আমাদের বাঁচা-মরার প্রশ্ন
১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৩:৩৩
॥ মাহবুবুল হক ॥
বিলেত থেকে গত মাসের ১৭ তারিখে ঢাকায় এসেছি। এসেই সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গেলাম। আমাদের দেশের সৌভাগ্য, সবাই আমরা রাজনীতিবিদ এবং চিকিৎসাবিদ। এক এক করে যার সঙ্গে কথা হচ্ছে, সেই অন্তত একটা পরামর্শ দিচ্ছে। ছয় মাস পরে এসেছি। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পড়শী লোকজনের তো কোনো অভাব নেই। আমাদের ছেলে ডাক্তার, সে কথা জেনেও অনেকে নিজ নিজ পরামর্শ দিচ্ছেন। আমি সবার কথা শুনছি, কিন্তু ওষুধ খাচ্ছি ছেলে ও তার সিনিয়রের পরামর্শে। এদিকে যতই দিন যাচ্ছে, ততই আমার রোগের সাথে যুক্ত হচ্ছে কফ-কাশি, বুকসহ শরীরে ব্যথা, মাথাব্যথা, রুচিহীনতা ইত্যাদি। পরীক্ষা-নিরীক্ষাও চলছে। দেখা গেল আল্লাহর রহমতে আমার ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়া হয়নি। এটা এক ধরনের ভাইরাস। এছাড়া পূর্ব থেকে তো আমার পরিবেশগত এলার্জি রয়েছে।
এক আবহাওয়া থেকে আরেক আবহাওয়ায় গেলেই আমার সর্দি, কাশি, জ্বর, মাথাব্যথা অর্থাৎ ফ্লু শুরু হয়। ছোটকাল থেকেই আমার কালাজ্বর, ম্যালেরিয়া, কলেরা, বসন্ত, প্যারা-টাইফয়েড, টাইফয়েড, ইনফ্লুয়েঞ্জা এসব ছিল আমার নিত্যসাথী। তো আমার পরিবেশগত, আবহাওয়াগত, অঞ্চলগত, মৌসুমগত রোগ-শোকের কথা বলতে গেলে যে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যে লিখতে বসেছি, তা ব্যর্থ হবে।
বিমানবন্দরে নেমেই বুঝেছিলাম, বাতাসটা অনেক ভারী। বাতাসের মধ্যে অনেক কিছু আছে, যা আমাদের শরীরের জন্য কল্যাণকর নয়, বরং অকল্যাণকর। চোখ জ্বালা শুরু করল, নাক দিয়ে পানি পড়া শুরু হলো। বুঝলাম, আক্রান্ত হয়ে গেছি।
এ বছরের জুন মাসে দেশত্যাগের সময় বাংলাদেশ বায়ুদূষণে ছিল বিশ্বের মধ্যে তৃতীয় স্থানে। এখন এ সময়ে বাংলাদেশ বায়ুদূষণে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। অর্থাৎ ফার্স্ট হয়েছে। এ ফার্স্ট হওয়া আনন্দের কিছু নয়। গৌরবের কিছু নয়। শ্লাঘার কিছু নয়, বরং দুঃখ, লাঞ্ছনা ও কষ্টের বিষয়।
গত ৫ ডিসেম্বর শুক্রবার রাজধানী ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি জাতীয় দৈনিকে ‘দূষণে বিশ্বের শীর্ষে ঢাকা’ শিরোনামে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা রীতিমতো ভয়ংকর।
বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্বের শীর্ষ দূষিত নগরী হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ারের সূচকে ৪ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় দেখা যায়, ঢাকার একিউআই স্কোর ৩০৪, যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর।’ এ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। বলা হয়, ঢাকার বাতাসে উচ্চমাত্রায় ক্যান্সার সৃষ্টিকারী অস্তিত্ব মিলেছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্সেনিক, সিসা ও ক্যাডমিয়ামের মতো মারাত্মক ক্ষতিকর বিষাক্ত উপাদান। ঢাকার বাতাসে এসব বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মাত্রার প্রায় দ্বিগুণ বলে চিহ্নিত করা হয়। গবেষণায় ঢাকা শহরের বাতাসে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারেÑ এমন আরেকটি উপাদান কোবাল্টের উচ্চমাত্রায় উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। বিশ্বের ২৭টি স্থানে পরিচালিত গবেষণায় বলা হয়েছে, লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি এবং ই-বর্জ্য, পুনরায় ব্যবহারযোগ্য শিল্প, কয়লাভিত্তিক ইটভাটা এবং যানবাহনের রাসায়নিক উপাদানগুলোর উচ্চ ঘনত্বের জন্য দায়ী। এতে বলা হয়েছে, ঢাকাই একমাত্র স্থান, যেখানে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু উভয়ের ক্যান্সার সৃষ্টির ঝুঁকি সংশ্লিষ্ট মানদণ্ড ছাড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই মেগাসিটি ঢাকার বাতাস দূষিত। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও গত ৪ ডিসেম্বরের সকালে ঢাকার মান ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা নগরবাসীর জন্য মূলত স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ, অসুস্থ ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীদের জন্য এ পর্যায়ের বায়ুদূষণ ক্ষতিকর। এ অবস্থায় বাসায় অবস্থান করা এবং বাইরের অপ্রয়োজনীয় কার্যক্রম সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, পরিবেশ রক্ষায় ঢাকায় বিশ শতাংশ সবুজ এলাকার প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে তা ৮ শতাংশে এসে ঠেকেছে। বছরে প্রায় তিন বর্গমিটার করে কমছে ফাঁকা জায়গা। ফলে উত্তাপ বাড়ছে প্রায় এক শতাংশ করে। অসহনীয় বায়ুদূষণের সাথে তাপমাত্রা এখন রেকর্ড ছাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণ দীর্ঘ মেয়াদে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ, ফুসফুসে জটিলতাসহ স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। ঢাকার মতো জনবহুল শহরে দ্রুত বর্ধনশীল নির্মাণকাজ, যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্প কারখানার নির্গমন এবং খোলা জায়গায় আবর্জনা পোড়ানো, বায়ুদূষণের অন্যতম বড় কারণ।
যা বলা হলো, এতেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ, তা কিন্তু নয়। পুরনো গাড়ির ধোঁয়া যে কত ক্ষতিকর, সে সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত। গত ৫৫ বছরে এ বিষয় নিয়ে হাজার হাজারবার কথা হয়েছে। লেখালেখি হয়েছে। সেমিনার হয়েছে। মানববন্ধন হয়েছে। কিন্তু সুরাহা হয়নি। যখনই এ বিষয় নিয়ে কথা হয়, তখনই দেখা যায়, কয়েকদিনের জন্য বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়ানো গাড়িগুলো রাস্তায় নেই। কেন নেই সবার বোধগম্য। একবার একটি সংবাদপত্র ছবিসহ রিপোর্ট করেছিল, সেসব ভাঙা ও পুরনো গাড়ি শহরতলির বিভিন্ন জায়গায় রং করা হচ্ছে। আচ্ছা রং করলে কি পুরনো গাড়ি বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়াবে না? আচ্ছা আপনার পেটে যদি বিষাক্ত গ্যাস থাকে, সেই কারণে যদি আপনি সুন্দর করে শরীর রং করান, তাহলে কি শরীর থেকে গ্যাস বের হবে না? মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার কত রকম পদ্ধতি আছে, কত ধরনের সাইকো লজিক্যাল ট্রিটমেন্ট আছে, তা কী বলে বা লিখে শেষ করা যাবে?
