের সভ্যতার বাণীবাহক ও সঞ্চালক মনে করে, তারাই আজ সম্পূর্ণভাবে অসভ্য হয়ে গেছে এবং যারা কিছুটা হলেও ধর্ম মানে, আদর্শ মানে, মানবতা মানে, তাদের তথাকথিত সভ্য দেশগুলো বলছে, ওরা আনসিভিলাইজড- অসভ্য। ওরা ব্যাকডেটেড, তারা এখনো শিল্পবিপ্লব পূর্বাবস্থানে রয়েছে। তারা ‘ডার্ক এইজের ফসিল’। এদের পৃথিবী থেকে নির্মূল না করতে পারলে ‘ওয়ার্ল্ড পিস’ আসবে না। ওদের কারণেই এ পৃথিবীতে শুধু অস্বস্তি ও অশান্তি। সুতরাং এদের ধ্বংস করাই মানবতার জন্য সর্বোত্তম প্রেসক্রিপশন। সর্বোত্তম দেশগুলো এখন এ ধান্দায় আছে। ফিলিস্তিনে হাজার হাজার হাইরাইজ বিল্ডিং মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে লাখ লাখ মানুষকে কবরের অন্ধকারে পাঠিয়ে দিয়ে এখন তারা আবার তাদের আবাসন তৈরির মহাধান্দায় ব্যস্ত। আমাদের গরিব দেশে বলা হয় ‘গরু মেরে জুতা দান’। এ অবস্থায় চলছে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি।
সমস্যাটা আসলে কোথায়? সমস্যাটা মেজরিটি বা মাইনোরিটি নয়। সমস্যাটা মানুষকে মানুষ হবার মধ্যে। মনুষ্যত্বের মধ্যে। হিউম্যানরাইটসের মধ্যে, অর্থাৎ মানবিকতার মধ্যে। এসব গুণ আছে ধর্মে, আদর্শে ও মতবাদে। সেসবকে আবার পৃথিবীর সর্বস্থানে ফিরিয়ে আনতে হবে। মেজরিটির শাসন হোক আর মাইনোরিটির শাসন হোক, শাসকগোষ্ঠীর যদি মানুষের মতো মানুষ হয়, ইনসানে কামেল হয়, তাহলে সমস্যাটা দ্রুতবেগে কমে যাবে। অর্থাৎ সাধারণ মানুষকে ভালো মানুষ হতে হবে এবং যে ধরনের শাসক হোন না কেন, তাদের হতে হবে মহান আল্লাহ, মহান রব, মহান প্রভুর শুধু বান্দা নয়, হতে হবে তার একান্ত নিষ্ঠাবান প্রতিনিধি।
আমরা সবাই জানি, গণতন্ত্র কোনো আদর্শ নয়। গণতন্ত্র হলো আদর্শ প্রতিষ্ঠার মাধ্যম। মতবাদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যম। ধর্ম বা জীবন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যম। অর্থাৎ আমি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে রাজধানী ঢাকায় যাব আমার যাত্রার বা সফরের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো রাজধানী ঢাকায় যাওয়া। ঢাকায় যাওয়ার বহু বাহন বা মাধ্যম আছে, তার মধ্যে পানির জাহাজ, লঞ্চ, স্টিমার, নৌকা, বিমান, হেলিকপ্টার, বাস, ট্রাক, ট্রেন, মাইক্রোবাস, কার ইত্যাদি আছে। এখন আমি কোন মাধ্যমে যাব, সেটা আমাকেই ঠিক করতে হবে। কিন্তু বিষয়টি এখানে ব্যক্তির নয়। যেহেতু আমাদের দেশের পরিচয় হলো ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’। সেহেতু আমাদের গণমুখী হতে হবে। গণমুখী হওয়া মানে সর্বসাধারণের চিন্তা ও চেতনাকে অবলম্বন করে শুধু বেঁচে থাকা নয়, অগ্রসর হওয়াও। গণমুখী হওয়া মানে, গণমানুষের অভিলাষকে শ্রদ্ধা করা। সর্বসাধারণের যাপিত জীবনমুখী হওয়া। গণমানুষের বোধ ও বিশ্বাসকে