জুলাই সনদ বাস্তবায়ন জামায়াতসহ ৮ দল ও বিএনপির বিরোধ মীমাংসায় মধ্যবর্তী সিদ্ধান্ত আসতে পারে
৭ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৪৭
৭ নভেম্বরে ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকার প্রধান প্রধান শিরোনাম নিয়ে বিবিসির বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো।
নয়া দিগন্ত পত্রিকার আজকের শীর্ষ খবর – মধ্যবর্তী সিদ্ধান্ত আসতে পারে- জুলাই সনদ বাস্তবায়ন জামায়াতসহ ৮ দল ও বিএনপির বিরোধ মীমাংসা নিয়ে বিশ্লেষণ।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতসহ আট দল এবং অন্যান্য পক্ষের মধ্যে এখনো কোনো নিশ্চিত সমঝোতা হয়নি। গণভোট ও সাধারণ নির্বাচন একই দিনে হলে জুলাইবিপ্লব ব্যর্থ করার ঝুঁকি রয়েছে বলে এক পক্ষের আশঙ্কা।
আবার নির্বাচন আগে নভেম্বরে বা ডিসেম্বরে গণভোট হলে অজুহাতে নির্বাচন অনিশ্চিত করার শঙ্কা প্রকাশ করছে অপর পক্ষ।
ঐকমত্য না হলে অন্তর্বর্তী সরকার মাঝামাঝি অবস্থানের সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে সাধারণ নির্বাচনের পাঁচ থেকে সাত দিন আগে গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব আলোচনায় আছে। এতে নির্বাচন বানচালের সুযোগ কমবে এবং প্রশাসনিক ব্যয়ও কম হতে পারে।
সব পক্ষের উদ্বেগ দূর করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উদ্যোগে সমঝোতা আলোচনার প্রস্তাবও উঠে এসেছে।
যুগান্তর পত্রিকার আজকের শীর্ষ খবর- গণভোট ও জুলাই সনদ ইস্যুতে বিএনপি-জামায়াত মুখোমুখি।
এতে বলা হয়েছে, গণভোট ও জুলাই সনদ ইস্যুতে বিএনপি ও জামায়াত কার্যত মুখোমুখি অবস্থানে। অনেকটা ‘পয়েন্ট অব নো রিটার্নে’র পর্যায়ে।
বিএনপি বলছে, সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট হতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে জামায়াত বলছে, নির্বাচনের আগে গণভোট দিতেই হবে। সোজা আঙুলে যদি ঘি না ওঠে তাহলে আঙুল বাঁকা করব। এজন্য ১১ তারিখ পর্যন্ত আলটিমেটাম, না মানলে ঢাকার চিত্র ভিন্ন হবে।
জুলাই সনদ সংশোধন বিষয়ে বিএনপি বলেছে, ১৭ অক্টোবর ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে যে বিষয়ে চুক্তি হয়েছে তা অনুসরণ করে পদক্ষেপ করতে হবে।
বিএনপি সমালোচনা করেছে, কমিশন শুধু বৈঠক ও খাওয়া-দাওয়ার মধ্যে সময় কাটিয়েছে এবং সাত দিনের সময় দেওয়া হলেও মতবিরোধ নিরসন হয়নি।
বৃহস্পতিবার যশোরে এক স্মরণসভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কড়া ভাষায় সোজাসাপটা বক্তব্য দিয়েছেন।
আর জামায়াত বলছে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতেই হবে। বিএনপিসহ যেসব দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে সেটি ছাড়াই ঐকমত্য কমিশন প্রস্তাবিত সুপারিশের ওপর গণভোট দিতে হবে।
দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার আজকের খবর- BNP allies upset over delay in seat sharing অর্থাৎ বিএনপির জোটসঙ্গীরা আসন বণ্টনে বিলম্ব হওয়ায় অসন্তুষ্ট।
বিএনপি জোটসঙ্গীরা অসন্তুষ্ট, কারণ দলটি আসন বণ্টনের চূড়ান্ত চুক্তি না করেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে। জোটসঙ্গীরা চেয়ে বেশি আসন পাননি এবং কিছু আসনে বিএনপি নিজস্ব প্রার্থী দেওয়ায় বিরোধ তৈরি হয়েছে।
১২ দলের জোট, জাতীয়তাবাদী সমন্বয় জোট ও গণতন্ত্র মঞ্চের অন্তত তিন ডজনের বেশি দল শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সমান্তরাল আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল।
লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, গণফোরাম, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি ও অন্যান্য সমমনা দল এ আন্দোলনের অংশ ছিল।
প্রথম আলো পত্রিকার আজকের শিরোনাম – রাজনৈতিক বিরোধে চট্টগ্রামে ১৩ মাসে ১৫ জন খুন।
এই খবরে বলা হচ্ছে, রাজনৈতিক বিরোধে চট্টগ্রামে গত ১৩ মাসে খুন হয়েছেন ১৫ জন। এর মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলেই ১০ জন খুন হয়েছেন। রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বেও চট্টগ্রামে খুনোখুনির ঘটনা বেড়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এমন পরিস্থিতিতে শঙ্কিত বিএনপির স্থানীয় নেতারাও। বিশেষ করে নির্বাচনী জনসংযোগের সময় বিএনপির প্রার্থীর গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
চট্টগ্রামের ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতেই এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর পতনের পর দুষ্কৃতকারীরা আবার দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিসহ নৈরাজ্যের মাধ্যমে ফায়দা হাসিলের অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার আজকের প্রধান খবর- Online scamsters rattle Bangladesh’s $1b air ticket market অর্থাৎ অনলাইন প্রতারকদের খপ্পড়ে বাংলাদেশের ১ বিলিয়ন ডলারের বিমান টিকিট বাজার।