মাত্র বিলেত থেকে এলাম। ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে ছয় মাস ঘুরলাম, কই রাস্তায় তো কোনো গাড়িকে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়াতে দেখলাম না। উন্নত বিশ্বের ভালো বিষয়গুলো তো আমরা গ্রহণ করি না। ওদের যত খারাপ বিষয়, সেগুলো আমরা গ্রহণ করে থাকি।
বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের সনির্বন্ধ অনুরোধ, রাস্তায় বহু রকম সমস্যা। সেসব দিকে আপনারা এখনই পরিপূর্ণভাবে দৃষ্টিপাত করুন, সেই নির্মম কথা আমরা বলতে চাই না। আমরা জানি, আপনারা অনেক ঝামেলায় আছেন। দেশি-বিদেশি অনেক ঝামেলা। সবাই আবার আপনাদের বন্ধু। আপনাদের গুরু। সবার কথাই আপনাদের শুনতে হয়। না শুনলে আপনাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে, সেও আপনাদের এবং আমাদের সবার জন্য বিরাট সমস্যা। অত বড় সমস্যায় আমরা এখন যেতে চাই না। নির্বাচনের পূর্বে আমাদের কিছু কোরামিন দরকার। আমরা এখন কিছু কোরামিন এবং কোরামিন জাতীয় জিনিস চাই। তার মধ্যে প্রথম হলো এখনই রাজধানী ঢাকার রাস্তা থেকে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়ানো গাড়িগুলো অপসারণ করা, যেগুলো মনুষ্যজীবের মধ্যে ক্যান্সার ছড়াচ্ছে। যে গাড়িগুলো ক্যান্সার ছড়িয়ে মানুষের মৃত্যু ডেকে আনছে।
২৪-এর বিপ্লব ২০০০ মানুষকে শহীদ করেছে। কিন্তু গত ৫৫ বছরে পুরনো গাড়িগুলো কত মানুষের জীবনে ক্যান্সার ছড়িয়ে শহীদ করেছে, তার কি কোনো হিসাব আছে?
সরকার ইচ্ছা করলেই এ কাজটি এখনই করতে পারেন। মানুষের জীবনের চেয়ে বড় কিছু নেই। সেই জীবন এবং জীবনী শক্তি আমরা অর্ধশতাব্দীর অধিককাল থেকে ধ্বংস করছি। এর কোনো প্রতিকারের কথাও আমরা চিন্তা করছি না। এর চেয়ে দুঃখ ও কষ্টের কথা আর কি হতে পারে?
আমাদের প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন দরকার। ঢাকা শহরে স্বাধীনতার পূর্বে অনেক গাছ-গাছালি ছিল। অক্সিজেনের তেমন কোনো ঘাটতি ছিল না। কিন্তু নানা কারণে সব সরকারই গাছ কেটেছে। এখন যাকে সবচেয়ে ভালো প্রেসিডেন্ট বলা হচ্ছে, তিনি হলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। হঠাৎ তাঁর মাথায় এলো জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঢাকা শহরের সবখানে ছোট ছোট যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার যাতে যখন-তখন ওঠানামা করতে পারে, তার অগ্রিম ব্যবস্থা করে রাখা। যেই চিন্তা সেই কাজ। গুলিস্তান থেকে যে রাস্তাটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের দিকে এগিয়ে গেছে, সে রাস্তার দুইপাশে পুরনো অনেক বড় বড় গাছ ছিল। দেখতেও অপরূপ সুন্দর লাগতো। হাঁটতেও খুব মজা লাগতো। সেসব গাছ জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে রাতারাতি কেটে ফেলা হলো।
