মানবজীবনে ইলম বা জ্ঞানের গুরুত্ব ও স্বরূপ
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৫২
॥ মাহমুদুল হাসান ॥
‘পড়ো, তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।’ (সূরা আল-আলাক : ১)। মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের প্রথম এই বাণীটিই প্রমাণ করে ইসলামের মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে ‘ইলম’ বা জ্ঞানের ওপর। মানবসভ্যতার সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত যা কিছু সুন্দর, কল্যাণকর এবং প্রগতিশীল, তার মূলে রয়েছে জ্ঞান। ইসলাম শুধু একটি ধর্ম নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যার প্রতিটি স্তর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার আলোয় উদ্ভাসিত।
ইলম কী?
‘ইলম’ একটি আরবি শব্দ, যার শাব্দিক অর্থ হলো জানা, অবগত হওয়া, পরিজ্ঞান বা কোনো বস্তুর প্রকৃত অবস্থা স¤পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করা। পারিভাষিক অর্থে, কোনো বিষয়ের বাস্তবতা বা সত্যকে অবিকলভাবে অনুধাবন করাই হলো ইলম। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে ইলম কেবল কিছু তথ্য মুখস্থ করা বা জাগতিক ডিগ্রি অর্জন করা নয়; বরং ইলম হলো আল্লাহ প্রদত্ত এমন এক আলো, যা মানুষের অন্তরকে কুসংস্কার, অজ্ঞতা ও অহংকারের অন্ধকার থেকে মুক্ত করে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য চিনিয়ে দেয়। ইমাম শাফেয়ী (রহ.) চমৎকার বলেছেন, ‘ইলম কোনো মুখস্থ বিদ্যার নাম নয়, ইলম হলো সেই আলো, যা মানুষের উপকারে আসে এবং জীবনকে আলোকিত করে।’
ইলমের প্রকারভেদ : উৎসের বৈচিত্র্য, অর্জনের পদ্ধতি এবং সমাজ ও ব্যক্তির ওপর এর প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে ইলমকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রধান প্রকারভেদগুলো নিচে আলোচনা করা হলো—
ক. আবশ্যকতার ভিত্তিতে
ইলমে ফরজে আইন (ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যিক জ্ঞান) : প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য নিজের দৈনন্দিন জীবন, বিশ্বাস (আকিদা) ও ইবাদত সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য যতটুকু জ্ঞান দরকার, তা অর্জন করা ফরজ। যেমন— ঈমানের মূল বিষয়সমূহ, অজু-গোসল, নামাজ, রোজার নিয়ম এবং হালাল-হারামের বিধান জানা।
ইলমে ফরজে কিফায়াহ (সমষ্টিগতভাবে আবশ্যিক জ্ঞান) : সমাজের সবার জন্য এটি জানা বাধ্যতামূলক নয়। তবে কিছু মানুষ যদি এই জ্ঞান অর্জন করে, কিন্তু পুরো সমাজ দায়মুক্ত হয়ে যায়। যেমন— ইসলামের গভীর আইনকানুন (ফিকহ), চিকিৎসা বিজ্ঞান, গণিত, প্রকৌশল, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা বিদ্যা।
খ. উৎসের ভিত্তিতে
ইলমে অহি (ঐশী বা আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান) : যা সরাসরি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নবী-রাসূলদের মাধ্যমে মানুষের কাছে এসেছে। কুরআন এবং সহীহ হাদীসের জ্ঞান এর অন্তর্ভুক্ত। এই জ্ঞান স¤পূর্ণ নির্ভুল এবং চিরন্তন।
ইলমে কাসবী (অর্জিত জ্ঞান) : যা মানুষ নিজের চেষ্টা, গবেষণা, বুদ্ধি, অভিজ্ঞতা এবং বই-পুস্তক পড়ে অর্জন করে। যেমন— আধুনিক বিজ্ঞান, ইতিহাস ও প্রযুক্তি।
