নিষিদ্ধের আড়ালে কি সংগঠিত হচ্ছে আ.লীগ, ডিসেম্বরে কি ফিরবেন হাসিনা?
৭ অক্টোবর ২০২৬ ২০:৫৩
স্টাফ রিপোর্টার : সরকার কর্তৃক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ভাঙচুরের পর বন্ধ রয়েছে। দলটির সভাপতি ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। শীর্ষনেতাদের বড় অংশ আত্মগোপনে কিংবা দেশের বাইরে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগকে নিষ্ক্রিয় মনে হলেও কার্যত দলটি মোটেই নিষ্ক্রিয় নয়। সংগঠনটি বসে নেই। ভার্চুয়াল বৈঠক, নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, ঝটিকা মিছিল এবং বিভিন্ন পর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতার মাধ্যমে দলটি নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে। এর মধ্যেই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ঘোষণা নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে, এটি কি সত্যিই দেশে ফেরার প্রস্তুতি, নাকি রাজনৈতিকভাবে দলীয় কর্মীদের সক্রিয় রাখার অপকৌশল?
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তৎপরতা
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বিচ্ছিন্নভাবে মিছিল, বৈঠক ও সাংগঠনিক যোগাযোগ চলছে। সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকার গুলশান ও বাড্ডায় ঝটিকা মিছিল হয়েছে। গত ২ অক্টোবর শুক্রবার চট্টগ্রামের সিআরবিতে আওয়ামী লীগের ব্যানারে মিছিলের চেষ্টা করলে ১০ জনকে আটক করে পুলিশ। গত ১৯ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ২১ নেতার দিল্লিতে বৈঠকের খবর প্রকাশিত হয়। একই সময়ে দলটির ভার্চুয়াল কেন্দ্রীয় বৈঠকও হয়েছে। আওয়ামী লীগের নিজস্ব ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী, হাসিনা বিভিন্ন জেলা ও নির্বাচনী এলাকার নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ করেছেন। অর্থাৎ মাঠের দৃশ্যমান রাজনীতি বন্ধ থাকলেও সাংগঠনিক যোগাযোগ ও অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম থেমে নেই।
তাহলে কি গোপনে সংগঠন গোছানো হচ্ছে?
নিষিদ্ধ অবস্থায় আওয়ামী লীগ প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচি চালাতে না পারলেও দলের নেতারা কর্মীদের সাথে যোগাযোগ ঠিকই রাখছেন। হাসিনা নিজেই রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, তিনি আওয়ামী লীগের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনের নেতাদের সঙ্গে অনলাইন বৈঠক করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দলকে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় রাখার কাজও চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের আটক এবং গোপন বৈঠকের ঘটনাও সামনে এসেছে।
ডিসেম্বরের ফেরাটা কতটা বাস্তব?
শেখ হাসিনা রয়টার্সকে বলেছেন, তিনি এবং দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান। এটি তার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট সময়সীমার ঘোষণা। কিন্তু বাস্তবে আদৌ তিনি তা করবেন? এই প্রশ্ন খোদ দলটির তৃণমূল থেকে শীর্ষনেতাদেরও। কারণ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকার তাকে ফেরাতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের অনুরোধ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদও বলেছেন, সরকার তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে দেশে ফেরাতে চায়।
এ অবস্থায় ডিসেম্বরের ঘোষণা বাস্তব প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা, নাকি রাজনৈতিক বার্তা তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট— হাসিনার ফেরার প্রশ্নটি শুধু একজন পলাতক নেতার ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অস্তিত্বও জড়িত।
সামনে কী?
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও সাংগঠনিক যোগাযোগ ধরে রাখা আওয়ামী লীগ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করছে। আবার সরকারের কঠোর অবস্থান, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দলটির প্রকাশ্য রাজনীতিতে ফেরার পথ সহজ নয়, তাও দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির এখন মূল প্রশ্ন হচ্ছে— হাসিনা সত্যিই ঢাকায় ফিরবেন? এই প্রশ্নের উত্তরটি নির্ভর করবে ভারতের অবস্থান, বাংলাদেশের আইনি প্রক্রিয়া এবং আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক সক্ষমতার ওপর।