দাওয়াত ইলাল্লাহ


১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৪৬

॥ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবু হানিফ খান ॥
দাওয়াত ইলাল্লাহ। আল্লাহর দিকে আহ্বান করা। দাওয়াত অর্থ ডাকা বা আহ্বান করা। ইলাল্লাহ অর্থ আল্লাহর দিকে। পরিভাষায়, মানবজাতিকে আল্লাহর ইবাদত, সত্য ও সুপথের দিকে এবং দুনিয়ার শান্তি ও আখিরাতের মুক্তির দিকে ডাকার নামই দাওয়াত ইলাল্লাহ। প্রত্যেক মুমিনের জন্য দাওয়াত ইলাল্লাহর কাজ করা অবশ্য কর্তব্য। দোজখের আগুন থেকে নিজেকে এবং নিজের আহালকে বাঁচতে এবং ঈমান-আমল রক্ষার জন্য যে কোনো ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নিরবচ্ছিন্নভাবে দাওয়াতের কাজ করতে হবে, যা বিশেষভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের কর্মীদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
আল-কুরআনে দাওয়াতের হুকুম : নবীগণের সর্বপ্রথম কর্তব্য হচ্ছে মানবজাতিকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করা। এরপর নবী ও রাসূলগণের সকল শিক্ষা হচ্ছে এ দাওয়াত ইলাল্লাহর ব্যাখ্যা। কুরআনুল কারীমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিশেষ পদবী হচ্ছে, ‘আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী’ হওয়া। সূরা আন-নাহালের ১২৫নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন, ‘আপনি মানুষকে দাওয়াত দিন আপনার রবের পথে হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা এবং তাদের সাথে যুক্তি প্রদর্শন করবেন উত্তম পন্থায়; নিশ্চয় আপনার রব তার পথ ছেড়ে কে বিপথগামী হয়েছে, সে ব্যাপারে তিনি অধিক জানেন এবং কারা সৎপথে আছে তাও তিনি ভালোভাবেই জানেন।’ হজরত মুহাম্মদ সা.-এর বৈশিষ্ট্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে— ‘আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী রূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপ রূপে।’ (সূরা আহযাব : ৪৬)।
দাওয়াত ইলাল্লাহ মারুফ কাজ : দাওয়াত ইলাল্লাহ ইসলামের অন্যতম মারুফ কাজ হিসেবে বিবেচিত। ইসলাম যেসব সৎকর্ম ও পুণ্যের নির্দেশ দিয়েছে এবং প্রত্যেক নবী আপন আপন যুগে যে সব সৎকর্মের প্রচলন করেছেন, তা সবই আল-কুরআনে বর্ণিত ‘মারুফ’ তথা সৎকর্মের অন্তর্ভুক্ত। ‘মারুফ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ পরিচিত। এসব সৎকর্ম সাধারণ্যে পরিচিত। তাই এগুলোকে ‘মারুফ’ বলা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেসব অসৎকর্মরূপী কাজকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন, তা সবই আল-কুরআনে বর্ণিত মুনকার এর অন্তর্ভুক্ত। এ স্থলে ‘ওয়াজিবাত’ অর্থাৎ ‘জরুরি করণীয় কাজ’ ও ‘মা’আসী’ অর্থাৎ ‘গুনাহের কাজ’ এর পরিবর্তে মারুফ ও মুনকার বলার রহস্য সম্ভবত এই যে, নিষেধ ও বাধাদানের নির্দেশটি শুধু সবার কাছে পরিচিত ও সর্বসম্মত মাসআলা-মাসায়েলের ব্যাপারেই প্রযোজ্য হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে কেউ কোনো খারাপ কাজ দেখবে, সে যেন তা হাত দ্বারা প্রতিহত করে, তা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে মুখ দ্বারা প্রতিহত করবে, আর যদি তাও সম্ভব না হয়, তাহলে তা পরিবর্তনের জন্য অন্তরে পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। এটাই ঈমানের সবচেয়ে দুর্বল স্তর।’ অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘এর পরে সরিষা পরিমাণ ঈমানও বাকি নেই।’ (মুসলিম, আবু দাউদ)।