উৎসের ভিত্তিতে আরেক ধরনের ইলম রয়েছে যাকে ইলমে লাদুন্নি বলে, এটা একটি সুফি পরিভাষা, যার অর্থ ‘আল্লাহর পক্ষ থেকে সরাসরি প্রাপ্ত বিশেষ জ্ঞান।’ সাধারণ শিক্ষা, বইপত্র, বা মানুষের প্রচেষ্টার বাইরে এটি এমন এক আধ্যাত্মিক জ্ঞান, যা আল্লাহ তায়ালা তাঁর কোনো বিশেষ বান্দার অন্তরে সরাসরি ঢেলে দেন। আরবি লাদুন শব্দের অর্থ নিকট বা ‘পক্ষ থেকে’। পবিত্র কুরআনের সূরা আল-কাহাফের ৬৫ নম্বর আয়াতে এই জ্ঞানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যেখানে হযরত খিজির (আ.)-এর কথা বলা হয়েছে, ‘অতঃপর তারা আমার বান্দাদের মধ্যে এমন একজনের (খিজির) সাক্ষাৎ পেল, যাকে আমি আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ দান করেছিলাম এবং আমার কাছ থেকে শিক্ষা দিয়েছিলাম এক বিশেষ জ্ঞান (ইলমে লাদুন্নি)।’
ইলমে লাদুন্নির মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ : সরাসরি ও আল্লাহ প্রদত্ত— এই জ্ঞান অর্জন করতে কোনো উস্তাদ, কিতাব বা প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার প্রয়োজন হয় না। এটি সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে অন্তরে ইলহাম বা অনুভূতির মাধ্যমে আসে।
রহস্য উন্মোচন : বাহ্যিক দৃষ্টিতে যা অবোধ্য বা সাধারণ যুক্তির বাইরে মনে হয়, এই জ্ঞানের মাধ্যমে তার ভেতরের আসল রহস্য ও হিকমত বোঝা যায়। (যেমন সূরা কাহাফে হযরত খিজির ও হযরত মুসা আলাইহিস সালামের ঘটনার মাধ্যমে দেখানো হয়েছে)।
তাকওয়া ও পবিত্রতার ফল : সুফি সাধকদের মতে, যখন কোনো মানুষ তার অন্তরকে স¤পূর্ণ নিষ্কলুষ করে এবং আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন হয়, তখন আল্লাহ তার জন্য এই বিশেষ জ্ঞানের দুয়ার খুলে দেন।
শরীয়ত ও ইলমে লাদুন্নি : ইসলামী স্কলারদের মতে, ইলমে লাদুন্নি বা আধ্যাত্মিক জ্ঞান কখনোই ইসলামের মৌলিক শরীয়তের আইনের পরিপন্থী হতে পারে না। বাহ্যিক শরীয়ত (যা কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত) হলো সবার জন্য ভিত্তি। ইলমে লাদুন্নি মূলত আধ্যাত্মিক গভীরতা ও মারিফাত অর্জনের একটি বিশেষ স্তর, যা কেবল আল্লাহর মনোনীত প্রিয় বান্দারাই পেয়ে থাকেন।
গ. গভীরতা ও স্বরূপের ভিত্তিতে
ইলমে যাহির (বাহ্যিক জ্ঞান) : ইসলামের বাহ্যিক বিধিবিধান, আইন ও শরীয়তের স্পষ্ট জ্ঞান।
ইলমে বাতিন (অভ্যন্তরীণ বা আধ্যাত্মিক জ্ঞান) : মানুষের অন্তরের বা আত্মশুদ্ধির জ্ঞান, যাকে ‘ইলমে তাসাউফ’ বা ‘ইলমে ইহসান’-ও বলা হয়। এর সমগোত্রীয় কিছু বিশেষ স্তর হলো ‘ইলমে লাদুন্নি’ (যা সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান) এবং ‘ইলহাম ও কাশফ।’ (বিশেষ অন্তর্দৃষ্টি)।
ইলমের প্রয়োজনীয়তা
মানবজীবনের উৎকর্ষ সাধনে এবং একটি সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে ইলমের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। মানবতার বিকাশ ও শ্রেষ্ঠত্ব : মানুষ ও পশুর মধ্যে মূল পার্থক্য গড়ে দেয় জ্ঞান। আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টির পর জ্ঞানের মাধ্যমেই ফেরেশতাদের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছিলেন। কুরআনে এর সু®পষ্ট ঘোষণা রয়েছে, ‘আর তিনি আদমকে সমস্ত বস্তুর নাম শিক্ষা দিলেন…।’ (সূরা আল-বাকারা : ৩১) ।
সহস্র ইবাদতের চেয়ে উত্তম : জ্ঞানহীন ইবাদতের কোনো মূল্য নেই। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘আবেদের (ইবাদতকারী) ওপর আলেমের (জ্ঞানী) শ্রেষ্ঠত্ব সেরূপ, যেরূপ তোমাদের সাধারণ মানুষের ওপর আমার শ্রেষ্ঠত্ব।’ (জামে তিরমিযী)।
দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা : পারমাণবিক যুগে টিকে থাকতে এবং পরকালের মুক্তির পথ খোঁজার জন্য ইলম অত্যাবশ্যক। বিখ্যাত মনীষী হাসান বসরী (রহ.) বলেন, ‘দুনিয়ার কল্যাণ হলো জ্ঞান ও ইবাদত, আর আখিরাতের কল্যাণ হলো জান্নাত।’
ইলমের সাথে শরীয়তের স¤পর্ক
ইলম এবং শরীয়ত একে অপরের পরিপূরক। শরীয়ত হলো ইসলামের সুনির্দিষ্ট জীবনবিধান বা আইনপথ, আর ইলম হলো সেই আলো যা দিয়ে এই পথকে চেনা যায়।
শরীয়তের ভিত্তিই হলো ইলম : ইলম ছাড়া শরীয়তের কোনো হুকুম বা আহকাম (যেমন— নামাজ, জাকাত, হজ, ব্যবসা-বাণিজ্যের আইন) অনুধাবন করা সম্ভব নয়।
ভুল ও বিদ’আত থেকে রক্ষা : সমাজে যখন দীনি ইলম কমে যায়, তখন মানুষ মনগড়া নিয়ম বা বিদ’আতকে শরীয়ত মনে করতে শুরু করে। ইমাম বুখারী (রহ.) তাঁর সহীহ গ্রন্থে একটি অধ্যায় রচনা করেছেন এভাবে, ‘কথা ও কাজের পূর্বে জ্ঞান অর্জন করা।’ অর্থাৎ জ্ঞান ছাড়া শরীয়তের কোনো আমলই সঠিক হওয়া সম্ভব নয়।
ইলম ও হিকমাহ : সূক্ষ্ম পার্থক্য ও স¤পর্ক
কুরআন মাজিদে বহু জায়গায় ‘ইলম’ ও ‘হিকমাহ’ শব্দ দুটি একসাথে এসেছে। এই দুটির মধ্যে গভীর স¤পর্ক থাকলেও একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। ইলম হলো কোনো বিষয়ের তথ্য, তত্ত্ব বা বিধান জানা। যেমন— আপনি জানেন যে রাগ করা একটি খারাপ গুণ; এটি আপনার ইলম। হিকমাহ হলো অর্জিত জ্ঞানকে সঠিক সময়ে, সঠিক স্থানে এবং সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করার যোগ্যতা। অর্থাৎ রাগ করার মতো পরিস্থিতিতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং পরিস্থিতি ঠাণ্ডামাথায় সামলানোই হলো হিকমাহ। সহজ কথায়, ইলম হলো কাঁচামাল বা তত্ত্ব, আর হিকমাহ হলো তার বাস্তব ও বুদ্ধিদীপ্ত প্রয়োগ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তিনি যাকে ইচ্ছা হিকমত (প্রজ্ঞা) দান করেন। আর যাকে হিকমত দেওয়া হয়, তাকে মূলত বিপুল কল্যাণ দান করা হয়।’ (সূরা আল-বাকারা : ২৬৯)।
ইলমের আদব বা শিষ্টাচার
জ্ঞান অর্জনের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট আদব বা নিয়ম রক্ষা করা জরুরি। আদবহীন জ্ঞান কখনো কল্যাণ বয়ে আনে না। মনীষী ইবনুল মুবারক (রহ.) বলেন, ‘আমরা ত্রিশ বছর আদব বা শিষ্টাচার শিখেছি এবং বিশ বছর ইলম বা জ্ঞান অর্জন করেছি।’
নিয়তের ইখলাস (বিশুদ্ধতা) : ইলম অর্জন করতে হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য। রাসূলুল্লাহ সা. সতর্ক করে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আলেমদের সাথে গর্ব করার জন্য বা মূর্খদের সাথে বিতর্ক করার জন্য জ্ঞান অর্জন করবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ)।
শিক্ষকের প্রতি সম্মান : শিক্ষকের মর্যাদা পিতা-মাতার সমতুল্য। হযরত আলী (রা.) বলেছেন, ‘যে আমাকে একটি অক্ষর শিক্ষা দিয়েছে, আমি তার দাসে পরিণত হয়েছি।’
অহংকার বর্জন : জ্ঞান মানুষকে বিনয়ী করে। প্রখ্যাত দার্শনিক লোকমান হাকিম তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন, ‘বাবা, তুমি নিজেকে কখনো মস্ত বড় জ্ঞানী মনে করো না, কারণ অহংকার মানুষের জ্ঞানকে গিলে খায়।’
ইলমের প্রতিক্রিয়া বা কুফল ও সুফল
জ্ঞানের সঠিক বা ভুল ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে সমাজে এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
ইলমের সুফল (ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া)
আল্লাহভীতি (খাশইয়াতুল্লাহ) : প্রকৃত ইলম মানুষকে আল্লাহর প্রতি অনুগত ও ভীত করে তোলে। কুরআনে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই তাঁকে ভয় করে।’ (সূরা ফাতির : ২৮)।
