জুলাই ২৪ : রামপুরা-বনশ্রীতে রক্ত ও প্রতিরোধের দিনগুলো


২২ জুলাই ২০২৬ ১৯:৪৮

॥ এস এম মাহমুদ হাসান ॥
ইতিহাসের কিছু মুহূর্ত আসে, যা মানুষকে সাধারণ থেকে অসাধারণ করে তোলে, যা ঘরের কোণে লুকিয়ে থাকা শান্ত ছেলেটিকেও এক লহমায় পরিণত করে রণক্ষেত্রের নির্ভীক যোদ্ধায়। ২০২৪ সালের জুলাই মাসটি আমার জীবনে ঠিক তেমনই এক কালান্তর নিয়ে এসেছিল। আমি কোনো পেশাদার রাজনীতিবিদ নই, নই কোনো রণকৌশলী। আমি এ দেশের কোটি মানুষের মতোই একজন সাধারণ মানুষ, যে নিজের চোখে একটি স্বাধীন, বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত দেশের স্বপ্ন দেখেছিল। সেই স্বপ্নটাই আমাকে ঘর থেকে টেনে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল ইতিহাসের এক রক্তক্ষয়ী মোহনায়। সম্ভবত আমি হয়ে উঠেছিলাম এক জুলাইযোদ্ধা! আসলে ইতিহাস কখনো কেবল রাজা-বাদশাহদের হাতে রচিত হয় না; ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়গুলো লিখে যায় সাধারণ মানুষের অসাধারণ সাহস। জুলাইয়ের শুরুটা হয়েছিল কোটা সংস্কারের এক ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি নিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যা¤পাস থেকে শুরু হওয়া সেই আলোড়ন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল সারা দেশে। কিন্তু তৎকালীন শাসকের অহংকার, দমন-পীড়ন আর দাম্ভিকতা সেই শান্ত আন্দোলনকে এক গণবিস্ফোরণে রূপ দেয়। যখন একের পর এক তরুণের বুক ঝাঁঝরা করে দেওয়া হলো বুলেটে, যখন রংপুরের আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে বুলেটের সামনে বুক পেতে দিল, তখন আর ঘরে বসে থাকা সম্ভব ছিল না। দেয়ালে দেয়ালে তখন স্লোগান: বুকের ভেতর দারুণ ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর। প্রতিটি স্লোগান, প্রতিটি দ্রোহের গান আমার বুকের ভেতর এক অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছিল। অন্য সবার মতো আমিও বুঝতে পারছিলাম, এই লড়াই শুধু কোটার নয়, এই লড়াই আমাদের অস্তিত্বের, আমাদের আত্মসম্মানের এবং এক দীর্ঘস্থায়ী শৃঙ্খল ভাঙার।
১৯ জুলাই : বনশ্রীর সেই রক্তিম বিকাল (ভয়াবহতার মুখোমুখি)
দিনটি ছিল ১৯ জুলাই ২০২৪। ঢাকার আকাশ সেদিন মেঘলা ছিল নাকি রোদে পোড়া, তা আজ আর ¯পষ্ট মনে নেই। কিন্তু যা মনে আছে, তা হলো রামপুরা থানা সংলগ্ন এলাকার বাতাস সেদিন বারুদ, টিয়ার শেল আর মানুষের তীব্র ক্ষোভের গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছিল। সকাল থেকেই রামপুরা-বনশ্রী এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। একদিকে ছিল নিরস্ত্র ছাত্র-জনতা, যাদের হাতে বড়জোর ছিল ইটের টুকরো বা বাঁশের লাঠি; আর অন্যদিকে ছিল রাষ্ট্রীয় পেটোয়া বাহিনী ও হেলমেটধারী ক্যাডাররা, যাদের হাতে ছিল মারণাস্ত্র। দুপুরের দিকে রামপুরা থানার কাছাকাছি যখন ছাত্র জনতা অবস্থান নিয়েছিল, তখন চারপাশ থেকে ধেয়ে আসছিল সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার শেল। কান ফাটানো শব্দে চারপাশ কেঁপে উঠছিল, চোখ জ্বলে যাচ্ছিল ঝাঁঝালো গ্যাসে। কিন্তু মানুষের ঢল থামানো যাচ্ছিল না। এক পা পিছু হটলে মানুষ আবার দু পা এগিয়ে যাচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটল আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ ও স্তব্ধ করে