বন্ধুপ্রতিম ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে ছাত্রশিবিরের ঈদ পুনর্মিলনী

রাষ্ট্র সংস্কারের যে স্বপ্ন নিয়ে মানুষ রক্ত ঝরিয়েছিল:নূরুল ইসলাম

সোনার বাংলা অনলাইন
৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৫৫

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম

বন্ধুপ্রতিম বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে ‘ঈদ পুনর্মিলনী’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।  ৭ এপ্রিল (মঙ্গলবার) বাদ মাগরিব রাজধানীর কালভার্ট রোডের সিগাল রেস্টুরেন্টে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় মাদ্রাসা কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইসমাইল হোসেন।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান সরকার জুলাইয়ের মূল চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। যারা জুলাইয়ে রক্ত দিয়েছে, তাদের মর্যাদা আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। রাষ্ট্র সংস্কারের যে স্বপ্ন নিয়ে মানুষ রক্ত ঝরিয়েছিল, বর্তমান সরকার সেই রক্তের সাথে বেঈমানি করছে।

বিশেষ করে, জুলাই সনদের অন্তর্ভুক্ত গণভোট, মানবাধিকার, পুলিশ ও গুম প্রতিরোধ কমিশন এবং বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের মতো ১৬টি জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কার্যত সরকার পুনরায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। পাম্পগুলোতে মানুষের সারি দীর্ঘ হলেও সরকার মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছে। জ্বালানি সংকটের অজুহাত দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীরে ক্লাস বন্ধ রেখে অনলাইন ক্লাসের কথা বলছে। শিক্ষার্থীদের পুনরায় অনলাইননির্ভর করার মাধ্যমে জাতিকে মেধাশূন্য করার এই চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

উক্ত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, জাগপা ছাত্রকাফেলার কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুর রহমান ফারুকী, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল আজীজ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মাসুদ রানা জুয়েল, বাংলাদেশ ছাত্র মিশন (ইরান)-এর সভাপতি সৈয়দ মো. মিলন, বাংলাদেশ মুসলিম ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ নুর আলম, গণতান্ত্রিক ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান মাহবুব এবং বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স আল আমিন, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সভাপতি খালেদ মাহমুদ, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি আবু দারদা, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজের সভাপতি বি. এম. আমির জিহাদি, জুলাই ফোর্সের আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন এবং নাগরিক ছাত্র ঐক্যের সদস্য সচিব জামিল মাহমুদ।

এ ছাড়াও ছাত্রশিবিরের পক্ষে কেন্দ্রীয় মিডিয়া সম্পাদক মু’তাসিম বিল্লাহ শাহেদী, সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, ছাত্র অধিকার সম্পাদক মুহিবুর রহমান মুহিবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সমাপনী বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, “জুলাই বিপ্লবের ফলে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি বেনিফিশিয়ারি হয়েছে বিএনপি। তারা গোপনে নানা চুক্তি করে এখন ক্ষমতার মসনদে বসেছে। জনগণের ৭০ শতাংশ মানুষের ম্যান্ডেটকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে তারা কেবল সংবিধানের দোহাই দিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চায়। এমনকি বিচার বিভাগ ও গুমসংক্রান্ত অত্যন্ত জরুরি অধ্যাদেশগুলোও তারা চাচ্ছে না। বর্তমান সরকারকে সতর্ক করে বলতে চাই, আপনারা জনগণকে বোকা বানানোর চেষ্টা করবেন না।”

তিনি অতীতের সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “দীর্ঘ সময় ধরে ছাত্রশিবিরের অসংখ্য নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ১০ হাজারের বেশি মামলা দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনের সময় ঢাকার কোনো জায়গাই আমাদের জন্য নিরাপদ ছিল না। মিডিয়া আমাদের কার্যক্রমের কোনো কাভারেজ না দিলেও আমরা অত্যন্ত প্রতিকূলতার মধ্যে আমাদের আন্দোলনকে জারি রেখেছিলাম।

আজ যারা ক্ষমতায়, তারা অতীত ভুলে গিয়ে ক্ষমতার নেশায় উন্মাদ হয়ে গেছে। জনগণের ম্যান্ডেটকে তারা অপমান করছে। তাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে গত এক মাসেই ২২ জন নিহত হয়েছে। তাদের দলে প্রায় ৫০ জনের অধিক ঋণখেলাপি এমপি রয়েছেন, যাদের মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা।”

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “দেশে কেউ যদি পুনরায় ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তবে ছাত্রশিবির ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। জাতির ও দেশের প্রয়োজনে আমরা রাজপথে নামতে সব সময় প্রস্তুত আছি। সরকারকে কেবল ক্ষমতার মোহে না থেকে বেকারত্ব দূরীকরণের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানাই। দেশের মৌলিক সমস্যা সমাধানে সরকার যদি কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখে, তবে ছাত্রশিবির সব

ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছে।”

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ একে অপরের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ছাত্ররাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা মতবিনিময় করেন।

পরিশেষে, নৈশভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।-প্রেস রিলিজ,তারিখ : ৭ এপ্রিল ২০২৬

 

ইসলামী ছাত্রশিবির

নজরুল মানস ও ইসলামী সঙ্গীত
১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:১৮

সম্পর্কিত খবর