স্থানীয় নির্বাচনে এমপিও শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছি -ব্রিফিংয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার
৩০ জুলাই ২০২৬ ০৯:৪৮
সোনার বাংলা রিপোর্ট : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার নির্বাচন কমিশনের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, ‘স্থানীয় নির্বাচনে এমপিও শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছি। নির্বাচন কমিশন আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করার একটি প্রস্তাব বা সুপারিশ অনুমোদন করেছে। তবে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণের সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। কোনো প্রকার অংশীজন বা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও মতবিনিময় ছাড়াই এ ধরনের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। বিষয়টিকে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৬ ও ২৭ অনুযায়ী নাগরিকদের অধিকার এবং রাজনীতি করার সুযোগ হরণের প্রশ্ন হিসেবে উত্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা রাজনীতিতে জড়ালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়- এমন যুক্তি কমিশন থেকে দেওয়া হয়েছে। আমাদের দাবি, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভোট করতে দেওয়া হোক।’
তিনি গত ২৯ জুলাই বুধবার বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদলে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মুয়াযয্ম হোসেন হেলাল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিনিয়র আইনজীবী ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট জসিম উদ্দীন সরকার, সিনিয়র আইনজীবী ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির।
গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে অতিরিক্ত সচিব নিয়োগ নিয়ে আপত্তি রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারণী জায়গায় দায়িত্ব পালনকারী এক ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক সংস্থায় অতিরিক্ত সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক (এক বছরের জন্য) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারি দলের প্রার্থীদের বিজয়ী করে নিয়ে আসার জন্য তাকে বিশেষ অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে এখানে বসানো হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘কমিশন থেকে জানানো হয়, তারা উক্ত ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় আগে জানতে পারেনি এবং সম্প্রতি গণমাধ্যমের মাধ্যমে এটি তাদের গোচরে এসেছে। তবে তারা এক্ষেত্রে নিজেদের একপ্রকার অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছে’।
নিষিদ্ধ ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযুক্ত দলের পদধারীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকার বা আইনের মাধ্যমে যেসব রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেই দলের বিভিন্ন স্তরের পদধারী ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। রাজনীতি মূলত ব্যক্তিরাই করেন। তাই একটি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদে থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাও এক ধরনের রাজনীতি করা, যা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।’
সরকার বর্তমানে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ও উন্নয়ন সংস্থায় রাজনৈতিকভাবে যেসব প্রশাসক ও কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে, তাদেরও আসন্ন নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানান তিনি। বলেন, নির্বাচনের আগে এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে সুবিধা দেওয়া, কাজ বা চ্যারিটি করে জনপ্রিয়তা তৈরি করা এবং পরে তাদের দিয়ে নির্বাচন করানোর মাধ্যমে নির্বাচনকে দলীয়করণ ও পক্ষপাতমূলক করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন স্বচ্ছ-গ্রহণযোগ্য করতে আলোচনা করেছি। এ বিষয়ে এক মাস আগে আমরা একটা চিঠি পেয়েছিলাম। এ বিষয়ে দুটিসহ ৯টি প্রস্তাব দিয়েছি। চারটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারের একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার নিয়োগ বাতিল করতে হবে। ইসি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এখানে রাজনৈতিক নিয়োগ দেওয়া যায় না।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর চিঠি
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত নির্বাচনী আইনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্যতা ঘোষণার বিধান প্রত্যাহার ও অতি সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব পদে রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তির নিয়োগ বাতিলসহ বিভিন্ন দাবিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি চিঠি হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংবিধান ও আইন অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অন্যতম সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা, নিরপেক্ষতা এবং সমঅধিকারের নীতি সর্বদা সমুন্নত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আমরা লক্ষ করছি, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করে একটি প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে। প্রস্তাবিত এ বিধান কার্যকর হলে দেশের প্রায় ৩০ হাজারের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক লাখ শিক্ষক-কর্মচারী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন, যা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ ও ২৮ এ বর্ণিত সমতা ও বৈষম্যহীনতার নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই আমরা মনে করি, প্রস্তাবিত বিধানটি পুনর্বিবেচনা করে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা প্রয়োজন- যাতে যোগ্য নাগরিকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সাংবিধানিক অধিকার অক্ষুণ্ন থাকে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার কর্তৃক নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে অতি সম্প্রতি মো. সামসুল আলমের নিয়োগের বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দলের সাথে সামসুল আলমের সম্পৃক্ততার বিষয়টি ইতোমধ্যে জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা সম্পর্কে জনমনে প্রশ্ন ও আস্থাহীনতা তৈরি করেছে, বিধায় উক্ত নিয়োগটি বাতিল করা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।
চিঠিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে বেশকিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছেÑ ১. এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্যতা সংক্রান্ত প্রস্তাবিত বিধান আইন ও সংবিধানের আলোকে পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা প্রত্যাহারের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ২. নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে সম্প্রতি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত ৬৭ বছর বয়স্ক মো. সামসুল আলমের নিয়োগ অবিলম্বে বাতিলের ব্যবস্থা করতে হবে। ৩. গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণীত খসড়া আচরণবিধিমালার ওপর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাখিলকৃত মতামত ও উত্থাপিত বিষয়সমূহ যথাযথভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সুরাহা নিশ্চিত করতে হবে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়সহ সকল পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচন কমিশন একটি অতি সংবেদনশীল ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যার মূল ভিত্তিই হলো শতভাগ নিরপেক্ষতা ও জনগণের আস্থা। কিন্তু দুঃখের বিষয়, অতি সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে মো. সামসুল আলমকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি বিএনপির একটি নির্দিষ্ট কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এমন একজন সক্রিয় রাজনীতিককে নির্বাচন কমিশনের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেওয়া অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতি চরম প্রতারণা। এ ধরনের পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও জনগণের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। অবিলম্বে মো. সামসুল আলমের বিতর্কিত ও পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগ বাতিল করতে হবে। একইসাথে ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশনসহ সব সাংবিধানিক সংস্থায় সর্বজনগ্রাহ্য ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির ৩১ দফায় ঘোষিত স্লোগান ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংকীর্ণ দলীয়করণের ঊর্ধ্বে রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। অথচ বাস্তবে দেশবাসী দেখতে পাচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ নয়, সবার আগে বিএনপি’। বর্তমানে এই নীতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হচ্ছে, যা জাতির সাথে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।
তিনি গত ২৮ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর মগবাজারস্থ আল-ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, এডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল ও এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান।
মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনের আগে রাষ্ট্র সংস্কার, সংবিধান সংস্কার এবং দলীয়করণের অবসানের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সাংবিধানিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন করপোরেশন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রাশেদুল হককে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে, বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এ টি এম আবদুল বারী ড্যানীকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের-এর চেয়ারম্যান হিসেবে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে গঠিত বিএনপির সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস কমিটির সদস্য মো. সামসুল আলমকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে, বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেককে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে, বিএনপির সহ-বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলামকে (টিপু) বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান হিসেবে, বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে, যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি (দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. কামরুজ্জামানকে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব হিসেবে, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি সালাউদ্দিন সরকারকে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হিসেবে, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুজ্জামানকে (সুরুজ) বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে, যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জাকির হোসেনকে (সিদ্দিকী) বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুন হাসানকে বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের মানুষ বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন দেখেছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রত্যাশা ক্রমেই ম্লান হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে জনগণের দেওয়া গণরায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার পরিবর্তে সংবিধানের আলোকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরকারের উচিত স্থানীয় সরকার পরিচালনা করা। একইসঙ্গে তিনি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানান।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে অধ্যাপক পরওয়ার বলেন, দেশে হত্যাকাণ্ড ও অপরাধ বৃদ্ধি জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি ও সরকারি সম্পদের বণ্টনেও দলীয় প্রভাবের অভিযোগ উঠছে, যা সুশাসন ও স্বচ্ছতার পরিপন্থী। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা বণ্টনে সমতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে দলীয়করণ বন্ধ, রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া নিয়োগ বাতিল, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার, সুশাসন এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলমান থাকবে।