দেওয়া ঘটনাটি। কখনো কখনো একটি মাত্র বিকেল মানুষের সমগ্র জীবনকে দুই ভাগে বিভক্ত করে দেয়, একটি ‘আগে’, আরেকটি ‘পরে’। ১৯ জুলাই আমার জীবনে ছিল ঠিক তেমনই একটি বিকেল। আছরের নামাজের পর মুসুল্লিদের সাথে আন্দোলনকারীগণ যখন একাকার হয়ে আমরা সামনে অগ্রসর হচ্ছিলাম, ঠিক তখনই হুট করে কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই চারপাশের কোলাহল ছাপিয়ে একটা তীক্ষè ও ভারী আওয়াজ হলো। আমার ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা এক মধ্যবয়সীর পরনে ছিল একটা সাধারণ প্যান্ট আর হাফ শার্ট, বয়স পঞ্চাশ বা একান্ন, হঠাৎ করেই কোনো শব্দ না করে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম তিনি হয়তো ধোঁয়ায় দম আটকে পড়ে গেছেন। তাকে টেনে তুলতে গিয়ে হাতটা ভিজে উঠল গরম, ঘন রক্তে। তাকিয়ে দেখলাম, তার কপালের ঠিক মাঝখানটা ভেদ করে চলে গেছে স্নাইপারের বুলেট। কোনো ছটফটানি নেই, কোনো আর্তনাদ করার সময় সে পায়নি। মুহূর্তের মধ্যে তার চোখের মণি দুটি স্থির হয়ে গেল। চোখের সামনে জ¦লজ্যান্ত একটা জীবন, একটা মায়ের কোল খালি হয়ে গেল স্রেফ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে। চারপাশে তখন তীব্র চিৎকার, পানি আনো, পানি আনো, ধরাধরি করো। কিন্তু আমি সেদিন কয়েক মিনিটের জন্য স¤পূর্ণ বধির আর অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। আমার চোখের সামনে তখন কেবলই সেই স্থির হয়ে যাওয়া চোখ দুটি আর পিচঢালা রাস্তায় বয়ে চলা রক্তের লাল স্রোত। ওই দৃশ্যটি আমার ভেতরের চিরচেনা মানুষটিকে চিরতরে বদলে দিল। এক প্রচণ্ড মানসিক ট্রমা, আর তার পরক্ষণেই এক তীব্র, অনিয়ন্ত্রণযোগ্য ক্ষোভ আমার শিরায় শিরায় ছড়িয়ে পড়ল। সেদিন বুঝলাম, এই শাসকরা আমাদের দেশের নাগরিক ভাবে না, ভাবে স্রেফ শিকার। আর একটা ব্যাপার তীব্র ভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছি, যে রক্ত স্বাধীনতার জন্য ঝরে, তা কখনো মাটিতে হারিয়ে যায় না; তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিবেক হয়ে বেঁচে থাকে।
রূপান্তর : শোক থেকে শক্তিতে
১৯ জুলাইয়ের সেই বিকেলের পর আমি আর আগের আমি ছিলাম না। বাসায় ফেরার পর রাতে যখনই চোখ বন্ধ করতাম, সেই হাফ শার্ট পরা মানুষটার নিথর দেহ আর তার কপাল বেয়ে পড়া রক্তের ধারা আমার চোখের সামনে ভেসে উঠত। পরিবার থেকে আন্দোলনে যাওয়ার উৎসাহ ছিল, আমার দশম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলেসহ। সেই শহীদ ভাইয়ের রক্তের ঋণ আমাদের ঘরে টিকতে দিচ্ছিল না। নিজেকে প্রশ্ন করেছিলাম, যদি আজ আমি ঘরে লুকিয়ে থাকি, তবে ওই আত্মত্যাগের কী হবে? ও তো আমার আপনার জন্যই বুক পেতে দিয়েছিলেন। শোক তখন ধীরে ধীরে এক অলৌকিক শক্তিতে রূপান্তরিত হতে শুরু করল। ভয় জিনিসটা মন থেকে স¤পূর্ণ কর্পূরের মতো উবে গেল। যখন রাষ্ট্র নিজেই তার নাগরিকদের খুনি হয়ে ওঠে, তখন আর ভয় পাওয়ার কিছু থাকে না। পরবর্তী দিনগুলোয় কারফিউ, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট আর গণগ্রেপ্তারের শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে যোগাযোগ রেখেছি। পাড়া-মহল্লায় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছি। আমরা জানতাম, পিছু হটার কোনো পথ নেই। হয় এই স্বৈরাচারের পতন হবে, না হয় আমাদের সবাইকে মরতে হবে। শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করার এই প্রতিজ্ঞাই আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছিল। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা দুর্বল হয়ে পড়ো না এবং দুঃখ করো না; যদি তোমরা মুমিন হও তবে তোমরাই বিজয়ী।’ (সূরা আলে ইমরান : ১৩৯)।