নম্রতা ও সামাজিক প্রগতি : সত্যিকারের ইলম মানুষের স্বভাবকে নরম করে। পারস্যের কবি শেখ সাদী (রহ.) বলেন, ‘ফলধারী বৃক্ষের ডাল যেমন নিচের দিকে ঝুঁকে থাকে, প্রকৃত জ্ঞানীর স্বভাবও তেমনি নম্র ও বিনয়ী হয়।’
ইলমের কুফল (নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া)
যদি জ্ঞানকে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়, তবে তার প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ভয়াবহ হয়। রাসূলুল্লাহ সা. অনুপকারী জ্ঞান থেকে আশ্রয় চেয়ে দোয়া করতেন। অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ইলম সমাজে পারমাণবিক যুদ্ধ, সাইবার অপরাধ ও দুর্নীতির বিস্তৃতি ঘটায়।
ইলমের অভাবের সমস্যা (অজ্ঞতার অন্ধকার)
কোনো সমাজ বা জাতি যখন ইলম বা সঠিক শিক্ষা থেকে দূরে সরে যায়, তখন সেখানে ‘জাহিলিয়াত’ বা অজ্ঞতার অন্ধকার নেমে আসে। এর ফলে যেসব সমস্যার সৃষ্টি হয়—
সমাজ ও জাতির পতন : আল্লামা ইকবাল বলেছিলেন, ‘কোনো জাতিকে ধ্বংস করার জন্য অস্ত্রের প্রয়োজন নেই, শুধু তার শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিলেই সে জাতি পঙ্গু হয়ে যায়।’
ধর্মীয় উগ্রবাদ ও গোঁড়ামি : সঠিক ইলম না থাকলে মানুষ ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দ্বারা বিভ্রান্ত হয়। ফলে সমাজে উগ্রবাদ ও ফেতনার সৃষ্টি হয়। রাসূলুলল্লাহ সা. বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের অন্তর থেকে টেনে জ্ঞান ছিনিয়ে নেবেন না, বরং আলেমদের মৃত্যুর মাধ্যমে জ্ঞান তুলে নেবেন। যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদের নেতা বানাবে এবং তারা না জেনেই ফতোয়া দেবে। ফলে নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে, অন্যকেও পথভ্রষ্ট করবে।’ (সহীহ বুখারী)।
সমকালীন প্রেক্ষাপটে ইলম ও আমাদের করণীয়
আজকের একবিংশ শতাব্দীতে আমরা তথ্যের জোয়ারে ভাসছি, কিন্তু প্রকৃত ‘ইলম’ বা উপকারী জ্ঞানের বড় আকাল চলছে। ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে আমাদের কাছে তথ্যের অভাব নেই, কিন্তু সেই তথ্যকে কল্যাণকর জ্ঞানে রূপান্তর করার মানুষের সংখ্যা কম। বর্তমান যুগে আমাদের করণীয় হলো—
১. সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা : আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় দীনি নৈতিক শিক্ষা এবং আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এক চমৎকার সমন্বয় ঘটাতে হবে।
২. তথ্যের সত্যতা যাচাই : ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য বা অপজ্ঞান থেকে নিজেদের রক্ষা করতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো বার্তা নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করো…।’ (সূরা আল-হুজুরাত : ৬)।
উপসংহার : ইলম বা জ্ঞান হলো মানবাত্মার খোরাক এবং সভ্যতার চালিকাশক্তি। অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে বাঁচতে এবং দুনিয়া ও আখিরাতের প্রকৃত শান্তি লাভ করতে ইলম অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। তাই আসুন, আমরা প্রত্যেকে দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান অর্জনের ব্রত গ্রহণ করি এবং সেই জ্ঞানকে হিকমাহ বা প্রজ্ঞার সাথে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে একটি সুশৃঙ্খল, উন্নত ও আলোকিত সমাজ বিনির্মাণে আত্মনিয়োগ করি।
লেখক : ইসলামী চিন্তাবিদ ও সংগঠক।