ধানমন্ডির চার নম্বরে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য একটা ছোট মাঠ আছে। এ মাঠের চারপাশে প্রায় ২০০ গাছ ছিল। জায়গাটা একটু অন্ধকার ছিল। তবে গাছগুলো ছিল একদম সবুজ। অক্সিজেনে ভরা। বাইরে থেকে খুব সুন্দর দেখাতো। সত্য অভিযোগ ছিল, এ মাঠকে ঘিরে বা এ অন্ধকারকে কেন্দ্র করে বাদ এশা থেকে শুরু করে বাদ ফজর পর্যন্ত অসামাজিক কাজকর্ম চলতো। গুজব ছিল পুলিশের তত্ত্বাবধানেই এসব অপকর্ম চলেছে। গাছগুলো কেটে ফেলা হলো। অন্ধকার দূরীভূত হলো। এলাকাটা ফকফকা হলো। অপকর্ম ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হলো। মাঠের ভেতর-বাইরে অনেক লাইট লাগানো হলো। বাচ্চারা খেলছে, এখন সবদিক থেকেই পরিষ্কার দেখা যায়। ভালো লাগে। কিন্তু অক্সিজেন দূর হয়ে গেল। পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেল। গাছগুলোর অভিশাপ চলতে থাকলো।
ধানমন্ডির তিন নম্বর রোডের ১০ নম্বর বাসা ছিল স্বনামধন্য সাবেক সচিব মোহাম্মদ আসাফউদ্দৌলাহ ভাইয়ের বাসা। বাড়ির চারদিকে অনেক ছোট-বড় গাছ ছিল। কোকিলদের অনেক বড় বড় বাসা ছিল। সারা বছর কোকিলরা গান গাইতো। কথা বলতো। বাসাতেও হরহামেশা নজরুল সংগীত, কাওয়ালী, গজল এবং অন্যান্য ক্লাসিক সঙ্গীত হতো। পরিবেশটা মনমুগ্ধকর ছিল। অক্সিজেনে ভরপুর ছিল। অধিবাসীদের অসুখ-বিসুখ কম হতো। গত চার-পাঁচ বছর আগে হাইরাইজ বিল্ডিংয়ের জন্য সব গাছ কেটে ফেলা হলো। অক্সিজেন গেল, গান গেল, পরিবেশ গেল। ধানমন্ডির বাড়িগুলো ছিল এক বিঘার। প্রতিটি বাড়িতে অনেক গাছ ছিল। হাইরাইজ বিল্ডিং হওয়ার কারণে গাছগুলো আর নেই।
সারা ঢাকা শহরে তো একই অবস্থা। অক্সিজেন প্রায় বিলুপ্ত। নদ-নদী-খাল বিলুপ্ত। খালি জায়গা বিলুপ্ত। একসময় বুড়িগঙ্গা ও তার সাঙ্গপাঙ্গ নদ-নদী ব্যবহার করে ঢাকার চারপাশে ঘোরাঘুরি করা যেত। ভ্রমণ করা যেত। নদীদস্যু ও জলদস্যুরা সব শেষ করে দিয়েছে। বুড়িগঙ্গা ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গ নদী এখন বিষাক্ত কালো পানিতে ভরা। আলকাতরার মতো কালো পানি। এ বিষাক্ত পানি আমাদের শরীরে কত কিছু যে ঢোকাচ্ছে, কে তার হদিস রাখে?
এখন বাঁচা-মরার প্রশ্ন। আমাদের চারপাশের দেশগুলো গত ৫০-৬০ বছরে রাজধানী পাল্টিয়েছে। আর আমরা শুধু এ সমস্যা নিয়ে গালগল্প করেই যাচ্ছি। হয় রাজধানী পাল্টাতে হবে। আর না হয় অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য কারখানা দূরে সরাতে হবে। এখন যে অবস্থা চলছে, তাতে তো মৃত্যুর সঙ্গে আমরা লড়াই করছি। এ লড়াইয়ের কোনো প্রয়োজন তো নেই। একসাথে তো আর সবকিছু করা যাবে না। ধীরে ধীরেই করতে হবে। অন্তত মানুষকে তো বাঁচাতে হবে। এ সরকারের কাছে আরো একটি বড় আবেদন, বিদেশে এখন আমাদের প্রায় দেড় কোটি লোক বসবাস করে। এ ফিগারটা অতি তাড়াতাড়ি তিন কোটিতে উন্নীত করা যায় কিনা, সেই চেষ্টা আমাদের অবশ্যই করতে হবে। এবার এমন একটি সরকার আসা উচিত, যারা শুধু গদির কথা ভাববেন না, নব অট্টালিকার কথা ভাববেন না। ভাববেন না বিদেশে হাইরাইজ বিল্ডিং তৈরি করার।
মহান আল্লাহ যেন এমন একটি সরকার পাঠান, যারা আমাদের বাঁচা-মরার প্রশ্নগুলো নিয়ে এখন থেকেই ভাববেন।