৫ আগস্টের সকাল : সায়েন্সল্যাবের টানটান উত্তেজনা
দিন গড়াল, এলো সেই ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট। আগের দিন অর্থাৎ ৪ আগস্ট সারা দেশে যে তাণ্ডব চালানো হয়েছিল, তাতে ¯পষ্ট ছিল যে শাসকরা শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে চায়। কিন্তু ছাত্র-জনতা ঘোষণা করেছিল লংমার্চ টু ঢাকা। ৫ আগস্ট সকালবেলা আমি যখন ছেলেসহ সায়েন্সল্যাবের দিকে রওনা হলাম, তখন চারদিকের বাতাস এক টানটান উত্তেজনায় কাঁপছিল। সায়েন্সল্যাব বরাবরই আন্দোলনের অন্যতম একটি উত্তপ্ত কেন্দ্র। সেদিন সকাল থেকেই সেখানে দলে দলে মানুষ জড়ো হতে শুরু করে। কেবল ছাত্ররা নয়, ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ রিকশাচালক, ব্যবসায়ী, মায়েরা; এমনকি বৃদ্ধরাও রাজপথে নেমে এসেছিলেন। সবার চোখে-মুখে ছিল এক অদ্ভুত দৃঢ়তা। সবার মনে একটাই ভাবনা ছিল হয় এবার, না হয় নেভার। আজ যদি আমরা ব্যর্থ হই, তবে এই দেশ এক অন্ধকার গহ্বরে তলিয়ে যাবে। তখনো গলির মোড়ে মোড়ে সশস্ত্র পুলিশ আর সাঁজোয়া যান দাঁড়িয়ে। যেকোনো মুহূর্তে ধেয়ে আসতে পারত বুলেট। কিন্তু মানুষের সেই অভূতপূর্ব মহাসমুদ্রের সামনে বন্দুকের নলগুলোও যেন কেমন নিস্পৃহ ও দুর্বল দেখাতে শুরু করেছিল। সর্বস্তরের জনতা একে অপরের হাত ধরে মানবপ্রাচীর তৈরি করছিলাম। সবার বুকে ছিল অদম্য সাহস আর মুখে ছিল একটাই স্লোগান: দফা এক, দাবি এক…।
৫ আগস্টের বিকেল : শাহবাগের মহাবিজয় ও আবেগের বিস্ফোরণ
দুপুরের পর থেকেই চারপাশের গুঞ্জন আর বাতাসের গতিপথ বদলাতে শুরু করল। সায়েন্সল্যাব থেকে আমরা যখন শাহবাগের দিকে এগোতে শুরু করলাম, তখন আমাদের সাথে যোগ দিল লাখো মানুষের এক বাঁধভাঙা জোয়ার। দুপুরের ঠিক পর পরই খবর এলো স্বৈরাচারী শাসক দেশ ছেড়ে পালিয়েছে! মুহূর্তের মধ্যে পুরো শাহবাগ এলাকা এক অলৌকিক ও অভূতপূর্ব দৃশ্যে রূপান্তরিত হলো। যে শাহবাগ কদিন আগেও ছিল টিয়ার শেল আর বুলেটের রাজত্ব, তা নিমেষেই পরিণত হলো এক মহাসমুদ্রে। বিকেল নামার সাথে সাথে শাহবাগে মানুষের যে ঢেউ আছড়ে পড়ছিল, তার কোনো শুরু বা শেষ ছিল না। মানুষের মুখে তখন কোনো ভয়ের ছাপ ছিল না, ছিল এক পরম মুক্তির আনন্দ। সেদিন মনে হচ্ছিল, ইতিহাস যেন আমাদের চোখের সামনেই নতুন করে লেখা হচ্ছে, আর আমরা প্রত্যেকে সেই ইতিহাসের একেকটি জীবন্ত বাক্য। মানুষ একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিল। অপরিচিত মানুষ এসে হাত মেলাচ্ছিল, বুকে টেনে নিচ্ছিল। রিকশাচালকরা রিকশার বেল বাজাচ্ছিলেন সানন্দে, চারপাশ থেকে ভেসে আসছিল জাতীয় সংগীত আর রণসংগীতের সুর। দীর্ঘ ১৬ বছরের এক দমবন্ধ করা শাসনের অবসান ঘটেছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টার গণঅভ্যুত্থানে। কিন্তু সেই তীব্র আনন্দের মধ্যেও আমার চোখের কোণ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল। বিজয়ের সেই মহামুক্তির বিকেলে, শাহবাগের সেই তুমুল উল্লাসের মাঝেও আমার বারবার মনে পড়ছিল ১৯ জুলাইয়ের