শ্রদ্ধা করা। তাহলে এ জায়গায় এসে যদি আমরা মাধ্যম বা বাহনের চিন্তা করি, তাহলে প্রথমে আমাদের চিন্তা করতে হবে আমাদের ‘গণমানুষ’ কোন আর্থিক স্তরে বিদ্যমান রয়েছে। অর্থাৎ বেশিরভাগ মানুষ হতদরিদ্র? দরিদ্র? নিম্নবিত্ত? নিম্নমধ্যবিত্ত? মধ্যবিত্ত? উচ্চ মধ্যবিত্ত? কিংবা ধনী? ধনীরা, উচ্চবিত্তরা এবং উচ্চমধ্যবিত্তরা সর্বসাধারণের স্তরে পড়েন না। তারা এলিট, তারা অভিজাত, তারা গণমানুষের সঙ্গে সবসময় নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করেন। তারা নিজেদের বাহন অর্থাৎ নিজেদের গাড়ি, হেলিকপ্টার বা বিমানের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকায় উপস্থিত হবেন। অথবা তাদের অধিকাংশই তো রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করেন। তাদের কোনো অসুবিধা নেই। তারা নিজেদের বাড়িতে বা ৩/৫/৭ স্টারে অবস্থান করতে পারেন। মধ্যবিত্তরা আত্মীয়-স্বজনের বাসা বা ছোট-খাটো হোটেলে অবস্থান করবেন, এর পরের নিম্নমধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত, দরিদ্র এবং হতদরিদ্ররা কোন মাধ্যমে যাবে এবং কোথায় তারা অবস্থান করবে, সেটার কোনো কূল-কিনারা নেই। এরাই হলো সত্যিকার অর্থে গণমানুষ। এরা রাজধানী ঢাকায় যাবে লঞ্চে, বাসে, ট্রেনে বা ট্রাকে ঝুলে ঝুলে। মধ্যবিত্তরাও বাহনের ক্ষেত্রে উপযুক্ত বাহনগুলো ব্যবহার করবে। এখন আমরা বলছি, গণমানুষের চেতনায় আমাদের ফিরে আসতে হবে। এ বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় একবার গণশিক্ষা নিয়ে তিন দিনের সেমিনার হয়েছিল। সবাই গণশিক্ষাকে উচ্চকিত করার কথা বলেছিলেন। নানা বর্ণের, নানা অভিজ্ঞতায় এবং চেতনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য একজন বিজ্ঞ প্রফেসর, যিনি ছিলেন একজন ধীমান ও বরেণ্য গীতিকারও। প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ‘গণশিক্ষা যদি প্রবর্তন করতে চাই, তাহলে গণমানুষের চিন্তা-চেতনাকে আমাদের ধারণ করতে হবে। আমাদের গণমানুষ মূর্খ, অশিক্ষিত বা স্বল্পশিক্ষিত। তাদের যাপিত জীবন, জীবন বীক্ষা, চিন্তা ও চেতনায় আমাদের ফিরে যেতে হবে। আমাদের গণমানুষ যদি শিক্ষিত হতো বা মার্জিত ও রুচিসম্পন্ন মানুষ হতো বা তাদের যাপিত জীবন সুন্দর হতো, শৃঙ্খলার মধ্যে থাকতো, তাহলে আমরা গণশিক্ষা প্রতিষ্ঠা করতে পারতাম। সুতরাং গণশিক্ষায় ফিরে যাওয়া আমাদের জন্য বিনাশী পদক্ষেপ বলে আমি মনে করি। আমাদের জ্ঞানের দিকে ফিরে যেতে হবে। যার বাহন হবে শিক্ষা।’ ‘গণ’ নিয়েই আমরা পড়ে থাকেনি। আমরা ‘গণ’-এর সাথে সংযোগ করেছি ‘প্রজাতন্ত্রী’ অর্থাৎ প্রজাদের তন্ত্র-মন্ত্র, বোধ-বিশ্বাস, ঐতিহাসিক জীবন নিষ্ঠা, অভিজ্ঞা- এসবকে আমরা ধারণ করব, মনে রাখব। জীবনবোধের সাথে মিলিয়ে নেব। বলুন, এখন আমরা কোথায় আছি?

আলোকে তিমিরে

সম্পর্কিত খবর