মধ্যযুগে রসায়ন শাস্ত্র চর্চার নবদিগন্ত
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:০৮
॥ মনসুর আহমদ ॥
কিমিয়া একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ রসায়ন শাস্ত্র। মধ্যযুগের মুসলিম বিজ্ঞানীদের হাতেই এ শাস্ত্রের নবদিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
মধ্য যুগের পণ্ডিতগণ আলকেমিকে ঐতিহ্যগত আলকেমি এবং প্রারম্ভিক ব্যবহারিক রসায়ন উভয় শাখাকে বুঝতেন। আলকেমি শব্দটির মূল আরবি কিমিয়া, যা সম্ভবত পুরাতন মিশরীয় ‘কেমি’ শব্দ থেকে উৎপত্তি, যার অর্থ কালো। পশ্চিমা রোমান সাম্রাজ্য পতনের পরে মুসলিমরা রোমানীয় মিশর বিজয় করে। এ সময় মুসলিম রসায়নবিদদের রসায়নের উন্নতি খেলাফত ও মুসলিম সভ্যতায় যুগান্তর ঘটায়।
‘ইসলামিক সায়েন্সকে’ একটি নির্দিষ্ট ও স্থানীয় প্রচলিত রীতি বিবেচনা করে কিছু শব্দ যেমন ‘ইসলামিক’, ‘এরাবিক’, ‘আলকেমি ও ‘রসায়নকে ব্যাখ্যা করা অত্যন্ত জরুরি। এসবের তাৎপর্য গ্রহণ করতে ঐতিহাসিকভাবে এসব শব্দাবলী কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তা বোঝা প্রয়োজন। তা হলে মধ্যযুগীয় সময়ে ‘আলকেমি’ও ‘আদি রসায়ন’ বিষয়ে যে ভুল ধারণা বিদ্যমান ছিল তার অবসান হবে।
এ.আই সাবরা (A.I. Sabra) তার বিখ্যাত ‘Situating Arabic Science : Location versus Essence’ শীর্ষক প্রবন্ধে লেখেন, ‘আরবি পরিভাষায় বা ইসলামী বিজ্ঞান ঐ সমস্ত ব্যক্তির বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ড যারা ধারাবাহিকভাবে অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে শুরু করে আধুনিক যুুগ শুরু হওয়া পর্যন্ত এবং ভৌগোলিকভাবে লিবেরীয় উপদ্বীপ এবং উত্তর আফ্রিকা থেকে সিন্ধু উপত্যকা এবং দক্ষিণ আরব থেকে কাস্পিয়ান সাগর পর্যন্ত বাস করতেন- যার অর্থ অধিকাংশ স্থান বহুকাল ইসলামী সভ্যতার ছায়াতলে উন্নতি লাভ করেছিলেন এবং যার ফলে তাদে কর্মকাণ্ড, যাকে ইসলামী সংস্কৃতি বলা হয়ে থাকে তা আরবি ভাষায় ব্যক্ত হয়েছিল।
অ্যারাবিক বিজ্ঞানের সংজ্ঞা এ অনুভূতি প্রকাশ করে যে, অনেক পার্থক্যকারী বিষয় রয়েছে, যা পশ্চিম গোলার্ধের বিজ্ঞানের সাথে সংস্কৃতি, ভাষা ও শারীরিক অবস্থান সম্বন্ধে বৈষম্য প্রকাশ করে। যদিও অনেক বিষয় রয়েছে, যা মধ্যযুগীয় বৈজ্ঞানিকদের লক্ষ্যের অন্বেষণ অনুরূপ এবং ভাবনার মূলসমূহ, যা হতে উৎপন্ন তার অনুরূপ।
লরেন্স তত্ত্ব : লরেন্স তত্ত্ব বর্ণনা করে যে, যা মেটালিক ট্রান্সমিইটেশন (ধাতব রূপান্তর প্রাপ্তি) অনুসন্ধান করে তা আলকেমি কিন্তু তাকে অধিকতর সঠিক ভাবে বলা হয় ক্রিসোপিয়া (Chrysopoea) যা ১৭ শতাব্দীর শেষের দিকে রসায়ন শাস্ত্রের অনুশব্দ হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
