রাবিতে ছাত্রদলের ব্যানারে ছাত্রলীগের অপতৎপরতা


৩০ জুলাই ২০২৬ ১০:২৫

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্রলীগের কর্মীরা ছাত্রদলের ব্যানারে ক্যাম্পাসে অপতৎপরতা চালানোসহ শিক্ষার্থীদের ওপর নানারকম হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি রাবি ক্যাম্পাসে এক নারী শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়ে হুমকি দেয়ার ঘটনা ঘটে। এমনকি রাকসু নেতার ওপর হামলা চালিয়ে আহত করে ছাত্রলীগের ওই কর্মীরা। পরে অভিযুক্ত ওই দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে মারধরের ঘটনা ঘটে এবং পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
গত ২৭ জুলাই সোমবার রাতে নগরের শাহমখদুম থানার একটি মামলায় মারধরের শিকার ওই দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস ও মাহমুদুল হাসান। এদিকে মারধরের ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ জুলাই রোববার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর। এদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান অভিযুক্তদের নিয়ে একটি সভায় বসলে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আনাস আহাম্মেদ ও হাসিবসহ কয়েকজন উপস্থিত হয়ে প্রক্টরের সঙ্গে তর্কে জড়ান।
এর জেরে গত সোমবার দুপুরে প্রক্টর দপ্তরে পুনরায় সভা ডাকা হয়। যেখানে উপস্থিত হয়ে আনাস আহাম্মেদকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ হিসেবে দাবি করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার।
এ সময় প্রক্টরের দপ্তরেই আনাস শিক্ষার্থীদের দ্বারা মারধরের শিকার হন। পরে প্রক্টরের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িক শান্ত হলে শিক্ষার্থীরা কার্যালয় ত্যাগ করেন। কিন্তু দুপুরের পরে আনাস আহাম্মেদ এবং তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে ছাত্র সংসদ ভবনে হামলার অভিযোগ তোলেন রাকসু নেতারা। যে ঘটনায় রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি এম নাজমুস সাকিব আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।
রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি ছাত্র সংসদকেও এই ঘটনা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীর তো আমার এখানেও অভিযোগ আসছে। আমি সবসময় আপডেট রাখছিলাম, আমার এজিএস ফুল টাইম ছিলেন। রাকসু অযাচিত হস্তক্ষেপ করার তো সুযোগ নাই, এটা তো কোনো পলিটিকাল অরগানাইজেশন না, শিক্ষার্থীদের সমস্যা তো আমাকে দেখতে হবে।’
রাকসু জিএস বলেন, গ্রেফতার দুজনই স্বীকৃত ছাত্রলীগ কর্মী। গ্রেফতারকৃতদের মোবাইল ফোনের বিভিন্ন তথ্য এবং ছবি যাচাই করে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এরা যে ছাত্রলীগ এটা স্বীকৃত, অল এভিডেন্স এখানে আছে। একাধিক ভিডিওতে সে নিজে স্বীকার করেছে যে সে ছাত্রলীগের রাজনীতি করে।
ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘ছাত্রলীগ করার নানা তথ্য প্রমাণ থাকার পর ছাত্রদল তাদের সংগঠনে নিয়েছে। এখন সেই ছাত্রলীগ কর্মীরাই এখন ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে ক্যাম্পাসে অপতৎপরতা চালাচ্ছে।’
এদিকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, ছাত্রদলের ব্যানারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠিত হচ্ছে ছাত্রলীগ। দুই ছাত্রলীগ কর্মীর পুর্নবাসনে ভূমিকা রাখছে ছাত্রদল। গত ২৭ জুলাই সোমবার সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীকে ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় বিচারের দাবিতে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। সেখানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আসলে পালটাপালটি স্লোগানের ঘটনা ঘটে।