দলবদ্ধভাবে দাওয়াত : দাওয়াতের কাজ ব্যক্তিগত পর্যায় ছাড়াও দলবদ্ধভাবে দাওয়াত ইলাল্লাহর কাজ করতে হবে। একজন মুসলিম ব্যক্তিগতভাবে দাওয়াতের কাজ করার পাশাপাশি আল-কুরআনে দলগতভাবে দাওয়াতের কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‘আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকবে, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎকাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে; আর তারাই সফলকাম’। (সূরা আলে-ইমরান : ১০৪)। দলগতভাবে কল্যাণের দিকে মানুষকে ডাকতে হবে। কল্যাণের পথ সুগম করতে ভালো কাজের নির্দেশ দিতে হবে এবং অন্যায় কাজে বারণ করতে হবে। সৎকাজের নির্দেশ দেওয়া এবং অসৎকাজে নিষেধ করা মূলত কল্যাণের পথে চলাকেই সহজ করা ও উৎসাহিত করা। সৎকাজের নির্দেশ দেওয়া এবং অসৎকাজে নিষেধ করার কাজ একক ব্যক্তির দ্বারা সম্ভব নয়। এজন্যই দলবদ্ধভাবে দাওয়াত ইলাল্লাহর করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দাওয়াত ইলাল্লাহর এই কাজ যারা করবে, তারাই সফলকাম হতে পারবেন। পক্ষান্তরে এই কাজ যারা করবেন না; তারা সফলতা লাভ করতে পারবেন না।
উত্তম দাওয়াত যেভাবে : ‘যার হাতে আমার জীবন, তার শপথ করে বলছি, অবশ্যই তোমরা সৎকাজের আদেশ করবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে। নতুবা অচিরেই আল্লাহ তোমাদের ওপর তার পক্ষ থেকে শাস্তি নাজিল করবেন। তারপর তোমরা অবশ্যই তার কাছে দোআ করবে, কিন্তু তোমাদের দোয়া কবুল করা হবে না।’ (তিরমিযী, মুসনাদে আহমাদ)। অনুরূপভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এক লোক জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কোন লোক সবচেয়ে বেশি ভালো? তিনি বললেন, সবচেয়ে ভালো লোক হল যে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে, সৎকাজে আদেশ দেয় ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক রাখে। (মুসনাদে আহমাদ )।
নিজেকে মুসলিম ঘোষণা করা : যিনি দাওয়াত ইলাল্লাহর কাজ করবেন, তিনি মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট উত্তম ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হবেন। এজন্য তাকে দুটি কাজ করতে হবে। এক. নেক আমল। দুই. নিজেকে মুসলিম হিসেবে ঘোষণা করা। তবেই তার কথা উত্তম বলে বিবেচিত হবে। ‘ওই ব্যক্তির চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে ডাকলো, নেক আমল করলো আর ঘোষণা করলো, ‘আমি একজন মুসলিম।’ (সূরা হা-মীম আস-সাজদা), (ফুসসিলাত : ৩৩)। ঈমানের তিনটি দিক রয়েছে। এক. অন্তরে বিশ্বাস করা : মন ও অন্তরের গভীর থেকে আল্লাহ তায়ালা, তাঁর রাসূল, ফিরিশতাকুল, আসমানী কিতাবসমূহ এবং পরকালসহ ঈমানের সকল মৌলিক বিষয়ের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা। এটি ঈমানের মূল ভিত্তি। দুই. মুখে স্বীকার করা : অন্তরের বিশ্বাসকে জবানের মাধ্যমে প্রকাশ করা। অর্থাৎ মুখে ঈমানের ঘোষণা উচ্চারণ করা। তিন. কাজে পরিণত করা : অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে আল্লাহর বিধান মেনে চলা এবং বাস্তবে নেক আমল করা। সালাত, সাওম ও সৎকাজের মাধ্যমে ঈমানের এই বাস্তব রূপ প্রকাশ পায়। ঈমান পূর্ণতা পাওয়ার জন্য এই তিনটি উপাদানের সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। তাই দাঈ ইলাল্লাহকে কথায় ও কাজে নিজেকে মুসলিম হিসেবে ঘোষণাও করতে হবে।
দাওয়াতে সাড়া দিতে হবে : হে আমাদের সম্প্রদায়! আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর প্রতি সাড়া দাও এবং তাঁর ওপর ঈমান আন, তিনি তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি হতে তোমাদের রক্ষা করবেন। (সূরা আল-আহকাফ : ৩১)। মহান আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক সম্প্রদায়ের নিকট হিদায়েতের জন্য সতর্ককারী হিসেবে নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন। অধিকাংশ সম্প্রদায় নবী-রাসূলদের দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করেছে এবং নবী-রাসূলদের ওপর জুলুম-অত্যাচার করেছে। অথচ তারাই আবার হিসাব দিনে এসব অস্বীকার করবে, যা আল-কুরআনে বিভিন্ন ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। ‘আর যারা কুফরী করেছে তারা বলে, তার রবের কাছ থেকে তার ওপর কোনো নিদর্শন নাজিল হয় না কেন? আপনি তো শুধু সতর্ককারী, আর প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য আছে পথ প্রদর্শক’। (সূরা আর-রাদ : ৭)। ‘আর প্রত্যেক উম্মতের জন্য আছে একজন রাসূল।’ (সূরা ইউনুস : ৪৭)। ‘আর এমন কোনো উম্মত নেই যার কাছে গত হয়নি সতর্ককারী।’ (সূরা ফাতির : ২৪)। ‘আর অবশ্যই আমরা প্রত্যেক জাতির মধ্যে রাসূল পাঠিয়েছিলাম।’ (সূরা আন-নাহ্ল : ৩৬)। এসব দলিল-প্রমাণ বলে দেয়- দাওয়াত ইলাল্লাহর কাজ করা এবং এই দাওয়াত গ্রহণ করা ছাড়া পরকালে মুক্তি লাভের কোনো পথ অবশিষ্ট নেই।
দাওয়াত অনুযায়ী আমল : দাওয়াতের কথা অনুযায়ী নিজেকে আমল করতে হবে। কথা ও কাজের গরমিল থাকলে তা আল্লাহ তায়ালার নিকট অত্যন্ত অপছন্দনীয়। ‘হে মুমিনগণ! তোমরা এমন কথা কেন বল যা তোমরা কর না। আল্লাহর দৃষ্টিতে এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় ব্যাপার যে, তোমরা বলবে এমন কথা যা তোমরা কর না। নিশ্চয় আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন, যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করে যেন তারা সীসা ঢালা প্রাচীর।’ (সূরা আস-সফ : ২-৪)।
ধৈর্যের সাথে দাওয়াত দান : দাঈ ইলাল্লাহকে সকল অবস্থায় ধৈর্যধারণ করে দাওয়াত দিতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকটতম দুশমন আবু জেহেলও একবার বলেছিলো, ‘হে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমরা তো তোমাকে মিথ্যা বলছি না। আমরা তো ওই দাওয়াতকে মিথ্যা বলছি, যা তুমি নিয়ে এসেছো।’ অর্থাৎ প্রকাশ্য দুশমনও তাঁর সত্যবাদিতার প্রবক্তা ছিলো। এটাই হচ্ছে নৈতিক চরিত্রের পবিত্রতা, স্বভাব ও আচরণের উচ্চতা। সূরা আল-আন’আমের ৩৩নং আয়াতের প্রেক্ষাপটে তাফসিরে এই ঘটনার বিবরণ পাওয়া যায়। ‘আমি অবশ্যই জানি যে, তারা যা বলে তা আপনাকে নিশ্চিতভাবেই কষ্ট দেয়; কিন্তু তারা আপনার প্রতি মিথ্যারোপ করে না, বরং জালিমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে।’ মক্কার কাফিরগণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ব্যক্তিগত জীবনে ‘আল-আমিন’ বা পরম সত্যবাদী বলে জানত। একবার আবু জেহেল ও আখনাস ইবনে শুরাইক গোপনে একান্তে কথা বলার সময় আখনাস জিজ্ঞেস করেন, ‘এখানে আমরা ছাড়া তৃতীয় কোনো ব্যক্তি নেই। মুহাম্মদ সম্পর্কে তোমার আসল মতামত কী?’ তখন আবু জেহেল এই কথাটি স্বীকার করে বলে যে, মুহাম্মদ সা. কোনো দিন মিথ্যা বলেননি। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, ইসলামের ঘোরতর শত্রুরাও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যক্তিগত সততা, বিশ্বস্ততা ও চরিত্রের উচ্চতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলতে পারেনি। তাদের অহংকার এবং গোত্রীয় আভিজাত্যের কারণেই তারা আল্লাহর কিতাব ও দাওয়াতকে মেনে নিতে অস্বীকার করেছিল। তাই, রাসূল সা.-এর এই সুন্নাহ অনুসরণ করে দাঈ ইলাল্লাহকে পরম ও চরম ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে।
দাওয়াতের ক্ষেত্রে মানবিন্যাস : একজন ঈমানদার ব্যক্তির মান নির্ধারণ করতে মুমিন, মুসলিম, মুত্তাকী ও মুহসিন— এই চার শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়ে থাকে। তেমনি দাঈ ইলাল্লাহকে এবং এর সমর্থনকারীদের জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাকালীন সহ-সভাপতি মাওলানা আমিন আহসান ইসলাহী তার লিখিত দাওয়াত দীন আওর উসকা তারিকা’ই-কার (দাওয়াতে দীন ও তার কর্মপন্থা) বইয়ে তিন শ্রেণিতে বিন্যস্ত করেছেন। এক. অগ্রবর্তী দল (সাবেকীনাল আওয়ালীন)। দুই. উত্তম অনুসারী দল (মুত্তাবিঈনা বি-ই্হসান)। তিন. দুর্বলচেতা দল। হকের দাওয়াত উপস্থিত হওয়ার সাথে সাথেই যেসব লোক তা কবুল করেছেন এবং অসংকোচে তার জন্য জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত হয়েছেন, তাদেরকে অগ্রবর্তী দল হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েেেছ। যারা অগ্রবর্তী দলের দেখাদেখি হকের দিকে অগ্রসর হয় এবং এই লোকেরা জ্ঞান-বুদ্ধি ও চরিত্র-নৈতিকতার দিক থেকে অগ্রবর্তী দলের সমান পর্যায়ের নয়, তারা হলেন উত্তম অনুসারী দল। তারা নিজেদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে না। দুর্বলচেতা বলতে এমন লোকদের বোঝানো হয়েছে। তারা বুঝে-শুনে হককে কবুল করে নেয়; সেই অনুযায়ী জীবনযাপন করার নিয়তও রাখে। কিন্তু তাদের ইচ্ছাশক্তি ও সংকল্প থাকে দুর্বল। এ কারণে একনিষ্ঠ উদ্দেশ্য থাকার পরেও তারা হকের পথে নড়বড়ে অবস্থায় অগ্রসর হয় এবং পদে পদে হোঁচট খেতে খেতে চলতে থাকে। এই লোকেরা বারবার পড়ে যায় আবার উঠে দাঁড়ায়। এরা নিজেদের ভুলত্রুটি স্বীকার করে এবং এজন্য লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়। তাদের অবস্থা আল-কুরআনে এভাবে বর্ণিত হয়েছে, ‘আর অপর কিছু লোক নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে, তারা এক সৎকাজের সাথে অন্য অসৎকাজ মিশিয়ে ফেলেছে— আল্লাহ হয়তো তাদের ক্ষমা করবেন; নিশ্চয় আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সূরা আত-তাওবা : ১০২)।
পরিশেষ : আল্লাহর পথে দাওয়াত দানকারীকে দাওয়াত গ্রহণকারীদের মান সম্পর্কে স্তরবিন্যাস ও পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে দাওয়াত প্রদান করতে হবে। দাওয়াতের ধরন ও কৌশল নির্ধারণেও সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। দাওয়াতের কাজের দুনিয়াবি কোনো ফল বা প্রতিদান প্রত্যাশা করা যাবে না। দাওয়াতদাতার পক্ষে আল্লাহ তায়ালার ঘোষণা, ‘হে নবী! আপনি বলে দিন, এ দাওয়াত ও তাবলিগের কাজের জন্য আমি তো তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না। এটা তো গোটা জগদ্বাসীর জন্যে সাধারণ উপদেশ ও নসীহত মাত্র’। (সূরা আন’আম : ৯০)।