বাংলাদেশের ১ বিলিয়ন ডলারের বিমান টিকেট বাজারে অনলাইন প্রতারণা ভীতি তৈরি করছে। সাম্প্রতিক দুই মাসে অন্তত তিনটি অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি বন্ধ হয়ে গেছে, যারা গ্রাহক এবং ছোট ও মাঝারি ট্রাভেল এজেন্টদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
যাত্রীরাও আকর্ষণীয় ছাড় এবং আগাম টিকিটের প্রলোভনে অর্থ হারিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত কিছু ট্রাভেল এজেন্সিও অনুরূপ অনিয়মে জড়িত বলে জানা গেছে, যা তদারকি ও দায়বদ্ধতার ঘাটতি প্রকাশ করছে।
শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্বল নজরদারি, অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির ওপর স্পষ্ট নীতির অভাব এবং যাত্রীদের অনুমতি ছাড়া টিকেট বাতিলের সুযোগ প্রতারণাকে পুনরাবৃত্তি করতে সাহায্য করেছে।
সাম্প্রতিক কালে ফ্লাই ফার ইন্টারন্যাশনাল কেলেঙ্কারির পর, অক্টোবর মাসে ট্রাভেল বিজনেস পোর্টাল হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় এবং গ্রাহকদের অগ্রিম অর্থ নিয়ে অদৃশ্য হয়।
ফ্লাইট এক্সপার্টের এর ঘটনার পরে এটি তৃতীয় বড় অনলাইন প্রতারণা।
পুলিশের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়েছে, তবে 24Ticket.com এবং FlightBooking.com সম্পর্কিত আগের কেলেঙ্কারির তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।
নিউ এইজ পত্রিকার আজকের শিরোনাম- Death penalty, trial in 120 days stipulated; Enforced disappearance ordinance approved , অর্থাৎ, মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ১২০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্নের নির্দেশ দিয়ে গুম প্রতিরোধ আইন অনুমোদন।
বাংলাদেশে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ ২০২৫’–এর খসড়া চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
এই অধ্যাদেশে গুমের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগ গঠনের পর ১২০ কর্মদিবসের মধ্যে বিচারকার্য শেষ করার বাধ্যবাধকতা যুক্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় সংস্থা বা রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ/পরোক্ষ সহায়তায় কোনো ব্যক্তিকে আটক, অপহরণ বা স্বাধীনতা হরণ করার পর তার অবস্থান গোপন রাখাকে গুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা ওই ব্যক্তিকে আইনের সুরক্ষার বাইরে ফেলে দেয়।
সভা শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, অধ্যাদেশে গুমকে ধারাবাহিক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, অর্থাৎ ভুক্তভোগীর অবস্থান অজ্ঞাত থাকলে অপরাধ চলমান থাকবে। এ কারণে কঠোর সাজা, এমনকি মৃত্যুদণ্ডের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত গোপন আটককেন্দ্র স্থাপন বা পরিচালনা করলেও শাস্তি হবে বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ এই ধরনের কেন্দ্র তৈরি বা ব্যবহার, উভয়ই ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, গুমের অভিযোগ তদন্তে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশনা রয়েছে।
কালের কণ্ঠ পত্রিকার আজকের প্রধান খবর – নির্বাচনী সহিংসতার শঙ্কা বাড়ছে।
নির্বাচনী তফসিল যত কাছে আসছে, মাঠ ততই উত্তপ্ত হচ্ছে। তফসিল ঘোষণা হতে পারে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে বা প্রায় এক মাস পর।
কিন্তু এরই মধ্যে অনানুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়ে গেছে এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় ১১ জনের মতো নিহত হয়েছেন। অক্টোবর মাসে নিহত হয়েছেন ১০ জন।
চট্টগ্রামে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে অস্ত্রগোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে; এতে তিনিসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং আলোচিত সন্ত্রাসী সরওয়ার হোসেন বাবলা (৪৩) নিহত হয়েছেন।
একই দিনে রাউজানে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষেও অন্তত পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৮ ঘটনাকে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট না বলে দুই স্বতন্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের নামে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের মুখপাত্র এএইচএম শাহাদত হোসাইন বলেছেন, নির্বাচনকালীন সহিংসতা রোধে পুলিশ কাজ করছে এবং অস্ত্র উদ্ধারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মানবজমিন পত্রিকার আজকের প্রধান খবর – জুলাই সনদ বাস্তবায়ন- দলগুলোকে আলোচনায় বসাবে কে?