তাই তিনি প্রস্তাব করেন যে, প্রথম দিকের Chemistry শব্দের বানান Chemistry আলকেমি ও আদি রসায়ন উভয়কে একক বিজ্ঞান হিসেবে নির্দেশ করে। এ তত্ত্ব যুক্তি প্রদর্শন করতে থাকে যে, বস্তুর রাসয়নিক কর্মক্ষমতা বিশ্লেষণ, সংশ্লেষণ, রূপান্তর করণ এবং বস্তুগত উপাদন উৎপাদন সাধারণ কেন্দ্রে একীভূত করা হয়। তাই ১৮ শতাব্দীর শুরুর দিক পর্যন্ত এই দুই ক্ষেত্রে (আলকেমি ও আদি রসায়ন) নির্দিষ্ট বৈষম্য ছিল না। যদিও এ আলোচনা পশ্চিমা রসায়ন ও আলকেমিকে কেন্দ্র করে চলছিল কিন্তু তা ইসলামী বিজ্ঞানের সাথে সাদৃশ্য থাকায় এবং আরও পদ্ধতি বিবেচনায় একরূপ হওয়া এবং এরিস্টটলীয় অনুপ্রেরণার আনুরূপ হওয়ায় তত্ত্বটি স্বীকৃতি লাভ করে। পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধে এ বিজ্ঞান ছড়িয়ে পড়া ও উভয় গেলার্ধের বিজ্ঞান প্রসার অনুধাবনে ও জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। পূর্ব ও পশ্চিমা সমাজের সংস্কৃতি চর্চা, ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রসার আলেকজান্ডার দি গ্রেট (খ্রিস্টপূর্ব৩৩৪-৩২৩)-এর বিজয় সফলতার সাথে প্রসার শুরু হয়।
গোটা প্রাচ্যে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠর পর আলেকজান্ডার দুই গোলার্ধের মধ্যে বৃহত্তর যোগাযোগ আরম্ভ করেন, যা ইতহাসে যুগ যুগ চলতে থাকে। এক হাজার বছর পরে আলেকজান্ডার কর্তৃক বিজয়কৃত এশিয়া অংশ যেমন ইরাক, ইরান ধর্মীয় আন্দোলনের; বিশেষ করে খ্রিষ্টান, ম্যানিসিজম এবং জরথুস্ত্র ধর্মের কেন্দ্র ভূমিতে পরিণত হয়। এরিস্টটলীয় যুক্তিবিদ্যা অতি শিগগিরই পার্সিয়ান সীমান্তের নিসবিসে উচ্চশিক্ষার পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা ধর্ম চর্চার আলোচনায় দ্রুত স্থান করে নেয়।
পবিত্রতম ধর্মগ্রন্থ আল-কুরআন পরিণত হলো ধর্মতত্ত্বের গুরুত্বপূর্ণ উৎস, নৈতিকতা, আইন এবং সৃষ্টি তত্ত্বের মূল রহস্যের চাবিকাঠি। এ ব্যাপারে ডেভিড সি লিন্ডবাগ (David C. Lindberg) বলেন, ‘হজরত মুহাম্মদ সা-এর ইন্তেকালের পর ইসলামী শিক্ষার মূল কেন্দ্র সমগ্র আরব উপদ্বীপে ছড়িয়ে পড়ে; বাইজেন্টিয়ামের কিছু অংশ, পারস্য, সিরিয়া, মিশর এবং প্যালেস্টাইন সামরিক বিজয়ের মাধ্যমে একটি শ্রেষ্ঠতম ঘনীভূত মুসলিম এলাকায় পরিণত হয়। ইসলামী সম্রাজ্যের বিস্তার এসব এলাকার মধ্যের রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণভ ভূমিকা রেখে ছিল। যখন ইসলামী সম্রাজ্য বিস্তার এসব এলকার মধ্যের রাজনৈতিক বাধা দূরীকরণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, তখন এ অঞ্চলে ধর্মের বিশাল প্রসার, বিশ্বাস এবং দর্শনের মুক্ত চর্চা ছিল এবং গোটা এলাকায় সেসব অনূদিত হতো। এই উন্নয়ন প্রাচ্য হতে পাশ্চাত্যে বিজ্ঞান বিশেষ করে রসায়ন চর্চায় বিশেষ অবদান রেখেছিল। যখন প্রচলিত রীতি-নীতি এবং সংবাদ আদান-প্রদান ক্ষেত্রে অধিকতর উন্নতির সুযোগ ঘটল, তখন উভয়ই এরিস্টটলীয় ও হেলেনিক দর্শন ও দুর্বোধ্য নানা দিক (Mystical aspects) কর্তৃক অনুপ্রাণিত হয়েছিল; তথাপি সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সীমানা অক্ষত ছিল। আলোচিত মিষ্টিক্যাল ও ধর্মীয় বিষয়গুলো ইসলামী আলকেমি ও পশ্চিমা অনুরূপ বস্তু পৃথক করে ফেলে। যদিও পশ্চিমারা খ্রিষ্টিয় আদর্শে প্রবল হয়ে ওঠে কিন্তু ইসলামী ঐতিহ্য তা থেকে বহুত দূরে অবস্থান করে। যখন অভিপ্রায় কোনোভাবে ভিন্ন হয়ে যায়, তখন বিবেচনাও ভিন্ন হয়ে যায়। অনুরূপভাবে আলকেমি ও রসায়নের উন্নতি ও প্রণালীও সমসাময়িক ক্ষেত্রের বৈশিষ্ট্য লাভ করে। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস প্রসারেও পরিস্থিতি ও সময়ের অনুবর্তিতা ঘটতে থাকে।
মিষ্টিক্যাল আলকেমিতে মুসলমান আল কেমিস্টদের অবদান— Marie-Louise Von Franz ইবনে উমাইল এর পুস্তক চিহ্নসমূহের ব্যাখ্যা ‘কিতাব হাল আর রুময’-এর ভূমিকায় ইসলামী আলকেমিদের অবদান সম্পর্কে বর্ণনা করেন, ‘সপ্তম বা অষ্টম শতকে মুসলিম পণ্ডিতগণ অপরবির্তনীয়ভাবে প্রাচীন পুস্তক ‘Hermetic-Gnostic’ অনুবাদে মনোনিবেশ করেন। ধীরে ধীরে তারা সাহসিকতা সহকারে ইসলাম ধর্মর সাথে এ সমস্ত প্রাচীন মতামতের বিরুদ্ধে মোকাবিলা করতে শুরু করেন। তারা স্বাধীনভাবে ভাবতে শুরু করেন এবং রসায়ন রাজ্যে নিজস্ব পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিরীক্ষা অরম্ভ করেন। এভাবে তারা তৌহিদবাদী চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির ওপর গভীর মনোযোগ প্রদান শুরু করেন এবং এভাবে তারা প্রাচীন কালের ধারাসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ সংকলন করেন। এভাবে সবগুলোর অর্থ এক করে মুসলিম স্কলারগণ একটি সিদ্ধান্তে আসেন যে, রসায়নের নিগূঢ় তত্ত্ব এবং লক্ষ্য ‘এক আত্ম-সম্বন্ধীয় মনোবিদ্যা অর্থাৎ আল্লাহর ‘সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন’ এবং পাথর, পানি, আদি বস্তু ইত্যাদি ছিল ‘অভ্যন্তরীণ সমস্ত রহস্য; যার মাধ্যমে রসায়নবিদগণ আল্লাহর সৃষ্টিজগতে রহস্য উন্মোচন করে তার অসিমত্ব তুলে ধরেন।
খালিদ ইবনে জিয়াদ : জীবনী গ্রন্থকার ইবনে আল নাদিমের মতে, প্রথম মুসলমান রসায়নবিদ ছিলেন খালিদ ইবনে জিয়াদ। বলা হয়ে থাকে তিনি আলেকজান্দ্রিয়ার খ্রিষ্টান নৌসৈনিকদের তত্ত্বাবধানে রসায়ন শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেন। ইবনে আল নাদিমের মতানুসারে রসায়ন শাস্ত্রের ওপর লিখিত ‘কিতাব আল খারাজাত’, ‘কিতাব আল সহীফা আল কবীর’, ‘কিতাব আল সহীফা আল সগীর’, ‘কিতাব ওয়াসি আজজি ইলাবনিহি ফিস সানা’ এবং ‘ফিরদউস আল হিকমা’ খালিদ ইবনে জিয়াদ রচনা করেন।
জাবির ইবনে হাইয়ান : জাবির ইবনে হাইয়ান আরবি ভাষায় বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা জাবেরিয়ান সংকলন নামে পরিচিত। তিনি রসায়ন শাস্ত্রের জনক হিসেবে জনপ্রিয় ছিলেন। জাবিরের গ্রন্থসমূহে রাসয়নিক বস্তুসমূহের প্রাচীনতম ধারবাহিক পদ্ধতিসমূহ লিপবদ্ধ রয়েছে এবং অজৈব কম্পাউন্ড (সালএমেনিয়াক বা এমোনিয়াম ক্লোরাইড) জৈব উপাদান যেমন উদ্ভিদ, রক্ত ও চুল থেকে রাসয়নিক পদ্ধতিতে উৎপন্ন করার প্রাচীনতম বিধানসমূহের বর্ণনা রয়েছে।
কিছু জাবেরিয়ান আরবি পুস্তক যেমন ‘দি বুক অব মারসি এবং বুক অব সেভেনটি’ পরবর্তীতে ল্যাটিন ভাষায় অনুদিত হয়এবং তার ল্যাটিন নাম করণ হয় ‘জিবার’। ১৩ শতাব্দীতে ইউরোপের কিছু বেনামি লেখক সাধারণভাবে যাদেরকে অবাস্তব-জিবার (Pseudo-Geber) বলা হয়ে থাকে ‘জিবার’ নামে ‘আলকেমিক্যাল ও ম্যাটালারজিক্যাল ’ বিষয়ে পুস্তক লেখা শুরু করেন।
জাবির প্রতিটি এরিস্টটলীয় উপাদানকে ৪ মৌলিক গুণে বিশেষায়িত করেন; যেমন গরম, ঠাণ্ডা, শুকনা এবং সিক্ত। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, মাটিতে সালফার এবং সীসার সম্মেলনে ধাতুর সৃষ্টি হয়। আল রাজী জাবিরের এ মতকে মেনে নিয়ে তার সথে তৃতীয় লবণাক্ত উপাদানকে যোগ করেন। জাবির এক বহুসংখ্যক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, যার মাধ্যমে তিনি একটি মেটালের গুণ পরিবর্তন করে অন্য মেটালে রূপান্তরের মতবাদ প্রদান করেন। জাবির এক বিস্তারিত বিকাশ ঘটান, যার ফলে একটি বস্তুর নানা পরিবর্তনের পরেও তার আরবি নামের মূল অক্ষর বস্তুর ভৌতিক গুণের সাথে মিল রয়ে যায়।
আবুবকর আল রাজী : আবুবকর ইবনে জাকারিয়া আল রাজী (ল্যাটিন-Rhazes) ৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে রাভীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রধানত পার্সিয়ান ডাক্তার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি আলকেমির ওপরে বহু পুস্তক রচনা করেন, যার মধ্যে রয়েছে ‘সির আল আসরার’, ইংরেজিতে যার নাম Secret of secret.
আল রাজী নিম্নবর্ণিত রাসয়নিক পদ্ধতির বর্ণনা করেছেন। এসবের মধ্যে ছিল পাতন, ভস্মীকরণ, দ্রাবন, বাষ্পীকরণ, কেলাসন, পরিস্রাবণ, ঊর্ধ্বপাতন এবং সংযোজন। উল্লিখিত কাজের মধ্যে প্রায় সব কাজ ইসলামপূর্ব আলেকজান্দ্রিয় আলকেমিগণের মধ্যে প্রচলিত ছিল।
আল তুগরীল : আল তুগরীল ছিলেন ১১-১২ শতকের পার্সিয়ান ডাক্তার। তার বিখ্যাত কিতাব ‘মাসাবিহ আল হিকমাহ ওয়াল হিকমাহ’ জড় বিজ্ঞানের একখানা আদি গ্রন্থ।
আল-জিলদাকি : (Al-Jildaki) : আল-জিলদাকি ছিলেন একজন মিশরীয় রসায়নবিদ। তিনি তার কিতাবে প্রয়োগিক রসায়নের প্রয়োজনীয়তার জোর সমর্থন জানান। তিনি আবুল কাসিম আল আইদামির আল-জিলদাকি’র অনেক পরীক্ষা ‘কানজ আল ইখতেসাস ফী মা’রিফাত আল খাওয়াজ’এ উল্লেখ করেন।
ইবনে উমাইল : মুহাম্মদ ইবনে উমাইল আল তামিমি ছিলেন দশম হিজরির মিশরীয় রসায়নবিদ। তিনি ছিলেন প্রতীক রূপে ব্যবহৃত দুর্বোধ্য শাখার রসায়নবিদ। কালের গর্ভে টিকিয়ে রাখার মতো তার একখানা পুস্তক ‘কিতাব আল-মা আল ওয়ারাক ওয়াল আরদাল-নাজমিয়া’ (The Book on Silvery water and astray earth) এই কিতাবখানা তার বিখ্যাত কবিতা ‘The Risalat Al-shams Ilal hilal (The Episite of the sun to the crescent moon)-এর ব্যাখ্যা। মধ্যযুগীয় পশ্চিমা রসায়নের ওপরে ইবনে উমাইলের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ছিল। তার রচিত বিভিন্ন নামের কিতাব রয়েছে। তার Silvery water পুস্তক খানা ‘The chemical Tables of Snior Zadih’- শিরোনামে পুনঃমুদ্রিত হয়েছে।