বনশ্রীর সেই বিকেলটির কথা। আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল সেই মধ্যবয়সী হাফ শার্ট পরা ভাইটির মুখ: শহীদ সালাহউদ্দিন সুমন। এই যে আজ কোটি মানুষ স্বাধীনতার সূর্য দেখছে, এই যে আমরা বুক ভরে শ্বাস নিচ্ছি, এর পেছনে রয়েছে সেই সুমনের মতো, স্নিগ্ধের মতো হাজারো শহীদের তাজা রক্ত। শাহবাগের মাটিতে দাঁড়িয়ে আমি উপলব্ধি করলাম, এই বিজয় কোনো সস্তা উল্লাসের নয়; এই বিজয় কোটি টাকার চেয়েও দামি, কারণ এটি অর্জিত হয়েছে আমাদের ভাই-বোনদের, সন্তানদের জীবনের বিনিময়ে।
স্বপ্নের বাংলাদেশ ও আমাদের দায়িত্ব
আজ ২০২৪-এর সেই রক্তঝরা জুলাই আর আগস্ট পার হয়ে আমরা এক নতুন বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে আছি। এই বাংলাদেশ আমাদের উপহার দিয়েছে এক দ্বিতীয় স্বাধীনতা, এক নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন। কিন্তু একজন জুলাই সৈনিক হিসেবে আমি মনে করি, আমাদের লড়াই এখনো শেষ হয়ে যায়নি। স্বৈরাচারের পতন হয়তো হয়েছে, কিন্তু যে বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে তরুণরা, তরুণীরা, মধ্যবয়সীগণ বুক পেতে দিয়েছিল, সেই বাংলাদেশ গড়ার কাজটা এখনো বাকি। আমরা যে স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিয়েছি, তা যেন কোনোভাবেই ব্যর্থ না হয়, এটিই হোক আমাদের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার। শহীদদের পবিত্র রক্ত আমাদের কাঁধে এক বিশাল দায়িত্ব অর্পণ করে গেছে। সেই দায়িত্ব হলো একটি সুন্দর, দুর্নীতিমুক্ত এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা, যেখানে আর কোনো দিন কোনো মায়ের কোল স্নাাইপারের গুলিতে খালি হবে না, যেখানে কোনো নাগরিককে তার অধিকারের জন্য রাজপথে প্রাণ দিতে হবে না। বনশ্রীর সেই শহীদ সালাউদ্দিন সুমন ভাই আর সারা দেশের শত-সহস্র শহীদের স্মৃতির প্রতি আমি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। আপনারা আমাদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। আপনাদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না-এক নতুন ভোরের আলোয় দাঁড়িয়ে এই আমাদের শপথ। ২০২৪-এর রক্তঝরা জুলাই ও আগস্টের সেই মহাকাব্যিক দিনগুলো বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরকালের জন্য খোদাই হয়ে গেছে। বিজয়ের আনন্দ কখনোই পূর্ণ হয় না, যদি তার পেছনের অত্মত্যাগকে ভুলে যাওয়া হয়। আমাদের উপলব্ধি হচ্ছে: আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ! তাই, কবি এএম মানিকের ভাষায়-
নহে সমাপ্ত কর্ম মোদের অবসর কোথা বিশ্রামের
উজ্জ্বল হয়ে ফোটেনি আজও, সুবিমল জ্যোতি তাওহিদের
একটি স্বৈরাচারের পতন কোনো জাতির যাত্রার শেষ নয়; বরং সেটিই নতুন দায়িত্বের সূচনা। ইতিহাস সাক্ষী, বিপ্লবের চেয়ে কঠিন হলো বিপ্লবের আদর্শকে রক্ষা করা। তাই আমাদের আগামী দিনের সংগ্রাম হবে ন্যায়বিচার, জবাবদিহি, মানবিকতা ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র নির্মাণের সংগ্রাম। বর্তমান সরকারকে এক্ষেত্রে দায়িত্বশীল সততা দেখাতে হবে, জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়ন করতে হবে কোনো ধরণের ছলচাতুরী ছাড়াই। বিরোধী দলগুলোকেও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রশ্নে অনর অটল অবস্থান ধরে রাখতে হবে।