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। সরকার রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত দিতে যে সাত দিনের সময় দিয়েছে, তা শেষ হতে চলেছে, তবে এখনো দলগুলোর মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি এবং কোনো পক্ষ থেকেই আলোচনার উদ্যোগ তেমন দৃশ্যমান নয়।
ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, নির্বাচনের দিন বা তার আগে গণভোট আয়োজন করতে হবে। তবে গণভোট নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের অবস্থান ভিন্ন। জামায়াত নির্বাচনের আগেই গণভোট চায়, আর বিএনপি বলছে নির্বাচন আগে তা সম্ভব নয়। অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে সমঝোতার চেষ্টা চলছে বলে আলোচনা থাকলেও বাস্তবে এর অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলগুলো সিদ্ধান্তে না পৌঁছালে সরকার নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে।
সংবিধান সংশোধনের ৪৮টি বিষয় গণভোটে তোলার প্রস্তাব রয়েছে। কমিশন বলছে, গণভোটে পাস হলে দলগুলোর ‘নোট অব ডিসেন্ট’ অকার্যকর হয়ে যাবে। ২৭০ দিনের মধ্যে এসব সংশোধনী সংবিধানে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ আট দল জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ দ্রুত জারির দাবি জানিয়েছে এবং তা না হলে ঢাকায় বৃহৎ কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে। জামায়াত দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে রাজনৈতিক আলোচনার জন্য।
বিএনপি বলছে, তারা ইতিবাচক মনোভাব নিয়েই এগোতে চায়, তবে আনুষ্ঠানিক মত জানাতে দলটি এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
আজকের পত্রিকার শীর্ষ খবর – বড়দের লুটে ছোটরা নিঃস্ব।
লুটপাটে বিপর্যস্ত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে নতুন একটি ইসলামী ব্যাংক গঠনের উদ্যোগে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পুঁজিবাজারে। বাংলাদেশ ব্যাংক এসব ব্যাংকের শেয়ারের মূল্য শূন্য ঘোষণা করায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন।
একীভূত প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে বিনিয়োগকারীরা মতিঝিলে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। তাঁরা গভর্নর ও অর্থ উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেন এবং ব্যাংক একীভূতকরণ বন্ধের আহ্বান জানান। দাবি পূরণ না হলে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এসব ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটি বহু আগেই ঋণাত্মক হয়ে গেছে, তাই কোনো ক্ষতিপূরণের সুযোগ নেই। তবে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে সরকার ক্ষতিপূরণ বিবেচনা করতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ডেটা অনুযায়ী, উদ্যোক্তা-পরিচালক বাদে পাঁচ ব্যাংকের গড় ৭৬ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। অভিহিত মূল্যে বিনিয়োগের পরিমাণ ৪৪শ’ কোটি টাকার বেশি। অন্যদিকে এসব ব্যাংকের গড় খেলাপি ঋণ ৭৭ শতাংশ এবং সম্মিলিত মূলধন ঘাটতি ও লুটপাটের অঙ্ক ২ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনের দৃষ্টিতে দায় শোধের পর সম্পদ অবশিষ্ট থাকলে শেয়ারহোল্ডাররা পাওনা পায়; কিন্তু এসব ব্যাংকে সম্পদ ঋণাত্মক হওয়ায় তারা বাস্তবে কিছু ফেরত পেতে পারে না। তবু ব্যাংক লুটেরাদের সম্পদ অনুসন্ধান করে উদ্ধার করলে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা অন্তত কিছুটা সান্ত্বনা পেতে পারেন।
বণিক বার্তা পত্রিকার আজকের প্রধান খবর- বছরে হৃদরোগ নিয়ে জন্মায় ৭৩ হাজার শিশু, পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্ট মাত্র ৫৩।
বাংলাদেশে প্রতিদিন জন্ম নেওয়া প্রায় আট হাজার শিশুর মধ্যে অন্তত ২০০ জন জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আসে। বছরে এ সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৭৩ হাজারে। বর্তমানে হৃদরোগে আক্রান্ত শিশু রয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ।
কিন্তু চিকিৎসা ব্যবস্থায় রয়েছে সংকট। দেশে পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্ট মাত্র ৫৩ জন এবং শিশুদের হৃদরোগের অস্ত্রোপচারণা করতে সক্ষম পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক সার্জন আছেন মাত্র ১৫ জন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসক ঘাটতির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে অনেক শিশু সময়মতো চিকিৎসা পায় না। সক্ষম পরিবারগুলো বিদেশে চিকিৎসা করাচ্ছে, কিন্তু নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা দেশীয় ব্যবস্থার ওপরই নির্ভরশীল।
চাহিদার তুলনায় দক্ষ সার্জনের অভাবকে শিশু হৃদরোগ চিকিৎসার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকেরা।